টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, করণীয় কি

টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ, এটি বিশেষ করে সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে দেখা দিয়ে থাকে। টাইফয়েড জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে, ১০৩°F থেকে ১০৪°F  অর্থাৎ ৩৯°C থেকে ৪০°C পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রশ্ন হল টাইফয়েড জ্বর, হলে কি গোসল করা যাবে? এ সময় করণীয় কি। হ্যাঁ টাইফয়েড জ্বর হলে অবশ্যই গোসল করা যাবে, তবে উষ্ণ গরম পানি সবচেয়ে উত্তম। অতিরিক্ত গরম এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

টাইফয়েড

আপনার জ্বর বা টাইফয়েড জ্বর হোক না কেন, দ্রুত আরোগ্য পাওয়ার জন্য শরীরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী। চলুন তাহলে আজকের এই ব্লগটিতে, জানার চেষ্টা করি টাইফয়েড জ্বর হলে গোসল করা যায়, এ সময় করণীয় কি সে ব্যাপারে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, করণীয় কি

টাইফয়েড জ্বর হওয়ার কারণ গুলি 

টাইফয়েড জ্বর মূলত সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এমন ব্যাকটেরিয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, তবুও এটা সংক্রমণ রোগ। এটি বরং দূষিত খাবার, পানি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বর হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। চলুন তাহলে টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, করনীয় কি। এই ব্লগটির শুরুতেই টাইফয়েড জ্বর হওয়ার কারণ গুলি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

  • শারীরিক সুস্থতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায়, রাখা খাবারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। আমরা অনেক সময় ক্ষুধা মেটাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। রাস্তার এই ধরনের খাবার, ঠিকমতো রান্না না করা খাবার সহ, বাসি ও দূষিত খাবারের মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বরের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়ানো, সবথেকে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। কেননা খোলা ও অপরিষ্কার পরিবেশের খাবারে, বিভিন্ন ধরনের মাছি ও পোকামাকড় এমন ব্যাকটেরিয়া বয়ে আনতে পারে। 
  • দৈনন্দিনের জীবনযাত্রার সকল কাজকর্ম আমাদের হাত দিয়ে করতে হয়। এজন্য সব সময় হাত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার না করলে এমন সংক্রামন ছড়াতে পারে। পানি খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পানি পান করুন। অপরিষ্কার এবং দূষিত পানি থেকে টাইফয়েড জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সাধারণ। 
  • নোংরা ও অপরিষ্কার স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা ফলে, সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে খুবই দ্রুত। কেননা সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত ব্যক্তির মল বা মূত্রে থাকে। যা খুব দ্রুত সংক্রামিত হয়ে মানুষের রক্তে মিশে শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়ে। 
  • একজন টাইফয়েড জ্বরের সংক্রামিত ব্যক্তির, নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আরোগ্য পেতে সবচেয়ে উপযুক্ত। আপনি কিংবা আপনার পরিবারে কেউ আক্রান্ত হলে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় জিনিসপত্র, অন্য কেউ কিছুদিনের জন্য ব্যবহার থেকে দূরে থাকা উপযুক্ত। কেননা আক্রান্ত ব্যক্তির কোন জিনিসপত্র সহ তার সংস্পর্শে এলে, সংক্রমণ আপনার শরীরের ছড়ানো অসম্ভব কিছু না। 
  • অন্যদিকে আপনি যদি টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পরে সুস্থ হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা  মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। কেননা টাইফয়েড জ্বর থেকে আরোগ্য পাওয়ার পর, কিছুদিন আক্রান্ত ব্যক্তির মল, মূত্রে ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। এজন্য সতর্কতা মেনে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। না হলে টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আপনার পরিবার বা অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। 

শরীরে টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ সমূহ 

আজকের আর্টিকেলটি, টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায় এ ব্যাপারে। টাইফয়েড জ্বরে গোসল করা যাবে কিনা এটা সম্পূর্ণ আপনার শারীরিক অবস্থার লক্ষণের উপরে নির্ভর করতে পারে। ইতিমধ্যে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ ছড়ানোর বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন তাহলে টাইফয়েড জ্বরে শারীরিক ভাবে যে সকল উপসর্গ দেখা দিতে পারে, সেগুলো জেনে নিই চলুন।

