বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় কিছু ব্যবস্থা অবলম্বনে ব্যথার তীব্রতা কমাতে পারেন। বাতের ব্যথা মূলত শরীরে ধীরে ধীরে সৃষ্টি হওয়া ব্যথা যাকে আর্থ্রাইটিস বলেও ধরা হয়। বাতের ব্যথার প্রবনতা বিশেষ করে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড জমার ফলে হয়।
শরীরের ক্ষতিকারক বর্জ্য ইউরিক অ্যাসিড সম্পূর্ণরূপে নিষ্কাশিত না হলে শরীরের বিভিন্ন অংশ জমা হয়। যা থেকে ফোলাভাব এবং তীব্র ব্যাথা অনুভব হয়। নিচে বাতের ব্যাথা কমানোর কিছু ঘরোয়া উপায় কি খেলে বাতের ব্যাথা বাড়ে সঙে লক্ষণ গুলো তুলে ধরা হলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
- বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন
- গরম এবং ঠাণ্ডা সেক দিতে পারেন
- আদা বেশ উপকারী
- গ্রিন টি খেতে পারেন
- ব্যায়াম করা যেতে পারে
- তেল মালিশ বেশ উপকারি
- স্বাস্থ্যকর খাবার খান
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে
- বাতের ব্যথার লক্ষণ গুলা কি কি
- উপসংহার। বাতের ব্যথার কমানোর ঘরোয়া উপায়
বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন
গরম এবং ঠাণ্ডা সেক দিতে পারেন
বাতের ব্যথার কার্যকরী ব্যাবস্থা স্থানে গরম এবং ঠান্ডা সেক দেওয়া। তবে আপনার ব্যথার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে সঠিক ভাবে সেক দেওয়া সবচেয়ে জরুরী। বিশেষ করে আপনার ব্যথার প্রবণতায় পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া সহ জয়েন্টের ব্যথায় গরম সেক দেওয়া খুবই উপকারী। কেননা এ সময় গরম সেক দিলে পেশির রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথার তীব্রতা কমাতে পারে। অন্যদিকে আপনার আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব সহ প্রদাহ কমাতে ঠান্ডা সেক খুবই কার্যকর। বাতের ব্যথার আক্রান্ত স্থানের লালচে ভাব, ফোলা ভাব হঠাৎ আঘাত জনিত ব্যথায় ঠান্ডা সেক দিলে বেশ আরাম মিলাতে পারবেন।
আদা বেশ উপকারী
বাতের ব্যথা অর্থাৎ আর্থ্রাইটিস যখন কোন ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেয় তখন জয়েন্ট গুলোতে প্রদাহ শুরু করে। এমন সমস্যায় আদা খেলে আর্থ্রাইটিসের জয়েন্টের প্রদাহ কমাতে অত্যন্ত উপকারী। আদাতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বাতের ব্যথায় উপকারিতা মেলাতে আদা চা খেতে পারেন।
তাছাড়া প্রতিদিন খাবারে সামান্য পরিমাণে ছোট টুকরো করে আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। বাতের ব্যাথায় নিয়মিত আদা খাওয়ার ফলে গাটের ব্যথা, প্রদাহ, ফোলা ভাব কমিয়ে ব্যথা উপশমে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। খেয়াল রাখবেন আপনার বাতের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া ভালো।
গ্রিন টি খেতে পারেন
এমন অনেকে রয়েছেন যাদের সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র সকালে এক কাপ গ্রিন টি। আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন বাতের ব্যথার কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে বেশ কাজ করে গ্রিন টি। কেননা গ্রিন টি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা বাতের প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে বেশ ভূমিকা পালন করে। বাতের ব্যথায় উপকারিতা মেলাতে দৈনিক দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি যথেষ্ট। নিয়মিত গ্রিন টি খাওয়ার ফলে জয়েন্টের প্রদাহ, ফোলাভাব, আক্রান্ত স্থানের শক্ত ভাব কমাতে বেশ কার্যকর। এছাড়াও গ্রিন টি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে একই একসঙ্গে শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে।
ব্যায়াম করা যেতে পারেন
বাতের ব্যথার তিব্রতা কমাতে নিয়ম করে পরিমাণ মতো ব্যায়াম করা উপকারী। এ সময় নিয়মিত ব্যায়ামে জয়েন্টের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় পেশী এবং হাড়ের শক্তি সরবরাহ করে। বাতের ব্যথার তীব্রতায় একজন মানুষের মানসিক শান্তি কেড়ে নিতে পারে। এমন সমস্যায় ব্যায়াম করার ফলে জয়েন্টের শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যথা এবং ফলাফল কমায় যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে।
