শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

বাচ্চা শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য এমন একটি রোগ, যা আমাদের সমগ্র পৃথিবীতে এতে ১৪% শিশু আক্রান্ত হয়। নিউমোনিয়া সাধারণত ফুসফুস সংক্রান্ত একটি রোগ। নিউমোনিয়া হওয়ার প্রধান কারণ হলো ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমন দেখা দেওয়ার ফলে। এছাড়াও শিশুর অপুষ্টিগত সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল সহ বায়ু দূষণের ফলেও নিউমোনিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

শিশুর

শিশুর যদি, ফুসফুসে অ্যালভিওলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, সেক্ষেত্রে নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়। শিশুর নিউমোনিয়ার সমস্যায়, শিশুকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করলে, এক সপ্তাহের মধ্যে, সমাধানে আনা সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে ব্লকটিতে জানার চেষ্টা করি, শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রিতিকার সম্পর্কে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

শিশুর নিউমোনিয়ায়, যে সকল কারণ দায়ী 

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল, তা ব্লগটিতে উপরেই বলা হয়েছে। সাধারনত শিশুদের একটু অতিরিক্ত অতিরিক্ত যত্নের প্রয়জন পড়ে। কেননা এ সময় বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের কবলে শিশুর পড়ার প্রবণতা বেশি। শিশুকে একটু বাড়তি যত্নে রাখলে, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে, মুক্ত রাখা সম্ভব হতে পারে। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও করণীয়, ব্লগটিতে চলুন আমরা এখন, শিশুর নিউমোনিয়ায় যে সকল কারণ দায়ী, সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

  • শিশুদের ভাইরাস জনিত সংক্রমণ হল, নিউমোনিয়া হওয়ার সব থেকে সাধারণ এবং প্রধান কারণ। এই ভাইরাস গুলোর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, RSV ভাইরাস সহ অ্যাডেন ভাইরাস, সবচেয়ে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। 
  • ব্রিযাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ ও, শিশুর নিউমোনিয়া তৈরিতে ভালোই ভূমিকা পালন করে। কেননা ব্যাকটেরিয়া শিশুর ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এই ব্যাকটেরিয়া গুলোর মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া ও স্ট্যাফাইলোকক্কাস আরিয়াস, শিশুর নিউমোনিয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। 
  • একটা শিশুর জন্য অবশ্যই, পরিবেশবান্ধব পরিবেশ জরুরী। কেননা দূষিত পরিবেশের ফলে, শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুকি বেড়ে যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই ধুলোবালি, রান্নার ধোয়া, সিগারেট বা তামাকের ধোয়া সহ যে কোন ধোঁয়া থেকে, শিশুকে অবশ্যই দূরে রাখুন। 
  • শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে তা উপরই বলা হয়েছে। তবে যদি শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হয় একই সঙ্গে অকাল জন্ম নেয়, সে ক্ষেত্রেও শিশুর নিউমোনিয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। কেননা এসব কারণে শিশুর ইমিউন, সিস্টেম দুর্বল থাকে একই সঙ্গে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। 
  • বর্তমানে শীতের সময়, এ সময় আপনার শিশুকে অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণে গরম কাপড় পরিয়ে, শরীর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করবেন। কেননা ঠান্ডা আবহাওয়ার ফলে, শিশুদের ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা দেয়। এবং এ সময় নিউমোনিয়ার ঝুকিও শিশুদের অনেক বেশি বেড়ে যায়। 
  • আপনার শিশুর শরীরে ঠান্ডা ,কাশির জটিলতা দেখা দিলে, অবশ্যই তার সঠিকভাবে চিকিৎসা করান। যদি ঠান্ডা কাশির চিকিৎসা শিশুকে সঠিকভাবে না করানো হয়, তাহলে এই সমস্যা শিশুর ফুসফুসের সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ পান করান, কেননা মায়ের বুকের দুধ, শিশুকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ 

প্রথম আলোর তথ্য মতে, বাংলাদেশের প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় এক লক্ষ শিশু, নিউমোনিয়া সমস্যার কারণে মারা যায়। এবং সারা বিশ্বে, নিউমোনিয়ায় প্রায় ১৪% শিশু মারা যায়। আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করে তারপর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এজন্য  শিশুর নিউমোনিয়ার সমস্যায় যে সকল লক্ষণ অনুভব দেখা দিতে পারে, সেগুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এখন শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ, গুল যানা জাক। 

জ্বর এবং কাশি হওয়াঃ 

শিশুর নিউমোনিয়ার সমস্যা হলে, শরীরের জ্বর এবং কাশি দেখা মেলা খুবই সাধারণ ব্যাপার। নিউমোনিয়ার সমস্যায় শিশুর, উচ্চ মাত্রায় জ্বর হতে পারে, তবে এটি সংক্রমনের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এছাড়াও জ্বরের সাথে শিশুর কাশির দেখা মিলতে পারে।

শিশুর

নিউমোনিয়ার সমস্যায় শিশুর, শুকনো কাশি বা কফযুক্ত কাশি যেকোনোটা দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়ার সমস্যায় শিশুর জ্বর এবং কাশির দেখা মিললে, শিশুর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

 দ্রুত শ্বাস এবং শ্বাসে শো শো শব্দ হওয়াঃ 

আপনার বাচ্চার যদি, নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে, দ্রুত শ্বাস নেওয়া সহ শ্বাসে শো শো শব্দ হতে পারে। কেননা এ সময় শিশুর, বুক ধরফর করে একই সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, যার কারনে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি দ্রুত হতে থাকে। এবং বাচ্চা শ্বাস নেওয়ার সময়, শব্দযুক্ত শ্বাস বের হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ ১ মাসের বাচ্চার সর্দি হলে করনীয়, নবজাতকের সর্দি হলে যা করবেন।