  • টাইফয়েড সংক্রমনের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম হলো, শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে জ্বর ১০৪°F অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪০°C পর্যন্ত উঠতে পারে। এমন জ্বর সাধারণত কয়েকদিন শরীরে স্থায়ী হতে পারে এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং রাতে অনেক বেশি অনুভব করতে পারেন। 
  • পেটে ব্যথা টাইফয়েড জ্বরের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে একই সঙ্গে শারীরিক অস্বস্তি মিলতে পারে। টাইফয়েড জ্বরের কারণে শরীরকে শারীরিকভাবে দুর্বল ও ক্লান্তি অনুভব করায়। বিশেষ করে এমন ক্লান্তি ও দুর্বলতা প্রতিটা মুহূর্তেই উপলব্ধি হয়। এমন সংক্রমণের ফলে মাথা ব্যথাও আপনার সঙ্গী হয়ে যেতে পারে। 
  • টাইফয়েড জ্বরের তীব্রতা কিছুটা বাড়লে কোষ্ঠকাঠিন্য সহ ডায়রিয়া হওয়ার মত সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বেশি দেখা দেয়। এমন সংক্রমনের ফলে আপনার খাবার খাওয়ার প্রতি রুচি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব হওয়ার মতো সম্ভাবনার মোকাবেলা করতে হতে পারে।
  • গলা ব্যথা সহ শুকনো কাশি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হৃদপিণ্ড অর্থাৎ হার্টবিট তুলনামূলক কম হয়ে যেতে পারে। শরীরের পেশী গুলি ব্যথা অনুভব হতে পারে একই সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা উপলব্ধি হতে পারে। অনেক সময় পেটের উপরের অংশে হালকা গোলাপি রঙের ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। 
  • এছাড়াও টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ গুরুতর হলে আপনার তীব্র পেটে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। খুব বেশি দুর্বলতার কারণে, নিজের শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি আসতে পারে। তাছাড়া কিছু বিরল ক্ষেত্রে অন্ত্র থেকে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা খুবই বিপদজনক। এমন গুরুতর লক্ষণগুলি অনুভব করলে, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 

টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে 

এই ব্লগটির মূল বিষয়, টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যাবে, এ সময় করণীয় কি। টাইফয়েড জ্বর হলে বেশ কিছু শারীরিক লক্ষণ ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে টাইফয়েড জ্বর হলে গোসল করা যাবে, তবে এর কিছু সতর্কতা রয়েছে। চলুন নিচে ক্রমান্বয়ে, টাইফয়েড জ্বরে গোসল করার সঠিক নিয়ম গুলি জানার চেস্টা করি। 

টাইফয়েড
  • টাইফয়েড জ্বর হোক কিংবা জ্বর, শরীরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য গোসল করা ভাল। তবে আপনি এ সময় গোসল করার জন্য হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করবেন। বেশি সময় নিয়ে, অনেকক্ষণ ধরে গোসল করা এড়িয়ে চলুন। কোন মতেই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা চলবে না। 
  • টাইফয়েড জ্বরে এমনিতেই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে, শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি আসে। এজন্য গোসলের সঙ্গে সঙ্গেই ভালোভাবে সম্পূর্ণ শরীর, শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়া মুছে ফেলুন। এমন সংক্রমনে কোনো ভাবেই শরীরে ঠান্ডা লাগানো যাবে না।
  • টাইফয়েড জ্বরের ফলে আপনার শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত ও দুর্বল সহ জ্বরের তীব্রতা বেশি থাকলে। গোসল না করে, শরীরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য উষ্ণ গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে সম্পূর্ণ শরীর মুছে ফেলতে পারেন।
  • তাছাড়া কোন অবস্থাতেই রাতে গোসল করবেন না। কেননা শরীরে ঠান্ডা লেগে গেলে, জ্বরের তীব্রতা বেড়ে অবস্থা আরো খারাপ করে দিতে পারে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, টাইফয়েড জ্বর হলে গোসল করা যাবে, তবে এর নিয়ম মানা আরোগ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরী। 

টাইফয়েড জ্বর হলে করণীয় কি 

টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায় এবং করনীয় কি? আর্টিকেলটিতে টাইফয়েড জ্বর হলে গোসল করা যাবে কি না, তা আলোচনা করা হয়েছে। টাইফয়েডের সমস্যা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরী। কেননা এটি অন্ত্রে ছিদ্র, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, পিত্তথলির সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কের সমস্যার মত মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। এজন্য টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা জরুরী। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। চলুন এমন সমস্যা প্রতিরোধে করণীয় কি? তা জানার চেষ্টা করি। 

প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা সবচেয়ে উপযুক্তঃ 

আপনি আপনার শরীরে টাইফয়েডের লক্ষণ গুলি উপলব্ধি করলে, প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, সবচেয়ে উপযুক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এমন অবস্থায় রক্ত টেস্ট করিয়ে, নিশ্চিত হওয়া জরুরী। আপনার টাইফয়েড হলে চিকিৎসক আপনাকে নিরাময়ের জন্য এন্টিবায়োটিক কোর্স প্রদান করতে পারে। চিকিৎসক আপনাকে যে কোর্সটি প্রদান করবে, তা সম্পূর্ণ শেষ করার চেষ্টা করবেন। 

