কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা

আমাদের মুখে দাঁতের গুরুত্ব খুবই অপরিসীম, কেননা শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্য দাঁত খুবই অপরিহার্য। দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, শুধুমাত্র খাবার চিবানো এবং সুন্দর হাসির জন্য নয়। এটি বরং আমাদের শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সাথেও ওতোপ্রত ভাবে জড়িত। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেরই দাঁতের ক্ষয় জনিত সমস্যা সহ বেশ কিছু সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। আমাদের দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিনের অভাবে দাঁতের ক্ষয় জনিত সমস্যা সহ মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধের দেখা মিলতে পারে।

দাঁত

দাঁত এবং মাড়ির সমস্যায়, দৈনন্দিনের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে, সমাধান করা জরুরি। চলুন তাহলে আজকের এই ব্লগটিতে, কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, এমন সমস্যায় করণীয় কি? সকল ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা

কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁতের ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণ 

আজকের এই ব্লগটির মূল বিষয়, কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণ সম্পর্কে। শরীরে দাঁত খুবই মূল্যবান একটি অঙ্গ, শরীরিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা খুবই জরুরি। তবে বেশ কিছু ভিটামিন সহ,  কিছু খাদ্যাভাস সহ দাঁতের সঠিক যত্ন না হলে, দাঁত ক্ষয় সহ দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন তাহলে ব্লগটির শুরুতেই এর মূল বিষয়, কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, সহ দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণ গুলো জেনে নিন। 

ভিটামিন এ এর অভাবেঃ 

ভিটামিন এ এর অভাবে আমাদের দাঁতের মারাত্মক ক্ষতির ঝুকি রয়েছে। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ এর ঘাটতি থাকলে দাঁতের এনামেল, বাইরের স্তর এবং ভেতরের স্তর সঠিকভাবে গঠিত হয় না। দাঁতের এই দুর্বল এনামেলের কারণে, দাঁতের ক্ষয় হওয়া সহ, দাঁতে গর্ত হওয়ার প্রবণতা পড়তে হতে পারে। ভিটামিন এ এর অভাবে মাড়ি দুর্বল হয়ে গেলে, প্রদাহ এবং মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনাও থাকে। 

ভিটামিন এ এর অভাব যখন দাঁতের সমস্যা তৈরি করে, এমন সমস্যায় দাঁত সহজে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সমস্যার সঠিক চিকিৎসা পেতে একজন দক্ষ ডেন্টাল চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া ভিটামিন এ এর অভাবে শিশুদের মুখের দাঁত সঠিক বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে। তাছাড়া যে সকল শিশুদের দাঁত ওঠেনি, তাদের দাঁত দেরিতে ওঠা সহ এলোমেল গুল আকাবাকা উঠতে পারে।

 ভিটামিন ডি এর অভাবেঃ

শরীরে খুবই প্রয়োজনীয়, ভিটামিন ডি এর মত পুষ্টি উপাদান। এর অভাবে দাঁতের ক্ষয়ের মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া আমরা সকলেই জানি ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। যা আমাদের দাঁত মাড়ি সহ হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে খুবই জরুরী। ভিটামিন ডি এর অভাবে, দাতের এনামেল গুল দুর্বল থাকার কারণে, দাঁতের ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

অন্যদিকে ভিটামিন ডি এর অভাবে মাড়ির সংক্রমণ যেমন মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং মাড়ি ফুলে যাওয়ার প্রবণতায় পড়তে হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন ডি মাড়ির নিচে চোয়ালের হার দুর্বল করে, অকালে দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশুদের, মুখে নতুন দাঁত গজাতে সময় বেশি লাগতে পারে। 

ভিটামিন সি এর অভাবেঃ  

ভিটামিন সি এর অভাবে দাঁত এবং মাড়ির গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে বেশ ভূমিকা রাখে, যার ফলে মাড়ি ও দাঁত সুস্থ থাকে। দাঁতের সাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কোলাজেন উৎপাদন না হলে, মারিতে প্রদাহ এবং রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ভিটামিন সি এর অভাবের সবচেয়ে অন্যতম লক্ষণ। তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে দাঁতের সাপোর্ট কারি ট্যিসুগুল দুর্বল হয়ে যায়। 

