বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি - বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
আজকের এই ব্লকটিতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি সংক্রান্ত তথ্য জানুন। পৃথিবীতে প্রায় সকল দেশেই শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশেও শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজার রয়েছে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়মিত শেয়ার কেনা বেচা করে। চলুন আজকের ব্লগটিতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি সহ বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সংক্রান্ত নানান তথ্য জেনে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি - বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার নিয়ম
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার উপায়
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ঝুকি কেমন
- সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার এর মধ্যে পার্থক্য
- বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুবিধা
- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা কি হালাল
- উপসংহার। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি - বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সংক্রান্ত তথ্য জানার আগ্রহ থাকে অনেক ব্যক্তিদের মধ্যে। শেয়ার বাজার যেটিকে পুঁজিবাজার বলেও আখ্যায়িত করা হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজার রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট মালিক না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনে আংশিক মালিকানা পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনাবেচার প্রচলন বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। বাংলাদেশে মোট দুইটি শেয়ার বাজার রয়েছে এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অন্যটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মূলত বাংলাদেশের প্রথম শেয়ার বাজার যেটা পাকিস্তান সরকারের সময় ১৯৫২ সালে প্রথম গঠিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালের দিকে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারবাজারটি সেই সময়ের দেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশের অসংখ্য কোম্পানি এই দুইটির শেয়ার বাজারের মাধ্যমে তাদের শেয়ার বিক্রি করে থাকে।
পূর্বে শেয়ার বিক্রি হত ঠিক যেমনটা নিলামে কোন দ্রব্য বেচাকেনার মত। তবে বর্তমান সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে বসে শেয়ার মার্কেটের সকল তথ্য যাচাই করা সহ শেয়ার কেনা ও বেচা অনেক সহজ হয়েছে। আপনি নতুন অবস্থায় শেয়ার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই সহ শেয়ার কেনা বা বেচার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঝামেলা ছাড়া খুব সহজেই করে কিনে নিতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সকাল ১০ঃ৩০ মিনিট থেকে ২:৩০ মিনিট পর্যন্ত সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি ব্লগটিতে ইতিপূর্বে এমন তথ্যের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি নতুন অবস্থায় বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি এমন ধারণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার বলতে স্বাভাবিকভাবে একটি বাজার কে বোঝায় যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির তাদের আংশিক অংশীদারিত্ব বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে থাকে। বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বর্তমানে অনলাইনে শেয়ার কেনাবেচা হয়।
এক কথায় শেয়ার বাজারের বা পুঁজিবাজার বলতে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের মূলধন বৃদ্ধি করে আয় বাড়ানোর জন্য শেয়ার বিক্রি করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি শেয়ার বিক্রি কারী কোম্পানির শেয়ার কিনে এই কোম্পানির নির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব পায়। শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজার থেকে অনেক ব্যক্তি শেয়ার কিনে শেয়ার এর দাম বৃদ্ধি পেলে আবার বিক্রি করে দেয় তৃতীয় ব্যাক্তির কাছে। সর্বোপরি বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এর মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় করে আপনি হয়ে যেতে পারেন নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির অংশীদার যেখান থেকে মুনাফা অর্জনের সুযোগ রয়েছে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম
মূলধন থাকলে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করে মুনাফা অর্জনের সুযোগ রয়েছে সকলেরই। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীরা। আপনি যদি একজন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বিনিয়োগ করা অর্থ আসলে যে নিরাপদ এমনটা যাচাই-বাছাই করাও খুবই কার্যকর। যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির অংশীদারিত্ব পেতে চায় তাহলে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারে।
কেননা বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বাংলাদেশের দুইটি শেয়ার বাজার এর সকল বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(BSEC) সর্বক্ষণিক শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মূলত বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন। যেকোনো দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ভূমিকা রাখে শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজার। বাংলাদেশ শেয়ার বাজারের এই নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজার বা শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার নিয়ম
