পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারির জানুন

পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন আজকের ব্লগের এই পর্বে। অন্ততপক্ষে প্রতিদিন সকালে পরিপূর্ণ মলের মাধ্যমে অন্ত্রে জমে থাকা পায়খানা ক্লিয়ার হওয়া শারীরিক সুস্থতায় অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ।

পায়খানা

অনেকে টয়লেটে যাওয়ার পরে অনেক সময় পার করে দেন তবুও পায়খানা ক্লিয়ার করতে পারে না। তবে পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। আজকের এই ব্লগটিতে পায়খানা ক্লিয়ার করার প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস সহ বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন

পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় 

পায়খানা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার না হওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই বিরক্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় যে খাবার গুলো খাওয়া হয় সেগুলো পায়খানার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাওয়া জরুরী। মানব দেহের কিছু বদ অভ্যাস সহ শরীরের কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা কারণে পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘরোয়াভাবে কিছু খাবার খাদ্য তালিকা রাখলে এমন সমস্যা থেকে মুক্তি মিলাতে পারেন। নিচে পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য বেশ কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিন। 

  • পরিপূর্ণ মলের মাধ্যমে পেট পরিষ্কার করার জন্য পাকা কলা এবং পেঁপে বেশ উপকারী। এগুলো ফাইবার সমৃদ্ব কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে পায়খানা ক্লিয়ার করতে কার্যকর। রান্না করা কাঁচা পেঁপে খেলেও পায়খানা ক্লিয়ার করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। দৈনিক খাদ্য তালিকায় ১ ধরনের সবুজ পাতাযুক্ত শাক খেলেও উপকার মিলবে।
  • পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেটে ইসুবগুলের ভুষি অত্যন্ত উপকারী। আপনি চাইলে চিয়া বীজ এবং তোকমা দানা খেতে পারেন। ইসবগুলের ভুষি, চিয়া সিড এবং তোকমা দানা ভিজিয়ে দিনে এক থেকে দুই বার খেলে বেশ উপকার মেলাতে পারবেন। পাকা বেলের শরবত দৈনিক এক গ্লাস করে খেতে পারেন, এ সময় উপকারি।  
  • মিষ্টি আলু খাদ্য তালিকায় রাখলে পেতে পারেন পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য উপকারিতা। মিষ্টি কুমড়া খেলেও অন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। খাদ্যতালিকার সবজির মধ্যে যেকোনো ধরনের ডাটা, ঢেড়স, কচু শাক, কচুর গাটি সহ সজনে ডাটা অত্যন্ত উপকারী। এগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ যা হজম শক্তি বৃদ্ধি সহ অন্ত্রের কার্যকারিতায় বেশ উপকারি। 
  • পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলেও উপকার মিলানো যায়। তাছাড়া এলোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে শরবত করে খেলেও পায়খানা ক্লিয়ার হতে পারে। হজম শক্তি বৃদ্ধি সহ অন্ত্রের কার্যকারিতায় অত্যন্ত উপকারী প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই। দৈনিক এক বাটি দই পর্যাপ্ত মলের মাধ্যমে পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য খেতে পারেন। 
  • পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান জরুরী। এজন্য দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন। ঝাল, তেল এবং মসলাযুক্ত খাবার চর্বিযুক্ত মাংস, ফাস্ট ফুড এরিয়ে চলুন। রাস্তার ধারের অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার থেকেও দূরে থাকুন। অতিরিক্ত মানসিক টেনশন থেকেও নিজেকে এরিয়ে রাখা উচিত। কেননা এ সকল কারণে হজম শক্তি কমে পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া সহ পেটের নানান সমস্যায় ভোগাতে পারে। 

