কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি এমন সমস্যায় কিডনির ব্যথা বলে মনে করেন অনেকে। তবে হঠাৎ করে এমন সমস্যায় কিডনির সমস্যা ছাড়াও বেশ কিছু কারণেই ব্যথা হতে পারে। কেননা কিডনিতে পাথর বা কোন প্রকার সংক্রামন ছাড়া কোমরের দুই পাশে ব্যথা সাধারণত হয় না।

কোমড়
কোমরের দুই পাশে ব্যথা মূলত সাধারন সমস্যা যা যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা দিতে পারে। চলুন আজকের এই ব্লগটিতে যে সকল কারণে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে সেগুলো জেনে নিন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি

কোমরের দুই পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ কি 

কোমরের দুই পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্নে বলা যায় বেশ কিছু সাধারন কারণে কোমরের দুপাশে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে কোমড়ের দুই পাশে ব্যথা বলতে কোমরের হাড়, মাংসপেশি সহ স্নায়ুতে তৈরিকৃত ব্যাথাকে বোঝায়। কোমর ব্যথাকে চিকিৎসা ভাষায় লো ব্যাক পেইন বলা হয়। কোমড়ে দুই পাশে ব্যথা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশ কিছু সাধারণ কারণসহ কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় এমন ব্যাথার সৃষ্টি হতে পারে। নিচে কোমর ব্যথার প্রয়োজনীয় কিছু কারণ তুলে ধরা হলো। 

দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা 

দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার ফলে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হওয়ার খুবই সাধারণ কারণ বলে বিবেচিত। বিশেষ করে আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকেন তাহলে এমন ব্যথার প্রবণতায় পড়তে পারেন। অনেকে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে ঝুঁকে কাজ করে। ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে ঝুকে কাজ করার ফলে কোমরের পেশীতে টান লেগে পেশির ভারসাম্যহীনতা নষ্ট হয়। যার ফলে মেরুদন্ডের উপরে চাপ পড়ে কোমরের দুই পাশে ব্যথা অনুভব করাতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় শুয়ে থাকলেও এমনটা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় না থেকে অবশ্যই মাঝে মাঝে হাটাচলা করে বিরতি নিন।

অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব 

কোমরের দুই পাশে ব্যাথা হওয়ার প্রবণতা সৃষ্টিতে শরীরের অতিরিক্ত ওজন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার শরীরে যদি অনিয়ন্ত্রিত ওজন থাকে তা থেকে মেরুদন্ডের উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। যা থেকে কোমরের দুই পাশ সহ মেরুদন্ডে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। শুধু শরীরের অতিরিক্ত ওজনই নয় আপনি অতিরিক্ত ভারী পরিশ্রম করলে, কোমর এবং মেরুদন্ডে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। 

শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সামান্য হলেও পরিশ্রম প্রয়োজন। আপনি সারাদিন শুয়ে বসে সময় কাটালে এর ফলে কোমরের চারপাশের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যা থেকে মেরুদণ্ড শরীরের চাপ সহ্য করতে ব্যর্থ হতে পারে। এমন সমস্যা থেকে কোমরের দুই পাশ ব্যথা সহ শারীরিক দুর্বলতা এবং অল্প পরিশ্রমে খুবই মেরুদন্ডে ব্যাথা অনুভব হতে পারে। আপনার শুয়ে বসে থাকার অভ্যাস থাকলে দৈনিক কিছু সময় ব্যায়াম করতে পারে। 

প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে 

শরীরের হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শরীরের ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতিতে কোমরের দুই পাশে ব্যথা সহ ঘাড় এবং মেরুদন্ড ব্যথা হতে পারে। কেননা এমন পুষ্টির অভাবে শরীরে অস্টিওপোরোসিস অর্থাৎ পেশি ও হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে এমন ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়াও কারো কারো শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে কোমরে ব্যথা হতে পারে। স্নায়ুর উপড়ে চাপ পড়ার ফলেও কোমরের দুই পাশে ব্যথা হয়ে ব্যাথা পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

মূত্রনালীর সংক্রমণ 

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি এমন সমস্যায়  আতঙ্কিত হয়ে কিডনির সমস্যা বলে ধরেন অনেকে। কিডনির সমস্যায় সরাসরি কোমরের দুই পাশে ব্যাথা নাও হতে পারে। তবে মূত্রনালীর সংক্রমণ যা কিডিনি সংক্রান্ত সমস্যা এর ফলে কোমরের দুই পাশে ব্যাথা হওয়া এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোমরের দুই পাশে ব্যাথা হওয়ার গুরুতর সাধারণ কারণ বলে ধরা যায় মূত্রনালীর সংক্রমণকে। 

বিশেষ করে এমন ব্যথা মেরুদণ্ড থেকে কিছুটা দূরে বাম বা ডান পাশে উপলব্ধি হতে পারে। অন্যদিকে কারো শরীরের কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো গুরুতর সংক্রমণে কোমরের দুই পাশে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এমন সমস্যায় কোমরে ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। মূত্রনালীর সংক্রমন দীর্ঘস্থায়ী হলে কোমরে ব্যথার সঙ্গে শরীরের জ্বর এবং কখনো কখনো প্রস্রাবে রক্ত বের হতে পারে। 

