পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ, প্রতিকারের উপায়

পায়ের গোড়ালি শরীরের সবচেয়ে ছোট ওজন বহনকারী জয়েন্ট। আমাদের শরীর নাড়াচাড়া, হাঁটাচলা, দৌড়ানোর সহ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পায়ের গোড়ালি। আমরা অনেকেই অনেক সময় পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা উপলব্ধি করি। পায়ের গোড়ালিতে ব্যথার প্রবানতায় পড়লে, জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই, এমন সমস্যার সমাধান সম্ভব। এজন্য সঠিক ব্যবস্থা সহ প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ লাগতে পারে।

পায়ের

কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা জানার চেষ্টা করি, পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ, এবং এ সময় করনীয় কি? সে সম্পর্কে। আপনি যদি এমন ব্যথা অনুভব করেন সেক্ষেত্রে, আপনার জন্য আরটিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এজন্য মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ, প্রতিকারের উপায়

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ, যে সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পায়ের গোড়ালি ব্যথা হতে পারে 

শরীরের জন্য পায়ের গুরুত্ব অন্যতম, কেননা আমাদের সকল কাজকর্মের জন্য পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা অত্যন্ত জরুরী। পায়ের গোড়ালি ব্যথা বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ কিছু কারণ সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ, এমন সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। পায়ের গোড়ালি অর্থাৎ পায়ের জয়েন্টে, ব্যথা কিসের লক্ষণ, যে সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়লে পায়ের গোড়ালি ব্যথা হতে পারে, চলুন সেগুলো জানার চেষ্টা করি।  

পায়ে কোন প্রকার আঘাত বা মচরে যাওয়ার ফলে গোড়ালি ব্যথা হতে পারেঃ 

দৈনন্দিনের সকল চাহিদা মেটাতে, সকলেরই কোন না কোন কাজকর্ম করতে হয়। শুধু কাজকর্মই নয় খেলাধুলা সহ যেকোনো কারণে পায়ে আঘাত বা মচকে যাওয়ার ফলে, পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। এটা পায়ের গোড়ালি ব্যথা হওয়ার সাধারণ কারণ গুলির মধ্যে পড়ে। কেননা হঠাৎ করে পায়ের গোড়ালি বেকে গেলে লিগামেন্ট প্রসারিত হয়ে, ছিঁড়ে যেতে পারে। 

এমন সমস্যায় আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে, ব্যথা ও ফোলাভাব সহ আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যেতে পারে। আহত পা দিয়ে হাঁটা চলা সহ ভর দিতেও অসুবিধা হতে পারে। অনেক সময় এমন আঘাতের ফলে অনেকের পায়ের গোড়ালির হাড়ও ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনার মোকাবেলা করতে হয়। এমন সমস্যায় আঘাত প্রাপ্ত স্থানের, কার্যক্রমে পেশী বা টেন্ডনে টান লাগে, যা এমন ব্যথার অনুভূতি আনে।

প্লান্টার ফ্যাসিয়াইটিসের সমস্যার ফলেঃ 

পায়ের গোড়ালি সহ সম্পূর্ণ পায়ের পাতায় ব্যাথা হওয়ার পেছনে, সাধারণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে প্লান্টার ফ্যাসিয়ার প্রদাহ। এমন সমস্যা বিশেষ করে, গোড়ালি থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত পুরো টিস্যুতে প্রদাহ ছড়াতে পারে। পায়ের তালুর নিচে থাকা পেশীর টিস্যুতে প্রদাহ হতে পারে, অতিরিক্ত ওজন বহন, একই স্থানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে এবং হঠাৎ করে অতিরিক্ত হাটা বা দৌড়ানোর ফলে, এমন সমস্যার   দেখা মিলতে পারে। 

এমন ব্যথা প্রবণতায় আপনি সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর, প্রথমে কয়েক কদম হাঁটার পরে তীব্র ব্যাথা অনুভব হতে পারে। দীর্ঘ সময় একই স্থানে বসে থাকার পর উঠে হাটা শুরু করলে, ব্যথার অনুভূতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া আপনি যদি গোড়ালির নিচে পায়ের মাঝামাঝি অংশে চাপ প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন।

