জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আজকের এই ব্লগটিতে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে মনোযোগ সহকারে বিস্তারিত তথ্য পড়ুন। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সকল ব্যাংকেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।
স্টুডেন্ট না হওয়া সত্ত্বেও আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে খুব সহজে একাউন্ট তৈরি করা যায়। চলুন তাহলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম সহ যাবতীয় কিছু তথ্য জেনে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি কাগজপত্র লাগে
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়
- ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে কি কি লাগে
- ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার ও কি কি
- ব্যাংক একাউন্টের রাউটিং নাম্বার কি
- ব্যাংক একাউন্টের সুইফট কোড কি
- উপসংহার। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আপনি যদি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শিশু জন্মগ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও জাতীয় পরিচয় পত্র পেতেও জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে তবে জাতীয় পরিচয় পত্র থাকেনা। এখানে টেনসনের কিছু নেই বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একাউন্ট তৈরি করার সুযোগ রয়েছে শুধুমাত্র নিচে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একাউন্ট তৈরি করার জন্য অবশ্যই ব্যাক্তির বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার জন্য অবশ্যই জন্ম নিবন্ধনটি ডিজিটাল ১৭ ডিজিট এর থাকতে হবে। পূর্বে যে সকল জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যেত হাতে লেখা এগুলো দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সম্ভব নয়। এজন্য ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে থাকতে হবে এবং সম্পূর্ণ কম্পিউটার প্রিন্ট এর হতে হবে। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য যে নমিনি থাকবে তার অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র থাকা অবশ্যক।
এবারে আপনি যে এলাকায় বসবাস করেন অর্থাৎ ইউনিয়ন হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান সনদপত্র কিংবা পৌরসভা হলে কমিশনার কর্তৃক সনদপত্র প্রয়োজন। বেশিরভাগ ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল বা ইউটিলিটি বিল এর প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম অনুযায়ী সকল কাগজপত্র মিলিয়ে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলো সম্পর্কে নিজে দেখে নিন।
- জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য ব্যক্তির ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র এবং ফটোকপি প্রয়োজন কিছু কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে সত্যায়িত জন্ম নিবন্ধন কপি প্রয়োজন হতে পারে।
- জন্ম নিবন্ধন এর সঙ্গে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য উক্ত ব্যক্তির কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে নমিনি যে থাকবে তার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট সাইজের কয়েক কপি ছবি।
- যে ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট তৈরি করবে তার আয়ের উৎস কি এর প্রমান পত্র অর্থাৎ ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর কপি প্রয়োজন এবং চাকরিজীবী হলে চাকরিরত প্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্র প্রযোজ্য।
এ সকল কাগজপত্র একত্রিত করে আপনি যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চান সেই ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা সম্ভব। অনলাইনের মাধ্যমেও ব্যাংক একাউন্ট করা যায় এজন্য উক্ত ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয়। তবে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক থেকে আবেদন পত্র সংগ্রহ করে সঠিকভাবে তথ্য পূরণ করে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের স্বাক্ষর এবং নমিনির স্বাক্ষর সহ উপযুক্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে ন্যূনতম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জমা রেখে একাউন্ট সক্রিয় করা সম্বম।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে
জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া যেকোনো ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধন এর সাহায্যে যেকোনো ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে পারে। ব্লগটিতে ইতিমধ্যে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার বেশ কিছু নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে এমন অনুসন্ধান করে। আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন এবং আপনার বয়স ১৮ বছরের নিচে হয় তাহলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে খুব সহজেই ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবেন। তবে এখানে একাউন্টের ধরন হবে স্টুডেন্ট একাউন্ট বা মাইনর একাউন্ট। স্টুডেন্ট একাউন্ট বা মাইনর একাউন্ট মূলত সেভিংস একাউন্ট হিসেবে খোলা হয়।
এখনে ১৮ বছরের নিচে যারা স্টুডেন্ট একাউন্ট এর সুবিধা নিতে চায় তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিষেবাটি পরিচালনা করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য সঞ্চয়ী মনোভাব তৈরি করার ক্ষেত্রে নূন্যতম ৬ বছরের শিশুদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে। অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা করে এমন ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে একজন স্টুডেন্ট জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ৬ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত এমন ব্যাংকিং সুবিধার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি কাগজপত্র লাগে
