বুক ধরফর করার ৮ টি কারণ ও করণীয় দেখে নিন

বুক ধরফর করার সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্যালপিটেশন বলে আখ্যায়িত করা হয়। প্যালপিটেশন অর্থাৎ বুক ধড়পড় করার সমস্যায় বিশেষ করে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত এবং অনিয়মিত ভাবে অনুভব হয়। বুক ধরফর করার সমস্যাকে সাধারণ সমস্যা বলে ধরা যায় তবে কখনো কখনো এটি হৃদরোগ সহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা লক্ষণও হতে পারে। আপনার এমন সমস্যা দেখা দিলে, ঘাবড়ে না গিয়ে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। কেননা এমন সমস্যা সাধারণ হলেও দৈনন্দিনের জীবন যাপনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।  

বুক

চলুন কথা না বাড়িয়ে, আজকের এই আর্টিকেলটিতে বুক ধরফর করার আটটি কারণ এবং করণীয় দেখে নিন। আপনার যদি এমন সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়, সেক্ষেত্রে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন, প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বুক ধরফর করার ৮ টি কারণ ও করণীয় দেখে নিন

বুক ধরফর করার লক্ষণ সমূহ 

বুক ধরফর করার ৮টি কারণ এবং করণীয় জানার আগে, এমন সমস্যার লক্ষণ গুলো জেনে নেওয়া উচিত। কেননা আপনার এমন সমস্যা সাধারণ সমস্যার কারণে হচ্ছে, কিনা বা গুরুতর সাস্থ্য সমস্যার লক্ষন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য লক্ষণ সমূহ জেনে নেওয়া জরুরি। চলুন তাহলে আর্টিকেলটির শুরুতেই, বুক ধরফর করার সমস্যায় যে লক্ষণ গুলি দেখা দিতে পারে তা জেনে নিন।

  • বুক ধরফর করার সমস্যায় সাধারণত হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত বা জোরে অনুভব হতে পারে। এ সময় আপনার মনে হতে পারে হৃদপিন্ড খুব দ্রুত কাজ করছে বা চলছে। খুব অল্প শারীরিক পরিশ্রমে, এমন সমস্যায় বুকে কাঁপুনি বা ঢেউয়ের মতো অনুভূতির লক্ষণও আসতে পারে। 
  • অনেক সময় হৃদপিন্ড লাফিয়ে ওঠার মত এবং দ্রুত হৃদপিন্ডের কাঁপুনি অনুভূতি হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার এমন মনে হতে পারে, কেউ যেন হৃদপিণ্ড জোরে জোরে উপরের দিকে ধাক্কা দিচ্ছে। মাঝেমধ্যে হার্ট বিট অনিয়মিত অর্থাৎ কখনো দ্রুত বা কখনো ধীরে, সঙ্গে বুকে অস্বস্তি এবং হালকা ব্যথা হওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 
  • এমন সমস্যা, হলে শারীরিক দুর্বলতা সহ অস্বাভাবিক  ক্লান্তি আসাটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেননা এমন সমস্যা নিয়মিত হওয়ার ফলে মাথা ঘোরা এবং ঝিমঝিম ভাব আসতে পারে। বুকে অস্বস্তি চাপ ও ব্যথা অনুভব করাও এমন সমস্যা লক্ষণ বলে বিবেচনা করা যায়। বিশেষ করে একটু তীব্রতায় জীবনযাত্রায় বেশ ব্যাঘাত ঘটানো শুরু করে, যা সবচেয়ে বড় লক্ষণ। 
  • এছাড়াও শরীরের কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণে, বুক ধরফর করার অনুভূতি আসলে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো আবার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার মত অনুভূতি মেলা অসম্ভব কিছু না। শারীরিক কোন স্বাস্থ্য সমস্যায় বুক ধরফর করার সঙ্গে, শ্বাস নিতে কষ্ট অর্থাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
  • বুক ধরফর করার সমস্যায় তীব্র লক্ষণে, বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যাথা অনুভব হতে পারে। শ্বাসকষ্টের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। এমন সমস্যায় বুক ধরফর করার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা কখনো বমিও হতে পারে। সর্বোপরি এমন সমস্যার তীব্রতায়, চোখে ঝাপসা দৃষ্টি সহ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার সামনে এমন লক্ষণ এসে হাজির হলে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