পায়খানা ক্লিয়ার না হলে কি হয় 

আজকের এই ব্লগটিতে পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া বা কষা পায়খানায় পেটের নানান সমস্যা সহ বেশ কিছু সমস্যায় ফেলতে পারে। এছাড়াও অর্শ বা পাইলস কিংবা এনাল ফিসারের মত পায়ুপথের রোগ সৃষ্টি হতে পারে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে জেনে নিন পায়খানা ক্লিয়ার না হলে কি কি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো। নিচে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।

  • পায়খানা ক্লিয়ার না হলে কি সমস্যা হয় এমন সমস্যায় প্রাথমিক অবস্থায় পেটের নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা সহ পেটের গ্যাস্টিকের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। 
  • খাবার খেতে অনিহা এসে খাবারের অরুচি দেখা দিতে পারে। এ সময় অল্প খাবার পেট ভরে যাওয়া সহ ক্ষুধা মন্দা অস্বাভাবিক কিছু না। অনেক সময় বমি বমি ভাব সহ কখনো অল্প পরিমাণে বমি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রচন্ড পরিমাণে ঢেকুরের প্রবণতা লক্ষ্য করতে পারেন। 
  • দীর্ঘমেয়াদী পায়খানা না হওয়া বা কষা পায়খানায় অর্শ বা পাইলসের মত গুরুতর পায়ুপথের রোগ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এনাল ফিসার বা গেজ রোগের মোকাবিলা করতে হতে পারে। 
  • পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যায় অনেক সময় দেখা যায় টয়লেটে বাড়তি চাপের ফলে বেষ্টালপ্রোলাপস অর্থাৎ মলদ্বার কিছুটা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। অন্ত্রে জমে থাকা মল সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার না হলে প্রস্রাবের সমস্যাও হতে পারে। এ সময়ের ঘন ঘন প্রস্রাব সহ প্রস্রাব আটকে থাকার অনুভূতি লক্ষ্য করতে পারেন।

পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার কারণ কি 

আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য পেট পরিষ্কার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পাকস্থলী থেকে নিষ্কাশিত বর্জ্য শরীর থেকে বেরিয়ে না গেলে নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে পেট পরিষ্কার না হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান এবং ফাইবার বা প্রাকৃতিক আঁশ সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবার সম্পূর্ণরূপে হজম হয়ে পায়খানার মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি এবং আঁশযুক্ত খাবার খুব জরুরী। 

পায়খানা

এছাড়াও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। পায়খানার বেগ আসলে চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। না হলে অন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার কারণ হতে পারে। কেননা মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা সরাসরি হজম শক্তি কমাতে পারে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকেও পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যা হয়। পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার সমস্যা সাধারণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় সতর্কতা জরুরী। 

৩,৪ দিন পায়খানা না হলে করণীয় 

নিত্যদিনের খাবার খাওয়া যেমন জরুরী ঠিক তেমনি দৈনিক পায়খানা ক্লিয়ার হওয়া উপযুক্ত। শারীরিক সুস্থতা সহ মানসিক শান্তিতে অত্যন্ত জরুরী দৈনিক পায়খানা ক্লিয়ার হওয়া। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যাদের পায়খানা ঠিকমত ক্লিয়ার হয় না। অনেকে তো আবার ৩-৪ দিন ধরে পায়খানা না হওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করেন। আপনার জানা প্রয়োজন পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় সর্তকতা প্রয়োজন। যদি কারো ৩-৪ দিন পায়খানা না হয় সেক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য। 

এজন্য উপরে উল্লেখিত পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন। উল্লেখিত যে সকল খাবার রয়েছে সেগুলোর কিছু হলেও খাদ্য তালিকায় চেষ্টা করুন। সবচেয়ে সহজ ভাবে ইসুবগুলের ভুষি, চিয়া সিড, তোকমা দানা ইত্যাদি ভিজিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও খাদ্য তালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এতেও যদি আপনার পায়খানা না হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। ৩ থেকে ৪ দিন পায়খানা না হলে অবশ্যই সমস্যা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

