শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ

একজন মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়া থাকা প্রয়োজন। তবে শরীরের তাপমাত্রা বয়স, লিঙ্গ, পরিবেশগত উত্তাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে ওঠানামা করতে পারে। অনেক সময় অনেকে শরীরে বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত গরম অনুভব করেন। আপনার শরীরে যদি মাত্রাতিরিক্ত গরম অনুভব হয় এবং, একই সঙ্গে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাহলে এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরী। 

শরীর

আজকের ব্লগটিতে, শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ সে সম্পর্কে, জানার চেষ্টা করব। আমরা প্রত্যেকেই হয়তো শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়ার, প্রবানতায় অনেক সময় পড়েছি। আজকে শরীর গরম হওয়ার যে সকল কারণ রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে ব্লগটিতে জানার চেষ্টা করব, মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ

শরীর গরম থাকার ফলে যে সকল লক্ষণ অনুভব হতে পারে 

শরীর গরম হওয়ার লক্ষণ আর্টিকেলটি শুরুতেই আমরা, শরীর গরম হলে যে সকল লক্ষণ অনুভব হয় সেগুলো জানার চেষ্টা করব। শরীর গরম হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, এই সকল কারণের ফলে যদি শরীর গরম হয় তাহলে আপনার শরীরের বেশ কিছু লক্ষণ অনুভব করতে পারবেন, চলুন সেগুলো জানার চেষ্টা করি। 

  • আপনার শরীর যদি গরম হয় তাহলে শরীরে, অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে শরীর গরম হওয়ার পরে যদি ঘাম না হয়, এজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 
  • আমাদের শরীর অতিরিক্ত গরম হলে, শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, যার ফলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে, এবং অতিরিক্ত পানির পিপাসা লাগার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। 
  • মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা সহ শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তির দেখা মেলা খুবই সাধারণ। কেননা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, খুব দুর্বল বোধ করা, অস্বস্তিকর মাথাব্যথা সহ মাথা ঘোরা অনুভব হতে পারে। 
  • ত্বকের পরিবর্তনও, শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে অনুভব করতে পারেন। এ সময় ত্বক লাগচে হয়ে যাওয়া, ফ্যাকাশে ত্বক এবং ত্বকের উপরে ফুসকুরি দেখা দিতে পারে। 
  • আপনার শরীর যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি গরম হয়, সে ক্ষেত্রে আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস অনুভব হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে শরীর গরম হওয়ার ফলে বমি বমি ভাব অনুভব হতে পারে। 

শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারনে শরীর গরম হতে পারে  

আজকের ব্লগটির মূল বিষয় শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ সে সম্পর্কে। পোস্টটির শুরুতেই, শরীর গরম হলে যে সকল লক্ষণ দেখা দিতে পারে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারণে শরীর গরম হতে পারে সেগুলো সম্পর্কেও আমাদের জানা প্রয়োজন। শরীর গরম থাকার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, চলুন কথা না বাড়িয়ে সেগুলো জানার চেষ্টা করি।  

শরীরে জ্বর বা সংক্রমণের দেখা দিলেঃ

শারীরিক কোন সংক্রমনের দেখা মিললে, তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়, যেটাকে আমরা জ্বর বলে বিবেচনা করি। শরীরে যখন কোন সংক্রমনের দেখা মেলে তখন, সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীর নিজেকে প্রতিরক্ষা করার জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সংক্রমনের জীবনু বৃদ্ধিতে বাধা প্রধান করে।

আমরা হয়তো সকলেই, সংক্রামনের কারণেই নিজেদের শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্বির লক্ষণ অনুভব করেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে এই জ্বরের সংক্রমনে শরীরের তাপমাত্রা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে হাইপোথারমিয়া মত অবস্থার ও তৈরি করতে পারে।  