যার ফলে মাড়িতে সংক্রমণ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। এমন পুষ্টি উপাদানের অভাবে দাঁত নড়ে যাওয়া ও পরে যাওয়ার মতো প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কেননা দাঁতের সাপর্ট টিস্যুগুলো, দুর্বল হলে দাঁত আলগা হয়ে পড়ে যেতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি নামক দাঁতের, মারাত্মক রোগ হতে পারে। এ সময় দাত ও মাড়ির ফোলাভাব, লালচেভাব সহ ক্লান্তি, দুর্বলতা, ব্রাশ করলেই মারি থেকে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিটামিন বি ১২ এর অভাবেঃ 

ভিটামিন বি ১২ আমাদের শরীরে কোষের বৃদ্ধি রক্তকণিকা তৈরি সহ, মাড়ির সঠিক কার্যকারিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সহ শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও কার্যকর। ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে দাঁত এবং মাড়ির মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে, দাঁতের ক্ষয় সহ রক্তপাত ও প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ কোন ভিটামিনের খেলে ওজন বাড়ে? ওজন বাড়ানোর উপায় জানুন।


অন্যদিকে ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে, ঠোঁটের কোনে ঘা, জীবে প্রদাহ সহ মুখের আলসারের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে দাঁত এবং মাড়ি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সর্বোপরি ভিটামিন বি এর অভাবে আমাদের দাত ও মাড়ির টিস্যুগুলো দুর্বল হয়ে, দাঁত ক্ষয় হওয়া সহ অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করে। তাছাড়া ভিটামিন কে এর অভাবেও মাড়ি থেকে রক্তপাত সহ দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

প্রয়োজনীয় ভিটামিন ছাড়া অন্যান্য যে সকল সমস্যায়, দাঁতের ক্ষয় দেখা দিতে পারে 

দাঁত

  • দাঁতের ক্ষয় জনিত সমস্যা সহ মারিতে সংক্রমণ হওয়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে মুখের জীবাণু ও প্লাগ তৈরি হওয়া বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। কেননা দাঁতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, খাবারের চিনি থেকে এসিড তৈরি করে। যার ফলে দাঁতের এনামেল গুলো দুর্বল হয় দাঁত ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। 
  • তাছাড়া দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় আপনি যদি অতিরিক্ত মিষ্টি এবং চিনি যুক্ত খাবার যেমন, চকলেট, মিষ্টি, ক্যান্ডি ইত্যাদি খেয়ে থাকেন তাহলেও দাঁতের ক্ষয় সহ মাড়ির সমস্যা হতে পারে। কেননা এ সকল দ্রব্যে থাকা চিনি ব্যাকটেরিয়ার সাথে বিক্রিয়া করে এসিড তৈরি করে, যার ফলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে এমন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।  
  • দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ঠিকমতো দাত পরিষ্কার করাও জরুরী। দাঁত পরিষ্কার রাখার জন্য অন্ততপক্ষে দিনে দুই বার ব্রাশ করা জরুরী। কেননা দাঁতে লেগে থাকা খাবারের কনা পরিষ্কার না করলে, খাবারের ব্যাকটেরিয়া এসিড তৈরি করে। ব্যাকটেরিয়ায় তৈরিকৃত এসিডের ফলে, দাঁতের ক্ষয় সহ মাড়ির এনামেল গুলোকে দুর্বল করে দেয়। 
  • ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য সেবনেও, দাঁতের ক্ষয় সহ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবনের ফলে, দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়া, মরিতে সমস্যা হওয়া সহ অকালে দাঁত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। শরীরে পানি শূন্যতার অভাবে দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা পানি শূন্যতায় মুখে লালার উৎপাদন কমে যায়, একই সঙ্গে এসিড বৃদ্ধি পায়। যার ফলে খুব দ্রুত দাঁত ক্ষয় হতে পারে। 
  • তাছাড়া আপনি যদি, নিয়মিত গরম খাবার খাওয়ার পরে, হঠাৎ ঠান্ডা কিছু খেলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে। অনেকের আবার দাঁত দিয়ে দাঁত পিষানোর অভ্যাস রয়েছে যার ফলে দাত ক্ষয় সহ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুর্ঘটনা কিংবা কোন আঘাতের ফলে দাঁতে আঘাত লাগলে, সে ক্ষেত্রেও দাঁতের ক্ষয়জনিত সমস্যা সহ অকালে দাঁত পরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষয় সহ সমস্যা হওয়ার লক্ষণ সমূহ 