শরীরে আর্থাইটিসের দেখা মিললে 

কোমরের দুই পাশে ব্যাথা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আর্থ্রাইটিসের সমস্যা। এমন সমস্যায় শরীরের হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা দেখা দেয় যার ফলে জয়েন্ট গুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কোমরের ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। শরীরে ফ্যাসেট জয়েন্ট অর্থপ্যাথি, অস্টিও আর্থাইটিস, অস্টিওপরোসিস ইত্যাদির কারণে পিঠের নিচের অংশে অর্থাৎ কোমরে ব্যথার প্রবণতা দেখা দেয়। শরীরে এমন আর্থ্রাইটিসে সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমরের ব্যথা সহ শক্ত অনুভব করতে পারেন। এমন সমস্যার তীব্রতায় শরীরের জয়েন্টে প্রদাহ সহ বসে উঠে দাঁড়ালে খুব ব্যথা উপলব্ধি হতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ বাম ঘাড় ব্যাথা কিসের লক্ষণ জানুন এখানে।

ক্যান্সারের সমস্যায়

ক্যান্সারের সমস্যায় কোমরের দুই পাশে ব্যথা হওয়ার সমস্যা বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিডনির ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, রক্তের ক্যান্সার সহ নারীদের জরায়ুর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এমন ব্যথার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ক্যান্সারের ফলে কোমরের ব্যথায় তীব্র ব্যথা হয় যা দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে থাকতে পারে।

কোমড়ের-দুই-পাশ

এ সময় কোন কারণ ছাড়া শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিয়ে হঠাৎ ওজন কমে যেতে পারে। এমন সমস্যায় কোমর ব্যথা হওয়া খুবই গুরুতর সমস্যা। এমন লক্ষণ যদিও কমন নয় তবে আপনি উপলব্ধি করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 

কোমরের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় 

আজকের এই ব্লগে কোমড়ের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি এ ব্যাপারে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। কোমর ব্যথার সমস্যা সাধারণ হলেও অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। অনেকে তো আবার এমন ব্যথার উপশমের জন্য বিভিন্য চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন সঙ্গে অনেক ওষুধপত্র সেবন করে থাকেন। ঘরোয়া কিছু উপায়ে কোমর ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসায় এমন সমস্যা থেকে অনেকটাই স্বস্তি মেলানো যেতে পারে। ব্লগটির এই পর্বে কোমর ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো। 

  • শরীরের কোমড় হোক কিংবা যেকোন স্থানে ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরম সেঁক বেশ কার্যকর পদ্ধতি। আপনি যদি কোন প্রকার আঘাতে কোমরে ব্যথা পেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় ঠান্ডা বরফের সেঁক দিতে পারেন। এ সময় ঠান্ডা সেঁকে ব্যথা, প্রদাহ ফোলাভাব কমাতে খুবই কার্যকর। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আরাম মেলাতে গরম সেঁক বা হিটিং প্যাড ব্যবহারে রক্তনালি প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে পেশী শিথিল করতে  খুবই কার্যকর। ব্যথার ধরন অনুযায়ী আপনি ঠান্ডা বা গরম সেক দিতে পারেন। সরাসরি এমন উপকরন ত্বকে লাগাবেন না সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যবহার যথেষ্ট।
  • কোমরের দুই পাশে ব্যাথার সমস্যায় প্রদাহ ও ব্যথা কমিয়ে আরাম মেলাতে আলতো করে ব্যথা স্থানে তেল মালিশ খুবই কার্যকারী। আপনার কোমরের পেশীতে টান লাগা বা শক্ত হয়ে গেলে সঙ্গে আর্থ্রাইটিসে ব্যথা উপলব্ধি হলে তেল মালিশ বেশ কার্যকর। এজন্য নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে হালকা গরম করে পরবর্তীতে তা ঠান্ডা করে ব্যথা স্থানে মালিশ করুন। সরিষার তেলের সঙ্গে কিছু রসুন কুচি মিশিয়ে উষ্ণ গরম করে তাও ব্যবহার করতে পারেন। কোমর ব্যথায় তেল মালিশ ঘুমানোর আগে বেশ উপযুক্ত। এমন মালিশে আক্রান্ত স্থানের প্রদাহ এবং ব্যথা কমিয়ে আ্রাম মেলাতে পারে। 
  • আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ একই স্থানে বসে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করেন একই সঙ্গে যেকোন কাজকর্ম করেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখুন। বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে না ঝুকে মেরুদণ্ড সোজা রাখুন মাঝে মাঝে বিরতি নিন। নরম বিছানায় ঘুমাবেন না হালকা শক্ত বিছানা এবং সমতল জায়গা নির্বাচন করুন। আপনার কোমরের দুই পাশে ব্যথায় ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। ভারী কোন কিছু উত্তোলন করতে হলে না ঝুকে হাটু ভাঁজ করে তুলুন। সর্বোপরি কোমরের দুই পাশে ব্যথায় ঘরোয়া প্রতিকারের পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুন। 
  • কোমরের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের দিকেও নজর রাখুন। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সময়। এমন পুষ্টির চাহিদা পূরণে আপনি সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বীজ, ওমেগা থ্রি ফাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এছাড়াও কিছু ভেষজ খাবার প্রদাহ বিরোধী হিসেবে ব্যথা উপশমে উপকার করতে পারে। এজন্য আপনি আদা চা, গ্রিন টি, লবঙ্গ চা এবং দুধের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। এমন ভেষজ খাবার কোমরের দুই পাশে ব্যথায় নিয়মিত খেলে পেশির প্রদাহ কমিয়ে দ্রুত ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকর। কোমর ব্যথায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, পেশীর নমনীয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। 

