ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় জানতে এই ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। ঢেকুর বা হেঁচকি আমাদের সকলেরই কমবেশি ওঠে। ধরেন আপনি ভালো মন্দ কিছু খেলেন খাওয়া শেষে পানি খাবার পরে ঢেঁঘুর উঠতে পারে। 

ঢেঁকুর

এভাবে কোন কিছু খাবার পরে কয়েকবার ঢেকুর উঠা স্বাভাবিক। তবে মাত্রাতিরিক্ত ঢেকুর বিরক্তির কারণ যা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরী। এজন্য ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বনে ঢেকুর বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। নিচে ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে তুলে ধরা হলো। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন 

মানব দেহে ফুসফুসের নিচে থাকা ডায়াফ্রাম অর্থাৎ পাতলা মাংসপেশির সংকোচনের ফলে সাধারণত ঢেকুর ওঠে। ঢেকুর ওঠার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে তবে মাত্রাতিরিক্ত পেটের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত ডেকুর স্বাভাবিক না করা হলে, পেটের গ্যাস্ট্রিক, আলসার সহ নানান সমস্যা সম্মুখীন করাতে পারে। তবে টেনশনের কিছু নেই ঘরোয়া কিছু প্রতিকারে। পাকস্থলীতে জমে থাকা গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে অনিয়ন্ত্রিত ঢেকুর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। নিচে ডেকুর বন্ধ করার কিছু ঘরোয়া প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন।

লেবু এবং আদা কুচি খাওয়া 

ঢেকুর বা হেঁচকি বন্ধ করার জন্য লেবু এবং আদা কুচি খাওয়া ঘরোয়া প্রতিকারে খুবই জনপ্রিয়। এজন্য আপনি আদা এবং লেবুর রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। আপনি চাইলে আদা কুচি করে চিবিয়ে খেতে পারেন। আদা কুচি এবং লেবু কুচি দিয়ে চা করে খেলেও উপকার মিলানো সম্ভব।

তাছাড়া আপনি যদি এক টুকরো লেবু কেটে মুখের ভিতরে নিয়ে চুষে খেতে পারেন এটিও অতিরিক্ত ঢেকুর বন্ধ করার জন্য কাজ করে। বিশেষ করে আদা পাকস্থলীর হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং লেবু গ্যাস্ট্রিক এবং এসিডিটি কমাতে খুবই কার্যকরী। আপনি যদি এমন উপকরণ দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এটি আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন 

আপনি কি জানেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করার অভাবে মাত্রাতিরিক্ত ঢেঁকড় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি ঘন ঘন ঢেবুরের প্রবণতায় পড়েন সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শারীরিক সুস্থতায় পর্যাপ্ত পানি পাকস্থলীর হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এসিডিটি কমায় সঙ্গে শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। তীব্র ডেকুরের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবার খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি পান করতে পারেন। তাছাড়া আপনার ডেকুরের সমস্যায় স্বস্তি মিলাতে ঠান্ডা পানি খেলে উপকার পাবেন। 

পুদিনা পাতা উপকারী 

পেটের হজম শক্তি উন্নত সহ পেটের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য পুদিনা পাতা অত্যন্ত উপকারী উপাদান। কেননা পুদিনা পাতায় থাকা মেনথল পেটের গ্যাস কমায়, হজম শক্তির উন্নত করে পেট শান্ত রাখে। বারবার ঢেকুর ওঠার সমস্যায় পেটের গ্যাস এসিডিটি কমিয়ে ঢেকুর স্বাভাবিক করতে খুবই কার্যকর পুদিনা পাতা। আপনি ৫ থেকে ৭ টি পুদিনা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। আপনি চাইলে পুদিনা পাতার চা বানিয়ে খেতে পারেন উপকার পাবেন। ঢেঁকুর বন্ধ করতে পুদিনা পাতা অল্প পরিমাণে খান, অতিরিক্ত খেলে সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