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি এমন তথ্য সহ বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি এবং বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বেশ ধারনাই তুলে ধরা হয়েছে। শুধুমাত্র অর্থ বিনিয়োগ করে অনেকেই শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজার থেকে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম নীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে মোট দুই ভাবে বিনিয়োগের নিয়ম রয়েছে। নিচে চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার নিয়ম সম্পর্কে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য প্রথমত আপনাকে একটি বিও(BO) অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে। বিও(BO) অ্যাকাউন্ট বলতে বোঝায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে Beneficiary Owner's Account। বিও(BO) একাউন্ট মূলত ব্যাংক একাউন্ট এর মতই তবে এখানে শুধুমাত্র ক্রয় কৃত শেয়ারের মূল্য আদান প্রদান করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ করার জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলার কারণ শেয়ার বাজার বা পুঁজিবাজারের শেয়ারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা রাখার ইন্টারনেট ভিত্তিক ডিজিটাল একাউন্ট।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য শুরুতে প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য অবশ্যই যেকোনো একটা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে একই সঙ্গে চেক বইয়ের ছবি বা স্ক্যান কপি। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের জন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। আবেদন ফরম পূরণ করার জন্য আবেদনকারীর কয়েক কপি ছবি একই সঙ্গে নমিনি যে থাকবে তারও কয়েক কপি ছবি। আবেদনকারী এবং নমিনির ভোটার আইডি বা পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
বিও(BO) অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন পত্র ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা যায়। এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড ওয়েবসাইট থেকেও সংগ্রহ করা যায়। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য বিও(BO) একাউন্ট অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই খোলা সম্ভব। এখানে আপনার পছন্দমত ব্রেকারেজ হাউজে গিয়ে মাত্র ৪৫০ টাকা ফি দিয়ে বিও(BO) একাউন্ট খোলা যায় তাও আবার ঘরে বসে। এজন্য শুধুমাত্র আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করে দিতে হয়।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট লিমিট-বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট সম্পর্কে জানুন।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার উপায়
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার নিয়ম সম্পর্কে ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে। অনেকে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার উপায় সম্পর্কেও জানার অনুসন্ধান করে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করা যায়। পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগের প্রথম উপায় প্রাইমারি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এবং দ্বিতীয় অপশনটি সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ।
এখানে প্রাইমারি শেয়ার বাজার বা মার্কেট বলতে বোঝায় যে সকল কোম্পানি ব্যবসার প্রসার বাড়াতে মূলধন বৃদ্ধি করার জন্য শেয়ার বিক্রি করে সরাসরি সেই কোম্পানি থেকে শেয়ার কেনার মার্কেট বা বাজার। প্রাইমারি শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এখানে প্রাইমারি মার্কেট বা বাজার থেকে আপনি সরাসরি কোন কোম্পানির কাছ থেকে তাদের কোম্পানির আংশিক অংশীদারিত্ব বা শেয়ার নিতে পারেন।
এবারে আসা যাক সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেট বা বাজারে বিনিয়োগ। সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারে কোন ব্যক্তি সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে শেয়ার কিনে তৃতীয় ব্যক্তি বা থার্ড পার্টির কাছে কিছুটা বাড়তি দামে উক্ত শেয়ার বিক্রি করতে পারবে। এক কথায় ধরুন আপনি কোন কোম্পানির কাছ থেকে কিছু শেয়ার কিনলেন ৫০০০ টাকায় সেটি আবার অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলেন ৬০০০ টাকায়। এখানে তৃতীয় ব্যাক্তি শেয়ার কিনলো তবে উক্ত কোম্পানির কাছ থেকে নয় আপনার কাছ থেকে এটাই সেকেন্ডারি শেয়ার বাজার বা মার্কেট।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ঝুকি কেমন
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের অর্থ বিনিয়োগ করে মূলধন হারিয়েছে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার ঝুঁকি বেশ বড়সড়ো হতে পারে যদি আপনার পুঁজিবাজার বা শেয়ার বাজার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা না থাকে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বছরের বেশ কিছু সময় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এ সময় শেয়ার বাজারে ধ্বস, বাজারের অস্থিরতা, রাজনৈতিক সমস্যা এবং বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন সমস্যায় শেয়ার মূল্যের বড় ধ্বস নামে। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য অবশ্যই শেয়ার বাজারের চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগ করতে হয়।
সর্বোপরি আপনি শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কিনে যেমন লভ্যাংশ পেতে পারেন ঠিক তেমনি এখানে মূলধন হারানোর ঝুকি রয়েছে। শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কেনার জন্য উক্ত কোম্পানির পারফরম্যান্স কেমন, শেয়ার বাজারে তাদের যাত্রা কত বছরের ইত্যাদী যাবতীয় ভিবিন্ন কিছু পর্যালোচনা করে এরপরে বিনিয়োগ করা কিছুটা নিরাপদ। অনেকে আবার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ না করে খুব অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করার জন্য তাদের মূলধন ঝুঁকিতে ফেলে। শেয়ার মার্কেটে ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বাসযোগ্য কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদী শেয়ার ক্রয় করা সবচেয়ে উপযুক্ত।
সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার এর মধ্যে পার্থক্য