আর্থ্রাইটিস সহ রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলেঃ

আর্থ্রাইটিস অর্থাৎ গেটে বাত জনিত সমস্যা, যার ফলে পায়ের গোড়ালি সহ শরীরের জয়েন্টে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে পড়ে। তাছাড়া রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে, শরীরের প্রতিটা জয়েন্টে ক্রিস্টাল তৈরি করে প্রদাহ ও ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। এমন সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় পায়ের বুড়ো আঙ্গুল থেকে শুরু হলেও, গোড়ালি সহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ছড়ানো সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

কেননা রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে। একই সঙ্গে এমন বর্জ্য পদার্থ কিডনি শরীর থেকে ছেকে বের না করতে পারলে। শরীরের জয়েন্ট গুলোতে ইউরিক এসিডের তরল জমতে শুরু করে। এমন সমস্যা সাধারণত শরীরের প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে আকৃষ্ট করে। এর ফলে দেখা দেয় তীব্র প্রদাহ, ব্যথা, আক্রান্ত স্থানে গরম অনুভুতি। জয়েন্টের ব্যথা তীব্র হয়ে আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে, যা সহ্য করা কঠিন হতে পারে। 

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবেঃ 

আমাদের শরীরের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং মজবুত করার জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। আপনার শরীরে যদি ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দেয়, তাহলে হাড় এবং জয়েন্টের প্রদাহ দেখা দিয়ে গোড়ালি ব্যথা হওয়ার মত, সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন ডি হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণে, সাহায্য করে। 

পায়ের

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে, গোড়ালিতে ব্যথা, হাঁটার সময় ব্যাথা সহ পেশীতে দুর্বলতা,  খিচুনি ও ঝিনঝিন অনুভূতির  দেখা মিলতে পারে। অনেক সময় অনেকের হাড়ের দুর্বলতার কারণে, খুব সামান্য আঘাতেও গোড়ালি সহ পায়ের অন্যান্য হাড়ে ছোটখাটো ফাটল ধরতে পারে। এ সময় আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

শরীরে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ডায়াবেটিস থাকলেঃ 

কারো শরীরে ডায়াবেটিস থাকলে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখা হলে, শরীরের ব্যাপক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে শরীরের জয়েন্ট সহ পায়ের গোড়ালি ব্যথার মত অনুভূতি সাধারণ ব্যাপার। কেননা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে শরীরের অন্যান্য স্থান গুলিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। যা মূলত রক্তের উচ্চ শর্করা অর্থাৎ ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, স্নায়ু এবং হৃদপিন্ডের ক্ষতি করে। 

আরো পড়ুনঃ কি খেলে ডায়াবেটিস কমে,ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের উপায় জানুন।


ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি সমস্যার ফলে, পায়ের গোড়ালি সহ পায়ে ব্যথা, জয়েন্টে ঝিনঝিন অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে একই সঙ্গে আক্রান্ত স্থান খুবই গরম অনুভুতি করতে পারেন। শারীরিক দুর্বলতা সহ ক্লান্তি এ সময় আপনার সঙ্গী হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে আক্রান্ত স্থানে আঘাত লাগলে অনুভূতি না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোপরি আক্রান্ত স্থান গুলা, সেরে উঠতে সময় লাগতে পারে।  

পায়ে ভুল জুতা অর্থাৎ অ-ফিটিং জুতা ব্যবহারেঃ 

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা, পায়ে খুব ছোট বা বড় জুতা ব্যবহারের ফলে। পায়ের পেশী ও লিগামেন্ট কে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। কেননা ভুলভাল জুতা পায়ের স্বাভাবিক গঠন সহ চলাচলে অসুবিধা তৈরি করে, যা এমন ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে আবার ফ্লাট জুতা ব্যবহার করে, যার ফলে পায়ের চাপ সঠিকভাবে বহন করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ঘোড়ালি নিচের দিকে ঝুঁকে, পা মচকে যাওয়ার মত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। 