খাদ্যাভ্যাসের সঠিক নিয়ম বজায় রাখুন 

ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় অবলম্বনে খাদ্যাভ্যাসে সঠিক নিয়ম বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলি। একই সঙ্গে অনেক বেশি খাবারও অনেক সময় খেয়ে থাকি। অনেক বেশি এবং খুব দ্রুত খাবার খেলে পেটে বাড়তি বাতাস ঢুকে গ্যাসের সৃষ্টি করে। যার ফলে বারবার ঢেকুর ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।

এজন্য খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খান। অনেক বেশি না খেয়ে বার বার অল্প অল্প করে খাবার খান। ঢেকুরের তিব্রতা অনেক বেশি থাকলে খাবারের ফাঁকে ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জনীয়। 

মৌরি খাওয়া যেতে পারে 

পেট ফাপা বদ হজম দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান হিসেব মৌরি বীজ অনেকের কাছে খুব জনপ্রিয়। ঢেকুর বন্ধ করার জন্য আপনি খাদ্য তালিকায় মৌরি খেতে পারেন। কেননা মৌরি দ্রুত হজম শক্তি উন্নত করে পেট ঠান্ডা রেখে প্রদাহ কমিয়ে আরাম মেলাতে পারে। ঘন ঘন ঢেকুরের জন্য দায়ী পেটের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস কমিয়ে ফোলা ভাব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে মৌরি। 

ঘন ঘন ঢেকুরে উপকারিতা মেলাতে এক চা চামচ মৌরি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে ভাল উপকার পাবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে প্রতিদিন নিয়ম করে পরিমাণ মতো মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন। ঢেকুর বন্ধ করার জন্য মৌরী খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও ভুলবেন না। 

আরো পড়ুনঃ বতের ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া উপায় জানুন এখানে।

হঠাৎ ঢেকুর বন্ধ করার অন্যান্য কিছু উপায়

  • হঠাৎ করে আপনি ঢেকুরের প্রবণতায় পড়লে কিছু উপস্থিত প্রতিকারে নিয়ন্ত্রণ সম্বব হতে পারে। ধরেন কোন রাস্তার ধারে বসে আপনার ঢেকুর আসল। এ সময় শান্ত পরিবেশে বসে লম্বা শ্বাস নিয়ে ভিতরে কিছু সময় আটকে রাখুন। একই সঙ্গে নাক বন্ধ রাখা জরুরী এরপরে ধীরে ধীরে ছাড়ুন উপকার পেতে পারেন। 
  • হঠাৎ করে ঢেকুরের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে হাতের কাছে কোন কিছু না পেলে একটি কাগজের ব্যাগে কিছু সময় মাথা ঢুকিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। কেননা ঘন ঘন ঢেকুর বন্ধ করার জন্য কাগজের ব্যাগের ঘ্রাণ অল্প সময়ের মধ্যে ঢেকুর বন্ধ করতে কাজ করতে পারে। 
ঢেঁকুর
  • তাছাড়া তীব্র ঢেকুরের সমস্যায় নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নাক হালকা চেপে ধরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। এমন ভাবে নিঃশ্বাস নিলে ঢেকুর বন্ধ করতে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ঢেকুর বন্ধ করার জন্য নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় দুই কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। হঠাৎ ঢেকুর বন্ধে এমন উপায় অবলম্বন নিমিষেই উপকারিতা মিলাতে পারে।

ঘন ঘন ঢেকুর ওঠে কেন 

ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ব্লগটিতে ইতিমধ্যে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যে কারো যেকোনো সময় ঢেকুর ওঠা খুবই স্বাভাবিক। ঢেকুরের এমন স্বাভাবিক কার্যক্রম অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেলে যেমন নিজের বিরক্তি লাগে ঠিক তেমনি কাজকর্মেও অসুবিধা হয়। বারবার ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে বাতাস ঢুকে যাওয়ার ফলে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার প্রবণতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চলুন আজকের ব্লগের এই পর্বে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠে কেন এ ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নিন। 

  • ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ভুল নিয়মে খাবার খাওয়া। খেতে বসলে অনেকের অল্প সময়ে মধ্যে খাওয়া শেষ হয়ে যায়। খুব দ্রুত খাবার খাওয়া হলে পেটে বাড়তি বাতাস ঢুকে ঢেকুর ওঠার প্রবনতা আনতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কথা বললে দেখা দিতে পারে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার মত লক্ষণ। খাবার খাওয়ার পর শুয়ে না পড়ে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করুন। সবচেয়ে উপকারী অল্প অল্প করে ধীরে ধীরে বার বার খাবার খাওয়া। 
  • পানির পিপাসা আমাদের কার না লাগে। শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা প্রযোজ্য। তবে আপনি যদি পানির পিপাসা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পানি পান না করেন। তাহলে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। আমাদের শরীরের পানির প্রয়োজন হলেই পানি পিপাসা লাগে। এজন্য ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা নিয়ন্ত্রণে পিপাসা লাগলে পানি পান করুন। 
  • যদি কোন ব্যক্তির পেটে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে ঘন ঘন ঢেকুর হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেননা পাকস্থলীতে সমস্যা দেখা দিলে পেটে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিটি বেড়ে যায় যা ঘন ঘন ঢেকুর সৃষ্টিতে খুবই কার্যকর। বিশেষ করে হজমের সমস্যা হলে, পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক এবং আলসারের মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যা পাকস্থলীতে এসিড রিফ্লাক্স এর মত প্রবণতা দেখা দিয়ে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার লক্ষণ তৈরি করে। 
  • অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঠিক তেমনি ঘন ঘন ঢেকুর সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেননা অতিরিক্ত মিষ্টির খাবার পাকস্থলীতে গ্যাসের সৃষ্টি করে হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি পাকস্থলীর এসিডকে খাদ্যনালীতে ফিরিয়ে আনে যা থেকে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ খাবার আইবিএস এর উপসর্গ তৈরি করে যার মধ্যে ঘন ঘন ঢেকুর বিদ্যমান। 
  • অতিরিক্ত তেল মসলা সমৃদ্ধ খাবার ঘন ঘন ঢেকু ওঠার লক্ষণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার পরোক্ষভাবে ঘন ঘন ঢেকুরের প্রবণতা আনে। কেননা অতিরিক্ত তেল মশলা এবং লবণাক্ত খাবার পেটে গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটির মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল, মশলা খাবার, ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার সহ কার্বনেটেড পানীয় ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার লক্ষণ তৈরির জন্য অনেকটাই দায়ী। 

নবজাতকের হেঁচকি/ঢেকুর বন্ধ করার উপায়  

আজকের এই ব্লগটিতে ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সহ ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার কারণ গুলি তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগের এই পর্বে নবজাতকের হেঁচকি/ঢেকুর বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে উপস্থাপন করা হবে। নবজাতকের হেঁচকি ওঠা খুবই স্বাভাবিক বিষয় তবে মাত্রাতিরিক্ত হলে এটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আপনার নবজাতকের হেঁচকি/ঢেকুর বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে। নিচে নবজাতকের হেঁচকি বন্ধ করার কিছু উপায় সম্পর্কে তুলে ধরা হল।

আরো পড়ুনঃ মহিলাদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জানতে ক্লিক করুন।

