বুকের মাঝখানে ব্যাথার কারণ কি, এবং করনীয়

আমাদের শরীরে বুকের মধ্যে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালী সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাঠামো রয়েছে। এগুলো পাঁজর ও বুকের হাড় দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। বুকের ভেতরের এই অঙ্গ গুলির সামান্যতম যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে, মিলতে পারে বুকের মাঝখানে সহ বুকে ব্যথার সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে বুকের মাঝখানে বা বুকে ব্যথার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এই সকল কারণগুলোর মধ্যে, কিছু সাধারণ কারণসহ কিছু গরুতর কারণ জড়িত থাকতে পারে। 

বুকের

ভয়ের কিছু নেই, বুকের মাঝখানে ব্যথার সমস্যা সাধারণভাবে সমাধান করা সম্ভব হতে পারে,এজন্য সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরী। চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা, বুকের মাঝখানে ব্যথা সহ বুকে ব্যথার কারণ কি? সঙ্গে এমন সমস্যায় করনীয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বুকের মাঝখানে ব্যাথার কারণ কি, এবং করনীয়

বুকের মাঝখানে ব্যথার কারণ কি 

আমাদের বুকের ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো সম্পর্কে প্রথমেই বলা হয়েছে। বুক থেকে আমাদের সম্পূর্ণ শরীরের, কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা হয়। বুকের মাঝখানে সহ বুকে ব্যথার সমস্যা একজন মানুষের জন্য, খুবই বেদনাদায়ক। এমন সমস্যায় টেনশন করেন অনেকে, চলুন আজকের এই আর্টিকেলটির মূল বিষয়, বুকের মাঝখানে ব্যথা কারণ কি? সে সম্পর্কে প্রথমেই জানার চেষ্টা করি।

বুকে ব্যথা হওয়ার সাধারণ কারণঃ 

  • বুকের মাঝখানে সহ বুকে ব্যথা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারনের মধ্যে, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমন ধরুন অ্যাসিড রিফ্লাক্স অর্থাৎ পরিপাকতন্ত্রের এসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসলে বুকে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব হতে পারে। 
  • আপনি যদি অত্যাধিক মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সমস্যায় থাকেন। তাহলেও বুকে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। কেননা এ সময় অ্যাংজাইটি বা প্যানিক অ্যাটাক থেকে, এমন ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। ধুমপান ও মধ্যপানের কারনে ও বুকে ব্যাথার সৃষ্টি হতে পারে। 
  • অন্যদিকে আপনার পেটে যদি দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা থাকে, তাহলে ও এমন ব্যথা অনুভব হওয়াটা সাধারণ ব্যাপার। খাদ্যনালীতে কোন প্রকার প্রদাহ সৃষ্টি হলেও, বুকের মাঝখানে চিনচিন ব্যথা অনুভব হতে পারে। 

পেশী ও হাড়ের কোন সমস্যা থাকলেঃ 

 আপনি যদি হঠাৎ করে অতিরিক্ত পরিশ্রম সহ আঘাতের কারণে, পেশীতে টান বা পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনার বুকের মাঝখানে সহ সম্পূর্ণ বুকের খাঁচায় ব্যথা অনুভব হতে পারে। কেননা আমাদের পেশী বা হাড়ের কোন প্রকার সমস্যা হলে বুকের মাঝখানে ব্যথার দেখা দিতে পারে। 

আর্থাইটিস, অর্থাৎ পাঁজরের জয়েন্টে প্রদাহ সহ কস্টোকন্ড্রাইটিস নারীদের পাঁজরের সাথে স্তন হারের সংযোগ স্থলের প্রদাহ হলে বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হয়। এমন ব্যথার প্রবণতা হালকা চাপে অনেক তীব্র ও কষ্টদায়ক অনুভূতি হয়। তাছাড়া পাঁজরের ফাটল বা ভাঙ্গন হলে বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হয়। এমন ব্যাথায় কাশি দিলে বা জোরে শ্বাস নেওয়ার ফলে, তীব্রতা অনেক বেশি  অনুভব হতে পারে। 

ফুসফুস সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যার ফলেঃ

  • আমাদের বুকের কাঠামোর মধ্যে, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুস। সাধারণত ফুসফুসের সংক্রমণ যেমন, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক, যার ফলে বুকের মাঝখানে সহ বুকের তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। 
  • নিউমোনিয়া নামক ফুসফুসের সংক্রমণ, বুকের মাঝখানে ব্যাথার সৃষ্টি করতে পারে। কেননা নিউমোনিয়ার ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট ও কাশির দেখা মেলে, একই সঙ্গে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। 
বুকের

  • অ্যাজমার সমস্যার ফলে, শ্বাসনালীর প্রদাহের কারণে বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব হতে পারে। পলুরিসি ফুসফুসের সংক্রমনেও শ্বাস নেওয়ার সমস্যা তৈরি সহ বুকে ব্যথার সৃষ্টি করে। 
  • পালমোনারি এমবলিজম সংক্রমণ এর ফলে যদি ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বেধে যায়, সেক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে ব্যাথা সহ, তীব্র বুকে ব্যাথার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ফুসফুস ও পাজরের মাঝেও বাতাস জমে গেলে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট এবং তীব্র বুকে ব্যথার দেখা মিলতে পারে। 
  • আপনার শরীরে এনজাইম বা হার্ট অ্যাটাকের মত লক্ষণ, দেখা দেয় সেক্ষেত্রে  বুকে তীব্র ব্যথা সহ ভারি চাপ অনুভূতি সাধারণ ব্যাপার। এমন সময় বমি বমি ভাবের দেখা মিলতে পারে। মহা ধমনীর প্রাচীর ছিড়ে গেলেও এমন ব্যথা, তীব্র আকারে দেখা দিতে। বুকের মাঝখানে ব্যাথা বা বুকে ব্যথায় আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকা, জরুরী ,কেননা গুরুতর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কথা মাথায় রাখা উচিত আমাদের সকলের।