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। শেয়ার বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি সাধারণ শেয়ার এবং অগ্রাধিকার শেয়ার এর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে। আপনি যদি একজন শেয়ার ক্রেতা হন তাহলে আপনি হয়তো জানেন সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার হোল্ডার উভয় কোম্পানি থেকে মুনাফা পায়। তবে সাধারণ শেয়ার এবং অগ্রাধিকার শেয়ার এর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যেমন ধরুন সাধারণ শেয়ার ক্রেতাদের লভ্যাংশ পাওয়ার অগ্রাধিকার থাকে না অর্থাৎ এখানে আপনি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পাবেন না। তবে সাধারণ শেয়ার ক্রেতাদের উক্ত কোম্পানির ভোটাধিকার ভোগ করতে পারেন। সাধারণ শেয়ার রূপান্তর যোগ্য নয় এটি শুধুমাত্র একজনই মালিকানা পেতে পারে। নির্দিষ্ট হারে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ পায় না। তবে ভয়ের বিষয় বিক্রয়কৃত শেয়ার কোম্পানিটি বন্ধ হলে বা দেউলিয়া হলে মূলধন হারানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ার হোল্ডাররা নির্দিষ্ট লভ্যাংশ পেয়ে থাকে তাতে কোম্পানির লস হলেও। অগ্রাধিকার শেয়ার হোল্ডাররা খুব সহজেই লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার প্রকৃত কোম্পানির কোন প্রকার ভোটাধিকার থাকেনা। অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম এখানে মূলধন ফেরত এর সম্পূর্ণ অগ্রাধিকার রয়েছে। অগ্রাধিকার শেয়ার অনেক সময় রূপান্তর যোগ্য এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুবিধা
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুবিধার সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে অনেকের। অর্থের বিনিময়ে লভ্যাংশ পাওয়া এটা মূলত শেয়ার বাজার এর প্রধান সুবিধা। যে কারণে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে। শেয়ার বাজারে বুঝেশুনে সঠিক সময় বিনিয়োগ করা গেলে বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করা যায়। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার থেকে আয় করা সকল অর্থের কোন প্রকার সরকারি ট্যাক্স দিতে হয় না। নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির মালিক না হয়েও শেয়ার ক্রয় করে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানার সুযোগ রয়েছে এখানে।
অনেকে মনে করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মানেই লসের জায়গা। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই শেয়ার মার্কেট বা পুঁজিবাজার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। সঠিক সময় বুঝে শুনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা গেলে শেয়ারবাজার আয়ের সবচেয়ে অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। এছাড়াও এখানে আপনি শেয়ার ক্রয় করে সেই শেয়ারের দাম বাড়লে বিক্রি করেও মুনাফা অর্জনের সুবিধা নিতে পারেন। যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করতে। শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ঝুকি কম এবং ভালো সুবিধা রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ ফেসবুক পেজ থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় জানুন এখানে।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা কি হালাল
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা কি হালাল এমন তথ্যের উত্তর অনুসন্ধান করেন অনেকে। ইসলামিক জীবন যাপনের ক্ষেত্রে শরিয়া মোতাবেক হালাল রুজি খাওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পূর্বে নতুন অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হালাল কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাই। আসলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হালাল হবে তবে ভালো কাজের জন্য হতে হবে। ধরুন আপনি কোন কোম্পানির শেয়ার কিনবেন সেই কোম্পানির পন্য বা সার্ভিস অবশ্যই দেশ, সমাজ ও জাতির জন্য উপকারী হতে হবে।
আরো যেটা খেয়াল রাখতে হবে ক্রয়-কৃত শেয়ার কোম্পানি কোন প্রকার সুদের সাথে জড়িত কিনা। সুদের সঙ্গে জড়িত এমন কোম্পানির শেয়ার কিনলে তা আসলে হারাম হবে। এখানে আপনি শুধুমাত্র দেখে বুঝে শুনে এরপরে এমন কোম্পানির শেয়ার কিনবেন যারা ইসলামী শরীয়া মোতাবেক ব্যবসা পরিচালনা করে। সুদ মুক্ত শরিয়া মোতাবেক অনেকজন মিলে ব্যবসার সম্প্রসারণ বাড়িয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্পূর্ণ হালাল। শেয়ার কেনার সময় দেখে নিবেন যে সকল কোম্পানি ভালো কাজের জন্য শেয়ার বিক্রি করে তাদের থেকে নিশ্চিন্তে শেয়ার কিনতে পারেন।
উপসংহার। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি - বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি
ব্লগটিতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি, বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কি, বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এর নাম, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার নিয়ম, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার উপায় সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের ঝুকি কেমন, সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার এর মধ্যে পার্থক্য, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুবিধা এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা কি হালাল এমন সব তথ্যের উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে লাখ লাখ শেয়ার হোল্ডার শেয়ার কিনে যেমন মুনাফা অর্জন করছে তেমন অনেকে হারাচ্ছে মূলধন। তবে আপনি যদি শেয়ার বাজারে শেয়ের ক্রয় করতে চান তাহলে অবশ্যই শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজার সম্পর্কে প্রথমত ধারণা নিয়ে নিবেন। মাথায় রাখবেন পুঁজিবাজারে বুঝেশুনে বিশ্বস্থ কোম্পানিতে সময় মতো বিনিয়োগে মুনাফা অর্জনের বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে।



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url