পরিবেশগত তাপমাত্রা অতিরিক্ত হওয়ার কারণেঃ 

পরিবেশের তাপমাত্রা যখন অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে গরমের পরিমাণ বেড়ে গেলে যে কারোই শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। গরমের সময় অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের পরিস্থিতি আমাদের কারোরই অজানা নয়। এ সময় শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়ার পাশাপাশি, অতিরিক্ত ঘামের ফলে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ মাথা ঘোরা ও শরীর দুর্বল কিসের লক্ষণ।


এজন্য এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং তরল পান করা জরুরি। অতিরিক্ত তাপমাত্রা জনিত কারণে, শরীর গরম হয়ে ঘেমে শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তির দেখা দিতে পারে। এজিন্য এ সময় শরীরের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য, পর্যন্ত পরিমাণে তরল পান করা জরুরি। 

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ও রোদে চলাচলঃ 

অতিরিক্ত রোদে চলাচল, এবং শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীর গরম হওয়া, কারণগুলির মধ্যে ধরা যায়। কেননা কেউ যখন অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে, তখন তার শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত তাপ তৈরি করে, শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত হয়। এ কারণে আগের তুলনায় তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হিটস্ট্রোক সহ তাপ সংক্রান্ত অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শরীর

অন্যদিকে আমরা সকলেই জানি, সূর্যের আলোতে গেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গরম হয়ে যায়। রোধের তাপমাত্রা, অতিরিক্ত হলে শরীরে অতিরিক্ত তাপসহ ঘামেরও দেখা মেলে। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও রোদের ফলে, শরীরে পানি শূন্যতার অভাব দেখা দিতে পারে, এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাও জরুরী। 

মানসিক অবস্থা ও বয়স জনিত কারণেঃ 

আপনি যদি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ জনিত, সমস্যায় পড়েন। তাহলেও আপনার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে শরীরে গরম অনুভুতি হতে পারে। কেননা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ জনিত সমস্যার ফলে, শরীরের পেশীতে অতিরিক্ত রক্ত অতিবাহিত হয় এবং অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় এজন্যই শরীরের তাপমাত্রা বারে। এছাড়াও উদ্বেগ জনিত কারণে কারো কারো পেনিক অ্যাটাকের মত শারীরিক প্রক্রিয়া তীব্র হতে পারে। 

অন্যদিকে বয়সের, তারতম্যের কারণে অনেকের শরীরে গরম থাকতে পারে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বয়স যাদের রয়েছে, তারাও শরীর গরম হওয়া অনুভব করতে পারেন এবং বাচ্চাদের  শিশু অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে, এর ফলে শরীর গরম অনুভূতি হয়। সাধারণ অবস্থায় কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও শরীর গরম থাকতে পারে। 

শরীরের পানি শূন্যতা দেখা দিলেঃ 

শারীরিক সুস্থতায় পানির গুরুত্ব, অতুলনীয়। কেননা পানি ছাড়া আমাদের কোনমতেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের শরীরে যদি, প্রয়োজন মতো পানির চাহিদা মেটানো না হয় তাহলে পানি শূন্যতা দেখা দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গরম হতে পারে। শরীরের পর্যাপ্ত পানি না থাকলে, শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারেনা যার ফলে গরম হয়ে যায়।

আমাদের শারীরিক সুস্থতা  নিশ্চিত করতে এবং শরীরকে ডিহাইড্রেট রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান জরুরী। আপনার যদি পানি শূন্যতার কারণে শরীর গরম হয় তাহলে, শরীরে পর্যাপ্ত পানির চাহিদা পূরণ করুন।

ডাইবেটিসের সমস্যা শরীরে থাকলেঃ 

আপনার শরীরে যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে, তাহলে স্বাভাবিকের চেয়ে শরীর একটু গরম থাকতে পারে। কেননা ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রা, শরীরকে পানি শূন্য করে তোলে। যার ফলে আপনার ত্বকে লালচে ভাব এবং অতিরিক্ত গরম অনুভব, লক্ষ্য করতে পারেন। 

তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জনিত ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর জটিলতা ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস দেখা দিলে, শরীরে ইনসুলিনের অভাব হয় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে শরীর গরম হয়ে থাকে। 

