বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন আজকের ব্লগের এই পর্বে। সাধারণত বাচ্চাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম থাকে। এ সময় ঠান্ডা জনিত সমস্যা সহ অনেক শিশুর মধ্যে শ্বাসকষ্টের দেখা মিলতে পারে। 

বাচ্চাদের

আপনার বাচ্চার ঠান্ডা জনিত এমন শ্বাসকষ্টে নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশির সহ বুকে শব্দ হওয়া সঙ্গে শরীরের জ্বরের দেখা মিলতে পারে। বাচ্চার শ্বাসকষ্টে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসায় শ্বাসকষ্টের উপসর্গ কমিয়ে আরাম মেলাতে বেশ কার্যকর। নিচে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা

নাক পরিষ্কার করে গরম ভাপ দিন

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার পেছনে নিউমোনিয়া এবং ব্রস্কিউলাইটিস সবচেয়ে বেশি দায়ী। এমন সমস্যায় বাচ্চার শ্বাসকষ্ট সহ ঠান্ডা জনিত কারণে নাকে সর্দিতে নাক বন্ধ থাকে। এ সময় উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে নাক পরিষ্কার করা খুবই উপকারী। এমন শ্বাসকষ্টে নাকে জমে থাকা শ্লেষ্মা বের করে বাতাস চলাচল সহজ হয় যা বাচ্চার জন্য খুবই জরুরী।

একই সঙ্গে একটি পাত্রে কিছু গরম পানি নিয়ে পাত্রের উপরে তোয়ালে কিংবা পাপড় দিয়ে বাচ্চার নাকে এবং মুখে ভাপ দিতে পারেন। এ সময় গরম ভাব বাচ্চার শ্বাসনালীর শ্লেষ্মা নরম করে নাকের বন্ধ ভাব খুলে শ্বাসকষ্টে আরাম মেলাতে পারে।

পর্যাপ্ত বুকের দুধ এবং তরল পান করান 

আপনার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট লক্ষ্য করলে অবশ্যই পর্যাপ্ত বুকের দুধ এবং তরল পান করান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টে সর্দি, জ্বর এবং কাশির মতো সংক্রমণ দেখা দেয়। এ সময় বাচ্চার শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিয়ে ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য পর্যাপ্ত বুকের দুধ এবং তরল পান করালে শরীরের পানি শূন্যতা দূর করে শরীরকে হাইড্রেট করতে অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া মায়ের বুকের দুধে পর্যাপ্ত পুষ্টি বিদ্যমান যা বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি কিংবা যে কোন সমস্যায়, বাচ্চাকে বুকের দুধ অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান। 

শিশুকে উষ্ণ ঘরে রাখুন 

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিত অবলম্বনে শিশুকে উষ্ণ করে রাখা বেশ উপকারী। এ সময় শিশুকে এমন ঘরে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরম বা খুব ঠান্ডা ঘরে না রাখা উত্তম। এমন পরিবেশে রাখুন যেখানে আদ্রতা স্বাভাবিক এবং আরামদায়ক।

আপনার শিশু যদি বসতে পারে সেক্ষেত্রে শুইয়ে না রেখে সোজা করে বসিয়ে রাখুন। শিশুর শরীরে অবশ্যই আরামদায়ক হালকা সুতির পোশাক পরান। যদি শীতের মৌসুম হয় তাহলে ঘর উষ্ণ রাখার জন্য হিটার ব্যবহার করতে পারেন। সর্বোপরি শ্বাসকষ্ট সর্দি ও কাশি কমাতে শিশুকে উষ্ণ পরিবেশে রাখা অত্যন্ত উপযোগী। 

শিশুর বুকে এবং পিঠে মালিশ করতে পারেন

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিতে আংশিক উপকারিতা পেতে বুকে এবং পিঠে তেল মালিশ করতে পারেন। তবে শ্বাসকষ্টের তীব্রতায় মালিশ করা উচিত নয়। বিশেষ করে সাধারণত সর্দি কাশি সহ বুকে জড়তা থাকলে। কিছু পরিমাণ সরিষার তেল নিয়ে সেগুলোকে উষ্ণ গরম করে অল্প অল্প করে শিশুর বুকে এবং পিঠে আলতো করে মালিশ করুন।

