রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
শরীরে রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়াকে চিকিৎসা ভাষায় হেমাটোপয়েসিস বলা হয়। আমাদের অস্থিমজ্জায় থাকা স্টেম সেলগুলো থেকে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট তৈরি হয়। এগুলো আমাদের শরীরের রক্তের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। শরীরের রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য, আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফলিক এসিড এবং প্রোটিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে যদি রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় এই পুষ্টিগুলোর অভাব দেখা দেয়।
সেক্ষেত্রে আমাদের শরীরে দেখা দিতে পারে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মত সমস্যা। তবে ভয়ের কিছু নেই, প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার সহ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে, রক্তস্বল্পতা থেকে খুব সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সহ, এমন সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণগুলি জানার চেষ্টা করি।
পোস্ট সূচিপত্রঃ রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
- শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার কারণ সমূহ
- শরীরে রক্তশূন্যতায় যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে
- রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
- নিয়মিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরীঃ
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়ঃ
- খেজুর ও কিসমিস ভেজিয়ে খাওয়া উপকারীঃ
- বিটরুট এবং গাজরের রস খাওয়া উপকারীঃ
- আপনি চাইলে ডালিম খেতে পারেন বেশ কার্যকরীঃ
- কালোজিরা ও মধু খাওয়া যেতে পারেঃ
- রক্তশূন্যতা যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উত্তমঃ
- উপসংহার। রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার কারণ সমূহ
শরীরের রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে, বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে, ইতিমধ্যে বলা হয়েছে। রক্তশূন্যতার সমস্যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের দেখা দিতে পারে। রক্তশূন্যতার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, এজন্য আপনার রক্তশূন্যতার জন্য সঠিক কারণ নির্বাচন করার জরুরী। চলুন, রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় আরটিকাটির, শুরুতে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার কারণগুলি জানার চেষ্টা করি।
- শরীরে রক্ত শূন্যতা দেখা দেওয়ার সবথেকে সাধারণ কারণ গুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আয়রনের অভাব। কেননা আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আয়রন। তবে আয়রনের সঙ্গে, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন সি এবং ফলিক এসিডের মতো উপাদান বেশ ভূমিকা পালন করে। কেননা এই সকল পুষ্টি উপাদান, আয়রন শোষন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- শরীর থেকে রক্তক্ষরণের ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া ও খুবই সাধারণ। বিশেষ করে নারীদের পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া পেটে গ্যাস্ট্রিক বা আলসার থেকেও, পাকস্থলীর অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হওয়ার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। কোন দুর্ঘটনা বা অস্ত্র পাচারের ফলে শরীর থেকে রক্তক্ষরণে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- বংশগত কিছু রক্তের রোগ রক্তশূন্যতা তৈরি করতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া সহ অ্যানিমিয়ার মত রক্ত রোগ পূর্বের ইতিহাসে থাকলে, আপনার এমন সমস্যার ঝুকি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে অনেকের অস্থিমজ্জায় সমস্যার ফলে রক্তের উৎপাদন কমে রক্ত শূন্যতা আসতে পারে।
- আমাদের পরিবারের যারা গর্ভবতী নারী রয়েছে, গর্ভাঅবস্থায় তাদের শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া অসম্ভব কিছু না। কেননা গর্ভবস্থায় একজন নারীর শরীরে রক্তের চাহিদা পূরণে আয়রন এবং ফোলেটের চাহিদা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এমন সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুব জরুরী। কেননা এ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকলে দেখা দিতে পারে রক্তশূন্যতা, এজন্য গর্ভাবস্থায় সতর্কতা জরুরি।
- অন্যদিকে শরীরে কিছু দীর্ঘমেয়াদী রোগের দেখা মিললে, রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিডনি রোগ, লিভারের সমস্যা, ক্যান্সার সহ দীর্ঘদিনের কোন সংক্রামনের ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘস্থায়ী কিছু ওষুধের ব্যবহার যেমন, ব্যথানাশক, নির্দিষ্ট কিছু এন্টিবায়োটিক, ক্যান্সারের কেমোথেরাপি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ইত্যাদির ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
শরীরে রক্তশূন্যতায় যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে
আজকের এই আর্টিকেলটি রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে। রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার পিছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে, সেগুলো ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রক্তশূন্যতায় আমাদের যে সকল উপসর্গ বা লক্ষণ উপলব্ধি হতে পারে, চলুন আর্টিকেলটিতে এখন সেগুলো জানার চেষ্টা করি।
