মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ

মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ এমন তথ্য অনেকেই জানতে চাই। যেকোনো নারীর জন্য তলপেট ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বেশিরভাগ নারীর ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের কারণে তলপেটে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। 

তলপেট

এছাড়া মেয়েদের তলপেট ব্যাথা হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কখনো কখনো তলপেটের এমন ব্যথা খুবই সাধারণ আবার কখনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। চলুন আজকের ব্লগে নারীদের তলপেট ব্যথা হওয়ার কারণ সহ বেশ কিছু তথ্য জেনে নিন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ  মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ

মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ

মেয়েদের তলপেট ব্যথা মূলত নাভির নিচের অংশে হওয়া ব্যথা। পুরুষ কিংবা নারী তলপেট ব্যথা সবার জন্যই অস্বস্তিকর যন্ত্রণার অনুভূতি সৃষ্টি করে। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজমের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তলপেট সহ সম্পন্ন পেটে ব্যথা হতে পারে। তলপেটে ব্যথার প্রবণতায় ছেলেদের থেকে মেয়েরা বেশি প্রভাবিত হয়। যা সাধারন কারণ ছাড়াও জরায়ুজনিত সমস্যার লক্ষন থেকে হতে পারে। নিচে মেয়েদের তলপেটে ব্যথা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারণে মেয়েদের তলপেট ব্যথা হয় সেগুলো জেনে নিন। 

ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের ব্যথা 

ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডে মেয়েদের তলপেটে ব্যাথা হওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কেননা পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের জরায়ু সংকুচিত হয়ে তলপেটে ব্যথা হয়। এ সময় মেয়েদের তলপেটে ব্যথা কোনো কারণ ছাড়াই স্বাভাবিক ভাবে হয়। এমন ব্যথা দুই থেকে তিন দিন বা তার বেশিও হতে পারে সঙ্গে রক্তপাত হয়ে থাকে। এ সময় তলপেটে টানটান ব্যথার সঙ্গে ব্যাথা কোমর বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বমি বমি ভাব এবং মাথা ব্যথার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। 

প্রসাবে সংক্রমণের ফলে 

বিশেষ করে প্রসাবের সংক্রমণের ফলে মেয়েদের তলপেটে ব্যথার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। প্রসাবে সংক্রমণ মানেই ইউরিন ইনফেকশন। যা নাভির নিচে পেটের মাঝেমাঝি অংশের পিউবিক হাড়ের উপরে ব্যথার লক্ষণ দেখা দেয়। এ সময় মেয়েদের তলপেটে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘনঘন প্রস্রাবের লক্ষণ সহ প্রস্রাব ঘোলাটে এবং দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসাবে সংক্রমণের ফলে কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। আপনি যদি প্রস্রাবের সংক্রমণের গুরুতর পর্যায়ের লক্ষণ অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

জরায়ুর সংক্রমণ থেকে 

মেয়েদের তলপেটে ব্যথার অন্যতম লক্ষণ হল জরায়ুর সংক্রমণ। চিকিৎসা ভাষায় জরায়ুর সংক্রমণকে ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ বলে আখ্যায়িত করা হয়। জরায়ুর সংক্রমণ মূলত জরায়ুর প্রজনন অঙ্গের আশপাশের সংক্রমণের কারণে হয়। মেয়েদের জরায়ু সংক্রমনের ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা হয় যা কোমর বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাছাড়াও জরায়ুর সংক্রমণে মেয়েদের ঋতুস্রাব থেকে অনিয়মিত রক্তপাত, শরীরের জ্বর এবং কাঁপুনি, সাদা-হলুদ রংয়ের দুর্গন্ধযুক্ত ঋতুস্রাবের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন সময় মেয়েদের বমি বমি ভাব এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যাথা 

