বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায়
আমাদের শরীরের জন্য কৃমির সংক্রমণ হলো এক ধরনের পরজীবী সংক্রমণ। শরীরে কৃমির সমস্যা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরী। কৃমি আমাদের শরীর থেকে পুষ্টি এবং রক্ত শোষণ করে নেয়। বিশেষ কিছু কৃমি যেমন সুখা কৃমি, লার্ভা, গুড়া কৃমি এবং হুক ওয়ার্ম এই সকল কৃমি খালি চোখে দেখা যায় না। আপনি জানলে অবাক হতে পারেন, খুব ছোট একটা কৃমি প্রতিদিন আমাদের অন্ত্র থেকে ০.২ মিলিমিটার রক্ত চুষে নিতে পারে। এজন্য কৃমির সমস্যাকে অবহেলা করলে চলবে না, এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা।
চলুন আজকের এই আর্টিকেলটিতে, পেটে কৃমির মত এমন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের অ্যালবেনডাজল এবং মেবেনডাজল কৃমির ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম সহ প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। আপনি কৃমির সমস্যায় ওষুধ খেতে চাইলে, সঠিক নিয়ম জানা জরুরী।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায়
পেটে কৃমির সমস্যা হওয়ার কারণ
কৃমি একটি পরজীবী সংক্রামক রোগ, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে শরীরে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। পেটে কৃমি সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে অন্যতম কারণ হলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকা একই সঙ্গে দূষিত খাবার ও পানি খাওয়া এবং অসাস্থকর পরিবেশে থাকার ফলে। চলুন, শুরুতেই বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায় আর্টিকেলটিতে, পেটে কৃমি হওয়ার কারণ গুলি জেনে নি।
- পেটে কৃমির সমস্যাকে, বড় স্বাস্থ্য সমস্যা বলে মনে করা উচিত। এমন সমস্যা তৈরিতে বেশ ভূমিকা পালন করে অপরিষ্কার পানি সহ খাবার খাওয়ার ফলে। কৃমি একটি সংক্রামক রোগ যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বা ফিল্ডার করা পানি খাওয়া জরুরী। যেকোনো খাবার রান্না করার আগে ভালোভাবে ধুয়ে তারপরে রান্না করবেন। রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। তা না হলে কৃমির সমস্যা তৈরির পরজীবী সংক্রমনের দেখা মিলতে পারে।
- কৃমির সমস্যা প্রতিরোধের জন্য, নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরী। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে সম্পূর্ণ দুই হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। হাতের নখ পরিষ্কার করে রাখাও, এমন সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নখ বড় থাকলে, আমাদের মলদ্বার থেকে কৃমির ডিম্বানু মুখে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের হাতের নখ বড় হলে তার দিকে নজর দিবেন, আপনি নিজেও সুন্দর করে নখ পরিষ্কার করুন যাতে ময়লা না জমে থাকে।
- আপনি যদি খালি পায়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করেন। সেক্ষেত্রেও হুকওয়ার্ম কৃমির সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কেননা মাটির মধ্যে থাকা কৃমির লার্ভা পায়ের চামড়া দিয়ে শরীরের ভেতরে ঢুকতে পারে। এজন্য অসুস্থ হওয়ার পরিবেশে খালি পায়ে হাঁটতে বিরত থাকুন। কৃমিতে সংক্রামিত ব্যক্তির, কাপড় চোপড় বিছানার টয়লেট ব্যবহারে ঝুকি রয়েছে। কেননা কৃমি একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনে, খুব দ্রুত ছড়াতে পারে।
- যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা, বেশি থাকে। এমন সমস্যায় বিশেষ করে শিশুরা, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সহ অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুকি বেশি। তাছাড়া কুকুর বিড়ালের মত প্রাণীর কৃমির সমস্যা হলে, তাদের লোম বা মল থেকেও কৃমির সংক্রমণ কোন ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কৃমির সমস্যায় যে সকল লক্ষণ উপলব্ধি হতে পারে
বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায় আর্টিকেলটিতে কৃমির সমস্যা হওয়ার কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের পেটে কয়েক প্রজাতির কৃমি বাসা বাধতে পারে। শরীরে কৃমির সমস্যায় শিশু হোক কিংবা বয়স্করা, এ সময় বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। চলুন কথা না বাড়িয়ে জানার চেষ্টা করি, কৃমির সমস্যা যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো।
- কৃমির সমস্যা মানেই পেটের সমস্যা, আপনার কৃমির সমস্যা দেখা দিলে ক্রমাগত পেটে ব্যথা একই সঙ্গে পেটের ভিতরে মোছরানো, কামড়ানোর মত অনুভূতি মিলতে পারে। ক্ষুধা কমে যেতে পারে আবার কখনো কখনো অতিরিক্ত ক্ষুধাও অনুভব করতে পারেন। শরীরে এমন ক্ষুধা মন্দার কারণে দ্রুত আপনার ওজন কমে যেতে পারে।
- কৃমির সমস্যায় শরীরের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ার মত সমস্যা দেখা দেওয়া, অসম্ভব কিছু না। যেকোনো কৃমি শরীর থেকে রক্ত চুষে নেয়, তবে বিশেষ করে ফিতা কৃমির কারণে, অন্ত্রে রক্তপাত হয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যায় শরীরে দুর্বলতা সহ ক্লান্তির সাথে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে যেতে পারে।
- ডায়রিয়া এবং পাতলা পায়খানা হওয়া কৃমির সমস্যার, লক্ষণের ইঙ্গিত দিতে পারে। একই সঙ্গে, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব সহ কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পেটে কৃমিতে আপনার ঘুমেরও ব্যাঘাত করতে পারে। কেননা এমন সমস্যায় শরীরে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা থেকে ঘুমের সমস্যা আসে।
- আপনি যদি কৃমির সমস্যা মোকাবেলা করেন, সেক্ষেত্রে মলদ্বারে চুলকানি সহ ত্বকে এলার্জি এবং চুলকানির দেখাও মিলতে পারে। বমি বমি ভাবের দেখা মেলা অসম্ভব কিছু না, তবে অনেক সময় বমি এবং মলত্যাগের সঙ্গে কৃমি বেরিয়ে আসার মত লক্ষণ লক্ষ্য করতে পারেন। তাছাড়া কৃমিতে মলদ্বারের আশেপাশে প্রচুর চুলকানির অনুভূতি আসতে পারে বিশেষ করে রাতে।
- এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী কৃমির সমস্যায় শরীরে জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির দেখা মিলতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমির সমস্যায়, উপরোক্ত লক্ষণ গুলি সহ মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে বাধা প্রদান করতে পারে। সর্বোপরি বারবার পেটের সমস্যা হওয়ার পরে, উপরক্ত লক্ষণ গুলির কোন ওষুধে কাজ না হলে, পেটে কৃমি সমস্যা হয়েছে বলে সন্দেহ করতে পারেন।
বড়দের কৃমির ওষুধ এবং খাওয়ার নিয়ম
আজকের আর্টিকেলটি, বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে। পেটে কৃমি হওয়ার বেশ কিছু কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে উপরে ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পেটের সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, অ্যালবেনডাজল এবং মেবেনডাজল ১০০% নিরাময়ের হার সহ পরজবি কৃমির সংক্রমনে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করতে পারে।
তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই, কৃমির ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম না জানার কারণে, খেতে চায় না। আবার অনেকে ভুলভাল ওষুধ খেয়ে, শরীরে সমস্যা আরো বাড়িয়ে তোলে। কৃমির সমস্যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে দুটি ওষুধ, খুবই উপযোগী এগুলো খাওয়ার সঠিক নিয়ম, বড়রা সহ সকলেরই জানা প্রয়োজন।
বড়দের অ্যালবেনডাজল কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়মঃ