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবে যে কেউ তবে স্টুডেন্টদের জন্য বাড়তি সুবিধা রয়েছে এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে ধারণা পেয়েছেন। খুব সহজেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন যেকোন শিক্ষার্থী। তবে এজন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন। নিচে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে প্রয়জনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে দেখে নিন।
- যে কোন ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য অবশ্যই শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে। তবে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধনটি ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি তবে ল্যাব প্রিন্ট হলে ভালো হয়।
- ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে সবচেয়ে বড় যেটা প্রয়োজন সেটা হল অভিভাবকের পরিচয় পত্র। এজন্য পিতা মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি একই সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের কয় কপি ছবি।
- উক্ত শিক্ষার্থীর যে বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত অবস্থায় রয়েছে সেখানকার প্রমাণপত্র। অর্থাৎ আপনি যে বিদ্যালয় পড়েন সেখানকার প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন। কোন কোন ব্যাংকে শিক্ষার্থীর মাসিক ইস্কুলের বেতনের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে যেকোনো ব্যাংকে একাউন্ট করার সুযোগ রয়েছে যে কারোই। সাধারণত ব্যাংকিং সুবিধা নিতে আর্থিক লেনদেনের ওপর কিছুটা চার্জ নেয় প্রায় সকল ধরনের ব্যাংক। স্বাভাবিকভাবে ব্যাংক আপনার একাউন্ট এর হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের একটি চার্জ নিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলে পেতে পারেন বাড়তি অনেক সুবিধা। ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট সাধারণত সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট হিসাবে খোলা হয়।
ধরেন আপনি আপনার বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করে তার জন্য ব্যাংকে একটি স্টুডেন্ট একাউন্ট তৈরি করেন তাহলে আপনার শিশুর সকল ধরনের উপবৃত্তির টাকা উক্ত একাউন্টে জমা করতে পারবেন তাও সম্পূর্ণ ফ্রিতে। যেহেতু ১৮ বছরের নিচে সকল শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট একাউন্ট তার অভিভাবক দ্বারা পরিচালিত করতে হয়। এখানে অল্প পরিমাণে জামানত দিয়ে নুন্যতম ১০০ টাকা দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা যায় এবং লেনদেন এর কোন চার্জ প্রযোজ্য নয়।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলে আপনি বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে ২৪ ঘন্টা এটিএম কার্ড এর মাধ্যমে টাকা তুলতে পারেন। এখানে মজার বিষয় হলো স্টুডেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর ক্ষেত্রে এটিএম কার্ডের কোন চার্জ লাগেনা অর্থাৎ সম্পূর্ণ ফ্রিতে এটিএম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। স্টুডেন্ট একাউন্টে সরাসরি আপনি ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা নিতে পারেন একই সঙ্গে চেক বইয়ের মাধ্যমেও লেনদেন করার সুবিধা রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকিং শাখায় টাকা ট্রান্সফার করা যায়।
যেকোনো ব্যাংকের সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব খোলার ফলে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে সঞ্চয়ী হতে সাহায্য করে। এখানে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফলে একজন শিক্ষার্থী খুব অল্প বয়সে অল্প অল্প অর্থ জমিয়ে সঞ্চয় করতে পারে ভবিষ্যতের জন্য। এখানে আরও যে সুবিধা পাওয়া যায় তা হল একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা বীমা পেতে পারে যদি তার পরিবার তার পড়াশোনার খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। এজন্য প্রতিটা শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা উচিত যাতে করে এই সমস্ত সুবিধা সহ ভবিষ্যতের একটি স্তম্ভ তৈরি করা যায়।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট লিমিট - বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট কি?
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। ইসলাম ধর্মের শরীয় মোতাবেক পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং প্রধান ইসলামি ব্যাংক। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৬২৩টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং সেবার বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। অনেকেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায় এমন অনুসন্ধানের তথ্য জানার আগ্রহ করেন। খুব সহজেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়।
তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধনটি ডিজিটাল ১৭ ডিজিটের হতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া ১৮ বছরের উর্ধ্বে যেকোনো ব্যক্তি ডিজিটাল জন্ম সনদ এর সাহায্যে ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে। এছাড়াও আপনি স্টুডেন্ট হলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ইসলামী ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট তৈরি করে বুঝে নিতে পারেন নানান সুবিধা। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একত্রিত করে আপনার নিকটস্থ শাখায় গিয়ে অভিভাবক বা নমিনিকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন খুব সহজে।
ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে কি কি লাগে
আজকের এই ব্লগটিতে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম সহ ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগের এই পর্বে জেনে নিন ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে কি কি লাগে। অর্থাৎ আপনি যদি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে থাকেন এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র থাকে তাহলে আপনার ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন হতে পারে। আসলে ব্যাংক একাউন্টের কয়েকটি ধরন রয়েছে। ব্যবসায়ী ব্যাংক একাউন্ট হলে বেশ কয়েকটি বাড়তি কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়ে।
