কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়ে এমন সমস্যায় বেশ উপকার মেলানো যেতে পারে। কিডনি যা আমাদের কোমরের ডান এবং বাম পাশে হাড়ের মাঝখানে অবস্থিত। মূত্রনালীর সংক্রমণ কিডনিতে পাথর সহ কিডনির যেকোনো সংক্রমনে এমন ব্যথার দেখা দিতে পারে।
আপনি যদি কিডনিতে এমন কোন প্রকার ব্যথার লক্ষণ উপলব্ধি করেন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ খুবই জরুরী একই সঙ্গে ঘরোয়া কিছু প্রতিকার অবলম্বনে কিডনির ব্যথায় স্বস্তির মেলাতে পারেন। নিচে কিডনি ব্যথার বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন
পানির অপর নাম জীবন যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি কিডনিতে কোন প্রকার ব্যথা অনুভব করেন তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা কিডনি আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান কিডনিতে কোন প্রকার স্টোন বা ছোট পাথর বের করতে বেশ ভূমিকা রাখে।
কিডনির এমন কাজটি সম্পূর্ণরূপে করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি শরীর থেকে বিষাক্ত খনিজ উপাদান বের করতে সাহায্য করে। যা কিডনির সাধারণ সংক্রমণ রোধ করে ব্যথা কমাতে বেশ জরুরী। তবে আপনার যদি ডাইবেটিস থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করুন।
ব্যথা স্থানে গরম সেক দিতে পারেন
কিডনিতে ব্যথা বিশেষ করে পিঠের মাঝের দিকে পাঁজরের ঠিক নিচে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অনুভূতি হতে পারে। কিডনির এমন ব্যথায় আপনি ব্যথা স্থানে গরম সেঁক দিলে সাময়িক আরাম মেলাতে পারেন। কিডনিতে পাথর কিংবা পেশির খিচুনিতে হওয়া এমন ব্যথায় গরম সেক দিলে পেশী শিথিল করে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে বেশ কার্যকর
এজন্য গরম পানিতে কাপড় বা তলে ভিজিয়ে অথবা হিটিং প্যাড দিয়ে ব্যথার স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেক দিতে পারেন। যদি আপনার কিডনিতে এমন ব্যথার উপদ্রব খুবই তীব্র হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা জরুরি
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম করা উপকারী। তবে আপনি যদি কিডনি ব্যথার লক্ষণ অনুভব করেন তাহলে তো বিশ্রাম খুবই জরুরী। কিডনি ব্যথায় পর্যাপ্ত বিশ্রামের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যার ফলে কিডনির উপর থেকে চাপ কমে।
তাছাড়া গবেষণায় প্রমাণিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালে শরীরের রক্তচাপ কমে যায় যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে উপকারী। এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামে ব্যথা ও অস্বস্তি কমিয়ে সংক্রমণ রোধে সহায়তা করতে পারে। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ভারী কাজ এড়িয়ে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার কম খান
আপনি যদি কিডনি স্টোন বা কিডনির কোন প্রকার সংক্রমণ শারীরিক ভাবে অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া উপকারী। কিডনিতে সমস্যা থাকার ফলে ভিটামিন সি গ্রহণে শরীরে অক্সলেট উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় যা কিডনি ফেলিওরের দিকে ধাবিত করতে পারে।
কিডনির সমস্যায় উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি গ্রহণ কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর যা ব্যথা তীব্রতা বাড়াতে পারে। এজন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলালেবু, মালটা, আমলকি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি কম খান। ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট এ সময় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। তবে সবচেয়ে উপযুক্ত হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের ধরন নির্বাচন করা।
কিছু ভেষজ চা উপকারী
কিডনিতে ব্যথা কমানোর ঘড়োয়া উপায় হিসেবে কিছু ভেষজ চা খেতে পারেন। এমন সমস্যায় বিশেষ করে তুলসি চা, আদা চা, গ্রিন টি বেশ উপকারী। কেননা এগুলো কিডনিতে হওয়া ব্যথা ও প্রদাহ কমিয়ে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ড্যান্ডেলিয়ন রুট চা, হিবিস্কাস চা দৈনিক সর্বোচ্চ এক কাপ সহায়ক প্রতিকার হিসেবে খেতে পারেন। কিডনির সমস্যায় আপনি লেবু পানি খেতে পারেন এটাও কার্যকর। লেবু পানিতে থাকা আন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য কিডনির রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে শরীরকে ডিটক্স করে কিডনিকে সুস্থ রাখতে কার্যকর।
ধনেপাতা ও তুলসী পাতা
কিডনিতে ব্যথা হলে ধনেপাতা ও তুলসী পাতা পরিমাণ মতো খেলে উপকার পেতে পারেন। আপনার যদি কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকে ধনেপাতা ও তুলসী পাতা কিডনির পাথর ভেঙে বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিয়ে শরীরকে ডিটক্স করে এই প্রাকৃতিক উপাদান গুলো।