বাচ্চার শ্বাসকষ্টে এমন তেল মালিশ শরীরকে উষ্ণ রেখে অস্বস্তি কমিয়ে আরাম মেলাতে পারে। কিছু গবেষণায় প্রমাণিত বাচ্চার এমন শ্বাসকষ্টের সঠিক নিয়মে মালিশে ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে। যার ফলে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা অনেকাংশে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইনহেলার ও নেবুলাইজার ব্যবহার করতে পারেন 

বাচ্চার শ্বাসকষ্টের সমস্যায় নেবুলাইজার এবং ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। বিশেষ করে শ্বাসনালীর সংকোচন, এলার্জির কারণে সর্দি কাশি সহ শ্বাসে শো শো শব্দ হলে নেবুলাইজার মাস্ক ব্যবহার খুব নিরাপদ এবং কার্যকর। একই সঙ্গে দুই বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ইনহেলার স্পেসার ব্যবহারও বেশ কার্যকর।

বাচ্চাদের

বাচ্চার হাঁপানিতে এমন উপকরনে ব্যবহৃত ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতে হতে হবে। এমন উপকরণের মাধ্যমে বাচ্চাকে সঠিক ওষুধের ডোজ ফুসফুসে পৌঁছাতে খুব দ্রুত কাজ করে। এগুলো শ্বাসকষ্টের সিরাপ বা ট্যাবলেটের থেকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেকটা কম। 

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট বোঝার উপায়। বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ 

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে উপরে ইতিমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাচ্চারা অবুঝ ফলে অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন থাকে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট বোঝার উপায় কি। অর্থাৎ বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ গুলো কি কি সে সম্পর্কে। শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যায় বুকের খাঁচা খুব দ্রুত ওঠানামা করে। হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত হয়, অনেক সময় অনেক শিশুর হাত এবং ঠোঁট নীল হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও শ্বাসকষ্টের আর বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিজের বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট বোঝার উপায়, শিশুর শ্বাসকষ্টের লক্ষণ সম্পর্কে তুলে ধরা হলো। 

আরো পড়ুনঃ নাক বন্ধ হলে ঘড়োয়া উপায়ে চিকিৎসা করুন।

  • শিশু বাচ্চাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়া খুবই সাধারণ একটা রোগ। এমন সমস্যায় বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট বোঝার সবচেয়ে সাধারণ উপায় প্রশ্বাসের গতি নির্ণয় করা। বিশেষ করে যে সকল বাচ্চাদের বয়স দুই মাসের কম তাদের প্রতি মিনিটে যদি ৬০ বার বা তার বেশি শ্বাস প্রশ্বাস হয়। যাদের দুই মাস থেকে এক বছর বয়স তাদের ক্ষেত্রে ৫০ বা তার বেশি শ্বাস প্রশ্বাস হতে পারে। একই সঙ্গে যে বাচ্চাদের বয়স ১ বছরের উপরে তাদের শ্বাস প্রশ্বাস মিনিটে ৪০ বা তার বেশি হয় তাহলে শ্বাসকষ্ট হিসেবে ধরে নিতে পারেন। 
  • বাচ্চা শ্বাসকষ্টে ভুগছে কিনা তা প্রাথমিক ভাবে নির্ণয়ে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চা ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে কিনা সঙ্গে শরীরে সর্দি, কাশি এবং জ্বরের মত সংক্রমণ আছে কিনা। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে সর্দি এবং কাশি হতে পারে শ্বাসকষ্টের প্রধান লক্ষণ। শিশুর শ্বাসকষ্টের একমাত্র উপসর্গ কাশি হলে, শিশু খেলার সময়, হাসির সময় মাত্রাতিরিক্ত কাশি যা রাত্রে খুব বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। 
  • বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট তীব্র পর্যায়ে পৌঁছালে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজর নিচের দিকে ডেবে যেতে পারে। নাকের ছিদ্র ফুলে যেতে পারে যা শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়। এমন সময় অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে শিশুর ঠোঁট, মুখ এবং নখ নিলচে ধুসর রংয়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্বাসকষ্টের তীব্রতায় বাচ্চার শ্বাস নেওয়ার সময় শ্বাসে বাশির মতো শব্দ হতে পারে। সঙ্গে বাচ্চার শরীরে শারীরিক ক্লান্তি দেখা দিয়ে বুকের দুধ খেতে অনিহা দেখাতে পারে। 
  • বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট মূলত ভাইরাল সংক্রমণ যার ফলে শরীরে ঠান্ডা লেগে থাকতে পারে। খুব ছোট শিশু বাচ্চা হলে অস্বাভাবিক এবং উদ্বিগ্ন আচরণ করতে পারে। এমন শ্বাসকষ্টে বাচ্চার ঘুম কম হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। শরীর এবং কপালে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মত লক্ষন অনেকের মধ্যে থাকতে পারে। আপনি যদি আপনার বাচ্চার মধ্যে শ্বাসকষ্টের এমন গুরুতর লক্ষণ খেয়াল করেন। সেক্ষেত্রে বাচ্চাকে দ্রুত মা ও শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতে সঠিক চিকিৎসা দিন। 