আপনি একটু নিজেই লক্ষ্য করলে বুঝবেন, দৈনন্দিনের স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং খেলাধুলা সহ দৌড়ানোর জন্য, সঠিক জুতার ব্যবহার কতটা জরুরি। জুতা পুরনো হয়ে, গোড়ালির সঠিক সাপোর্ট নষ্ট হলে তাও গোড়ালির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এজন্য আপনার পরিশ্রমে ধরন অনুযায়ী সঠিক জুতা ব্যবহারের চেষ্টা করুন। আপনার শরীরে অতিরিক ওজন থাকলে, গোড়ালিতে বাড়তি চাপ পড়ে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

পায়ের গোড়ালির ব্যাথায় যে সকল লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিতে পারে 

এই আর্টিকেলটিতে, পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ সে সম্পর্কে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার পায়ের গোড়ালিতে ব্যথার লক্ষণ কারণ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। পায়ের গোড়ালি বা জয়েন্টের এমন প্রদাহ, জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে, যা খুবই বিরক্তিকর এবং বেদনাদায়ক। চলুন তাহলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথায় যে সকল লক্ষণ,দেখা দিতে পারি তা জানার চেষ্টা করি। 

  • সাধারণত পায়ের গোড়ালিতে প্রদাহ দেখা দিলে, ধীরে ধীরে, ব্যথা তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া বিশেষ করে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে, হাঁটার সময় পা দিয়ে ভর দিলে, অসহনীয় ব্যাথা উপলব্ধি হতে পারে। একই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ফলে, পা অতিরিক্ত ভারী লাগা সহ ব্যথা অনুভব করতে পারেন। 
  • পায়ের গোড়ালিতে প্রদাহ ও ব্যথার প্রবণতায়, পায়ের গোড়ালি চাপ দিলে খুবই ব্যথা উপলব্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে গোড়ালি সহ পায়ের পাতায় ব্যথা ও শক্ত ভাব হতে পারে। কখনো কখনো এমন ব্যথার প্রবণতায়, আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া সহ ঝিমঝিম অনুভূতির দেখা মিলতে পারে। 
  • পায়ের গোড়ালির আশপাশে ফোলাভাব তৈরি হয়ে, আক্রান্ত স্থান লাল বর্ণ এবং গরম অনুভূতি হতে পারে। আপনার যদি পা মচকে যাওয়ার ফলে, এমন ব্যথা উপলব্ধি হয় সেক্ষেত্রে গোড়ালির হারে ফাটার মতো শব্দ শোনা যেতে পারে। এমন সমস্যায় পা নাড়াচাড়া করতে বেশ ব্যথা অনুভব হয়। অনেক ক্ষেত্রে পায়ের গোড়ালি খুবই শক্ত হয়ে থাকার মত অনুভূতি, দেখা দিতে পারে। 
  • তাছাড়া পায়ে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সমস্যায় আক্রান্ত হলে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে কয় কদম পা ফেলার পর তীব্র ব্যথা অনুভব হতে পারে। তবে এমন সমস্যায় অনেক সময় কিছুক্ষণ হাঁটার পরে ব্যথা কমতেও পারে, আবার বারতেও পারে। ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে, হারে দুর্বলতা সহ ব্যথা অনুভব হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেননা এ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে হাড়ের ভঙ্গুরতা তৈরি হতে পারে। 
  • অফ ফিটিং জুতা সহ হিল জুতা ব্যবহারের ফলে, পায়ের গোড়ালির নিচে কাটার মত ব্যথার, মোকাবেলা করতে হতে পারে। গেটে বাত সহ ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে প্রতিটা জয়েন্টের প্রদাহ ও ব্যথা উপলব্ধি হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে গোড়ালিতে ব্যথা হলে, গোড়ালি ব্যাথা, ফোলাভাব এবং আক্রান্ত স্থানে তরল জমা হতে পারে। 

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথার সমস্যা প্রতিকারের উপায়

পায়ের গোড়ালি, যেখানে আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ ওজনের ভর থাকে। পায়ের এমন জায়গায় তীব্র ব্যথা হলে, এটা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। কেননা পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা মানেই, দৈনন্দীনের হাঁটাচলা কাজকর্ম সহ যাবতীয় সব কিছুতেই সমস্যা। এজন্য এমন সমস্যা সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা সহ প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। চলুন পায়ের গোরালিতে ব্যাথার সমস্যা প্রতিকারের উপায় গুলি জানা যাক। 