এই ব্লগটিতে, কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণগুলি সম্পর্কে,ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার দাঁতে ক্ষয় জনিত সমস্যা সহ যে কোন সমস্যা হলে, বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। চলুন তাহলে, দাঁত এবং মাড়িতে যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে, যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে তা জানা যাক। 

  • আপনার দাঁতে যদি ক্ষয় জনিত সমস্যার দেখা মেলে, সেক্ষেত্রে দাঁতে কালো এবং বাদামী দাগের দেখা মিলতে পারে। দাঁতের মাঝে গর্ত বা ফুটো হওয়ার মত লক্ষণ দেখা দেওয়া দাঁত ক্ষয়ের অন্যতম লক্ষণ। দাঁতের মধ্যে এমন বাড়তি জায়গা তৈরি হওয়ার কারণে, খাবার আটকে থাকতে পারে। একই সঙ্গে মিষ্টি, ঠান্ডা বা গরম কোন খাবার খেলে, দাঁতে শিরশির অনুভূতি সহ ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন।
  • দাঁতে কোন প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কবলে পড়লে, দাঁতে ব্যথা শুরু হয়ে ক্রমাগত ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে আপনার দাঁতের চারপাশ ফুলে যেতে পারে। যার ফলে কোন কোন খাবার কামড় দিলে বা চিবালে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার অনুভূতির দেখা মেলাও সাধারণ ব্যাপার। দাঁতের যে কোন সংক্রামণ দেখা দিলে, মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। যার ফলে কথা বললে কিংবা শ্বাস ছাড়লেও গন্ধ উপলব্ধি হতে পারে। 
  • মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া সহ পুজ বের হওয়া, দাঁতের সমস্যার লক্ষণ গুলির মধ্যে একটু গুরুতর। এমন সমস্যার ফলে আপনার শরীরে জ্বর সহ মাথা ব্যথার দেখা মিলতে পারে। এমন সমস্যায় নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ সহ মুখে বাজে এক ধরনের সাধের অনুভূতি আসার সম্বাবনা রয়েছে। যা সহ্য করা নিজের কাছেই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।  
  • অন্যদিকে মাড়ির এনামেল গুলো দুর্বল হয়ে গেলে, মাড়ি ফুলে যাওয়া সহ মারি লাল হয়ে নরম হয়ে যেতে পারে। মাড়ির এমন সমস্যায় আপনি ব্রাশ করার সময়, মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। মাড়ির এমন সমস্যা তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে, দাঁত ঢিলে হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে মাড়ির এনামেল গুলো দুর্বল হয়ে গেলে, দাঁত সরে গিয়ে লম্বা দেখাতে পারে। 
  • তাছাড়া আপনার যদি দাঁতের সমস্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যায়, সেক্ষেত্রে মারি নাড়িয়ে মুখ খুলতে কষ্ট হতে পারে। মারি সহ মুখে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে দাঁত এবং মাড়িতে ব্যথা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে সমস্ত মুখ সহ প্রচন্ড মাথা ব্যথা এবং কানে ব্যথার দেখাও মিলতে পারে। এমন সমস্যা আপনি অনুভব করলে এ সময় একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। 

দাঁতের ক্ষয়জনিত সমস্যা সহ যে কোন সমস্যা সমাধানের উপায় 

ব্লগটিতে ইতিমধ্যে, কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারণ সহ লক্ষণ সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের মুখ এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের সাথে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আপনি যদি দাঁতের ক্ষয় সহ যে কোন সমস্যায় পড়েন, সেক্ষেত্রে সময় মতো সমাধানে না আনলে এটি রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশ ছড়িয়ে ডায়াবেটিস সহ হৃদ রোগের ঝুকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য সময় মত সমাধান জরুরী,চলুন সমাধানের উপায় গুলি জানার চেষ্টা করি। 