নবজাতকের শ্বাসকষ্ট কেন হয় 

এই ব্লগে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা এবং বেশ কিছু লক্ষণ উপরে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক শিশু রয়েছে যাদের জন্মের পরই শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা ভাষায় নবজাতকের শ্বাসকষ্ট কে পেরিনেটাল অ্যাসপেসিয়া বলা হয়। এমন সমস্যা জন্মের পর থেকে বেশকিছু কারণে নবজাতক বাচ্চার মধ্যে দেখা দিতে পারে। চলুন আজকের ব্লগের এই পর্বে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট কেন হয় সে ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নিন। 

বাচ্চাদের
  • নবজাতক শিশু বাচ্চার শ্বাসকষ্ট সৃষ্টিতে মায়ের কিছু শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে শিশুর ফুসফুস পরিপক্ক হতে দেরি হয়। এমন সমস্যা শিশুর শ্বাসকষ্ট সৃষ্টিতে খুব বড় ভূমিক রাখে। অন্যদিকে নবজাতক বাচ্চার মায়ের অ্যাজমা, র‍্যাস এবং ইউরিন ইনফেকশন থাকে তাহলে পরবর্তীতে বাচ্চার শ্বাসকষ্টের সম্ভাবনা থাকে। 
  • নবজাতক বাচ্চার জন্মের পর থেকে শ্বাসকষ্ট হওয়ার পেছনে বাচ্চার হার্টের সমস্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর শিশু বাচ্চার হার্ট সঠিকভাবে কাজ না করলে অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত শরীরের সমস্ত অঙ্গে পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে ফুসফুসে রক্ত জমা হয়ে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা কমে শ্বাসকষ্টের দেখা মেলে। হার্টের সমস্যায় নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে। বাচ্চা নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে, শ্বাস নেওয়ার সময় বুক ডেবে গিয়ে নাক ফুলে শ্বাস নিতে পারে।  
  • বাচ্চার নিজস্ব জন্মগত ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়া হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেননা নবজাতকের বুক এবং পেটের মাঝের পর্দা সঠিকভাবে তৈরি না হলে পাকস্থলী বুকে উঠে আসতে পারে। এমন সমস্যায় পাকস্থলী বুকে উঠে আসার ফলে ফুসফুস চাপা পড়ে ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এজন্য নবজাতক বাচ্চার শরীরে অক্সিজেন সল্পতা দেখা দিয়ে এমন শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে। ডায়াফ্রাম্যাটিক হার্নিয়ায় নবজাতক শিশুর জন্মের পর পরই তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • নবজাতক শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি যেমন শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালী সঠিকভাবে তৈরি না হওয়া। এমন সমস্যায় নবজাতক শিশুর গুরুতর শ্বাসকষ্ট খাবার খেতে অসুবিধা থাকে।নবজাতক শিশুর এমন সমস্যা খুবই গুরুতর সমস্যা যার ফলে খাদ্যনালীতে খাবার আটকে গেলে শিশুর মৃত্যু ঝুকি তৈরি হতে পারে। কেননা খাদ্যনালির পথ স্বাভাবিক না হলে খাবার পাকস্থলীতে উঠে এসিড শ্বাসনালীতে প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্টের তৈরি করে। আপনার নবজাতকের জন্মের পরে শ্বাসকষ্টে লক্ষ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 