অ্যালবেনডাজল কৃমির ওষুধ সমস্যা সমাধানে বেশ ভালো কাজ করে। এজন্য আপনার কৃমির সমস্যার লক্ষণ অনুভব হলে, ৪০০ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেট দিনে একবার খেতে পারেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ডোজ দরকার হলে দুই সপ্তাহ পর আরো একটি ট্যাবলেট খেতে পারেন। আপনার যদি গোল কৃমি, হুক ওয়ার্ম, পিন ওয়ার্ম এবং হুইপওয়ার্ম জাতীয় কৃমির দেখা মেলে, তাহলে অ্যালবেনডাজল খুবই উপকারী।
বড়রা ছাড়াও, দুই বছরের উপরে যে শিশুদের বয়স, তারাও কৃমির সমস্যায় এটা খেতে পারে। অন্যদিকে ১ থেকে ২ বছরের শিশুদের জন্য ২০০ মিলিগ্রামের ডোজ রয়েছে। এছাড়াও প্রতি তিন মাস পর পর, পরিবারের সকল সদস্যের একটি করে ওষুধ সেবন করা খুবই কার্যকর। অ্যালবেনডাজল কৃমিনাশক ওষুধ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর খেলে ভালো কাজ করে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম পাওয়ার জন্য আপনি এটা রাতেও খেতে পারেন।
বড়দের মেবেনডাজল কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার নিয়মঃ
কৃমিনাশক ওষুধ হিসেবে মেবেনডাজল খুবই ভালো কাজ করে। মেবেনডাজল ওষুধ দুই বছরের বেশি বয়সী শিশু সহ প্রাপ্ত বয়স্করা খেতে পারেন। বিশেষ করে গোল কৃমি, হুক কৃমি, চাবুক কৃমি সহ পিন কৃমির জন্য খুবই উপকারী এ ওষুধ। কৃমির সমস্যার সমাধান পেতে, ১০০ মিলিগ্রামের একটি ওষুধ দিনে দুইবার খাওয়া উপযুক্ত। প্রাথমিক অবস্থায় এমন ডোজ পরপর তিন দিন খাওয়া জরুরী।
কৃমি প্রতিরোধে না আসলে, দুই সপ্তাহ পর একই ডোজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ সময় দিনে মাত্র একটি ট্যাবলেটই যথেষ্ট। মেবেনডাজল খাবার খাওয়ার আগে বা পরে যে কোন সময় খাওয়া যায়। চাইলে চিবিয়ে বা পানি দিয়ে গিলে খেতে পারেন, একই সঙ্গে খাওয়ার নিয়ম একই রাখাটা উপযুক্ত। দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উপযুক্ত।
কৃমি প্রতিরোধের জন্য ঘরোয়া উপায়
আর্টিকেলটিতে কৃমি প্রতিরোধের জন্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুটি উপকারী কৃমিনাশক ট্যাবলেট এবং খাওয়ার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। কৃমির সমস্যায় ওষুধ খাওয়া ছাড়াও ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণের মাধ্যমে এমন ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যেতে পারে। এছাড়াও কৃমির সংক্রমণ রোধে, ঘরোয়া প্রতিকার সহ দৈনন্দিনের অভ্যাস ও পরিবর্তন জরুরী। আর্টিকেলটিতে বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম তো বলা হয়েছে, ঘরোয়া ভাবে প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানি চলুন।
- কৃমির সমস্যা সমাধান সহ, প্রতিরোধের জন্য নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। টয়লেট করার পর এবং খাওয়ার আগে, সাবান দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান, একই সঙ্গে আপনি এবং আপনার পরিবারের সকলের নক ছোট করে কেটে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।
- দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায়, বিশুদ্ধ খাবার এবং, ফুটানো ও বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। রাস্তার ধারের খাবার খাওয়া এবং খোলা দোকানের পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ফল এবং সবজি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রান্না করে তারপর খান। কাঁচা বা আধা সেদ্ধ অবস্থায় কোন খাবারই খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- খোলা কোন স্থান এবং অস্বাস্থ্যকর স্যানিটাইজেসন ব্যবস্থায় টয়লেট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়াও আপনার বাড়ির টয়লেট সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘরের আশপাশে ময়লা জমতে দিবেন না। আপনি যদি আক্রান্ত হন সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবহৃত জিনিস পত্র সহ, কাপড় চোপড় কাউকে ব্যবহার করতে দিবেন না।