পায়খানা ক্লিয়ার করার সিরাপ এর নাম 

পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যে খুবই বিরক্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। পায়খানা ক্লিয়ার না হলে শারীরিক প্রদাহ সহ বেশ সমস্যার দেখা মেলে। এই ব্লগটিতে পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সহ প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিনিয়ত পায়খানা ক্লিয়ার হওয়াটা খুবই জরুরী তা হয়তো আপনি বুঝতেই পারছেন। নিত্যদিনের খাবার সঠিক হজম প্রক্রিয়ায় নিষ্কাশিত বর্জ্য অন্ত্র দিয়ে ক্লিয়ার হওয়া শারীরিক সুস্থতায় খুবই জরুরী। অনেকেই পায়খানা ক্লিয়ার করার সিরাপ এর নাম সম্পর্কে জানতে চান। নিচে কয়েকটি পায়খানা ক্লিয়ার করার সিরাপ এর নাম তুলে ধরা হলো। 

  • Actilac
  • Lactulose
  • Metamucil
  • Bisacodyl

উপরোক্ত সিরাপ গুলি অন্ত্রে জমে থাকা মল নরম করে পায়খানা ক্লিয়ার করতে বেশ কার্যকর। একই সঙ্গে এ সকল সিরাপ পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। শারীরিক যে কোন সমস্যায় আপনি যেকোন ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসাকে পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত। নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। 

পায়খানা ক্লিয়ার করার হোমিও ঔষধ 

পায়খানা ক্লিয়ার না হলে কি সমস্যা হয় এমন তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিদিন সম্পূর্ণরূপে পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনেকেই নিয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার হোমিওপ্যাথি ঔষধের দিকে নজর দিয়ে থাকেন। পায়খানা সঠিকভাবে না হওয়া খুবই বিরক্তিকর সমস্যা। হোমিও চিকিৎসায় পায়খানা ক্লিয়ার করা সহ পেটের সমস্যা সমাধানে বেশ ওষুধ পরিচিত। নিচে পায়খানা ক্লিয়ার করার কিছু হোমিও ঔষধের নাম উল্লেখ করা হলো। 

  • Nux Vomika
  • Bryonia
  • Sepia
  • Silicea
  • Aloe Socotrina
  • Calcarea
  • Opium
  • Plumbum Metallicum

আজকের ব্লগের এই পর্বে উল্লেখিত পায়খানা ক্লিয়ার করার হোমিও ঔষধ গুলি বেশ জনপ্রিয়। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে মল নরম করে পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য এগুলো বেশ উপকারী। এছাড়াও পেটের নানান সমস্যা সমাধান করতে পারে এ সকল হোমিও ওষুধ। আপনার পায়খানা ক্লিয়ার না হলে একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধটি খেতে পারেন। যদিও হোমিও ওষুধের কার্যকারিতায় সময়ের প্রয়োজন তবু বেশ উপকারী এগুলো। 

পায়খানা ক্লিয়ার করার ঔষধ সম্পর্কে জেনে নিন 

আজকের এই ব্লগটিতে পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বলা হয়েছে। সঙ্গে পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার কারণ এবং কি হতে পারে এগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। পায়খানা ক্লিয়ার করার সিরাপ এবং হোমিওপ্যাথি কিছু ওষুধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য চিকিৎসকেরা কিছু ওষুধ ব্যবহারে অনেক রোগীকে উৎসাহিত করতে পারেন। জেনে নিন পায়খানা ক্লিয়ার করার প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ সম্পর্কে। 

  • Duralax 5mg ট্যাবলেট অনেকের কাছে বেশ জনপ্রিয়। 
  •  Lactulose ট্যাবলেটও পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যায় অনেক চিকিৎসক খেতে উৎসাহিত করেন।
  • Bisacodil ট্যাবলেট কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পেট পরিষ্কার করতে বেশ উপকারী। 
  • Glycerin Suppository ওষুধটি কোষ্ঠকাঠিন্যে মল নরম করতে পায়ুপথে ব্যবহার করা হয়। 