মেয়েদের তলপেটে ব্যথার লক্ষণ অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা থেকে হতে পারে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা বিশেষ করে প্রথমে নাভির আশপাশ থেকে শুরু হয়। পরবর্তীতে এমন ব্যথা তলপেটের ডানদিকে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আকার ধারণ করে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় হাঁটাচলা, শরীর নাড়াচাড়া সহ কাশি দিলে তীব্রতা বেড়ে। এপেন্ডিসাইড এর ব্যাথা হলে একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া এবং বমি বমি ভাবের লক্ষণ আসে। কারো কারো খাবার খাওয়ায় অনিহা সহ শরীরে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  

মূত্রথলি ও কিডনিতে পাথর থেকে 

কোন মেয়ের মধ্যে মূত্রথলি বা কিডনিতে পাথরের প্রবণতা দেখা দিলে তলপেটে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মেয়েদের কিডনিতে হওয়া পাথর যখন মূত্রনালীতে নেমে আসে তখন পেটের একপাশ এবং কোমরের পাশে ব্যথা শুরু হয়। এমন ব্যথা তলপেট সহ কুচকিতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

মেয়েদের এমন পাথরের সমস্যায় প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের রক্ত, বমি বমি ভাব এবং বারবার প্রস্রাবের বেগ আসতে পারে। মূত্রথলির পাথরে ফলে প্রসাবের রাস্তা আটকে যায়। যা থেকে প্রসাবের ইনফেকশন সহ বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। আপনার মূত্রথলি বা কিডনিতে পাথরের প্রবণতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া খুবই জরুরী। 

ডিম্বস্ফোটনের কারনে ব্যাথা 

ডিম্বস্ফোটনের কারণে মেয়েদের তলপেট ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ব্যথাকে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় মিটেলশমার্জ। বিশেষ করে এমন ব্যথা ঋতুস্রাব বা মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময় হয়ে থাকে। কেননা এ সময় ডিম্বাশয় থেকে ডিম বের হলে হালকা রক্তপাত হয়ে তরল নিঃসরণ হতে পারে। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটনের কারনে তলপেটে ব্যথা খুবই স্বাভাবিক। এমন সমস্যায় তলপেটের এক পাশে হালকা থেকে মাঝারি ব্যাথা হয় যা কয়েক ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে আপনি যদি এমন ব্যথার তীব্র লক্ষণ অনুভব করেন সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

ছেলেদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ 

ব্লগটিতে ইতিমধ্যে মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তলপেটে ব্যথা মূলত নাভির নিচে হওয়া ব্যাথাকে বোঝায়। ব্লগের এই পর্বে ছেলেদের তলপেটে ব্যথা কিসের লক্ষণ এমন বিষয় কিছু তথ্য তুলে ধরা হবে। ছেলেদের বেশ কিছু কারণে তলপেটে ব্যথা হতে পারে। নিচে ছেলেদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ, কি কি কারনে ছেলেদের তলপেট ব্যাথা হয় সে ব্যাপারে জেনে নিন। 

আরো পড়ুনঃ মাথা ঘোরা ও শরির দুর্বল কিসের লক্ষণ জানুন এখানে।

  • সাধারণত ছেলেদের  তলপেট ব্যাথা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ এবং অন্যতম কারণ পেটের সমস্যা। বিশেষ করে পেটের গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বদহজম থেকে ছেলেদের তলপেট সহ সমস্ত পেটে হালকা থেকে তীব্র ব্যথার লক্ষণ দেখা দেওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। পেটের সমস্যায় তলপেটে ব্যাথা সহ শরীরে বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। 
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ ছেলেদের থেকে মেয়েদের একটু বেশি হয়। তবে মূত্রনালীর এমন সংক্রমনে ছেলেদের তলপেটে ব্যথার লক্ষণ অনুভব করতে পারে। এ সময় তলপেটে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব সহ প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হতে পারে। 
  • ছেলেদের কিডনিতে পাথরের সমস্যার দেখা মিললে হতে পারে তলপেটে ব্যাথা। এ সময় ব্যথা পেট থেকে তলপেটে ছড়িয়ে পড়ে সঙ্গে কখনো কখনো খিচুনির দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কিডনিতে পাথরের প্রবনতায় প্রস্রাবে রক্ত থাকতে পারে। 
  • প্রোস্টেট এর সমস্যায় ছেলেদের তলপেটে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ। প্রোস্টেটের সমস্যায় তলপেটে ব্যথা কুচকি সহ উরুতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন সমস্যায় আপনার প্রস্রাবের বেশ কিছু সমস্যার লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। 
  • ছেলেদের হোক কিংবা মেয়েদের তলপেটে ব্যথার প্রবণতা সৃষ্টিতে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অন্যতম সাধারণ কারণ বলে ধরা যায়। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের তলপেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা হয়। সঙ্গে বমি বমি ভাব সহ শরীরের জ্বরের দেখা মিলতে পারে। আপনি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কোন লক্ষণে তলপেটে ব্যাথা উপলব্ধি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
  • হার্নিয়া থেকেও তলপেটে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হার্নিয়াতে কুচকিতে ফলাভাব দেখা দিয়ে এমন ব্যাথার সৃষ্টি করে। যা ভারী কোন বস্তু তোলার ফলে বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও কোন ব্যক্তির পেটে টিউমারের ফলে তলপেটে ব্যাথা এবং সম্পূর্ণ পেটে ব্যাথা হতে পারে। কারো কারো টিভি রোগের সমস্যা থেকেও তলপেটে ব্যথা হয়। 

