নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত-নিউজিল্যান্ড দেশ পরিচিতি

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশ অবস্থিত এবং এই দেশ কেমন জানতে হলে চোখ রাখুন আজকের ব্লগে। নিউজিল্যান্ড ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একটি মহাদেশীয় রাষ্ট্র। নিউজিল্যান্ড দেশের অনেকাংশ ২টি প্রধান বৃহৎ দ্বীপ নিয়ে গঠিত। 

নিউজিল্যান্ড

দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড খুবই সৌন্দর্যপূর্ণ এবং এদেশ আধুনিকতা এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে। চলুন আজকের এই ব্লগটিতে নিউজিল্যান্ড দেশ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য জেনে নিন। 

পোস্ট সুচিপত্রঃ নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত-নিউজিল্যান্ড দেশ পরিচিতি

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত 

আজকের এই ব্লগের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একটি সুন্দরতম দেশ। ভৌগোলিক ভাবে বিচ্ছিন্নতম এই দেশ মূলত দুটি বৃহত্তর দ্বীপ নিয়ে গঠিত। নিউজিল্যান্ড দেশের দ্বীপ দুটিকে উত্তর দ্বীপ এবং দক্ষিণ দ্বীপ বলা হয়। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের এই প্রধান দ্বীপপুঞ্জের দেশটির প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ফিজি, টোঙ্গা, নুভেল এবং কালেদোনি দেশ উল্লেখযোগ্য। নিউজিল্যান্ড দেশের আয়তন প্রায় ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ০৫৫ বর্গ কিলোমিটার। একই সঙ্গে এ দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত এবং এই মহাসাগরের একটি দ্বীপই নিউজিল্যান্ড। 

নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ বা ওশেনিয়ার অন্তর্গত হলেও এই দেশ অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। নিউজিল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্গত করা হলেও এটি মূলত নিউজিল্যান্ডিয়া নামক একটি ডুবে যাওয়া মহাদেশের অংশ। এক কথায় বলতে গেলে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশ হলেও এটি সম্পূর্ণ একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে বেশ সুপরিচিত। আনুমানিক প্রায় ৭০০ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে পলিনেশীয় বিভিন্ন জাতি এখানে বসতি স্থাপন করেন। 

নিউজিল্যান্ড দেশের প্রথম বসবাসকারী মানুষ হিসেবে ১৬৪২ সালে প্রথম ইউরোপীয় অভিযাত্রী ওলন্দাজ আবেল তাসমান যাত্রা শুরু করেন। এর পরে পরবর্তীতে ১৮৪০ সালে মাওরি গোত্র গুলি চুক্তি স্বাক্ষরিত করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে আনেন। নিউজিল্যান্ড পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দেশ যা এক সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের অনুসারী ছিল। তবে বর্তমান সময়ে নিউজিল্যান্ড সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন এখানে ১৯৮০ দশকে সরকারি হস্তক্ষেপ হ্রাস করা হয়। 

নিউজিল্যান্ড দেশ পরিচিতি। নিউজিল্যান্ড কেমন দেশ 

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের আলাদা ভৌগোলিক একটি দ্বীপের দেশ। নিউজিল্যান্ড দেশ পরিচিতি, নিউজিল্যান্ড কেমন দেশ এমন উত্তরে বলা যায় এ দেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এক অনন্য ভূমি। নিউজিল্যান্ডে মাওরি সংস্কৃতি এবং ইউরোপীয় ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে জড়িত। নিউজিল্যান্ড পৃথিবীর শেষ প্রান্তের একটি দেশ বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ বসবাসযোগ্য দেশ হিসেবে ধরা হয়। নিউজিল্যান্ড প্রধান দুটি দ্বীপের সাথে জড়িত থাকলেও ছোট ছোট আরো অনেক দ্বীপ নিয়ে এ দেশ গঠিত। 

বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডে বৈচিত্র্যময় পাহাড়, সমুদ্র সৈকত এবং আগ্নেয়গিরির জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। এখানের পর্বতমালা গুলো তুষারাবৃত, স্বচ্ছ হ্রদ এবং মনোরম উপকূল রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি দেশ যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে একজন গভর্নর থাকেন। ২০২৪ সালের ইনটেক্স অনুযায়ী বিশ্বের চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ যেখানে জীবনযাত্রা, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত উন্নত। নিউজিল্যান্ড দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাখি কিউই এর দেখা মিলে যেটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। নিউজিল্যান্ডের প্রধান আয়ের উৎস হলো পর্যটন, কৃষি এবং ওয়াইন উৎপাদন। 

নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কত

আজকের ব্লগে মূলত নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে আপনাদেরকে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ইতিমধ্যে কিছুটা ধারণা হয়তো আপনি পেয়েছেন। আজকের ব্লগের এই পর্বে নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কত এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হবে। ওয়ার্ল্ডমিটারের সর্বশেষ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বর্তমান জনসংখ্যা ৫২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪২১ জন আনুমানিক। এই জনসংখ্যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় এসে ৫২,৮৭,৪২১ জনে দাঁড়াতে পারে যার সম্ভাব্য হিসেবে অনুমান করা হয়। 

জনসংখ্যার হিসাবে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ১২৬ নম্বরে রয়েছে। কেননা এদেশের আয়তন অনুযায়ী প্রতি বর্গমিটারে মাত্র ২০ জন মানুষ বসবাস করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্তিপূর্ণ এই দেশের অধিকাংশ মানুষ শহর অঞ্চলে বসবাস করেন যা মোট জনসংখ্যার ৮৩.৭৩%। ২০২৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নিউজিল্যান্ড মোট জনসংখ্যা ছিল ৪৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯২২ জন। তবে দেশটিতে প্রতিনিয়তই খুব দ্রুত জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য বর্তমান সময়ে নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার গড় বয়স ৩৮ বছর। 

নিউজিল্যান্ডের আয়তন কত 

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং শেষ প্রান্তের দেশ নিউজিল্যান্ড যা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে অবস্থিত। নিউজিল্যান্ডে সর্বমোট ছোট বড় নিয়ে আনুমানিক ৬০০টি দ্বীপ রয়েছে। পৃথিবীতে দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে নিউজিল্যান্ডের অবস্থান ষষ্ঠ তম। পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘ এবং সরু দেশ নিউজিল্যান্ড এটি উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব অক্ষাংশে অবস্থিত। এই দেশ উত্তর পূর্ব অক্ষরেখা বরাবর ১৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একই সঙ্গে এর সর্বোচ্চ প্রশস্ত ৪০০ কিলোমিটার। নিউজিল্যান্ডে আয়তন কত এমন প্রশ্নোত্তরে বলা যায় এই দেশের মোট ভূমির আয়তন ২৬৭, ৭১০ বর্গ কিলোমিটার বা ১০৩,৩৬০ বর্গমাইল। নিউজিল্যান্ডের আয়তন অনুযায়ী এদেশের সর্বমোট তিনটি বৃহৎ দ্বীপ রয়েছে যা প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার বা ৯৩০ মাইল জুরে অবস্থিত।

আরো পড়ুনঃ পৃথীবিতে কয়টি মহাদেশ ও মহাসাগর আছে বিস্তারিত জানুন।

এর দেশের উত্তরে কের্মাডেক দ্বীপের নুজেন্ট দ্বীপের অবস্থান এবং সর্ব দক্ষিণে ক্যাম্পবেল দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের পূর্ব চ্যাথাম দ্বীপে অবস্থিত এবং পশ্চিমে অকল্যান্ড দ্বীপের লভিট অন্তরীপ। নিউজিল্যান্ড দেশটি সম্পূর্ণরূপে ইউরোপের আইবেরিয়ান উপদ্বীপের বিপরীত পৃষ্ঠে অবস্থিত। নিউজিল্যান্ডের রাজধানীর নাম ওয়েলিংটন এটি এদেশের উত্তর দ্বীপে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণের রাজধানী বলে পরিচিত ওয়েলিংটনের ভৌগোলিক অবস্থান। তবে এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম শহর হল অকল্যান্ড তবে প্রশাসনিক রাজধানী ওয়েলিংটন। 

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার উপায়। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডের দূরত্ব কত 