বুক ধরফর করার ৮ টি কারণ  জেনে নিন

এই আর্টিকেলটির মূল বিষয় বুক ধরফর করার ৮টি কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে। আর্টিকেলটিতে ইতিপূর্বে বুক ধরফর করার সমস্যার লক্ষণ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। বুক ধরফর করার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, কিছু সাধারন কারণ কিছু গুরুতর। বুক ধরফর করার সমস্যা সাধারণ হলেও, এমন সমস্যা হওয়ার সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখন তাহলে, বুক ধরফর করার ৮টি কারণ জানা যাক চলুন।

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার ফলেঃ 

অতিরিক্ত শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম করার ফলে বুক ধরফর করার সমস্যা হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। আপনি যদি অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, সেক্ষেত্রে শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। এবং অতিরিক্ত ভারী কাজ করার ফলে, শরীর ঘেমে পানি শূন্যতার দেখা মিলতে পারে। কেননা, আপনি যেকোন কাজ করেন না কেন এ সময় রক্ত দ্রুত পাম্প করে এবং হার্টবিট বেড়ে যায়। 

যার ফলে বুক ধরফর করা সহ শারীরিক ক্লান্তী আসতে পারে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে যদি আপনার বুক ধড়ফর করার সমস্যা দেখা দেয়, এজন্য দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এক্ষেত্রে আপনি পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এমন সমস্যা খুব সহজেই সমাধানে আনতে পারবেন। 

মানসিক টেনশন, উদ্বেগ এবং ভয় থেকেঃ 

শরীরের ক্ষেত্রে মানসিক টেনশন, দুশ্চিন্তা এবং ভয় দীর্ঘস্থায়ী হলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতার বাসা বাঁধতে পারে। মানসিক টেনশন বা দুশ্চিন্তা বিশেষ করে হৃদরোগের মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আপনি যখন মানসিক টেনশন, উদ্বেগ বা ভায়ের মধ্যে থাকেন এ সময় শরীরে অ্যান্ড্রেনালিন ও স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। যার ফলে দেখা দেয় বুক ধরফর করার মত সমস্যা। এটি যদিও সাধারণ সমস্যা তবে অতিমাত্রায় হলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। 

কেননা এমন সমস্যার ফলে আমাদের বুকের পেশীগুল সংকুচিত হয়ে বুকে চাপ বা অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার কারণে বুক ধরফর করার সঙ্গে, শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এমন সমস্যায় সঙ্গে মাথা ঘোরা, বুকে চিনচিন ব্যাথা উপলব্ধি হতে পারে। 

শরীরে হরমোন পরিবর্তনের ফলেঃ 

কারো শরীরে হরমোনে পরিবর্তন আসলে, বুক ধরফর করার সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কেননা আমাদের শরীরের হার্ট রেট, রক্তচাপ সহ স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে হরমোন। বিশেষ করে নারীদের মাসিক চক্রের সময় হরমোন পরিবর্তন হলে, হৃদস্পন্দন বেড়ে বুক ধরফর করার অনুভূতি আসতে পারে। অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোন পরিবর্তনের ফলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

বুক

এছাড়াও নারীদের ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার সময় হরমোনের বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। যার ফলে বুক ধরফর করা সহ মাথা ঘোরা, ক্লান্তি সহ দুর্বলতা দেখা দেওয়া সাধারণ বিষয়। এমন সমস্যা খুবই সাধারণ তবে গুরুতর হলে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে, হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে, বুক ধরফর করার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

শরীরে রক্তশূন্যতার দেখা মিললেঃ 

রক্তশূন্যতা অর্থাৎ রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া। শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে, হৃদপিণ্ড শরীরের অন্যান্য স্থান গুলিতে পরিপূর্ণ রক্ত মিশ্রিত অক্সিজেন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে হৃদপিণ্ডকে তার কার্যক্রমের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে হয় যা থেকে বুক ধরফর করার মত সমস্যার দেখা মেলে। এ সময় শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে। 

