পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়

পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বয়স বাড়লে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে পিত্তথলিতে পাথর যে কোন বয়সের মানুষের হতে পারে। পুরুষদের তুলনায় এই সমস্যায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, পিত্তরসের উপাদান গুলির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে। যখন পিত্তথলির মধ্যে থাকা পিত্তরস, বিশেষ করে কোলেস্টেরল এবং বিলিরুবিনের পরিমাণ অতিরিক্ত হয় তখন রস জমাট বেধে পিত্তথলিতে ছোট ছোট পাথরের তৈরি করে। 

পিত্তথলিতে

অনেকের পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যায়, তেমন কোন উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে অনেকে আবার বেশ কিছু উপসর্গ, দেখা দিতে পারে। পিতথলিতে পাথরের সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসা সেবা নেওয়া জরুরী। চলুন আজকের ব্লগটিতে আপনাদের সাথে, পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় সে ব্যাপারে আলোচনা করার চেষ্টা করি।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় 

পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণ 

পিত্ত আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংগ। কেননা পিত্তের প্রধান কাজ হল, তেল চর্বি জাতীয় খাবার হজমে সাহায্য করা এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।  পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় এই ব্লগটিতে আমরা প্রথমেই, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। আপনার শরীরে যদি, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে এই সমস্যা হওয়ার সঠিক কারণ নির্ধারণ করা উচিত, চলুন যানা জাক। 

  • পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, পিত্তরসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হওয়া। কেননা পিত্তরসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হলে এগুলো পিত্তে জমে শক্ত হয়ে পাথর তৈরি করে। 
  • পিত্তথলিত জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ পিত্ত থেকে সম্পূর্ণরূপে খালি হওয়াও খুবই জরুরী। পিত্ত যদি ঠিকমতো খালি না হয়, তাহলেও পিত্ত জমে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। 
  • পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার মধ্যে খাদ্যাভাস ও অত প্রতভাবে জড়িত। কেননা অতিরিক্ত তেল , ফ্যাট যুক্ত, কম ফাইবার যুক্ত খাবার সহ ভেজাল খাবারের ফলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। 
  • যখন কারো বয়স ৪০ এর ওপরে চলে যায় তখন পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাধারণত পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের পিত্তথলিতে পাথর হট ঝুঁকি বেশি থাকে। 
  • শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলেও, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। কেননা অতিরিক্ত ওজনের ফলে মানুষের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি জমে থাকে যার কারণে পৃথিবীতে পাথর হওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে হঠাৎ করে খুব দ্রুত ওজন কমালেও পিত্তথলিতে পাথরের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। 
  • শারীরিক কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া এবং নারীদের গর্ভাবস্থায় হরমোন জনিত কারণেও পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলেও, অনেকের পিত্তথলিতে পিত্ত জমে পাথর হতে পারে, কেননা এ সময় শরীরে ওজন বৃদ্ধির মাত্রা বেড়ে যায়। 

পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়, যে সকল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে 

আজকের ব্লগের মূল বিষয় পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় সে ব্যাপারে। পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই ব্লগটিতে বলা হয়েছে। পিতথলিতে পাথরের সমস্যায়, শরীরে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা অনুভব হতে পারে। চলুন তাহলে ব্লগটিতে এখন আমরা জানার চেষ্টা করি, পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়, সেগুল।

তীব্র পেটে ব্যাথা হতে পারেঃ 

আমাদের কারো যদি পিতলিতে পাথরের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে, পেটের উপরের ডান দিকে কোন ক্ষেত্রে পেটের মাঝখানেও তীব্র ব্যথা অনুভব হতে পারে। ক্রমান্বয়ে এই ব্যথা ডান কাঁধ বা পিঠের মাজ বরাবর ছড়িয়েও পড়তে পারে।

পিতথলিতে পাথরের সমস্যা হলে যে ব্যথার সৃষ্টি হয় সে ব্যথা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পেটের এই তীব্র ব্যাথা সাথে পেটে বদহজম, পেটের উপরের অংশ ফুলে যাওয়ার লক্ষণও দেখা দেওয়া সাধারণ ব্যাপার। 

আরো পড়ুনঃ হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা কি জানুন।

জন্ডিসের সমস্যা দেখা দেওয়াঃ 

সাধারণত যখন পিত্তথলিতে পাথর পিত্তনালকে আটকে দেয়, তখন পিত্ত রস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং লিভারে পিত্ত জমা হতে থাকে। লিভারে এই পিত্ত জমা হওয়ার ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে, জন্ডিসের দেখা মেলে।

পিত্তথলিতে

বিলিরুবিন হল হলুদ রঞ্জক পদার্থ, যা অতিমাত্রায় রক্তে মিশে গেলে জন্ডিসের সৃষ্টি করে। জন্ডিসের এই সমস্যার কারণে, ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। কেননা জন্ডিসের প্রধান লক্ষণ হলো ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া। 

বমি বমি ভাব অনুভূতি হওয়াঃ

আমাদের মধ্যে কারো যদি, পিত্তথলিতে পাথর জনিত সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ। পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় এর মধ্যে বমি বমি ভাব ও অন্যতম। কেননা পিত্তথলিতে পাথর হলে পেটে ব্যথা, এবং সেই ব্যথা পিঠ ওন কাধ পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়া সহ, বদ হজমের দেখা মেলে। পিত্তথলিতে  পাথরের সমস্যায় বমি বমি ভাব অনুভূতি হওয়ার সব থেকে অন্যতম কারণ হল, চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া। একই সঙ্গে আপনার বার বার ডেকুর, ওঠার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 