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত এদেশের আয়তন, জনসংখ্যা কত এবং নিউজিল্যান্ড কেমন দেশ এমন কিছু তথ্য সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগের এই পর্বে বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার উপায় এবং বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডের দূরত্ব কত এমন তথ্য জেনে নিন। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডের দূরত্ব আকাশ পথে প্রায় ১১, ০৮৮ কিলোমিটার বা ৬৮৮৯ মাইল। আপনি বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলে এটি নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শেষ হয়। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডের আকাশ পথের দূরত্ব মূলত বিমানের রুট অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার উপায় বলতে সরাসরি কোন ফ্লাইট নাই। আপনি ঢাকা থেকে নিউজিল্যান্ড যেতে আগ্রহ বোধ করলে এজন্য সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যেতে হবে। বিরতিহীন ভাবে ঢাকা থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার জন্য বিমানে কমপক্ষে ২১ ঘন্টারও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার জন্য প্রথমে অনলাইনে ভিসার আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে ভারতের নিউ দিল্লিতে ভিসা প্রসেসিং এর জন্য NZ VFS এ পাসপোর্ট পাঠাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিউজিল্যান্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য টুরিস্টের আগমন। এছাড়াও ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় অনেকে কাজের উদ্দেশ্যে যান নিউজিল্যান্ডে।

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যেতে কত টাকা লাগে 

নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সহ জীবিকা নির্বাহের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ পাড়ি জামায়। ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় অনেক মানুষ নিউজিল্যান্ডে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করেন। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যেতে কত টাকা লাগে এমন তথ্যে বলা যায় সরকারি ভাবে এবং বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ভিসা, নিউজিল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাওয়া সম্ভব। স্বাভাবিকভাবে নিউজিল্যান্ডের কাজের বেতন অন্যান্য কিছু দেশে তুলনায় অনেকটাই বেশি। একই সঙ্গে এদেশের সরকার প্রতি বছরই বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন। 

সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার জন্য খরচ অনেকটাই কম বেসরকারি ভাবে তুলনামূলক একটু বেশি। ২০২৬ সালে এসে আপনি যদি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে যান স্বাভাবিকভাবে ৮ লক্ষ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে দালাল ছাড়া আপনি যদি নিজে ভিসা প্রসেসিং করতে পারেন সেক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তবে বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় খরচ অনেকটাই কম। আপনি যদি নিউজিল্যান্ডের ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে থাকেন সেক্ষেত্রে খুব সহজেই ভিসা পাওয়া সম্ভব, এবং খরচ তুলনা মূলক অনেকটাই কম হবে। 

নিউজিল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন। নিউজিল্যান্ড কাজের ভিসা পাওয়ার উপায় 

নিউজিল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট আবেদন অর্থাৎ কাজের জন্য ভিসার আবেদন। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করা হয়। এজন্য জব ওয়েবসাইট আবেদন, নিউজিল্যান্ডে বসবাসকৃত আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে আবেদন সহ এজেন্সি অথবা এম্বাসির মাধ্যমে আবেদন সম্ভব। নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে এবং বেতন অনেকটাই বেশি। নিউজিল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক এবং অরজিনাল হতে হবে। নিউজিল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন। 

নিউজিল্যান্ড জব ওয়েবসাইটে আবেদনের মাধ্যমে 

আপনি নিউজিল্যান্ড যেতে আগ্রহ করলে এজন্য সরাসরি নিউজিল্যান্ডের জব ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন। নিউজিল্যান্ডের জব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ থাকে তবে দক্ষতা এখানে সবচেয়ে বড়। কেননা আপনি যদি দক্ষতা অনুযায়ী কোন কাজের আবেদন করেন সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে একটি ভাইভা পরীক্ষা দিতে হয়। আপনি যদি ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন এবং একই সঙ্গে কিছু শর্ত পূরণের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া সম্ভব। নিউজিল্যান্ড জব ওয়েবসাইটে আবেদনে ভিসা পেলে সরাসরি অ্যাম্বাসিতে জমা দিয়ে ভিসা পাওয়ার সম্ভব। 

নিউজিল্যান্ডের আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে আবেদন 

আপনার কোন পরিচিত আত্মীয়-স্বজন যদি নিউজিল্যান্ডের কোন কোম্পানি বা কৃষিখাতে কাজ করে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনাকে খুব সহজে তাদের মাধ্যমে সেই কোম্পানি থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাঠাতে পারে। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ার্ক পার্মিট ভিসা এম্বাসিতে জমা দেওয়ার পরে কিছু শর্তাবলীর মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার সম্ভব। নিউজিল্যান্ডে আপনি যদি কোন আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ভিসা আনতে পারেন এজন্য খরচ অনেকটাই কম হবে।

বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন 

নিউজিল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমেও করা হয়। আমাদের বাংলাদেশে সরকারি স্বীকৃতি অনুযায়ী অনেক এজেন্সি রয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার কাজ করেন। আপনি কোন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে খরচ অনেকটাই বেশি তবে এক্ষেত্রে সকল দায়িত্ব এজেন্সি কর্তৃপক্ষের। অনেকে আবার সরাসরি নিউজিল্যান্ডের দূতাবাসের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটেশন আবেদন করে থাকেন। যেকোনো এজেন্সির মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন মঞ্জুর হলে খুব সহজেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পারি জমানো সম্ভব। 

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা কোনটি জানুন এখানে।

নিউজিল্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা কত টাকা লাগে 

পৃথিবীর শেষ প্রান্তের সুন্দরতম দেশ নিউজিল্যান্ডে টুরিস্ট ভিসা কত টাকা লাগে এমন কিছু ধারনা নিন ব্লগের এই পর্বে। সাদা বরফে ঢাকা দেশ পর্বত এবং সবুজের রাজ্য নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য টুরিস্ট ভিসা সবার জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং ঝামেলা মুক্ত। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য টুরিস্ট ভিসার আবেদনে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ভিসা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। নিউজিল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা আবেদনের জন্য আবেদন ফি সহ-সাধারণ খরচ প্রায় ৪৪১$ নিউজিল্যান্ড ডলার লাগতে পারে। 

নিউজিল্যান্ড

প্রাথমিক অবস্থায় ভিসা আবেদন জন্য ৩৩০$ থেকে ৩৫০$ ডলার পর্যন্ত লাগবে পারে। পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লেডি চার্চ, সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে মোট খরচ আবেদন কারীর উপর ভিত্তি করে কম বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড টুরিস্ট ভিসার সরাসরি আবেদন সম্ভব নয়। এজন্য বাংলাদেশের বেশ কিছু এম্বাসি রয়েছে যারা ভারতের নয়া দিল্লি থেকে নিউজিল্যান্ডের যে কোন ভিসার আবেদন করে থাকে। আপনি নিজে থেকে টুরিস্ট ভিসার আবেদন করলে খরচ অনেকটাই কমাতে পারবেন ।  

নিউজিল্যান্ডের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা 

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত, নিউজিল্যান্ড কেমন দেশ জনসংখ্যা কত বাংলাদেশ থেকে দূরত্ব এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সহ বেশ কিছু তথ্য ব্লগটিতে ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। কোন ব্যক্তি কোন দেশে যাওয়ার প্রতি ইচ্ছে পোষণ করলে সেদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করেন। এমনই কার নিউজিল্যান্ডের পাড়ি জমানোর ভাবনা থাকলে, নিউজিল্যান্ডের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা এর সঠিক তথ্য জানাটা ভাবনার প্রথম সারিতে থাকে। নিচে নিউজিল্যান্ডের ডলার এবং বাংলাদেশি টাকার মান জেনে নিন। 




নিউজিন্যান্ডের ডলার$ বাংলাদেশি টাকা৳
১ ডলার ৭৩ টাকা
৫ ডলার ৩৬৫ টাকা
১০ ডলার ৭৩০ টাকা
২০ ডলার ১৪৬০ টাকা
৫০ ডলার ৩৬৫০ টাক

উপসংহারঃ নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত - নিউজিল্যান্ড দেশ পরিচিতি 

নিউজিল্যান্ড কোন মহাদেশ অবস্থিত, এটি কেমন দেশ এই দেশের জনসংখ্যা কত, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডের দূরত্ব, টুরিস্ট ভিসায় খরচ কত ইত্যাদি বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বৃহত্তম দ্বীপ রাষ্ট্রে, পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে পাড়ি জামায় অনেকে। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড টুরিস্টদের কাছে খুবই জনপ্রিয় দেশ। প্রতিবছর হাজার হাজার ট্যুরিস্ট ভ্রমণ করেন আধুনিক, সুন্দর এবং নিরাপদ এই দেশে। আপনি নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে এবং নিরাপদ প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসার আবেদন করতে পারেন। এতক্ষণ এই ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url