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার সমস্যার ফলেঃ

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা যদি কারও শরীরে থাকে, তাহলে শরীর অতিরিক্ত গরম থাকা সাথে অতিমাত্রায় ঘাম হওয়া খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। কেননা এ সময় শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফাইব্রোমায়ালজিয়ার সমস্যায় শরীর গরম, হওয়ার পাশাপাশি, পেশী ব্যাথা, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি বেড়ে যেতে পারে।

আপনার যদি এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শরীর গরম হওয়ার সমস্যা থাকলে অবশ্যই হালকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পড়া সব থেকে উত্তম। 

চা কফি ও মসলাদার খাবারের কারণেঃ 

চা-কফি এবং মসলাদার খাবারে থাকা উপাদান শরীরকে গরম করে তুলতে পারে। চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে গরম করে তোলে এবং, এতে থাকা উপাদান, ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। যার ফলে শরীরে পানি শুন্যতার সমস্যা দেখা দেয় এবং তাপমাত্রা বারা শুরু করে। 

অন্যদিকে অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার খেলে, এই খাবার হজম হতে, পাকস্থলীকে অতিরিক্ত শক্তির ব্যবহার করতে হয়, যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এক কথায় বলা যায়, অতিরিক্ত ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার খেলে শরীর গরম হয় সাথে ঘামও বের হতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ হজম শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং কারন।

শরীর গরম হলে করণীয় 

শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ ব্লগটিতে, ইতিমধ্যে শরীর গরম হওয়ার কারন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণভাবে যদি আপনার শরীর গরম থাকে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। যেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে আপনার শরীরের, তাপমাত্রার সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে পারেন, চলুন সেগুল যানা যাক। 

শরীর

  • স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই, গরমের সময় শরীর অতিরিক্ত গরম অনুভব হয়। গরম হোক কিংবা যে কোন কারনে, শরীর গরম হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, পানি পানি শূন্যতা পূরণে সাহায্য করবে। 
  • আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমাতে অবশ্যই শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন, এজন্য চাইলে আপনি গোসলও করে নিতে পারেন। সাধারণভাবে শরীর গরম হলে এটিও সাহায্য করতে পারে।
  • অতিরিক্ত সূর্যের তাপে আপনার শরীর গরম হয়ে গেলে অবশ্যই একটি শীতল জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম করুন। কেননা অতিরিক্ত সূর্যের তাপে, হিট স্টোকের মত সমস্যার দেখাও মিলতে পারে। 
  • অতিরিক্ত গরমের সমস্যায় অবশ্যই হালকা এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। এই পোশাক আপনার শরীরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে। যে সকল খাবারে পানির পরিমাণ বেশি, সেগুলো এ  সময় খাওয়া উপকারী হতে পারে। 
  • অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে শরীর গরম হলে, অবশ্যই ভারী পরিশ্রম কমাতে হবে। চা কফি ও ক্যাফিন যুক্ত খাবার সহ ঝাল মসলা এড়িয়ে চলুন। এগুলো তাপমাত্রা বাড়ায় তা উপরে বলা হয়েছিল। শরীর অতিরিক্ত গরম হলে চাইলে ঠান্ডা সেক ও দিতে পারেন। 

উপসংহার। শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ

শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ, ব্লগটিতে শরীর গরম হওয়ার বেশ কিছু লক্ষণ এবং এ সময় করণীয় কি সে ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। আপনার যদি শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে, হিটস্ট্রোকের মত কোন লক্ষণ দেখা যায়, এক্ষেত্রে কোনমতেই অবহেলা করবেন না দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। কেননা শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ, এই ব্লগটিতে শরীর গরম হওয়ার কিছু, স্বাস্থ্যগত কারণে কথাও বলা হয়েছে। 

আপনার শরীর, সুস্বাস্থ্য আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে এজন্য অবশ্যই সতর্কতা জরুরী। যাই হোক, শরীর গরম থাকা কিসের লক্ষণ ব্লগটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                        (খোদা হাফেজ)


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url