- রক্তশূন্যতার সাধারণ লক্ষণ গুলির মধ্যে সবচেয়ে, অন্যতম হল খুব অল্প পরিশ্রমে খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া। শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের শক্তি কমে যাওয়া ও রক্তশূন্যতার বেশ ইঙ্গিত দিতে পারে।
- শরীরে রক্তশূন্যতার দেখা মিললে, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা সহ ঘনঘন মাথা ব্যথা হওয়ার প্রবণতায় পড়তে পারেন। এমন সমস্যায় আপনার ত্বক ফ্যাকাশে বা হলদেটে রংয়ের হয় যেতে পারে। একই সঙ্গে ঠোঁট নখ সহ চোখের নিচে ফ্যাকাসে ভাব দেখা দিতে পারে। এটাও রক্তশূন্যতার অন্যতম লক্ষণ বলে বিবেচনা করা হয়।
- বুকের মধ্যে হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়ার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। রক্তশূন্যতায় শ্বাসকষ্ট আপনার সঙ্গী হয়ে যেতে পার। বিশেষ করে হাঁটা বা কোন কাজকর্ম করায় এমন শ্বাসকষ্ট বেশি উপলব্ধি হতে পারে। সঙ্গে আপনার হাত এবং পা খুবই ঠান্ডা লাগার মত অনুভূতি এ সময় খুবই সাধারণ ব্যাপার।
- রক্তশূন্যতা একটু গুরুতর পর্যায়ে থাকলে, বুক ধরফর করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সহ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন। সাধারণ কোনো পরিশ্রমে এ সময় আপনি ক্লান্তি ও দুর্বলতার পাশাপাশি খুবই কষ্ট অনুভব করতে পারেন।
- তাছাড়া রক্তশূন্যতায় গর্ভাবস্থায় একজন নারীর অতিরিক্ত দুর্বলতার পাশাপাশি উপরোক্ত বেশ লক্ষণ উপলব্ধি হতে পারে। পিরিয়ডে অনিয়ম সহ অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া শিশুদের যদি এমন রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা দেখা দেয়,সেক্ষেত্রে শিশুর শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী অর্থাৎ মনোযোগ কমে যেতে পারে।
রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
আপনার শরীরে রক্তশূন্যতার সমস্যা দেখা দিলে, এমন সমস্যার প্রতিকার খুবই জরুরি। কেননা শরীরের রক্তশূন্যতা মানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রয়োজনীয় রক্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। আমাদের শারীরিক সুস্থতায় শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গে, অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেননা রক্তশূন্যতার মতো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে, হার্ট ফেইলিওর সহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। যা নিরাময় না হলে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলুন তাহলে, আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয় রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সহ, প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
নিয়মিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরীঃ
ঘরোয়া উপায়ে রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখা। রক্তশূন্যতায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার জরুরী, কেননা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি সহ শরীরকে অক্সিজেন সরবরাহের কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আয়রন নামক পুষ্টি উপাদান। শরীরে আয়নের ঘাটতি হলে ক্লান্তি দুর্বলতা সহ মাথা ঘোরার মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
রক্তশূন্যতায় প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি পূরণে, আপনি চাইলে, গরু, মুরগি ও ভেড়ার মাংস, কলিজা, ডিম এবং মাছ খেতে পারেন। অন্যদিকে পালং শাক, লাল শাক, গাজর, বিট, ডাল ও ছোলা, সিম, মটরশুটির মতো শাকসবজি রক্তশূন্যতা দূর করতে বেশ কার্যকারী।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়ঃ
শরীরে রক্তশুন্যতা দূর করতে, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব সবচেয়ে অতুলনীয়। রক্তশূন্যতায় উপরে উল্লেখিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও রাখুন খাদ্য তালিকায়। কেননা ভিটামিন সি, শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু এখানেই শেষ নয় ভিটামিন সি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি সহ হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বাড়াতে বেশ কার্যকরী
ভিটামিন সি পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে, আপনি কমলা, লেবু, পেয়ারা, স্ট্রবেরি, কিউই, আমলকি, পেঁপে, আনারস, টমেটার মত খাবার খেতে পারে। বেশ কিছু শাকসবজি যেমন, ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, পালং শাক, বাঁধাকপি সহ সবুজ শাকসবজিতে বেশ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবারও রাখুন খাদ্য তালিকায়।
খেজুর ও কিসমিস ভেজিয়ে খাওয়া উপকারীঃ
রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়, হিসেবে খেজুর ও কিসমিস ভেজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা খুবই কার্যকারী। কেননা খেজুর এবং কিসমিসের প্রচুর আয়রন থাকে যা রক্তশূন্যতায় খুবই জরুরী। তাছাড়া এ দুটি উপাদানে ভিটামিন সি, পাওয়া যায় যা আয়রন শোষণে কার্যকরী। খেজুর ও কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার ফলে এটি আপনার, শক্তি ও কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, হজম শক্তি সহ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে কাজ করবে।