উপরের উল্লেখিত ওষুধগুলি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ জনপ্রিয়। প্রয়োজনীয় ঘরোয়া উপায় পায়খানা ক্লিয়ার না করা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত ওষুধগুলি খেতে পারেন। যদিও পায়খানা ক্লিয়ার করার স্থায়ী চিকিৎসা উপযুক্ত খাবার এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। তবুও পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুত্বর পর্যায়ে উপরোক্ত ওষুধগুলো কার্যকর। নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসার পরামর্শ নিবেন। 

পায়খানা ক্লিয়ার করার ব্যায়াম 

ব্লগটির এই পর্বে পায়খানা ক্লিয়ার করার ব্যায়াম সম্পর্কে তুলে ধরা হবে। সাধারণত পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে শারীরিক প্রয়োজনীয় পরিশ্রমের অভাব। পাকস্থলীর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য দৈনিক প্রয়োজন মত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে পারেন। আপনি চাইলে সাইকেলিং করতে পারেন। চিত হয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পেটের কাছে এনে দুই হাত দিয়ে চাপ দেওয়ার ব্যামে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে পারে।  

পায়খানা

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ বা পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য যোগ ব্যায়ামও খুবই উপকারী। অনেক চিকিৎসক ঘরোয়া ভাবে প্রানায়ামা ব্যায়াম করতে বলেন। এমন ব্যায়াম পাকস্থলীর হজম শক্তি উন্নত করে শরীরের বর্জ্য পরিষ্কারে কাজ করতে পারে। সুখাশনের মতো শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম পায়খানা ক্লিয়ার করার জন্য বেশ উপযুক্ত। এজন্য মেঝেতে আড়া-আড়ি বসে পা বাহুর উপরে রেখে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে করে ছাড়ুন। এতে করে পাকস্থলীতে জমা গ্যাস বেরিয়ে পেট পরিষ্কার করতে উপকার মিলতে পারে। 

 পায়খানা না হলে করণীয় সম্পর্কে জেনে নিন 

রোজ পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সহ পায়খানা না হওয়ার সমস্যা সমাধানের বেশ কিছু তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। অনেকের মধ্যে দেখা যায় কয়েকদিন পায়খানা হচ্ছে না। এ নিয়ে ভোগেন খুবই বিরক্তিকর সমস্যায় একই সঙ্গে মানসিক অশান্তি আসে। পায়খানা ক্লিয়ার না হলে করণীয় সম্পর্কে হয়তো বেশ কিছু তথ্য আপনি যানতে পেরেছেন। যদি আপনার কয়েকদিন ধরে পায়খানা না হয় সেক্ষেত্রে এটিকে অবহেলা করবেন না। দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 

এ সময়ে শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন। শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে রোজ পায়খানা ক্লিয়ার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরী। যদি পায়খানা না হয় সেক্ষেত্রে তো কোন কথাই নেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে নানান সমস্যা আপনার সামনে এসে হাজির হতে পারে। 

উপসংহার। পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে 

পায়খানা ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায়, পায়খানা ক্লিয়ার না হলে কি হয়, পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার কারণ উপরে ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পায়খানা ক্লিয়ার করার সিরাপ, হোমিওপ্যাথি ওষুধ এবং ট্যাবলেট সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনি যদি পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যায় পড়ে থাকেন তাহলে এর যন্ত্রণাদায়ক এবং বিরক্তিকর সমস্যা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়ার সমস্যায় অবশ্যই আপনাকে সঠিক চিকিৎসা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

শারীরিক সুস্থতায় হজম শক্তি বৃদ্ধি করে অন্ত্রের কার্যকারিতায় উপকারী খাবার গুলো দৈনিক খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। যে সকল খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। সর্বোপরি সর্তকতার সাথে দৈনিক খাদ্য তালিকায় উপকারী  খাবারের মাধ্যমে এমন সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে। 

                 (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url