আরো পড়ুনঃ হজম শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং কারন সম্পর্কে জানুন।

  • আপনি পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব করলে, প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া ভাবে বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরী। যে সকল কাজকর্মে গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব হবে সেগুলো থেকে, আরোগ্য পাওয়া পর্যন্ত বিরত থাকবেন। অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁটা, দৌড়ানো সহ ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। 
  • প্রাথমিক অবস্থায়, এমন ব্যথা থেকে আরাম পাওয়ার জন্য, চাইলে আক্রান্ত স্থানে বরফের সেক দিতে পারেন। কেননা আক্রান্ত স্থানে লালচে এবং ফোলাভাব থাকলে দিনে কয়েকবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে, বরফ সেক দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে পায়ের গোড়ালির পেশী শক্ত এবং তীব্র ব্যথা হলে গরম সেক ও উপকারি। আপনি চাইলে উষ্ণ গরম পানিতে সামান্য পরিমাণে লবণ মিশিয়ে, তার ভিতরে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এগুলো পেশী শিথিল করে ব্যথা কমাতে বেশ কার্যকর।  
  • সাধারণ ভাবে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হলে, হালকা তেল দিয়ে মাসাজ করা যেতে পারে। তার জন্য ব্যবহারিক জুতা ব্যবহারে সঠিক এবং স্বচ্ছন্দাবোধ করায় এমনটা বেছে নিন। শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন। হাঁটাচলা করার সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখাও এ সময় জরুরী। 
পায়ের

  •  শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান। এই সকল পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দুধ, দই,  পনির,  চর্বিযুক্ত মাছ, সবুজ শাকসবজি সহ বাদাম ও বীজ খেতে পারেন। আপনি যা কিছু খান না কেন ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখা এমন সমস্যায় সবচেয়ে উপযুক্ত। 
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমাতে ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। এজন্য আপনি চাইলে এক জায়গায় বসে পায়ে তোয়ালি বা গামছা পেচিয়ে উপরের দিকে হালকা করে টান দিলে প্রদাহ কমতে পারে। এছাড়াও আরাম মেলাতে বল-রোলিং, ক্যালফ স্ট্রেচ ব্যায়াম করতে পারেন। দেয়ালে ভর দিয়েও পায়ের পেশী ট্রেচ করতে পারেন। খালি পায়ে হাটাহাটি করা সহ শক্ত মেঝেতে হাঁটা বন্ধ করুন। 
  • আপনার পায়ের গোড়ালির ব্যথা যদি অনেক তীব্র হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাথা নাশক ওষুধ প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তীব্রতার ক্ষেত্রে বিশেষ করে, ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যথার কারণ নির্ণয় করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সবচেয়ে উপযুক্ত। 

উপসংহার। পায়ের গোড়ালি ব্যাথা কিসের লক্ষণ, প্রতিকারের উপায় 

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ অর্থাৎ যে সকল কারণে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা উপলব্ধি হতে পারে, সঙ্গে প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে, আর্টিকেলটিতে বেশ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি পায়ের গোড়ালি ব্যথা, প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া ভাবে না কমে। একই সঙ্গে ব্যাথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, হাঁটতে কষ্ট হওয়া সহ গোড়ালি ফুলে তীব্র ব্যাথা হলে, এ সময় সঠিক প্রতিকারের জন্য চিকিৎসা সেবা নেওয়া জরুরি। কেননা মাথায় রাখবেন, পায়ের গোড়ালি এবং জয়েন্টের এমন ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। 

এজন্য প্রয়োজন হলে অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শে, গোড়ালি ব্যাথার সঠিক রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনার বা আপনার পরিবারের এমন সমস্যায়, আরোগ্য পাওয়ার জন্য, সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। এতক্ষণ, পায়ের গোড়ালি ব্যথা কিসের লক্ষণ, প্রতিকারের উপায় আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

                            (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url