তলপেটে ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ। প্রেগনেন্সির লক্ষণ কি কি 

তলপেটে ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ, প্রেগনেন্সির লক্ষণ গুলো কি কি। সদ্য বিবাহিত অনেক নারীর তলপেটে ব্যথা হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে। প্রথমেই চিন্তা আসে এমন ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ। হতে পারে আপনার ধারণা ঠিক গর্ভাবস্থায় প্রথম দিকে তলপেটে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কেননা এ সময় জরায়ু প্রসারিত হয় সঙ্গে হরমোনে পরিবর্তন আসে যার কারণে তলপেটে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে তলপেটে ব্যথার সঙ্গে প্রেগনেন্সির আরও বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। নিচে তলপেটে ব্যথার সঙ্গে প্রেগনেন্সির লক্ষণ গুলো সম্পর্কে ব্লগের এই পর্বে তুলে ধরা হলো। 

তলপেট
  • তলপেটে ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ? আপনার গর্ভাবস্থার প্রথম লক্ষণ এর সঙ্গে ঋতুস্রাব বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা লক্ষ্য করতে পারেন। নিয়মিত মাসিক বা ঋতুচক্র হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে হতে পারে এটি প্রেগনেন্সির লক্ষণ। মাঝে মাঝে মাসিকের সময়সীমায় অল্প পরিমাণে রক্তপাত হতে পারে যা খুবই ক্ষণস্থায়ী।  
  • গর্ভাবস্থায় একজন নারীর প্রথম দিকে তীব্র বমি বমি ভাব সহ কখনো কখনো বমি হতে পারে। এমন বমি বমি ভাবের সমস্যা বিশেষ করে সকালে বেশি হয়। একই সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। এ সময় কোন কাজকর্ম করতে অনিচ্ছা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে ঘুম ঘুম ভাবের অনুভূতি মেলার সম্ভাবনা অনেকটাই প্রবল। 
  • কোন নানীর মধ্যে গর্ভাবস্থার লক্ষণ আসলে প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকের মধ্যেই দেখা দেয়। এ সময় প্রস্রাবের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যেতে পারে। কখনো কখনো প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সহ ঘন ঘন প্রসাবের বেগ আসে। কেননা গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয় যা এমন সমস্যা সৃষ্টিতে দায়ী। 
  • গর্ভাবস্থার শুরুতে একজন নারীর তলপেট ফাপা ভাবের লক্ষণ খেয়াল করতে পারেন। অনেক নারীর মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও দেখা দেয়। এ সময় নির্দিষ্ট কিছু খাবারে আগ্রহ সহ কিছু খাবারের অনীহা দেখানোর অনুভূতি লক্ষ্য করতে পারেন। 
  • গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই একজন নারীর স্তনে পরিবর্তন আসা শুরু করে। বিশেষ করে স্তন ভারি হয়ে ফুলে যাওয়ার প্রবণতা আসে। একই সঙ্গে স্তনে প্রচন্ড ব্যথা হলেও ধরে নিতে পারেন প্রেগনেন্সির লক্ষণ। আপনি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মাথায় ঝিম ঝিম অনুভূতি সহ মাথা ঘোরার লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন।
  • গর্ভাবস্থার লক্ষণ কি কি এমন ও লক্ষণে নারীদের মেজাজের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা স্বাভাবিক। এ সময় অনেক নারীরাই খুবই আবেগ প্রবণ হয় পরে। মাঝে মাঝে হঠাৎ একা কান্নাকাটি করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। আপনি যদি তলপের ব্যাথা সঙ্গে এমন লক্ষণগুলো উপলব্ধি করেন। সেক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউরিন টেস্ট কিট ব্যবহার সহ রক্ত পরীক্ষা এবং আলট্রাসনোগ্রাম এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারে।