আরো পড়ুনঃ শরীরে রক্ত কম হওয়ার লক্ষণ এবং করনীয় গুলা জানুন।


শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে, বুক ধরফর করার সমস্যার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং দুর্বলতার দেখা মিলতে পারে। একই সঙ্গে মাথা ঘোরা, হাত পা ঝিমঝিম করা, বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা, ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সহ হাত পা ঠান্ডা লাগার মতন অনুভূতি সামনে এসে হাজির হতে পারে। বিশেষত শরীরে আয়রনের ঘাটটি দেখা দিলে এমন সমস্যার মোকাবেলা খুবই সাধারণ ব্যাপার। 

শরীরে পানি শূন্যতার অভাব হলেঃ  

পানি শূন্যতা দেখা দেওয়া মানে, ডিহাইড্রেশন সামনে এসে হাজির হওয়া। শরীরের প্রয়োজনীয় রক্ত উৎপাদনের জন্য, শরীরকে হাইড্রেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। কেননা পানি শূন্যতায় শরীরে তরল কমে গেলে, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, এমন সমস্যায় শারীরিক কার্যকলাপের জন্য হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এক কথায় পানি শূন্যতায় রক্তস্বল্পতা আসে, যার ফলে শরীরের অন্যান্য স্থানগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, এবং বুক ধরফর করার মতো অনুভূতি দেখা দেয়। 

শরীরে পানি শূন্যতায় বুক ধরফর করার সমস্যার সঙ্গে, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রস্রাব গাঢ় রঙের হওয়ার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পানির পিপাসা, হাত পায়ে কাঁপুনি দেখা দেওয়া এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত সমস্যা হাজির হতে পারে। পানিশূন্যতা পূরণের জন্য এ সময়, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত পরিচিত ওর স্যালাইন সহ পর্যাপ্ত পানি পান করা বেশ উপযুক্ত। 

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেঃ 

থাইরয়েডের সমস্যা সাধারণত একটি বংশগত রক্তের রোগ। শরীরে হাইপারথাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দুটোর যেটাই দেখা যাক না কেন, হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম অর্থাৎ শরীরে থাইরয়েডের পরিমাণ বেড়ে গেলে, বুক ধরফর করার মত অনুভূতি দেখা দিতে পারে। আপনার এমন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হৃদপিন্ডের সঠিক কার্যকারিতা নষ্ট করে বৈদ্যুতিক সংকেতকে প্রভাবিত করতে পারে। 

থাইরয়েড সমস্যায় বুক ধরফর করার সঙ্গে, আপনার শরীরে ওজন কমে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়ার মত লক্ষণ আসতে পারে। মাথার চুল পড়াও এমন সমস্যায় অসম্ভব কিছু না, এ সময় ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে, শরীরে উদ্বেগ সহ অস্থিরতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।   একই সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত ঘামের দেখা মেলাও থাইরয়েড সমস্যার কারণ। 

হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা দেখা দিলেঃ 

হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যায় বুক ধরফর করার সমস্যা দেখা দেওয়া গুরুধরণ লক্ষণের মধ্যে পরে। বুক ধরফর করা মানে হৃদপিন্ড বা হার্টের সমস্যা। বিশেষ করে আপনার যদি অনিয়মিত হার্টবিট, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, হার্টের বাল্বের সমস্যা একই সঙ্গে হার্ট ফেইলিওরের মত সমস্যার মোকাবেলায় পড়েন, সেক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়, একই সঙ্গে বুক ধরফর করার মতো সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। কারো ধমনীতে চর্বি জমে থাকলেও হৃদপিন্ডে প্রভাব পড়ে। 

হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যায় হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, শারীরিক ক্লান্তী ও দুর্বলতা, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বুকে চাপ বা ব্যথার অনুভূতি একই সঙ্গে মাথা ঘোরা সহ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আপনার যদি হৃদরোগ বা হার্ট জনিত কোন সমস্যায় এমন লক্ষণ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। 

অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপান সহ মধ্যপানের কারণেঃ 

অতিরিক্ত চা ,কফি, ধূমপান সহ মধ্যপানের কারণে বুকে ধরফর অনুভূতি দেখা দেওয়া সাধারণ সমস্যার মধ্যে পড়লেও এটি আমলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। কেননা চা এবং কফি ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার এগুলোতে থাকা উপাদান হৃদযন্ত্র সহ স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এছাড়া আমরা সকলে জানি ধূমপান হৃদরোগের কারণ হতে পারে। কেননা এতে থাকা নিকোটিন শরীরের রক্তচাপ সহ হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে। 

আপনি যদি মদ্যপান করেন সেক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে বুক ধরফর করার অনুভূতি আনে। মদ্যপানে বিশেষ করে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়। এমন অভ্যাসে বুক ধরফর করার সঙ্গে, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, মাথা হালকা লাগা সহ হাত পায়ে কাঁপুনি দেখা দিতে পারে। শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এমন অভ্যাস ত্যাগ করা আমাদের প্রত্যেকেরই জরুরী। 

বুক ধরফর করা সমস্যায় করণীয় দেখে নিন 

আর্টিকেলটি বুক ধরফর করার ৮টি কারণ ও করনীয় সম্পর্কে। বুক ধরফর করার সমস্যায় ৮টি কারণের কথা, ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বুক ধরফর করার সমস্যা সাধারণ ভাবে হলেও এটি আমলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এমন সমস্যায় সঠিক কারণ নিশ্চিত করে, যথাযথ ব্যবস্থা সহ প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। চলুন তাহলে বুক ধড়ফর করার সমস্যায় করণীয় গুলো দেখে নিন। 

বুক

  • আপনার বুক ধরফর করার সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায়, নিজেকে শান্ত রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা জরুরী। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার ফলে এমনটা হলে, বিশ্রামে সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি চাইলে বিশ্রামের সঙ্গে সামান্য হাঁটাচালাও করতে পারেন, এমন সময় এটি হার্ট বিট ধীর করতে কার্যকারী। 
  • শরীরে পানি শূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ফলে, এমন সমস্যার মোকাবেলা করতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এ সময় ওর স্যালাইন, ফলের রস এবং যেকোনো স্যুপ খাওয়া উপকারী হতে পারে। বুক ধরফর করার সঙ্গে শরীরে বিরক্তি কাজ করলে, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। 
  • এমন সমস্যায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে অক্সিজেন স্বল্পতা পূরণের জন্য সুষম খাদ্য খাওয়া প্রয়োজন। এজন্য আপনি চাইলে, ফ্রেশ শাকসবজি, ফলমূল সহ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে,বুক ধরফর করার সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে।
  • এমন সমস্যায় পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতেও ভুলবেন না, শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে, ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরী। অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, এ সময় আরোগ্য পেতে উপযুক্ত। 
  • দীর্ঘস্থায়ী কোন স্বাস্থ্য সমস্যা সহ হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যায় এমন লক্ষণ অনুভূতি হলে, রক্ত পরীক্ষা করিয়ে কারণ নির্ণয় করুন। এই সঙ্গে হার্ট পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরী। আপনি যাই করেন না কেন এমন সমস্যায় একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিক ব্যবস্থা সহ প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করতে হতে পারে। 

উপসংহার। বুক ধরফর করার ৮টি কারন ও করণীয় দেখে নিন 

বুক ধরপর করার ৮ টি কারন ও করণীয় দেখে নিন আর্টিকেলটিতে, বুক ধরফর করার কিছু কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। বুক ধরফর করার সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ সমস্যা, যা খুব সহজে কমে যেতে পারে। তবে আপনার যদি এমন সমস্যা প্রাথমিক ভাবে না কমে, একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, বুকে প্রচন্ড ব্যাথা ও মাথা ঘোরার অনুভূতি আসলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। 

কেননা এমন সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমাগত হলে, হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাছাড়া আপনার যদি পূর্বে হৃদরোগের কোন ইতিহাস থাকে, সেক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। সর্বোপরি আপনি এমন সমস্যার মোকাবেলা করলে, এটাকে ছোট ভেবে ভুল করবেন না, সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। 

                           (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url