বাতের ব্যাথায় উপকারিতা মেলাতে আপনি সাইকেলিং, সাঁতার কাটা, নিয়মিত হাটার ব্যায়াম করতে পারেন। বাতের ব্যাথায় যোগ ব্যায়াম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে। বাতের ব্যথার গুরুতর পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যায়াম করা উচিত নয়।
তেল মালিশ বেশ উপকারি
শরীরের যেকোনো ব্যথায় তেল মালিশের প্রচলন অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। বাতের ব্যথাও বিপরীত নয়, এমন ব্যথায় সঠিক পদ্ধতিতে তেল মালিশ খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল মালিশে পেশীর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যার ফলে ব্যাথা এবং জড়তা কমাতে কার্যকর। অন্যদিকে আক্রান্ত স্থানে সঠিক নিয়মে মালিশে সাময়িক ব্যথা কমিয়ে আরাম মিলায় সঙ্গে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে।
বাতের ব্যাথায় আপনি অলিভ অয়েল, কালোজিরা তেল, সরিষার তেল, নারকেল তেল, তিলের তেল দিয়ে মালিশ করতে পারেন। জয়েন্টের প্রদাহতে মালিশের আগে তেল উষ্ণ গরম করে নেওয়া উচিত। এমন ব্যাথায় নিয়মিত সঠিক নিয়মে মালিশে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পারেন।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
বাতের ব্যথার নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার ডায়েটে রাখা জরুরী। বিশেষ করে বাতের ব্যথার প্রদাহ কামাতে পারে এমন খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার জয়েন্টের প্রদাহ কমাতে সবচেয়ে উপকারী। একই সঙ্গে সবুজ শাকসবজি খাওয়া উচিত কেননা এগুলো এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেলেও বেশ উপকারিতা পাওয়া যায়। কেননা বাতের ব্যথায় ভিটামিন সি কার্টিলেজের সুরক্ষা প্রদান করতে পারে।
বেশ কিছু বাদাম ও বীজ যেমন কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখী বীজ শরীরের জয়েন্ট শক্তিশালী করতে কাজ করে। বাতের ব্যথায় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও ভুলবেন না। বাতের ব্যথার প্রদাহ কমাতে শরীর হাইড্রেট রাখাও জরুরি।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
শরীরের অতিরিক্ত ওজন বাড়তি একটা বোঝার মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন আপনার অতিরিক্ত ওজন থাকলে বাতের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাটু, কোমর এবং পায়ের জয়েন্ট গুলোতে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করে।
আরো পড়ুনঃ কিডনি ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন।
তাছাড়া অতিরিক্ত ওজন কাজকর্ম হাঁটাচলা সহ সকল কিছুতে কষ্ট এবং ব্যথা অনুভব করাতে পারে। আপনার শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে বাতের ব্যথার প্রদাহ কমাতে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণ করুন। বড় কথা বাতের ব্যাথার পাশাপাশি আপনার শরীরে বাড়তি ওজন থাকলে সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে
বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ব্লগটিতে কিছু প্রতিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বাতের ব্যথা বলতে জয়েন্টের প্রদাহকে বুঝায়। এমন সমস্যা বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ফোলাভাব সৃষ্টি করে ব্যথার প্রবণতার লক্ষণ দেখা দেয়। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা মনে করেন, বয়স বাড়লেই বুঝি বাতের ব্যথা হয়। বাতের ব্যাটা মূলত যেকোন বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আর্থসাইটিস এর সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্লগটির এই পর্বে কি খেলে বাতের ব্যাথা বাড়ে এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো।
- দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হয় যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট কিছু দুগ্ধজাত খাবার রয়েছে যেগুলা বাতের ব্যথা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফ্যাট যুক্ত দুগ্ধজাত খাবার যেমন মাখন, পনির, আইসক্রিম এবং ঘন ক্রিম বাতের প্রদাহ বাড়াতে পারে। কেননা এ সকল খাবার থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ক্যাসেইন নামক প্রোটিনের অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ যে কোন খাবার শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আপনার বাতের ব্যথা থাকলে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার না খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। কেননা চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রদাহ বিরোধী এগুলো শরীরে সাইটোকাইনস নিঃসরণ বাড়ায় যার ফলে জয়েন্টের ব্যথা এবং ফোলাভাব বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত চিনি শরীরের রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন রক্তের শর্করা মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডাইবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
- কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে এমন খাবারের তালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবার খুব বেশি ক্ষতিকর। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফ্যাট এবং অতিরিক্ত লবণ জয়েন্টের প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে খুবই কার্যকর। আপনার বাতের ব্যাথা থাকলে ফাস্টফুড, বার্গার, পিজা, প্যাকেটজাত খাবার, বেকারি খাবার ইত্যাদি বর্জন করা উচিত। এককথায় এগুলো অস্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত খাবার যা শরীরের বিভিন্য স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টিতে দায়ী।
- বাতের ব্যথার প্রবণতায় চর্বিযুক্ত লাল মাংস এড়িয়ে চলা উচিত। কেননা এগুলোতে ট্রান্সফ্যট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। এজন্য লাল মাংস রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়ায় যা থেকে বাতের ব্যথার তীব্রতা বাড়ে। বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস সহ প্রসেসড যেকোন মাংস বাতের ব্যথার তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বাতের ব্যথায় চর্বিযুক্ত লাল মাংসের পরিবর্তে চর্বিহীন মাংস খেতে পারেন।
- কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে এমন খাবারের তালিকায় ডিমের কুসুম রাখা যায়। কেননা ডিমের কুসুমে চর্বি এবং কোলেস্টেরল বেশি থাকে এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের বাতের ব্যথা, ফোলাভাব এবং জয়েন্টের তীব্রতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে বাতের ব্যথায় ডিমের সাদা অংশ উপকারী। ডিমের কুসুম রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে যা ব্যাথার তিব্রতা বাড়াতে কার্যকর। বাতের ব্যাথায় ডিমের কুসুম খুব অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার বাতের ব্যথায় খুবই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন সমস্যায় বিশেষ করে সাদা চাল, ময়দা, চিনি, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং মিষ্টি পানীয় শরীরের প্রদাহ তৈরি করে জয়েন্টের ব্যাথা এবং ফোলাভাব রাড়িয়ে তোলে। আপনার বাতের ব্যথা থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কার্বোহাইড্রেট মুক্ত খাবার অনুসরণ করা খুবই উপকারী। এক কথায় পরিশোধিত চিনি, ময়দা, আটা বাতের ব্যাথায় আক্রান্ত রোগীদের এরিয়ে চলাই উপকারী।