রক্তশূন্যতায় উপকার পেতে আপনি, রাতে প্রয়োজন মত ৫ থেকে ৭ টি খেজুর সহ কিছু কিসমিস পানিতে ভিজে রাখতে পারেন। সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে পানিতে ভিজিয়ে রাখা খেজুর, কিসমিস সহ উপাদান গুলি ভেজানোর পানি খেয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে দুপুরে খাওয়ার পর কিছু খেজুর, এক গ্লাস দুধের সঙ্গে খেতে পারেন, এটিও রক্ত উৎপাদনে বেশ কার্যকর।
বিটরুট এবং গাজরের রস খাওয়া উপকারীঃ
রক্তশূন্যতার সমস্যা ঘরোয়া ভাবে প্রতিকারের জন্য বিটরুট এবং গাজরের রস খাওয়া, খুবই কার্যকারী। কেননা বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায় যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে। সঙ্গে গাজরে রয়েছে ভিটামিন সি, যা আয়রন শোষণে খুবই কার্যকর। তাছাড়া বিটরুটে ফলিক এসিডের মত পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। ফলিক এসিড পুষ্টি উপাদান, লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে।
এর পুষ্টি পেতে হলে আপনাকে, একটি বিটরুট এবং একটি গাজর ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। আপনি চাইলে কার্যকারিতা বাড়াতে এর মধ্যে সামান্য লেবুর রস মিশাতে পারেন। এমন উপাদানের ভালো ফলাফল পেতে, সকালে খালি পেটে বা নাস্তার সঙ্গে খেতে পারেন। মাথায় রাখবেন আপনার যদি ডায়াবেটিস ও কিডনিতে পাথর হওয়ার মত সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকে পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।
আপনি চাইলে ডালিম খেতে পারেন বেশ কার্যকরীঃ
আমরা সবাই ডালিমকে ফল হিসেবে চিনি। আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ডালিমের কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো যানিনা। ডালিম আয়রন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যা শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, সঙ্গে আয়রন শোষণ করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ডালিমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে রক্তশূন্যতায় ভোগা ব্যক্তিদের, স্বাস্থ্যগত লক্ষণ প্রতিরোধ করে।
তাছাড়া ডালিমে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, যার ফলে শরীরে দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কোষের অক্সিজেন প্রবাহ বাড়াতে বেশ সাহায্য করে। ডালিমের প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি পরিমান মত খাওয়াই উত্তম অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সর্বোপরি ডালিম রক্তশূন্যতা মোকাবিলায় খুবই কার্যকারী, যা পরিমাণ মতো আপনি দৈনন্দিনীর খাদ্য তালিকায় রাখলে বেশ উপকার পাবেন।
কালোজিরা ও মধু খাওয়া যেতে পারেঃ
কালোজিরা এবং মধু, প্রাকৃতিক দুই পুষ্টির ভান্ডার। কালোজিরা এবং মধু রক্তশূন্যতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকারী। কালোজিরা, মৃত্যু বাদে অন্য সব রোগের মহা ঔষধ। কালোজিরায় আয়রন সহ ফলিক এসিড বিদ্যমান ,যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে বেশ সাহায্য করে। অন্যদিকে মধুতে আয়রন, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ থাকে। এই পুষ্টি উপাদান গুলো লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুনঃ পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন।
কালোজিরা ও মধুর পুষ্টি উপাদান পেতে, এক চা চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য কালিজিরা মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় কোন নারী এবং দীর্ঘস্থায়ী কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রক্তশূন্যতা যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উত্তমঃ
রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় আর্টিকেলটিতে, ইতিমধ্যে বেশ কিছু খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আপনার যদি রক্তশূন্যতা সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে চা ও কফি এড়িয়ে চলুন। কেননা এগুলোতে থাকা ট্যানিন আয়রন শোষণে বাধা প্রদান করে। একই সঙ্গে দুধ ও দুগ্ধ জাত খাবার এড়িয়ে চলা উত্তম হতে পারে। কেননা এ সকল খাবার আয়রন শোষণে বাধা প্রদান করতে পারে।
দুধের সঙ্গে কোন প্রকার আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ও অতিরিক্ত ঝাল, তেল, মশলা সহ ফাইটেড যুক্ত কিছু শস্য ও ডাল এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে রাখুন। কেননা প্রক্রিয়াজাত খাবার অনেক সময়, প্রয়োজনীয় পুষ্টি অভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উপসংহার। রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়, আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা। আপনার যদি উপরোক্ত প্রতিকারে রক্তশূন্যতার সমস্যা সমাধানে না আসে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কোন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এমন অনুভূতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যদি দীর্ঘদিন রক্ত শূন্যতা থাকে সেক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরী। রক্তশূন্যতার সমস্যা ছোট ভাবে নেবেন না, দীর্ঘস্থায়ী রক্তশূন্যতা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি করতে পারে।
এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে, রক্তশূন্যতা দূর করার সাপ্লিমেন্ট সহ যেকোন ব্যবস্থা, নেওয়া যেতে পারে। এতক্ষণ রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url