  • নবজাতক শিশুর মধ্যে হেচকির সমস্যা অনেক সময় দেখা যায়। এ সময় হেঁচকি বন্ধ করার জন্য শিশুর চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়ান। কোন মতেই অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো চলবে না। কেননা শিশুর খাওয়ার চাহিদা থাকলে ঢেকুর ওঠে এবং খুব বেশি খাওয়ালেও হতে পারে। অল্প অল্প করে বার বার খাওয়ান। একই সঙ্গে শিশুর হেঁচকি বন্ধ করার জন্য খাওয়ানোর পর কিছু সময় সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখুন। 
  • নবজাতকের হেঁচকি বা ঢেকুর বন্ধ করার জন্য শিশুর পিঠে চাপ প্রয়োগ করাও অনেকের কাছে প্রচলিত। এজন্য হেঁচকির সমস্যায় নবজাতকের পিঠের উপরে রেখে নবজাতকের পিঠে আলতো করে চাপ প্রয়োগ করুন। শিশুর হেঁচকি বা ঢেকুর সৃষ্টিতে বুকের দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলা অন্যতম কারণ। এ সময় শিশুর পিঠে চাপ প্রয়োগের ফলে পেটের বাতাস বের হয়ে হেঁচকি নিয়ন্ত্রনে আসতে পারে। 
  • আপনার নবজাতক বাচ্চা ঘনঘন ঢেকুর বা হেঁচকি তুললে অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়াবেন। ঘন ঘন হেঁচকি বন্ধ করতে নবজাতকের ঢেকুর তোলা শুরু করলে কিছু সময় তুলতে দিন। কেননা এ সময় শিশুর ঢেকুর বা হেঁচকি তোলার ফলে পেটের গ্যাস বেরিয়ে যেতে পারে। নবজাতকের হেঁচকি বন্ধ করার জন্য নবজাতকের পিঠে আলতো করে মালিশ করতে পারেন। এ সময় মালিশ করার ফলে পেটের গ্যাস অনেকটাই কমতে পারে। তবে কোনক্রমে খুব জোরে চাপ প্রয়োগ করে মালিশ করবেন না। 
  • আপনার নবজাতক শিশুকে খুব বেশি ঠান্ডা কিংবা গরম খাবার খেতে দিবেন না। বিশেষ করে খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা খাবার হেঁচকির সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। হঠাৎ করে আপনার নবজাতকের হেঁচকি উঠলে দুই কানের ভিতরে আঙ্গুল দিয়ে কিছু সময় চেপে ধরুন। দেখবেন কিছু সময়ের মধ্যে হেঁচকির সমস্যা উধাও হয়ে যেতে পারে। সর্বোপরি বাচ্চার পেটের গ্যাস নিয়ন্ত্রনে রাখার মাধ্যমে হেচকি বা ঢেকুর অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব। 

বাচ্চাদের ঢেকুর তোলার নিয়ম 

ব্লগটির এই পর্বে বাচ্চাদের ঢেকুর তোলার কিছু নিয়ম সম্পর্কে তুলে ধরা হবে। মূলত বাচ্চারা যখন বুকের দুধ পান করে তখন খাওয়ার সাথে কিছু বাতাস গিলে নেয়। বাচ্চাদের পেট থেকে ঢেকুরের মাধ্যমে এই বাতাস বের না করা হলে। বাচ্চার পেটে গ্যাসটিক দেখা দেয় যা থেকে বাচ্চা কান্নাকাটি করে, এক কথায় বাচ্চার শারীরিক অস্বস্তি আসে। বাচ্চার ঢেকুর তোলার জন্য বেশ কিছু উপায় অবলম্বনে পেটের গ্যাস বের করে অস্বস্তি কমাতে পারেন। জেনে নিন বাচ্চাদের ঢেকুর তোলার নিয়ম সম্পর্কে। 