তুলসী পাতাতে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইনফ্লামেটরি গুণ থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যা কিডনির ব্যথা সহ কার্যকারিতা বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধনেপাতা ও তুলসী পাতা থেকে কিডনি ব্যাথায় উপকারিতা মেলাতে। এই প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রস বের করে চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে এক থেকে দুইবার খেতে পারেন।
কিডনি ব্যাথার কারণ গুলো জানুন
কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ব্লগটিতে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংগ কিডনি। কিডনি মূলত শরীরের রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ সেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এবং সঙ্গে শরীরের পানী ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে ও উচ্চ রক্তচাপ সহ বিভিন্ন হরমোন উৎপাদনে খুবই কার্যকরী। কিডনিতে কোন প্রকার সংক্রমণ সহ সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা অনুভব হতে পারে। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে কিডনি রোগির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আজকের ব্লগের এই পর্বে কিডনি ব্যথার কারণ গুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।
আরো পড়ুনঃ রক্ত শুন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন এখানে।
- মূত্রনালীর সংক্রমণ অর্থাৎ প্রস্রাবের সংক্রমণ দেখা দেওয়া। মুত্রনালির সংক্রমণ যদি সময় মত চিকিৎসা না করা হয় তাহলে জীবানু ধীরে ধীরে কিডনিতে প্রতিক্রিয়া ঘটায়। যা থেকে কিডনির ব্যথা সহ কিডনিতে পাইলোনেফ্রাইটিস সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সংক্রমনে কখনো কোমরের দুই পাস কখনো এক পাশে তীব্র ব্যথা সহ শরীরের জ্বর, কাঁপুনি এবং বমি বমি ভাবের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মূত্রনালী সংক্রমণ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যা নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।
- কারো কিডনিতে পাথরের সমস্যা দেখা দিলে কিডনি ব্যথা হওয়া প্রধান কারণ বলে ধরা যায়। মূলত কিডনিতে তৈরি কৃত পাথর মূত্রনালীতে নেমে এসে মুত্রনালী আটকে দেয় যার ফলে তীব্র ব্যথা অনুভূতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ব্যথা পাঁজরের নিচে, তলপেট এবং কুচকির নিচে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাথরের সমস্যায় প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, ঘন ঘন প্রস্রাব সহ শরীরের জ্বর ও কাপুনির দেখা মিলতে পারে। কেননা কিডনিতে পাথর প্রস্রাব আটকে দেয় যার ফলে কিডনি ফুলে এমন ব্যথার সৃষ্টি করে।
- জেনেটিক বা বংশগত কারণ কিডনি ব্যথা সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ এর মত জেনেটিক সমস্যায় কিডনির ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বংশগত কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা, আলপোর্ট সিনড্রোম ইত্যাদি বংশগত কিডনির সমস্যায় এমন ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যে কিডনির সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হবেন। কেননা বংশগত ভাবে কিডনির সমস্যায় খুব অল্প বয়সে কিডনিতে শুরু হতে পারে। এজন্য পরিবারের ইতিহাস থাকলে এবং আপনি কোন লক্ষণ উপলব্ধি করলে অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
- যদি কোন ব্যক্তির কিডনিতে টিউমারের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে কিডনি ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষত টিউমার বড় হয়ে কিডনির উপরে চাপ সৃষ্টি করে। আশপাশে টিস্যু ও স্নায়ুতে রক্তক্ষরণ এবং সংক্রমণ ঘটায় যা থেকে কিডনিতে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যায় কোমরের একপাশে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া সহ কখনো কখনো রক্ত বের হতে পারে। শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিয়ে শরীরের ওজন দ্রুত কমে যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে রাতে শরীরের প্রচন্ড জ্বর সহ শরীরে তীব্র ঘাম হতে পারে।
- কিডনিতে কোন প্রকার আঘাত লাগলে আঘাতের ধরন অনুযায়ী কিডনিতে ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন। বিশেষ করে কোন দুর্ঘটনা থেকে আঘাত, কোন জায়গা থেকে পরে যাওয়া, খেলাধুলার সময় আঘাত ইত্যাদি যেকোনো আঘাত থেকে কিডনিতে ব্যথা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সময় কিডনির আঘাত প্রাপ্ত স্থানে ব্যাথা সহ ফুলে যেতে পারে সঙ্গে প্রস্রাবে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা হলেও কিডনিতে ব্যথা হতে পারে।
- আপনি যদি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না রাখেন। তাহলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিয়ে কিডনির ক্ষতি করে এমন ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া অনেকে বাজার থেকে ব্যাথা নাশক ওষুধ কিনে খান। ব্যথা নাষক ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে কিডনির সমস্যা তৈরি হয়ে এমন ব্যথার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। খাদ্য রুটিনের অতিরিক্ত লবণ, জাঙ্ক ফুড, অ্যালকোহল এবং ধূমপান কিডনির সমস্যা তৈরি করে ব্যাথার সৃষ্টি করতে খুবই কার্যকর।