- অ্যালকোহল বা মদ্যপান সেবনে ফলে বাতের ব্যথার তীব্রতা অনেকটাই বাড়িয়ে তুলতে পারে। কেননা কোন ব্যক্তির অ্যালকোহল বা মধ্যপানের অভ্যাস থাকলে এগুলো ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে জয়েন্টের প্রদাহ সৃষ্টি করে। তাছাড়া অ্যালকোহল সেবনে লিভারের উপরে চাপের সৃষ্টি করে রক্তের প্রদাহকারী রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এজন্য যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল সেবন সহ ধূমপান বাতের ব্যাথায় অবশ্যই বর্জনীয়।
বাতের ব্যথার লক্ষণ গুলা কি কি
বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় এবং কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে এ সকল বিষয় কিছু তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাতের ব্যথা মানেই জয়েন্টের প্রদাহ চিকিৎসা বাসায় এটিকে আর্থ্রাইটিস বলে ধরা হয়। বাতের ব্যথার অনেক প্রকারভেদ রয়েছে তবে এগুলোর মধ্যে সামান্য কয়েক প্রকার মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যেমন অস্টিও আর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং গেটেবাত ইত্যাদি। আর্থাইটিস বা বাতের ধরন অনুযায়ী ব্যথার লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাতের ব্যথার লক্ষণ গুলি একই রকম হয়ে থাকে। চলুন ব্লগটির এই পর্বে বাতের ব্যথার লক্ষণ গুলো কি কি সেগুলো জেনে নিন।
- বাতের ব্যথার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল শরীরের জয়েন্টে প্রদাহ অনুভব করা। বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল থেকে ব্যথার সূত্রপাত হয়ে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জয়েন্টে বিরতিহীন ব্যাথা, জয়েন্টের শক্ত অনুভূতি সহ নাড়াচাড়া করতে ব্যথার অনুভূতি আসতে পারে। বাতের ব্যথার প্রবণতা রাতে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেশি অনুভূতি হয়।
- বেশিরভাগ বাতের ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তির সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে পেশী এবং জয়েন্টগুলো খুবই শক্ত অনুভূতি লক্ষ্য করতে পারেন। আক্রান্ত স্থানগুলোর ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতের ব্যাথার প্রবণতা শরীরে দেখা দিলে ক্রমশ অল্প হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও বিরতিহীন ব্যথার লক্ষণ আসে। বিশেষ করে এমন ব্যথা হাটু, কাঁধে, পায়ের গোড়ালির জয়েন্ট গুলোতে বেশি দেখা দেয়।
- বাতের ব্যথায় আক্রান্ত স্থান অর্থাৎ বিভিন্ন জয়েন্টে ফোলাভাব এবং লালচে ভাবের সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আক্রান্ত জয়েন্ট গুলতে গরম অনুভূতি পেতে পারেন। বাতের ব্যাথার তীব্রতায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মাঝারি থেকে তীব্র জ্বরের দেখা দিতে পারে। বাতের তীব্রতায় হাঁটাচলা কাজকর্ম থেকে যেকোনো কিছুতে অক্ষমতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তি সামনে এসে হাজির হতে পারে।
উপসংহার। বাতের ব্যথার কমানোর ঘরোয়া উপায়
বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়, কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে, বাতের ব্যথার লক্ষণ গুলো কি কি এ সকল তথ্য ব্লগটির উপরে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাতের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ জনিত সমস্যা যা একজন মানুষকে খুবই যন্ত্রণার সম্মুখীন করাতে পারে। এছাড়াও বাতের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অস্টিওপোরোসিস অর্থাৎ হাড়ের ক্ষয় জনিত সমস্যার ঝুকি বাড়াতে পারে। বাতের ব্যথায় একটা মানুষকে শারীরিক ভাবে দুর্বল করে। কারো কারো ক্ষেত্রে খুব দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে। বাতের ব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত।
তবে আপনি যদি চিকিৎসার পাশাপাশি বাতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন সেক্ষেত্রে প্রদাহ এবং ব্যথায় বেশ আরাম মেলাতে পারবেন। তবে মাথায় রাখবেন তীব্র বাতের ব্যথা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায় অবলম্বন সহ চিকিৎসার বিকল্প নাই।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url