শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, সমাধানের উপায়
শরীরে কাঁপুনি হওয়ার প্রধান কারণ হলো, শরীরের তাপ উৎপাদনের ফলে। যখন কেউ শরীরে ঠান্ডা অনুভব করে, তখন তার শরীরের পেশীগুল অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপতে শুরু করে, যার ফলে তাপ উৎপাদন বাড়ে একই সঙ্গে শরীর উষ্ণ হয়ে কাঁপুনির দেখা মেলে । শরীরে কাঁপুনি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, এগুলোর মধ্যে স্নায়বিক রোগ, শারীরিক ও মানসিক কারণ সহ বিভিন্ন কারণে কাঁপুনির দেখা মেলে। আমাদের মধ্যে কারো যদি শরীর কাঁপার সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে হাত এবং পা থেকেই লক্ষ্য করা যায়।
চলুন আজকের ব্লগটিতে, শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ সহ, এই সমস্যার সমাধানের উপায় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আপনার এমন সমস্যা থাকলে, মনোযোগ সহকারে পড়ুন কেননা, শরীর কাপার সমস্যা লিভারের গুরুতর কর্মহীনতার কারণেও, দেখা দিতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, সমাধানের উপায়
- শরীর কাপা কিসের লক্ষণ - যে সকল কারণে শরীর কাঁপতে পারে
- শরীরে ঠান্ডা লাগার ফলেঃ
- ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবেঃ
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলেঃ
- মানসিক চাপ, ভয় এবং দুশ্চিন্তার ফলেঃ
- থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলেঃ
- শরীরে দুর্বলতার দেখা মিললেঃ
- পারকিনসন রোগের ফলেঃ
- শরীর কপার সমস্যা সমাধানের উপায়
- উপসংহার। শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, সমাধানের উপায়
শরীর কাপা কিসের লক্ষণ - যে সকল কারণে শরীর কাঁপতে পারে
আজকের ব্লগটির মূল বিষয়, শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারণে শরীর কাঁপতে পারে, সে ব্যাপারে। ব্লগটিতে শুরুতেই বলা হয়েছিল, শরীর বিভিন্ন কারণে কাঁপতে পারে। আপনার শরীর কেন কাপছে, শরীরের এই কাঁপুনির পিছনে কোন কারণ দায়ি, এগুলো বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরী, চলুন তাহলে শরীর কাপার কারনগুলি জানার চেস্টা করি।
শরীরে ঠান্ডা লাগার ফলেঃ
শরীরে যদি ঠান্ডা লাগা অনুভব হয়, সেক্ষেত্রে শরীর কাপা, খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেননা,যখন কারো শরীরে ঠান্ডা অনুভূতি হয় তখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ, পেশীগুলোর সংকোচন ঘটায়। এবং যখন আমাদের ত্বকের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি হতে পারে।
শরীরে ঠান্ডা লাগার ফলে কাঁপুনির সমস্যা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে আপনার যদি, দীর্ঘক্ষণ যাবৎ কাপুনি এবং কাঁপুনি তীব্র হয়, একই সাথে অন্য কোন উপসর্গ দেখা দেয়। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সব থেকে উপযুক্ত।
ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবেঃ
ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবে, শরীরে কাঁপুনি হওয়াও, সাধারণ ব্যাপার। কেননা বিশেষ করে যদি ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ডি এবং খনিজ পদার্থ ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে, শরীরে কাঁপুনি শুরু হতে পারে। কেননা এই সকল ভিটামিন গুলো আমাদের স্নায়ু এবং পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
শরীরে এই পুষ্টির অভাবে যদি আপনার, কাঁপুনি ঘনঘন এবং তীব্র হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ঔষধ ও সেবন করা যেতে পারে।
রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলেঃ
আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে, হাইপোগ্লাইসেমিয়া নামক এক ধরনের সমস্যায় শরীর কাঁপে। এটি সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে, কাপুনি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্যা ডায়াবেটিস রোগীদের দেখা মেলে।
রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে, শরীর কাঁপুনির পাশাপাশি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শরীরে ঘাম হওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন সহ প্রচন্ড ক্ষুধা লাগার অনুভূতি হতে পারে। কেননা তখন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তি মজুদ থাকে না। হাইপোগ্লাইসেমিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উপযুক্ত হবে, কেননা এটি বিপদজনকও হতে পারে।
মানসিক চাপ, ভয় এবং দুশ্চিন্তার ফলেঃ
কোন মানুষের মস্তিষ্কে যদি, মানসিক চাপ ভয় এবং দুশ্চিন্তা কাজ করে, সে ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনালিন এবং কার্টিসলের মত হরমোন নিঃসরণ হয়। যার ফলে শরীরের দ্রুত হৃদস্পন্দন, দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস সহ রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে পেশিগুল সংকোচন করে তাই শরীরে কাপুনি হয়। মানসিক চাপ, ভয় এবং দুশ্চিন্তার ফলে শরীরে কাঁপুনি হওয়া সাধারণ ব্যাপার, তবে অনেক সময় পেনিক অ্যাটাকের মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে শরীরে যদি ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে, জ্বরের দেখা মেলে তাহলেও শরীরে কাঁপুনি হতে পারে। কেননা আমরা সকলেই জানি, জ্বর কোন অসুখ নয় এটি অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র। শরীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে, এটাকে আমরা জ্বর বলি এবং এ সময় শরীরে কাঁপুনির দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলেঃ
শরীরে যদি, হাইপার থাইরয়েডিজম অর্থাৎ, থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদন এবং হাইপোথাইরয়েডিজম অর্থাৎ শরীরে হরমোনের উৎপাদন কমে যাওয়া, এর যে কোন একটি সমস্যা হলে শরীরে কাঁপুনি হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানুন।
কেননা কারো শরীরে যদি অতিরিক্ত হরমোনের উৎপাদন হয়, এজন্য শরীর দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে যার ফলে হাত এবং পা কাপার মতো উপসর্গ অনুভূতি হয়। সমস্যার ফলে, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অস্থিরতা সহ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্বি পায়, এগুলোও শরীর কাপার অন্যতম লক্ষণ।
শরীরে দুর্বলতার দেখা মিললেঃ
আমাদের কারো শরীরে যদি দুর্বলতার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এই কাপুনি আমরা নিজেরাই লক্ষ্য করতে পারি। শরীরের যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যেমন ধরুন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, কম পরিমাণে খাবার খাওয়া সহ রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে শরীরে কাঁপুনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও চা কফি অর্থাৎ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ কিছু খাওয়ার ফলেও শরীরে কাঁপুনি হতে পারে। কেননা যদি কেউ অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করে তাহলে তার নার্ভ উত্তেজিত হতে পারে, এর ফলে এই কাপুনির সৃষ্টি হয়। কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেও, শরীরে কাঁপুনি হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পারকিনসন রোগের ফলেঃ
পারকিনসন অসুখের ফলে,শরীরে কাঁপুনি দেখা দেওয়া খুবই কমন ব্যাপার। তবে এই রোগ সাধারণত, একজন মানুষের ৫০ বছরের পরে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পারকিনসন মূলত এটি স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, যা সাধারণত ডেপামিন নামক রাসায়নিকের অভাবে ঘটে। শরীরে পারকিনসন নামক রাসায়নিক, আমাদের শরীর নাড়াচাড়া ও পেশী নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এর সমস্যার ফলে মস্তিষ্কে সঠিকভাবে সংকেত পাঠাতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে হাত ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কাপুনির শুরু হতে পারে। পারকিনসন রোগের ফলে একজন রোগীর, শরীর নাড়া চাড়ার ক্ষমতা কমে যায়, পেশী শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং হাঁটা চলার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এই ধরনের সমস্যার ফলে, রীতিমতো চিকিৎসা সেবা নেওয়া জরুরী।