- হাইড্রোনেফ্রোসিস মূলত কিডনিতে পানি জমা করে থাকে যা থেকে তীব্র কিডনি ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে কিডনি থেকে মুত্রাশয়ের প্রস্রাব যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি হয়। এর ফলে কিডনি ফুলে গিয়ে পিঠের পাশে পাঁজরের নিচে ও কুঁচকিতে খুবই ব্যথা উপলব্ধি করাতে পারে। এমন সমস্যায় ঘন ঘন প্রস্তাবের বেগ সহ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে। হাইড্রোনেফ্রোসিস এবং কোন প্রকার কিডনির সমস্যা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেননা এ সময় চিকিৎসা সেবা না নিলে দীর্ঘস্থায়ী কিডনির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
কিডনি ব্যথার লক্ষণ কি কি
কিডনির ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সহ বেশ কিছু কিডনি ব্যথার কারণ ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এমন অনেকে রয়েছেন যাদের কোমরের দুই পাশ ব্যথা অনুভব হলেই ধরে নেন কিডনির সমস্যা হয়েছে। শুধু কোমরের দুই পাশে ব্যথা মানেই কিডনির সমস্যা নয় এর পেছনে নানান কারণ থাকতে পারে। কিডনির সমস্যাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, একটি হল কিডনির সংক্রমণ বা ইনজুরি অন্যটি কিডনি ডিজিজ। এই ব্লগটিতে এখন কিডনির ব্যথা সম্পর্কিত বেশ কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হবে। নিচে কিডনি ব্যথার লক্ষণ কি কি সেগুলো উল্লেখ করা হলো।
- কিডনিতে কোন প্রকার সংক্রমণ যেমন ইউরিন ইনফেকশনের কারণে। পিঠের নিচের অংশে কোমরের দুই পাশে হালকা মাঝারি থেকে কখনো কখনো তিব্র ব্যথা হতে পারে। মাঝেমধ্যে এক পাশে বা দু পাশে চাপ যুক্ত গভীর ব্যথার প্রবনতা দেখা দেওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। কিডনির সংক্রমণ কোমড়, তলপেটে এবং কুচকি পর্যন্ত ছড়াতে পারে। এমন সমস্যায় নারীদের ক্ষেত্রে ব্যথা পিরিয়ডের ব্যথার মত অনুভব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কিডনির সংক্রমণ যেহেতু প্রস্রাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এমন সমস্যায় মূত্রথলিতে প্রস্রাব আটকে পড়ে যা থেকে অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দেয়। প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়ে লালচে বাদামী রঙ ধারন করে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে প্রস্রাবের সময় প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন। এমন ব্যথা কিডনিতে পাথর হওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিলে হঠাৎ করে তীব্র কনকনে ব্যথার লক্ষণ সঙ্গে দেখা দিতে পারে।
- কিডনির সমস্যায় ব্যথার প্রবণতার তীব্রতায় প্রস্রাবে সমস্যার সঙ্গে মাঝে মাঝে প্রসাবে ক্ষুদ্র গোলাপী, লাল বা বাদামী রংয়ের রক্ত কণা বের হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের প্রচুর ক্লান্তি এবং দুর্বলতার দেখা মেলা খুবই সাধারণ ব্যাপার। শরীরে জ্বরের প্রবণতা সহ কাঁপুনি দেখা দিতে পারে একই সঙ্গে ঠান্ডা অনুভব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু না একই সঙ্গে বমি বমি ভাব সহ মাঝেমধ্যে বমি হতে পারে।
- কিডনি ডিজিজ অর্থাৎ কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে কিডনিতে মৃদু এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার প্রবণতা দেখা দেয়। মাঝেমধ্যে যা খুবই অসহনীয় একই সঙ্গে মুখ, হাত, পা সহ শরীরের জয়েন্ট গুলোতে লালচে বর্ণ ধারণ করে ফোলা ভাব ও ব্যথা হতে পারে। কেননা এ সময় কিডনি বিষাক্ত পদার্থ থেকে বের করে দিতে ব্যর্থ হয় যার ফলে এগুলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমতে শুরু করে। কিডনির সমস্যার এমন লক্ষণগুলো উপলব্ধি করলে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন।
শেষ কথা। কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়
কিডনি ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়, কিডনিতে ব্যথা হওয়ার কারণ সহ কিডনির সমস্যার লক্ষণ গুলো ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। কিডনি শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে খুবই জরুরী। আপনি কিংবা আপনার পরিবারের কেউ কিডনি সংক্রমনে এমন লক্ষণ উপলব্ধি করেন। মাথায় রাখবেন এগুলো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হতে পারে। এজন্য একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ইউরিন পরীক্ষা সহ আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করুন।
সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নিন। কিডনির সমস্যার ব্যথার প্রবণতায় উপরোক্ত ঘরোয়া প্রতিকার সহায়ক মাত্র। এমন সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাইহোক এতক্ষণ কিডনি ব্যথার দূর করার ঘরোয়া উপায় ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url