তলপেটে ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম 

ব্লগটিতে মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ, ছেলেদের তলপেট ব্যাথা কিসের লক্ষণ এবং তলপেট ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ এমন বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তলপেট ব্যথা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যা ইতি পুর্বে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা অনেকেই তলপেট বা পেট ব্যথার সমস্যায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে থাকি। যদিও এ সকল ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে তবে খুব দ্রুত সাময়িক আরাম মেলাতে পারে। নিচের তলপেট ব্যথার বেশ কিছু ট্যাবলেটের নাম সম্পর্কে বলা হল। 

  • Tab algin 50mg
  • Cap Nexum 20
  • Ibuprofen
  • Aspirin
  • Naproxen
  • Omeprazole
  • Lansoprazole
  • Pantoprazole 

উপরে উল্লেখিত ওষুধগুলি তলপেট বা পেট ব্যথায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই জনপ্রিয়। তবে আপনার তলপেটে ব্যথা হোক কিংবা পেটে ব্যথা। এজন্য সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রযোজ্য। চিকিৎসক আপনার ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে উৎসাহিত করবেন। শারীরিক যেকোন সমস্যায় পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। হতে পারে সাধারণ এমন তলপেট বা পেটে ব্যথা গুরুতর কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ। 

দ্রুত পেট ব্যথা কমানোর উপায় 

আজকের ব্লগেরর মূল বিষয় ছিল মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ এ ব্যাপারে। তবে এর সঙ্গে ছেলেদের তলপেট ব্যাথা কিসের লক্ষণ, তলপেট ব্যথা কি প্রেগনেন্সির লক্ষণ একই সঙ্গে তলপেট ব্যথার কিছু ওষুধের নাম তুলে ধরা হয়েছে। তলপেটে বা পেটে ব্যাথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ সমস্যার কারণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বদহজম সহ নানান সমস্যা। আপনি পেটে ব্যথার লক্ষণ উপলব্ধি করলে প্রাথমিক অবস্থায় কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারে। যা দ্রুত পেট ব্যথা কমানোর জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তাহলে জেনে নিন দ্রুত পেট ব্যথা কমানোর উপায় গুলি সম্পর্কে। 

আরো পড়ুনঃ শরীর কাপা কিসের লক্ষণ সমসধানের উপায় কি?