শরীর কপার সমস্যা সমাধানের উপায়
শরীর কাবা কিসের লক্ষণ, সমাধানের উপায়, ব্লগটিতে শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারণে শরীর কাঁপার সমস্যা হয় সেগুলি সম্পর্কে বলা হয়েছে। শরীর কাপার সমস্যা কারো থাকলে, শারীরিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে এজন্য, এই সমস্যা সমাধানে আনা জরুরী। চলুন তাহলে ব্লকটিতে এখন জানার চেষ্টা করি, শরীর কাপার সমস্যা সমাধানের উপায় সম্পর্কে।
- আপনার শরীর যদি কোন ঠান্ডা জনিত কারণে কাঁপে, তাহলে অবশ্যই পর্যাপ্ত গরম কাপড় পড়ুন। কেননা এ সময় শরীরকে পর্যাপ্ত গরম রাখা জরুরী, এজন্য গরম পানি খেতে পারেন সঙ্গে গোসলের জন্য উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন।
- আপনার যদি, পুষ্টির অভাবে শরীর কাঁপার সমস্যার দেখা মেলে। এজন্য অবশ্যই ডিম, দুধ, কলা, মাছ, ডাল এবং সবজি সহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শুরু করুন। এ সময় পর্যাপ্ত পানিযুক্ত শাকসবজি সহ ফলমূল খুবই উপকারী।
- থাইরয়েডের সমস্যার কারণে যদি আপনার, শরীর কাঁপে তাহলে অবশ্যই, থাইরয়েড টেস্ট করিয়ে নিন।একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ওষুধ খাওয়া শুরু করতে পারেন। শরীর কাপার সমস্যায় নিজেকে ডিহাইড্রেট রাখাও অত্যন্ত জরুরী, এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- ভাইরাস সংক্রমণের কারণে, জ্বর এবং সর্দি সহ যে কোন সমস্যা যদি, শরীরে কাপনে শুরু হয়, সেক্ষেত্রে নিজেকে পর্যাপ্ত উষ্ণ রাখুন। চাইলে সংক্রমনের প্রাথমিক ওষুধ প্যারাসিটামলও খেতে পারেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উত্তম।
- আপনার যদি মানসিক চাপ, ভয় এবং উদ্বেগের কারণে শরীরে কাঁপুনির দেখা দেয়। তাহলে অবশ্যই মানসিক চাপ, ভয় এবং উদ্বেগ বাদ দিতে হবে। এজন্য আপনি চাইলে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে পারেন, কেননা এ সকল বিষয়ের জন্য পেনিক অ্যাটাকের মত সমস্যার দেখা দিতে পারে।
- শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতে একই সঙ্গে কাঁপুনি কমাতে, ভিটামিন এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন। কেননা ভিটামিন বি ১২ এবং খনিজ পাদার্থ ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে, শরীর কাপে তা উপরে বলা হয়েছে। এই সকল পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আপনি চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ভিটামিন সমৃদ্ধ ওষুধও খেতে পারেন।
- শরীর কাপার, সমস্যা যদি তীব্র হয় একই সঙ্গে ঘন ঘন, এই সমস্যার দেখা মেলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন নিউরোলজিস্ট , মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সমস্যার সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি ও উপকারি। কেননা শরীর কাপার গুরুতর সমস্যার কথাও, আমাদেরকে মাথায় রাখা উচিত।
উপসংহার। শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ, সমাধানের উপায়
আজকের এই ব্লকটিতে, শরীর কাপা কিসের লক্ষণ, এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি শরীর কাপার সমস্যা, প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এটা মনে করেন, তাহলে উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করতে পারেন। এতে যদি আপনার সমস্যার সমাধানে না আসে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা হয়, একই সঙ্গে শারীরিক ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা এবং হঠাৎ করে কাপুনি শুরু হয়, তীব্র আকার ধারণ করলে, দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন।
কেননা, শরীর কাঁপুনি সমস্যার তীব্রতা, শারীরিক বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুকি তৈরি করতে পারে, এক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় সর্তকতা জরুরি। আজকের ব্লগটি, শরীর কাঁপা কিসের লক্ষণ এবং সমাধানের উপায়, এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url