শরীরের জ্বরের দেখা দিতে পারেঃ 

পিত্তথলিতে পাথর হলে, জন্ডিস হয় এবং ত্বক, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার মত প্রবণতা দেখা দেয়, একই সঙ্গে তিব্র পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তবে এ সকল সমস্যার পাশাপাশি পিত্তথলিতে পাথর হলে শরীরে জ্বরের দেখাও মিলতে পারে।

পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা বদ হজমের কারণে পেটে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। জ্বরের সঙ্গে এ সমস্যা ফলে, শরীরে তীব্র কাঁপুনির দেখাও মিলতে পারে। এই ধরনের সমস্যায় পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 

প্রস্রাব এবং মলের পরিবর্তনঃ 

কারো যদি পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে, প্রসাবের এবং মালের রং পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। কেননা যখন পিত্তথলির পাথর পিত্তনালীতে বাধার সৃষ্টি করে, তখন রক্তে বিলুরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, এর ফলে প্রস্রাবের রং গারো বাদামি বা কালো রঙের হতে পারে। 

মলের স্বাভাবিক রং নষ্ট করার জন্য,পিত্তথলি  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে যদি পিত্তরস অন্ত্রে সঠিকভাবে না পৌঁছায় তাহলে মল স্বাভাবিক রং হারায়। এ সময় সাধারণত মলের রং ফ্যাকাসে ও সাদাটে রঙের হতে পারে। 

 শারীরিক অসস্তি দেখা দেওয়াঃ 

পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে পিত্তথলিতে পাথর হলে অনেক সময় অনেকের, উপরোক্ত কোন উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। এ সময় শারীরিক অন্য কোন বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণভাবে শরীরের অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো চর্বি জাতিয় খাবার খাওয়ার ফলে। আপনি যদি উপরোক্ত কোন লক্ষণ, অনুভব না করেন একই সঙ্গে শারীরিক অস্বস্তির দেখা মেলে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন  হবেন। কেননা  পিত্তথলিতে পাথর শারীরিক বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে,এতাও মাথায় রাকগা জরুরী।  

পিত্তথলিতে পাথর হলে করণীয় 

পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়, এই ব্লগটিতে পিত্তথলিতে পাথর হলে যে সকল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর হলে, শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়,এটা কারোই বুঝতে বাকি নাই। পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব, এজন্য প্রয়োজন হলে অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন হতে পারে। পিত্তথলিতে পাথর হলে করণীয় কি সেগুলো সম্পর্কে চলুন,এখন জানার চেষ্টা করি। 

  • আপনার যদি পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার মত, লক্ষণ অনুভব হয় তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে একজন গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা চিকিৎসক আপনার সমস্যার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে, সঠিক পরামর্শ দিবেন। 
  • আপনার পিত্তথলির পাথর যদি ছোট আকারের হয় তাহলে, প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধের মাধ্যমে তা গলানো সম্ভব হতে পারে। এজন্য একজন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক যদি আপনার অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে, সম্ভব মনে করে সেক্ষেত্রে, ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।  
  • চিকিৎসক যদি আপনার সমস্যার, জন্য অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন মনে করে, এজন্য ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রপাচারের মাধ্যমেও পিত্তথলির পাথর বের করা, বর্তমান সময়ে খুবই সহজ পদ্ধতি। 
পিত্তথলিতে


  • কারো পিত্তথলিতে পাথরের পরিমাণ যদি অনেক বড় হয়, এজন্য পেট কেটে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে এই পাথর বের করা সম্ভব হতে পারে। সাধারনত পিত্তথলিতে পাথর যদি ২ সেন্টিমিটারের বেশি হয় তাহলে অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন পড়ে। 
  • পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যায় অবশ্যই আপনাকে প্রচুর পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এজন্য আপনি চাইলে উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও সবজি সহ পাতলা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খেতে পারেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও ভুলবেন না। 
  • তাছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর হলে, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার যেমন, ফাস্টফুড, চর্বিযুক্ত মাংস, ভাজা খাবার সহ সম্পূর্ণ ফ্যাট যুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো। এছাড়াও পরিশোধিত শর্করা সমৃদ্ধ খাবার যেমন, সাদা রুটি, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

উপসংহার। পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় 

পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয়, এই ব্লগটিতে আমরা ইতিমধ্যে, পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় এবং করনীয় কি সহ, পিত্তথলিতে পাথর হলে যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় তা জেনেছি। পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা অনুভব হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সব থেকে উত্তম এটা মাথায় রাখবেন। পিত্তথলিতে পাথর হলে যে সকল খাবার উপকারী, তা খাওয়ার আগে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 

কেননা যদি কারো পিত্তথলিতে পাথর বড় আকারের হয় এবং অস্ত্র পাচারের প্রয়োজন পড়ে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই, খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গড়ে তোলা উপযুক্ত। আজকের, পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় ব্লগটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                            (খোদা হাফেজ)



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url