হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
শরীরে হার্নিয়া এমন একটি সমস্যা যা শরীরের ভেতর থেকে কোন অঙ্গ বা টিস্যুর পেশির দুর্বল অংশ বা ছিদ্র দিয়ে বাইরের দিকে ফুলে উঠে, ফোলাভাব বা পিণ্ড তৈরি করে। হার্নিয়া আমাদের শরীরের যে কোন অংশে দেখা দিতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেট ও কুচকির সংযোগস্থলে দেখা দেয়। হার্নিয়ার সমস্যা সম্পূর্ণভাবে সমাধানের জন্য ঘরোয়া কোন পদ্ধতি নেই। তবে হার্নিয়ার সমস্যায় ঘরোয়া ভাবে, কিছু শারীরিক অসস্তি কমানো যেতে পারে। কেননা হার্নিয়ার স্থায়ী সমাধানের জন্য অস্ত্রপাচার একমাত্র সর্বোত্তম উপায়।
চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, হার্নিয়ার লক্ষণ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় সহ প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আপনি কিংবা আপনার পরিবারের কারো হার্নিয়ার সমস্যা দেখা দিলে, আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। কেননা প্রয়োজনীয় তথ্য পেলেও পেতে পারেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
- শরীরের হার্নিয়া হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে
- হার্নিয়া কত প্রকার ও কি কি
- হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
- জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনঃ
- উপসর্গ কমাতে অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতির ব্যবহারঃ
- হার্নিয়ার সমস্যা সমাধানে ওপেন সার্জারির গুরুত্বঃ
- ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির পদ্ধতিঃ
- হার্নিয়ার সমস্যায় মেশ রিপিয়ার পদ্বতির ব্যাবহারঃ
- উপসংহার। হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
শরীরের হার্নিয়া হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে
এই আর্টিকেলটি মূলত, হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে। হানিয়ার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তির ঘরোয়া কোন উপায় নেই, হার্নিয়া সম্পূর্ণ নিরাময় করার জন্য অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে হার্নিয়া হওয়ার সব থেকে প্রধান কারণ হলো, পেশীর দুর্বলতা এবং পেটের উপরে অতিরিক্ত চাপের সম্মিলিত প্রভাবের ফলে । চলুন তাহলে আর্টিকেলটির শুরুতেই, হার্নিয়া হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে, সেগুলো জানার চেষ্টা করি।
- হার্নিয়া হওয়ার সব থেকে অন্যতম কারণ, পেটের পেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া। অনেকের জন্মগতভাবে পেটের পেশী দুর্বল থাকে, যার ফলে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। তাছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজন মানুষের, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি, পেটের দেয়ালে পেশী দুর্বল হয়ে হার্নিয়ার মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
- হার্নিয়া যে কারো হতে পারে তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে একটু বেশি দেখা মেলে। কেননা হার্নিয়ার সমস্যা শরীরে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলার ফলেও এমনটা হতে পারে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা মল ত্যাগের সময় জোরে চাপ প্রয়োগের ফলেও ঝুঁকি রয়েছে। প্রোস্টেটের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে প্রস্রাব করার ফলেও এমনটা হতে পারে।
- গর্ভাবস্থায় একজন নারীর পেটের ভেতরে তার নবজাতকের চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে, হার্নিয়ার সমস্যার দেখা মিলতে পারে। আপনার শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ জরুরী। কেননা শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে, পেটের পেশির উপরে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়। যা হার্নিয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টিতে বেশ ভূমিকা রাখতে পারে।