দাঁতের সমস্যার সমাধানে প্রাথমিক এবং ঘরোয়া চিকিৎসাঃ 

  • দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সহ সুন্দর হাসির জন্য, প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাঝা খুবই জরুরী। দাঁতের এমন সমস্যা সহ যে কোন সমস্যার মোকাবেলায় ক্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করাও উপযুক্ত। ব্রাশ করার সময় অবশ্যই সময় নিয়ে অত্যন্ত পক্ষে ২ মিনিট ধরে ভালোভাবে উপর-নিচ করে ঘষলে বেশ ভালো পরিষ্কার হয়। তাছাড়া দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে পরিষ্কার করার জন্য ডেন্টাল ফ্ল্যাশ ব্যবহার করাও উপযোগী। মেসওয়াক কিংবা নিমের ডাল দিয়ে দাঁত পরিষ্কারে বেশ ফলাফল পেতে পারেন।  
  • দাঁতের ক্ষয় সহ যে কোন সমস্যার জন্য যে সকল ভিটামিন গুলো, ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ সকল ভিটামিনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন। এজন্য আপনি চাইলে, গাজর, ব্রকলি, পালং শাক, আপেল, কমলা, জাম্বুরা, আনারস, মাছ, মুরগি, ডিম ও সিম ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও ভুলবেন না। কেননা এ সকল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার এবং পানি, মুখের লালার উপাদান বাড়িয়ে ব্যাকটেরিয়া কমাতে বেশ কার্যকর। 
  • মুখের ভেতরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করার জন্য, সামান্য উষ্ণ গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে কয়েকবার গড়গড়া সহ কুলি করতে পারেন। এটি দাঁতের ব্যথা সহ জীবাণু ও মাড়ির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এমন সমস্যায় হলুদ এবং লবণ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে আলতো করে দাঁতে লাগিয়ে কিছু সময় পরে থুয়ে ফেললে, জীবাণু নাষক হিসাবে কাজ করে। ব্যথা জাগায় সামান্য লবঙ্গের তেল লাগালেও ব্যথা কমে। সকালে খালি পেটে নারকেল তেল মুখে নিয়ে, কিছু সময় ধরে কুলি করলে ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পারে। 
  • অতিরিক্ত চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার সহ যে সকল খাবারের ফলে, দাঁতের ক্ষয় সহ সমস্যা হয়, এগুল এড়িয়ে চলা উপযুক্ত। চাইলে দুধ, দই এবং পনির খেতে পারেন এগুলো প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, এটা অত্যন্ত জরুরী। 

দাঁতের ক্ষয় সহ যে কোন সমস্যায় চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ

দাঁত

  • দাঁতের ক্ষয়জনিত সমস্যা সহ যে কোন সমস্যায় চিকিৎসক প্রাথমিক অবস্থায় ক্লোরাইড জেল, ফোম বা বার্নিস ব্যবহার করতে পারেন। এটা দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে ক্ষয় প্রতিরোধ করতে পারে। একই সঙ্গে যদি আপনার ব্যথা থাকে সে ক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট আপনাকে এন্টিবায়োটিক প্রদান করতে পারেন। নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • আপনার দাঁতের ক্ষতস্থানে ভারী ক্ষত সহ তীব্র ব্যথা থাকলে, ডেন্টিস্ট রুট ক্যানাল চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য দাঁতের ভেতরের সংক্রামিত ক্ষতস্থান সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার করে, এরপরে ক্রাউন ক্যাপ লাগিয়ে থাকেন। যার ফলে ক্ষতস্থানে খাবার জমে এসিড তৈরি হয়ে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নিতে পারে না। 
  • তাছাড়া দাঁতের ক্ষয় সহ সমস্যা বেশি হলে, সম্পূর্ণ দাঁত ঢেকে রাখার জন্য, ধাতব সিরামিক ক্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা সহ ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত হলে, চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী দাঁত তুলে ফেলতে পারেন। একই সঙ্গে আপনার দাঁতের আকার অনুযায়ী কৃত্রিম দাঁত বসিয়ে দিতে পারেন। সর্বোপরি আপনার, দাঁত এবং মাড়ির অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে ডেন্টিস্ট আপনাকে,এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সঠিক নির্দেশনা এবং ওষুধ প্রদান করবেন। 

উপসংহার। কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা 

কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ক্ষয় হয়, দাঁতের সমস্যা সহ এর প্রতিকার সম্পর্কে ইতিমধ্যে, বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের দাঁতের সমস্যা মানেই মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়া। যার ফলে কারো সাথে কথা বলতে লজ্জা বোধ হওয়া, একই সঙ্গে নিজের কাছেও বিরক্তিকর। সবকিছু মিলিয়ে দাঁতের সমস্যার সমাধান অত্যন্ত জরুরী। কেননা দাঁতের সমস্যায় অবহেলা করলে শরীরের বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তা প্রথমেই বলা হয়েছিল।

এজন্য সুন্দর হাসি সহ নিজের শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য, দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। দাঁত পরিষ্কার করার জন্য নিয়মিত ব্রাশ তো করবেনই, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গেলে তা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজন হলে কাঠি ব্যবহার করতে পারেন।

                              (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url