একই সঙ্গে শিশু যখন জোরে শ্বাস নেয়, তার ফলে শিশুর নাকের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আপনার শিশুর এ ধরনের লক্ষণ অনুভব হলে, এজন্যও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরী। 

প্রচন্ড কান্নাকাটি এবং বমি হওয়াঃ  

শিশুর নিউমোনিয়া হলে প্রচন্ড কান্নাকাটি করা একই সঙ্গে বমি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে শিশুর বমি হওয়া নিউমোনিয়ার প্রধান লক্ষণ নয়, বিশেষ করে নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে বমি হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কেননা এ সময়, বাচ্চা কোন কিছু খেতে চায় না, একই সঙ্গে অতিরিক্ত কান্নাকাটি, দুর্বলতা দেখা দেওয়া সহ এই বমির দেখা মিলতে পারে। কোন বাচ্চার যদি নিউমোনিয়া সমস্যা হয়, তাহলে বাচ্চার ক্ষুধা কমে যায়, যার ফলে খাবারে অনীহা আসে। 

শ্বাসকষ্ট এবং বুক ডেবে যাওয়াঃ 

কোন বাচ্চার নিউমোনিয়ার সমস্যা হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া অন্যতম লক্ষণ গুলোর মধ্যে পরে। কেননা নিউমোনিয়া ফুসফুস সংক্রান্ত একটি রোগ, তা উপরে আমরা জেনেছি, এজন্য শ্বাসকষ্ট হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার।

তবে নিউমোনিয়ার এই শ্বাসকষ্টের ফলে, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া সহ বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে ডেবে যেতে পারে, শ্বাস নেওয়ার সময়। তাছাড়াও বাচ্চার অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব সহ অস্থিরতা, লক্ষ্য করতে পারেন। 

ঠোঁট এবং নখ নিলচে হয়ে যাওয়াঃ 

নিউমোনিয়ার সমস্যা কোন শিশুর মধ্যে দেখা দিলে, শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। কেননা নিউমোনিয়ার কারণে ফুসফুসের, বায়ুথলি কফ এবং শ্লেষ্মা দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে এই অক্সিজেন সল্পতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে, শরীরের রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।

এই কারণগুলোর ফলে, শিশুর নখ এবং ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুর শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে আছে, এমন লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। এর ফলে শিশু অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতার কবলে পড়ে।

শিশু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু লক্ষণ 

নিউমোনিয়ার সমস্যায় শিশু বাচ্চাদের, কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বর না থাকলেও শরীর ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। দুই মাসের নিচে বয়স যে বাচ্চাদের, সে সকল বাচ্চার অনেক দ্রুত ৫০ থেকে ৬০ বারের বেশি শ্বাস নেওয়ার, সমস্যা দেখা দিলে।

একই সঙ্গে শিশু বাচ্চাদের বারবার খিচুনি সহ, দুধ কম খাওয়া কোন কোন ক্ষেত্রে খেতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিলে। তাহলে দ্রুত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করুন। 

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার

শিশুর


শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার ব্লকটিতে আমরা, শিশু নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই জেনেছি। শিশুর নিউমোনিয়ার সমস্যার, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ প্রতিকারের ফলে, সাত দিনের মধ্যে নিউমোনিয়ার সমস্যা সমাধানে আনা সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে, শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার ব্লকটিতে, আমরা নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

আরো পড়ুনঃ টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন।

  • আপনার বাচ্চার যদি নিউমোনিয়ার সমস্যা, হয়েছে এমনটা লক্ষ্য করেন, তাহলে অনতিকলম্বে সর্বোপরি  চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সবথেকে উত্তম। কেননা নিউমোনিয়ার সমস্যা কোন শিশুর জন্য, মারাত্মক  সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 
  • শিশুর জন্য এ সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রামের, প্রয়োজন। এজন্য যাতে করে শিশুর শারীরিক বিশ্রাম নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যবস্থা করুন। আপনার শিশু যদি কোন প্রকার খাবার খেতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে পারেন। বাচ্চা যদি ছোট হয়, সে ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। 
  • তাছাড়া, নিউমোনিয়ার ফলে যদি শিশুর শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা মেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় একই সঙ্গে বুক ডেবে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, সেক্ষেত্র দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কেননা এই শ্বাসকষ্টের জন্য শিশুকে অক্সিজেন থেরাপিও দেওয়া লাগতে পারে, তবে এটা শারীরিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। 
  • শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণে, উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন। আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হলে নিজেকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার, অর্থাৎ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, যা আপনার বাচ্চার টিস্যু মেরামত ও বিকাশে সাহায্য করবে। তবে খেয়াল রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার, ওষুধ খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন। 

উপসংহার। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার 

আজকের ব্লগটি শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। ব্লগটিতে ইতিমধ্যে শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে, বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শিশুর নিউমোনিয়ার সমস্যায়, অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী, এবং গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জন্য নিউমোনিয়ার সমস্যায় সঠিক, প্রতিকার/ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। শিশুকে নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা করতে, সব সময় সচেতন থাকার চেষ্টা করবেন। 

এজন্য, নিউমোনিয়া রক্ষার জন্য শিশুকে টিকা দিন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করুন একই সঙ্গে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন যাপন করুন। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, ব্লগটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                           (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url