- আপনার যদি দীর্ঘস্থায়ী কাশি হওয়ার মতো প্রবণতার দেখা মেলে। সঙ্গে হাঁপানির মত সমস্যায় শরীরে থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কেননা দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং হাঁপানির ফলে হার্নিয়া হতে পারে। পেটের কোন প্রকার অপারেশন সহ আঘাতের ফলে হার্নিয়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেননা অপারেশনের পর সেলাইয়ের জায়গা দুর্বল হয়ে ইনসিশনাল হার্নিয়া দেখা দিতে পারে।
- বংশগত ভাবে পূর্বে কারো হার্নিয়া হওয়ার ইতিহাস থাকলে, আপনারও এমন ঝুকির মোকাবেলা করতে হতে পারে। ভুল অঙ্গ ভঙ্গিতে কাজকর্ম করলে, দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলে পেশী দুর্বল হয়ে এমন ঝুঁকির কবলে পড়তে হতে পারে। হার্নিয়ার সমস্যায় ধূমপানকে ও দায়ী করা হয়, ধূমপানের কারণে দীর্ঘমেয়াদী কাশি ও টিস্যু দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
হার্নিয়া কত প্রকার ও কি কি
হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়, আর্টিকেলটিতে হার্নিয়া হওয়ার বেশ কিছু কারণ, ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত হার্নিয়া স্থানভেদে কয়েক ধরনের হতে পারে, তবে হার্নিয়ার এই প্রকারভেদের মধ্যে কিছু খুবই সাধারণ। এগুলোর মধ্যে কয়েক প্রকার সবচেয়ে বেশি পরিচিত। চলুন তাহলে হার্নিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রকার গুলো জেনে নেই।
আরো পড়ুনঃ তলপেটে নাভির নিচে ব্যাথা কমানোর উপায় জানুন।
- ইনগুইনাল হার্নিয়া এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে পুরুষের মধ্যে। এটি অংশ বা চর্বি কুচকির দুর্বল পেশির মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। ইনগুইনাল হার্নিয়া সাধারণত পুরুষদের কুচকির নিচের অংশে হয়ে থাকে।
- ফিমোরাল হার্নিয়া, এটি নারীদের মধ্যে তুলনামূলক অনেক বেশি দেখা যায়। ফিমোরাল হার্নিয়া কুচকির উপরের অংশে দেখা দিতে পারে, এটি ইনগুইনাল হার্নিয়ার থেকে সাধারণ।
- আম্বিলিকাল হার্নিয়া, আমাদের পরিবারে যারা গর্ভবতী মহিলা এবং নবজাতক শিশু রয়েছে, তাদের মধ্যে এমন হার্নিয়ার দেখা বেশি মেলে। আম্বিলিকাল হার্নিয়া নবজাতক শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের নাভির আশেপাশে হতে পারে।
- হাইয়াটাল হার্নিয়া, পাকস্থলীর উপরের অংশ, ডায়াফ্রাম এর ছিদ্র দিয়ে বুকের দিকে ঠেলে বের হয়ে আসে। এক কথায় বলা চলে পাকস্থলীর একটি অংশ বুকের ভেতরে উঠে যায়, ডায়াফ্রামের ফাক দিয়ে।
- পূর্ববর্তী অস্ত্রপাচার সহ শরীরের কোন আঘাত জনিত কারণে, ইনসিসনাল হার্নিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা অস্ত্র পাচার সহ পেটে আঘাতের ফলে পেটের প্রাচীর দুর্বল হয়ে, এমন সমস্যার সৃষ্টি করে।
- অন্যদিকে পেট ও নাভির মাঝামাঝি স্থানে, এপিগ্যাস্ট্রিক হার্নিয়া নামক সমস্যা হতে পারে। এটি পেটের উপরের অংশে, বুকের হাড় এবং নাভি মাঝখানে একটি ফোলাভাব ও পিন্ড তৈরি করতে পারে।
হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
হার্নিয়া থেকে মুক্তির কোন ঘরোয়া উপায় নেই, এটা আর্টিকেলটির শুরুতেই বলা হয়েছিল। হর্নিয়া নাভি এবং কুচকিতে বেশি হয়ে থাকে। হানিয়াকে অবহেলা করার মত কোন সমস্যা নয়, এমন সমস্যা সম্পূর্ণরূপে সারাতে অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন হয়। ঘরোয়া ভাবে শুধুমাত্র হার্নিয়ার ব্যথা এবং অস্বস্তি কমানো যেতে পারে। কথা না বাড়িয়ে, হার্নিয়া থেকে মুক্তির উপায় সহ ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি, চলুন।
জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনঃ
- শরীরের অতিরিক্ত ওজন, যে কোন মানুষকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। কেননা অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ না করা হলে শরীরে বাসা বাঁধে নানান ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। ঠিক তেমনি হার্নিয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধে শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। যদি হার্নিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তো কথাই নেই। এমন সমস্যার ঝুকি বাড়িয়ে আপনার অবস্থা খারাপ করে দিতে পারে। আপনি চাইলে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, হালকা ব্যায়াম, হাঁটাচলা সহ সাইকেলিং করতে পারে।
- অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। আপনার শরীর যতটুক ওজন বহন করতে পারবে, ঠিক ততটুক ওজন বহন করুন। মাটি থেকে কোন কিছু তুলতে হলে হাঁটু ভাঁজ করে তারপর তুলবেন। এতে করে পেটের উপরে বাড়তি চাপ পড়বে না। টয়লেট করার সময় জোরে চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা এ সময় জোরে চাপ প্রয়োগের ফলে হার্নিয়া বের হয়ে আসতে পারে।
- হার্নিয়ার সমস্যায় আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, তা কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য সমাধানে ফাইবার সমৃদ্ধ ফল, সবজি এবং শস্য খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য সহ অন্ত্রের মল নরম করতে, পেঁপে ,নাশপাতি, কলা,ওটস, সবুজ শাকসবজি সহ আটার রুটি খেতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলবেন না, এ সময় অত্যন্ত প্রয়োজন। অতিরিক্ত জোরে হাচি ও কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, কেননা পেশির উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। যা উপসর্গ গুলো বাড়িয়ে অবস্থা খারাপ করে তুলতে পারে।
- শরীরে হার্নিয়ার উপসর্গ গুলি লক্ষ্য করলে, একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। যাতে পেটের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ না পরে। টক ফল, অতিরিক্ত পেয়াজ ও রসুন, ভাজা খাবার, তেল, ঝাল ও মসলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাবার সঙ্গে শুয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করা খুবই জরুরী, দীর্ঘস্থায়ী কাশির সৃষ্টি করতে পারে। অ্যালকোহল সহ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার, উপসর্গ সহ অস্বস্তি কমাতে খুবই প্রয়োজন।
উপসর্গ কমাতে অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতির ব্যবহারঃ
- হার্নিয়ার উপসর্গ গুলি কমাতে আপনি বরফের ঠান্ডা সেক ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে বরফ সরাসরি যেন ত্বকে না লাগে। এজন্য আপনি চাইলে কিছু বরফ কাপড় বা তোয়ালে ব্যবহার করে আক্রান্ত স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য দিনে কয়েকবার লাগাতে পারেন। হার্নিয়ায় এমন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে, এটি আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব এবং প্রদাহ ও ব্যথা সাময়িক ভাবে কমাতে পারে।
- হার্নিয়ায় পেশি শিথিল করে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে ব্যথা কমাতে, বেশ কার্যকারী উষ্ণ গরম পানির সেক। এজন্য একটি পাত্রে কিছু উষ্ণ গরম পানি নিয়ে, তা আক্রান্ত স্থানে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট ব্যবহার করা উপযুক্ত। আপনার যদি উষ্ণ গরম সেকের ফলে, ব্যথা কমার জায়গায় তীব্রতা বেড়ে, হার্নিয়া লাল হয় ফুলে ওঠে সেক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি ব্যবহার না করা উপযুক্ত। একই সঙ্গে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উপযুক্ত।
- সর্বোপরি সাময়িকভাবে হার্নিয়া উপশম করার জন্য, হার্নিয়া বেল্ট বা ট্রাস ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়, এটি কেবলমাত্র হারিয়ার দুর্বল অংশে চাপ প্রয়োগ করে বেরিয়ে আসা টিস্যুটে পেটের ভিতরে রাখতে সাহায্য করে। হার্নিয়ার উপশম কমাতে আপনি যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত।
হার্নিয়ার সমস্যা সমাধানে ওপেন সার্জারির গুরুত্বঃ