বুকের মাঝখানে ব্যথা সহ বুকে ব্যথায় যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে 

আজকের আর্টিকেলটিতে বুকের মাঝখানে ব্যথার কারণ কি? এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। তবে বুকের মাঝখানে ব্যথা সহ বুকে ব্যথা যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে, সেগুলো জানাও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বুকের মাঝখানে ব্যথা বা বুকে ব্যথার সমস্যা হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ  হতে পারে। চলুন তাহলে জানা যাক বুকের মাঝখানে ব্যথার লক্ষণগুলি সম্পর্কে। 

  • সাধারণভাবে বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে, বুকে চাপ বা ভারি লাগা, চিনচিন জ্বালাপোড়া, গভীর শ্বাস নিলে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে, এমন ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে। বুকের মাঝখানে ব্যথার সঙ্গে, অতিরিক্ত ঢেকুর সহ গ্যাস মুখে উঠে আসতে পারে। 
  • পেশির টান লাগার ফলে, আক্রান্ত স্থানে ব্যথা বেশি অনুভব হতে পারে। সেই স্থানে হালকা স্পর্শ করলে ব্যথার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। হঠাৎ অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে বুকে ব্যথা হলে সম্পূর্ণ বুকের পাঁজর গুলো, আধ্যাতিক ব্যথা যা নাড়াচাড়া দিলে অনেক বেশি মনে হয়। এমন ব্যাথা প্রাথমিক অবস্থায় হলে বিশ্রামের মাধ্যমে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। 
  • যদি গুরুতর লক্ষণ অর্থাৎ হৃদরোগ জনিত সমস্যার ফলে, বুকের মাঝখান সহ বুকে ব্যথা অনুভব হয়। সেক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে তিব্র চাপ বা চেপে ধরা অনুভব, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব সহ শরীরে অতিরিক্ত ঘামের দেখা মিলতে পারে। মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমন সময় অসম্ভব কিছু না। 
  • সর্বোপরি ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যার ফলে, বুকের মাঝখানে ব্যথা হওয়ার, লক্ষণ গুলোর মধ্যে বুকে চাপ বা অস্বস্তি ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যাথা সঙ্গে একটানা কাশির দেখা মিলতে পারে। কাশি দেওয়ার সময় বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, শ্বাস নেওয়ার সময় শো শো শব্দ সহ জ্বর, ক্লান্তি ও দুর্বলতার দেখা মিলতে পারে। মাথা ব্যাথার মত সমস্যার কবলেও পড়তে হতে পারে। 

বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় 

বুকের মাঝখানে ব্যথার কারণ কি? এবং করনীয় আর্টিকেলটিতে বেশ কিছু কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। বুকে ব্যথার সমস্যাকে আপনি সাধারণ কখনোই মনে করবেন না। আপনার শরীরে এমন সমস্যা দেখা দিলে, এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। এখন তাহলে বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয়, সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি চলুন। 

আরো পড়ুনঃ হাত পা ঝিমঝিম করার কারন ও প্রতিকার সম্পর্কে জানুন এখানে।

  • আপনার যদি বুকে ব্যথার সমস্যা কোন গুরুতর সমস্যার জন্য দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। মাথায় রাখবেন এমন সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে উপযুক্ত। 
বুকের

  • গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনার, ইসিজি পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্নিয় করে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করবেন। যদি বুকে ব্যথা তীব্রতা অনেক বেড়ে, হার্ট অ্যাটাকের মত লক্ষণ দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রেও জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে যাওয়া অবশ্যক। 
  • প্রাথমিক ও সাধারণভাবে এমন ব্যথার দেখা মিললে, এ সময় বিশ্রাম জরুরী। বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে বুক চেপে ধরা থেকে বিরত থাকুন, গরম কোন কিছু কোনমতেই খাওয়া চলবে না। টাইট কাপড় না পরে ঢিলাঢালা কাপড় পড়ুন, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের  সমস্যায় বুকে ব্যাথা অনুভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন। 
  • এ সময় অতিরিক্ত ধূমপান ও মধ্যপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন। অতিরিক্ত তেল,     মশলা ও ভাজাপোড়া খাবার সহ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার পরিহারে, উপকারী প্রভাব মিলতে পারে। বুকের মাঝখানে ব্যাথা সহ বুকের ব্যথায় কখনোই অবহেলা করবেন না। ঘরোয়া চিকিৎসায় চাপা না দিয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উত্তম। 

উপসংহার। বুকের মাঝখানে ব্যাথার কারণ কি? এবং করণীয় 

এই আর্টিকেলটিতে বুকের মাঝখানে ব্যথার কারণ কি? এবং করণীয় ও লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বুকের ভিতর পাঁঝর ধারা শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি আবদ্ধ, যা শারীরিক সুস্থতার জন্য সম্পূর্ণরূপে সতেজ রাখা জরুরী। বুকে ব্যথা কখনোই সাধারণভাবে নিবেন না, সবসময় মাথায় রাখবেন এটি শরীরে মারাত্মক কোন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদি গ্যাসের সমস্যার কারণে এমন ব্যথা অনুভব করেন। সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। 

কেননা হার্ট সংক্রান্ত সমস্যার ফলে এমন ব্যথার অনুভূতি এবং সাধারণ ব্যথার অনুভূতির পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হতে পারে। যাই হোক নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে নজর দিন। বুকের মাঝখানে ব্যথার কারণ কি এবং করনীয় আর্টিকেলটি এতক্ষণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

                               (খোদা হাফেজ)  



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url