বাচ্চাদের অ্যাজমা হলে করণীয় 

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা, শ্বাসকষ্টের লক্ষণ এবং বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট কেন হয় এ সকল তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগটির এই পর্বে বাচ্চাদের অ্যাজমা হলে করণীয় কি সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব। বাচ্চাদের জন্য অ্যাজমা বা হাঁপানি মূলত দীর্ঘমেয়াদী একটি রোগ। যেখানে ফুসফুসে বায়ু চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় ফলে বাচ্চা শ্বাসকষ্টের প্রবণতায় পরে। বাচ্চাদের অ্যাজমা সৃষ্টিতে কিছু ভাইরাস সংক্রমণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের অ্যাজমা সমস্যা শিশুদের মধ্যে একটা সময় থাকে না। শিশুদের অ্যাজমার সবচেয়ে অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট। চলুন ব্লকের এই পর্বে শিশুর অ্যাজমা হলে করণীয় কি সেগুলো জেনে নিন। 

আরো পড়ুনঃ ১ মাসের বাচ্চার সর্দি হলে করনীয় সম্পর্কে জানুন।

  • শিশুর মধ্যে এজমা বা হাঁপানি মূলত সংক্রমনের ফলে দেখা দেয়। এ সময় বাচ্চাকে ধুলোবালি, সিগারেটের ধোঁয়া, যানবাহনের ধোঁয়া, পোষা প্রাণীর লোমের সংস্পর্শে না আনাই উত্তম। কেননা এগুলো বাচ্চার অ্যাজমার সমস্যা সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সংক্রমনের প্রবণতায় ফেলতে পারে। শিশুর ঘরের আশপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আদ্র এবং উষ্ণ রাখুন। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার শিশুর বালিশ বিছানার চাদর সহ যাবতীয় সকল কিছু পরিষ্কার করুন। 
  • বাচ্চার  হাঁপানিতে যেহেতু শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে এ সময় এলার্জি জাতীয় কোন খাবার শিশুকে না দাওয়াই উত্তম। শিশু বাইরে কোথাও গেলে অবশ্যই মাস্ক পড়িয়ে দিবেন। শিশুর অ্যাজমায় কোন প্রকার পশম জাতীয় খেলনা দেবেন না। যে সকল খেলনা নিয়ে বাচ্চা খেলাধুলা করবে সেগুলো কয়েকদিন পরপর ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিন। 
  • অ্যাজমায় শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি শিশুর সর্দি কাশির সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ সময় ঘরে হিউমিডিফায়ার এবং পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো খুবই উপকারী শিশুর জন্য এ সময়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত। অ্যাজমায় আক্রান্ত বাচ্চা আশেপাশে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। শিশুর জন্য উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা খুবই জরুরী। 
বাচ্চাদের
  • অ্যাজমার সমস্যায় শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেইলার ও নেবুলাইজারের মত ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে শিশুকে সংক্রমণ প্রতিরোধী জলবসন্ত ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অ্যাজমার সমস্যায় বাচ্চাকে পরিপূর্ণ বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন। বাচ্চার ছয় মাস বয়স পর্যন্ত, পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ খাওয়াতে ভুলবেন না। 
  • আপনার শিশুর মধ্যে অ্যাজমার সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে সতর্কতার সাথে ঘরোয়া চিকিৎসায় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। কখনো যদি আপনি খেয়াল করেন বাচ্চার অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ঘরোয়া প্রতিকারে কমে না, কথা বলতে কষ্ট হয় এজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। শিশুর এমন সমস্যায় সঠিক চিকিৎসা এবং যথাযথ যত্ন নিলে শিশুকে স্বাস্থ্যগতভাবে ভালো রাখা সম্ভব। 

উপসংহার। বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা 

বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা, শ্বাসকষ্টের লক্ষণ, বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার কারণ এবং বাচ্চাদের অ্যাজমা হলে করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টে অবশ্যই অভিভাবকের সতর্কতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রযোজ্য। আপনার শিশু অতিরিক্ত কান্নাকাটি করলে, শ্বাসকষ্টের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিন। 

খেয়াল রাখবেন এমন সমস্যায় শিশুকে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শিশুর মেধা বিকাশ ও বেড়ে ওঠায় অত্যন্ত জরুরী। সঙ্গে এমন সংক্রমনে  আপনার শিশুকে প্রয়োজন মত শিশু টিকা দেওয়া কোন মতেই মিস করবেন না। মাথায় রাখবেন আপনার সতর্কতাই আপনার শিশুকে সুস্থ্য শরীর উপহার দিতে পারে।

                    (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url