তবে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের কাগজপত্র লাগে। এগুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি ব্যাংক এর অ্যাকাউন্ট হোল্ডার হবে তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, কয় কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার জন্য একজন নমিনের প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে নিজের রক্তের সম্পর্কের কাউকে নমিনি রাখাটা উপযুক্ত। নমিনির যে তথ্য দিতে হবে এগুলোর মধ্যে তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সহ পাসপোর্ট সাইজের কয় কপি ছবি।
ব্যাংকে আপনি যে টাকা লেনদেন করবেন আপনার আয়ের উৎস কি এমন প্রমাণপত্র প্রয়োজন। কেননা আপনার টাকা বৈধ কিনা এ ব্যাপারে প্রতিটা ব্যাংকই যাচাই বাছাই করে নেয়। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার চাকরি করলে জব আইডি প্রযোজ্য হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে ইটিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হতে পারে যদি আপনার থেকে থাকে। আপনি যেখানে থাকেন সেখানকার ইউটিলিটি বিল যেমন বিদ্যুৎ পানি এবং গ্যাস বিলের প্রমাণপত্র। এ সকল কাগজপত্র একত্রিত করে নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আবেদন ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর করে ন্যূনতম ডিপোজিট করে একাউন্ট সক্রিয় করা যায়।
ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার ও কি কি
যেকোনো পরিবারের একটি সঞ্চয়ী ব্যাংক একাউন্ট নিশ্চিত করতে পারে তার ভবিষ্যৎ সুন্দর জীবন যাপন। যেকোনো দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এবং অর্থ সম্পদের নিরাপত্তায় অত্যন্ত ভূমিকা রাখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক। সমাজের সর্বোচ্চ শ্রেণীর মানুষ থেকে নিম্ন শ্রেণীর মানুষ পর্যন্ত কোন না কোন ব্যাংকের সাথে কমবেশি জড়িত। ব্যাংকের এ সকল গ্রাহকেরা ব্যাংকে কয়েক প্রকার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে।
সাধারণত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ প্রচলিত ব্যাংক একাউন্ট মূলত চার ধরনের হয়। এগুলোর মধ্যে সঞ্চয়ী ব্যাংক একাউন্ট, স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক একাউন্ট, চলতি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সর্বশেষ ডিপোজিট ব্যাংক একাউন্ট। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ব্যাংক একাউন্টের রাউটিং নাম্বার কি
ব্যাংক একাউন্টের রাউটিং নাম্বার কি জানুন ব্লগের এই পর্বে। ব্যাংক একাউন্টের রাউটিং নাম্বার হল ৯ ডিজিট এর একটি নম্বর যার ধারা কোন ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখার ব্রাঞ্চ যাচাই করা যায়। ধরুন আপনি কোন ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুললেন সেই ব্যাংকের শাখার নির্দেশনা রাউটিং নাম্বার ধারা বোঝা যায়। সাধারণত রাউটিং নাম্বার ব্যাংক চেক এর বাম পাশে থাকে। রাউটিং নাম্বার ধারা একাউন্টে টাকা অন্য ব্যাংকে ট্রান্সফার, রেমিটেন্স গ্রহণ, ডিরেক্ট ডিপোজিট সহ শেয়ারবাজার বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি-বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সম্পর্কে জানুন।
ব্যাংক একাউন্টের সুইফট কোড কি
ব্যাংক একাউন্টের সুইফট কোড কি এমন তথ্য নিয়ে ব্লগের এই পর্বে আলোচনা করা হবে। আসলে সুইফট কোড কি সুইফট কোড হল ৮ থেকে ১১ সংখ্যার এমন একটি কোড যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে নিরাপদে এবং খুব সহজেই ব্যাংকে অর্থ আদান-প্রদান করা যায়। সুইফট কোড মূলত ব্যবহার করা হয় বিদেশি কোন ব্যাংকে টাকা আদান প্রদান করার জন্য। সুইফ কোডকে BIC কোড বলেও বিবেচনা করা হয়।
সুইফ কোড এর মাধ্যমে উক্ত ব্যাংক কোন দেশে অবস্থিত এবং ব্যাংকের নাম সহ শাখার অবস্থান নির্দিষ্ট করে সনাক্ত করা যায়। পৃথিবীর সকল ব্যাংকেই সুইফট কোড থাকে। নির্দিষ্ট ব্যাংকের প্রতিটি শাখা অনুযায়ী সুইফ কোড আলাদা হয়। এক কথায় সুইফ কোড এমন একটি কোড যা বিদেশ থেকে টাকা লেনদেন করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ। সুইফ কোড সাধারণত চেক বইয়ের মধ্যে লেখা থাকে। এছাড়াও আপনার ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে সুইফট কোড দেখে নিতে পারেন।
উপসংহার। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আজকের এই ব্লগটিতে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম, জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে, জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি কাগজপত্র লাগে, জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা, জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায় এমন সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে কি কি লাগে, ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার ও কি কি, ব্যাংক একাউন্টের রাউটিং নাম্বার কি এবং ব্যাংক একাউন্টের সুইফট কোড কি ইত্যাদি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
আপনার কাছে যদি জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে পারবেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা নিতে দ্রুত নির্দিষ্ট কোন ব্যাংকে একাউন্ট তৈরি করুন। সর্বনিম্ন ৬ বছরের বাচ্চা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের বয়সের শিক্ষার্থীরা চাইলেই খুব সহজেই স্টুডেন্ট একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারে। আপনি একজন স্টুডেন্ট হলে অবশ্যই ব্যাংকে এই স্টুডেন্ট একাউন্ট তৈরি করে সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারেন।



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url