হার্নিয়ার সমস্যা সমাধানে, একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা হলো অস্ত্রপাচার। ওপেন সার্জারি মাধ্যমে, হার্নিয়ার সমস্যার সমাধান করা একটি প্রচলিত পদ্ধতি। এমন পদ্ধতিতে আক্রান্ত জায়গা কেটে বের হওয়া অংশ ভিতরে ঢুকানো হয়। একই সঙ্গে, দুর্বল জায়গায় মেশ বসানো হয়, যাতে করে দুর্বল পেশী গুলো শক্ত হতে পারে। হার্নিয়ায় ওপেন সার্জারি খুবই সহজলভ্য এবং সহজ পদ্ধতি।
আমাদের মধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাদের ক্ষেত্রে খুবই উপযোগি। তবে বড় হার্নিয়ার ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারি ছাড়া কোন উপায় নেই। হার্নিয়ায় ওপেন সার্জারি ফলে, আক্রান্ত জায়গায় প্রচন্ড ব্যথা হয় একই সঙ্গে সেরে উঠতে সময় তুলনামূলক অনেক বেশি লাগে। এমন পদ্ধতির ফলে পরবর্তীতে আবারো হার্নিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির পদ্ধতিঃ
হার্নিয়ার সমস্যার সমাধানের জন্য, ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি পদ্ধতি বর্তমানে অনেকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি হার্নিয়া সহ দুই পাশে হার্নিয়া ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী এ পদ্ধতি। এমন পদ্ধতিতে চিকিৎসক নাভির কাছে বা পেটে, কয়টি ছিদ্র করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ভরে জায়গা বড় করে, চিকিৎসকের সুবিধামতো। এরপরে চিকিৎসক ছিদ্র দিয়ে ল্যাপারোস্কোপ প্রবেশ করান, যার শেষে ক্যামেরা এবং আলো থাকে।
অন্য ছিদ্রগুলা দিয়ে চিকিৎসক, বিশ্বের সরঞ্জাম প্রবেশ করিয়ে হার্নিয়ায় আক্রান্ত স্থান ঠিক করেন। সঙ্গে দুর্বল পেশীগুলো ঠিক করার জন্য সার্জিকাল মেশ লাগিয়ে থাকেন। সর্বশেষ কার্বনডাই-অক্সাইড গ্যাস বের করে, ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো সেলাই করেন অথবা সার্জিকাল টেপ দিয়ে বন্ধ করে দেন। এমন পদ্ধতিতে ব্যথা খুবই কম তবে খরচ একটু বেশি, দ্রুত আরোগ্য পাওয়া যায় একই সঙ্গে অভিজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন।
হার্নিয়ার সমস্যায় মেশ রিপিয়ার পদ্বতির ব্যাবহারঃ
বর্তমানে আধুনিক হার্নিয়া অপারেশনে মেশ রিপেয়ার পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়। বর্তমান সময় এটি খুবই জনপ্রিয় পদ্ধতি এবং পরবর্তীতে হার্নিয়া হওয়ার ঝুঁকি মাত্র ৫% এর নিচে। এমন পদ্ধতিতে সার্জন দুর্বল প্রাচীর বরাবর একটি জাল স্থাপন করেন। সময়ের সাথে সাথে শরীরের স্বাভাবিক ট্যিসু জালের ছিদ্র গুলির মধ্যে, বৃদ্ধি পায় একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী স্কার টিস্যু গঠন করে।
এমন পদ্ধতিতে হার্নিয়া পুনরায় বের হতে বাধা প্রধান হয়। এই পদ্ধতিতে স্থাপনকৃত মেশগুল সাধারণত স্থায়ী হয়, এবং পেটের প্রাচীর কে শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা প্রদান করে। এমন পদ্ধতি খুবই সুবিধাজন তবে অনেক ব্যয়বহুল একই সঙ্গে খুব সহজে আরোগ্য পাওয়া যায়।
উপসংহার। হার্নিয়া থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
হার্নিয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্তির ঘরোয়া কোন উপায় নেই, এর জন্য প্রয়োজনীয় সার্জারির কথা ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরোয়া উপায়ে হার্নিয়ার উপসর্গ কমিয়ে স্বস্তি মেলাতে এবং প্রতিকারের জন্য, বেশ কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আপনার যদি হার্নিয়ার সমস্যা হয়ে থাকে, এজন্য দ্রুত সমস্যা সমাধান করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরী। চিকিৎসক আপনার অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করবেন প্রয়োজন হলে, সার্জারি ব্যবস্থা নিতে পারেন।
দীর্ঘস্থায়ী হার্নিয়ার সমস্যায়, আক্রান্ত স্থান থেকে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে, ট্যিসু মরে যেতে পারে। এর ফলের জীবন হুমকি মুখে পড়তে পারে, সামগ্রিক ভাবে শরীরে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে আরোগ্য দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এজন্য সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url