ঢেঁকুর
  • একটি শিশু বাচ্চাকে কমপক্ষে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় সঙ্গে যে বাতাস গিলে নেয় তা বের করার জন্য ঢেকুর তোলা খুবই জরুরী। এজন্য বাচ্চার পিঠে আলতো করে চাপরে দিতে পারেন। এছাড়া বাচ্চাকে কাধের উপরে রেখে চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। এগুলো করার ফলে বাচ্চা ঢেকুর তুলতে পারে যা পেটের গ্যাস কমাতে উপকারি। 
  • অনেক বাচ্চার মায়েরা বাচ্চাকে কোলে বসিয়ে পিঠে হালকা করে চাপ প্রয়োগ করেও ঢেকুর তুলে থাকে। অনেকে তো আবার বাচ্চাকে ঢেকুর তোলাতে আস্তে আস্তে চক্রাকারে ঘুরিয়ে থাকেন। এজন্য শিশুকে বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে এক হাতে মাথা অন্য হাতে পিঠে সাপোর্ট দিয়ে চক্রাকারে ঘোরালে ঢেকুর উঠতে অত্যান্ত কার্যকর। 
  • অনেক সময় দেখা যায় অনেকে তার বাচ্চাকে দুই উড়ুর উপরে রেখে পিঠের উপরে চাপ দেয়। এ সময় এমন ব্যবস্থার ফলে শিশু ঢেকুর তুলে পেটের গ্যাস বের করে। বাচ্চার ঢেকুর তোলাতে পিঠে এবং বুকে আলতো করে মালিশও করতে পারেন।
  • বাচ্চার ঢেকুর তোলার জন্য কার্যকরী পদ্ধতি হল বাচ্চাকে শান্ত রাখা এবং আলতো করে চাপ প্রয়োগ। এজন্য আপনার কাঁধে করে বাচ্চাকে চাপ প্রয়োগ করা হলে আগে থেকেই কাঁধে কিছু একটা দিয়ে নিন। কেননা বাচ্চার ঢেকুর ওঠার সাথে সাথে মুখ থেকে লালা বা বমি বের হয়ে যেতে পারে। উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বনে আপনার বাচ্চার পেটের গ্যাস বের করার জন্য ঢেকুর তুলতে পারেন। যা শিশু বাচ্চার সুস্থতা বজায় রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। 

টক ঢেকুর উঠলে করণীয় 

আজকের ব্লগের এই পর্বে টক ঢেকুর উঠলে করণীয় কি সেগুলো তুলে ধরা হবে। টক ঢেঁকুর মূলত পাকস্থলী থেকে খাদ্যনালী আধা হজম খাবার উঠে আসার কারণে হয়। বিশেষ করে পেটে গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি এবং বদহজমের কারণে এমনটা দেখা দিয়ে থাকে। টক ঢেকুর উঠলে বেশ কিছু উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত তেল, মসলা এবং চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

আরো পড়ুনঃ বুক ধরফর করার ৮ টি কারন ও করনীয় দেখে নিন।

খাবার ধীরে ধীরে খান, একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খাওয়া উচিত নয়, অল্প অল্প করে খান। খাবার খাওয়ার পরে শুয়ে পড়বেন না, এতে করে গ্যাস্ট্রিক বেড়ে যায়। আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই ত্যাগ করুন। শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা অতিরিক্ত ওজন থেকে পেটে গ্যাসট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। টক ঢেকুর উঠলে করণীয় এমন ব্যবস্থায় যেকোনো খাবার খাওয়ার পর পেটের উপরে চাপ পরে এমন কাজ করা উচিত নয়। 

উপসংহার। ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কিত

ঢেকুর বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠে কেন, নবজাতকের হেঁচকি বন্ধ করার উপায়, বাচ্চাদের ঢেকুর তোলার নিয়ম এবং টক ঢেকুর উঠলে করণীয় এ সকল তথ্যে ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানব দেহের জন্য ঢেকুর ওঠা খুবই স্বাভাবিক তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। শিশুর মধ্যে ঢেঁকুর ওঠাও যেমন সমস্যা ঠিক না উঠাও সমস্যা। আমাদের মধ্যে যারা ঢেকুরের সমস্যায় পড়েছেন তারা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন। এবং আপনাদের বাচ্চাদের ঢেকুরের সমস্যায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। 

ঘরোয়া উপায় সহ প্রাথমিক পদক্ষেপে যদি ঢেকুরের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না আসে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেননা মাত্রাতিরিক্ত ঢেকুর নিয়ন্ত্রণে না আসলে এটি অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

                       (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url