টাইফয়েডের এন্টিবায়োটিক কোর্সের ওষুধ নিজের ইচ্ছায় খাওয়া বন্ধ করবেন না। কেননা পুরোপুরি আরোগ্য পেতে সম্পন্ন কোর্স শেষ করা জরুরি, না হলে এমন সংক্রমণ আবারো ফিরে আসতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য আপনি চাইলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন, তাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। মাথায় রাখবেন টাইফয়েড জ্বরের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আগেই, সমস্যার সমাধান করা জরুরী। না হলে খুবই জটিলতা তৈরি করে, অনেক সময় জীবন ঝুঁকির  মোকাবেলায় ফেলতে পারে।  

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুনঃ 

আপনি যদি টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণের আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরী। এজন্য টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে, দুই হাত সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করুন। নিজের ব্যবহারিক আসবাব পত্র সহ যেকোনো জিনিস এ সময় কাউকে ব্যবহার করতে দিবেন না। কেননা এটি শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে না ছড়ালেও ছোঁয়াচে রোগ, কথাটা মাথায় রাখবেন। 

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য, টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণে নিজেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। এজন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করে থাকলে এরিয়া চলুন, সবচেয়ে উপযুক্ত হয়, আরোগ্য পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে বিশ্রামে রাখা। আপনার ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার রাখতেও ভুলবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করে, শরীরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। 

প্রচুর তরল পান করা এ সময় উপকারীঃ 

টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ রোধে, পর্যাপ্ত তরল পান করা খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা টাইফয়েডের ফলে, শরীরের ইলেকট্রোলাইট শোষণ করে নেয়। এমন সময় শরীরে পানশূন্যতা পূরণ সহ নিজেকে হাইড্রেট রাখার জন্য পর্যাপ্ত তরল পান জরুরী। তাছাড়া শরীরের বিষাক্ত পদার্থ টক্সিন দূর করতে খুবই উপযুক্ত। এজন্য আপনি চাইলে বিভিন্ন ফলের জুস, বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি এবং স্যুপ ও লেবুর শরবত খেতে পারেন। 

আরো পড়ুনঃ পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়,জানুন এখানে।


কেননা ফলের রসের জুস এবং যে কোন স্যুপ শরীরের, প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে বেশ সাহায্য করে। একই সঙ্গে আমরা হয়তো সকলেই জানি, পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করলে আমাদের হজম শক্তি উন্নত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ সাহায্য করতে পারে। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্বীর জন্য এ সময় ভালো। 

হালকা ও সহজপচ্য খাবার খাওয়া উপযুক্তঃ

টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমনে হালকা ও সহজপচ্য, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। এজন্য আপনি চাইলে, ভাতের মার, নরম ভাত, সেদ্ধ সবজি, কলা, পেঁপে, চিকেন অথবা সবজির স্যুপ ইত্যাদি খেতে পারেন। এই সকল খাবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, অন্ত্রে জমে থাকা মল নরম করে, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে আরোগ্য পেতে সাহায্য করতে পারে। 

টাইফয়েড

তাছাড়া অন্যদিকে আপনি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ ভূমিকা পালন করতে পারে।

টাইফয়েড জ্বরে যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উত্তমঃ 

টাইফয়েড জ্বরে, যে কোন খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। কেননা এটি খাবারের মাধ্যমেই আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য আপনি অবশ্যই অপরিষ্কার, খোলা কোন খাবার সহ অতিরিক্ত ঝাল, তেল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কোন প্রকার অপরিষ্কার পানি পান করা কোন মতে উচিত না। 

কাঁচা অবস্থায় কোন খাবার খাবেন না, অবশ্যই যেকোনো সবজি ভালোভাবে রান্না করে তারপরে খাওয়া উচিত। উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। লাল মাংস, চিংড়ি ইত্যাদি খাওয়া সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি যুক্ত খাবার খেলেও সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

উপসংহার। টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, করণীয় কি 

টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, করনীয় কি?  এ ব্যাপারে বেশ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বর হওয়ার কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। টাইফয়েড জ্বর যেকোনো বয়সে ব্যক্তিদের হতে পারে, তবে শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। কেননা শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, যার ফলে খুব সহজে সংক্রমণের কবলে পড়তে পারে। এমন সমস্যায় আপনি বা আপনার পরিবারের জন্য, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। 

সমস্যা প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। আপনার বাড়ির স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা খারাপ থাকলে, তার দিকে সঠিক নজর দিন। সর্বোপরি সবথেকে নিজেকে, সুস্থ রাখার জন্য সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। আজকের, টাইফয়েড জ্বর হলে কি গোসল করা যায়, এবং করণীয় কি? আর্টিকেলটি এতক্ষণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                           (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url