- কৃমির সমস্যা সমাধানে, সপ্তাহে কয়েকবার কাঁচা রসুন খেতে পারেন। কেননা কাঁচা রসুনে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট কৃমি মারতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে বেশ ভালো ফলাফল পেতে পারেন। মিষ্টি কুমড়ার বীজেও কিউকারবিটাসিন যৌগ কৃমিকে অবশ করে, পেট থেকে বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে।
- প্রতিদিন একটি বা দুটি লবঙ্গ খেলে, এতে থাকা এন্টি মাইক্রোবিয়াল কৃমির লার্ভা ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে এক চিমটি লবন মিশিয়ে খেলেও উপকার মিলানো সম্ভব। কাঁচা ও পাকা পেঁপে সহ মধু কৃমি ধ্বংস করতে কাজ করতে পারে। আপনি চাইলে গাজর খেতে পারেন, কেননা এতে থাকা প্রচুর ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে সচল রেখে কৃমি বের করে দিতে সাহায্য করে।
- অপরিষ্কার মাটি সহ শুধু মাটিতে হাঁটা চলা থেকে বিরত থাকাটাই ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যাতে খালি পায়ে মাটিতে, হাঁটাহাঁটি না করতে পারে। শিশুদের নখ কামড়ানোর অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করুন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়াতেও ভুলবেন না, এ সময় শিশুর জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা সহ পরিস্কার পোশাক খুবই জরুরী।
যে সকল ব্যক্তিদের কৃমির ওষুধ খাওয়ায় সতর্কতা রয়েছে
বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম এবং প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কৃমির সমস্যা হলে, কিছু মানুষের ওষুধ খাওয়ায় সতর্কতা রয়েছে। এখন তাহলে যে সকল ব্যক্তিদের কৃমির ওষুধ খাওয়া সতর্কতা রয়েছে সেগুলো যানি চলুন।
- গর্ভবতী নারী যারা রয়েছেন, তাদের প্রথম তিন মাসে কৃমির ওষুধ খাওয়া সাধারণত নিষেধ। একান্ত আপনার প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অন্যদিকে যারা স্তন্যদানকারী মা রয়েছে তাদেরও, কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
- লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের, কৃমির ওষুধ খাওয়ার ফলে লিভারের উপরে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কেননা এ সকল ব্যক্তিদের ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া কৃমির ওষুধ খেলে আপনার এলার্জির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
- দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বা অস্থিমজ্জায় সমস্যা থাকলে কৃমির ওষুধ খাওয়ার আগে সতর্কতা জরুরী। এক বছরের কম বয়সী শিশুর কৃমি হলে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়াবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
উপসংহার। বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি প্রতিরোধের উপায়
আর্টিকেলটিতে বড়দের কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, একই সঙ্গে কৃমি প্রতিরোধের উপায় ও সতর্কতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। কৃমির সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান জরুরী, কেননা শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। আপনি যে কোন কৃমির ওষুধ খান না কেন, বয়স, শরীরের ওজন এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক ডোজ নেওয়ার জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা সবচেয়ে নিরাপদ।
এজন্য আপনি কিংবা আপনার পরিবারের যে কোন সদস্যের, কৃমির সমস্যা দেখা দিলে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। একই সঙ্গে সতর্ক থাকুন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url