  • দ্রুত পেট ব্যথা কমানোর উপায় গুলির মধ্যে গরম সেক দেওয়া বেশ কার্যকরী পদ্ধতি। প্রাথমিক অবস্থায় হঠাৎ করে আপনার পেটে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিলে পেটের ব্যথা স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট গরম সেক দিতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে হালকা লবণ মিশিয়ে খেলেও পেট ব্যথায় উপকার পাবেন। কেননা পেটের সমস্যায় পেটে ব্যথা কমাতে কুসুম গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 
  • হঠাৎ পেটে ব্যথার সমস্যায় এক কাপ আদা চা অনেকেই খেয়ে থাকে। তলপেট কিংবা পেটে ব্যথার সমস্যা আদা পেটের প্রদাহ কমিয়ে হজমে সাহায্য করে। বমি বমি ভাবের অনুভূতি কমাতেও আদা বেশ কার্যকারী প্রাকৃতিক উপাদান। আদার মত পুদিনা পাতাও সাধারণ ভাবে হওয়া পেটে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। সামান্য হাঁটাচলাতে গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমে হওয়া পেটে ব্যথা কমাতে পারে। 
তলপেট
  • পেটে ব্যথার প্রবণতা দেখা দিলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে পেটে গ্যাস্ট্রিক কমে এবং হজমে সাহায্য করে। শারীরিক অস্বস্তি কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম করাও জরুরী। এজন্য পেটে ব্যথার সমস্যায় পেটের উপরে চাপ না দিয়ে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্রাম করুন। 
  • পেট ব্যথা কমানোর উপায় গুলি অবলম্বনে পরেও আপনার পেট ব্যথা না কমলে। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। এতেও সমাধানের না আসলে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। পেটে ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সাধারণ ভাবে পেটে ব্যথা ঘরোয়া উপায়ে সমাধান করা সম্ভব। আপনার পেটে ব্যথার লক্ষণ তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 

গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথার কারণ কি 

মেয়েদের তলপেট ব্যাথা কিসের লক্ষণ সহ পেট ব্যথা সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। গর্ভাবস্থার প্রথমদিকে নারীদের তলপেটে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। অনেকে তো গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে তলপেট ব্যাথা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং ভয় পান। তবে গর্ভাবস্থায় তলপেট ব্যাথা নিয়ে টেনশনের তেমন কিছু নেই। চলুন ব্লগের এই পর্বে গর্ভাবস্থায় তলপেট ব্যথার কারণ কি সেগুলো জেনে নিন। 

  • গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একজন নারীর হজমের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে এ সময় হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যায় যার ফলে গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজমের দেখা মেলে। যা থেকেই তলপেট সহ পেটে ব্যথা ও অস্বস্থির প্রবণতার উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে। 
  • এছাড়াও গর্ভাবস্থায় তলপেট ব্যথা হওয়ার সব থেকে অন্যতম কারণ হচ্ছে হরমোনের পরিবর্তন। একজন নারীর গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনে পরিবর্তন আসে যা থেকে তলপেটে ব্যথা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রস্তাবে সংক্রমণ, মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতা কাজ করতে পারে। 
  • গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই নারীদের পেট বড় হওয়া শুরু করে। কেননা এ সময় জরায়ুর সাথে সংযুক্ত লিগামেন্ট গুলো প্রসারিত হয়। যার ফলে হালকা পিরিয়ডের মত তলপেটে ব্যথার লক্ষণ আসতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের এমন তলপেটে ব্যথার অনুভূতিতে ইমপ্লাটেশন পেইন বলেও বিবেচনা করা হয়।

উপসংহার। মেয়েদের তলপেট ব্যথা কিসের লক্ষণ 

মেয়েদের তলপেট ব্যাথা কিসের লক্ষণ, ছেলেদের তলপেট ব্যাথা কিসের লক্ষণ এবং তলপেট ব্যথার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। তলপেট ব্যথা কিংবা পেটে ব্যথা খুবই অস্বস্থিকর একটি সমস্যা। যা অনেকের ক্ষেত্রেই বিরক্তিকর অনুভূতি সৃষ্টি করে জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আমাদের মধ্যে কার তলপেট বা পেটে ব্যথার অনুভূতি আসলে অবশ্যই সমস্যার সমাধান করা জরুরী। এজন্য প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুত পেট ব্যাথা কমানোর উপায় অবলম্বন করতে পারেন। 

এছাড়াও গুরুতর কোন স্বাস্থ্য সমস্যা কারণে তলপেট বা পেটে ব্যথার প্রবণতা দেখা দিলে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক কারণে নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রেও তলপেট ব্যথার লক্ষণে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। সাধারণত শরীর সুস্থ রাখতে পেটের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা জরুরী। এজন্য পেটের কোন সমস্যায় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন।

                         (খোদা হাফেজ)


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url