কোমরের ব্যথা কমানোর ব্যায়াম 

কোমরের দুইপাশে ব্যথার কারণ কি? কোমর ব্যথার কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ব্লগটিতে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে কোমর ব্যথা খুবই সাধারণ কারণে দেখা দেয়। এমন ব্যথা সমাধানের জন্য সাধারণ কিছু ব্যায়াম খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এক কথায় বলতে হয় সাধারণ কোন কারনে কোমরের ব্যথায় ওষুধের চেয়েও বেশ কার্যকর সহজ কিছু ব্যায়াম। ব্লগের এই পর্বে এখন কোমরে ব্যথা কমানোর সহজ কিছু ব্যায়ামের কথা উল্লেখ করা হবে। 

আরো পড়ুনঃ মাথার তালুতে ব্যাথা হলে করনীয় সম্পর্কে জানুন।

  • আপনার কোমর ব্যথায় আরাম মেলাতে কোমরের পেশি শিথিল করার জন্য হাটু বুকের দিকে টানার ব্যায়াম করতে পারেন। এজন্য চিত হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ভাঁজ করে আপনার বুকের দিকে টানুন। এভাবে ক্রমান্বয়ে দুই হাটু বুকের দিকে টেনে রাখতে পারেন । প্রতি হাটু টানার সময় ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। উপকারিতা মেলাতে দুই পায়ের হাটু সর্বোচ্চ ১০ বার করে এমন ব্যায়াম করতে পারেন। 
  • আপনার কোমরের পেশী গুলোর শক্তি বৃদ্ধি করে কোমরের ব্যথা কমাতে পেলভিক টিল্ট ব্যায়ামটি করতে পারেন। এজন্য চিতঁ হয়ে মেঝেতে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পা মেঝেতে রাখুন, হাত শরীরের পাশে স্বাভাবিক ভাবে রাখুন সঙ্গে মাথা ও কাধ আরামদায়ক ঢিলা রাখুন। এরপরে বাড়তি করে ভেতরে শ্বাস নিন, পরবর্তিতে ধাপে ধাপে শ্বাস আস্তে আস্তে ছাড়ুন এবং পেট ভেতরের দিকে টানুন। কোমরের নিচের অংশ মেঝের দিকে চেপে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড একই অবস্থায় থাকুন। এরপর আস্তে আস্তে শ্বাস নিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ শিথিল এবং সোজা করুন। 
  • কমড়ের ব্যথা কমাতে উপকারী ব্যামে ক্যাট কাউ স্ট্রেচ ব্যায়াম করতে পারেন। এমন ব্যায়াম মেরুদন্ডের ব্যথা কমাতে কার্যকর। এজন্য হাত ও হাটু ভর দিয়ে বসুন, এরপর শ্বাস নিয়ে পিঠ নিচের দিকে নামান সঙ্গে শ্বাস ছেড়ে পিঠ গোল করুন। এমন ব্যায়াম দৈনিক দুই থেকে তিনবার করতে পারেন। কোমরের ব্যথা কমানোর এমন ব্যায়াম করার সময় একই অবস্থান ১০ থেকে ১৫ বার বজায় রাখুন। 
কোমড়
  • কোমরের ব্যথা কমাতে চাইল্ড পোজ ব্যায়াম ব্যথা ও পেশীর টান কমাতে বেশ উপকারি। এজন্য হাটু ভাঁজ করে সামনে ঝুকে পড়ুন, হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য রেখে দিন। কোমর শক্তিশালী করার জন্য ব্রিজ ব্যাম করা খুব উপকারী। এজন্য চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে ধীরে ধীরে কোমর উপরে তুলুন। একই নিয়মে ১০ বার, ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের জন্য এমন ব্যায়াম করতে পারেন। কোমরের দুই পাশে ব্যথায় উপশমে ব্যায়াম করার ফলে ব্যথার তীব্রতা বাড়লে, ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন, একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

উপসংহার। কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি 

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি, কোমর ব্যথার কমানোর ঘরোয়া উপায় এবং কোমরের ব্যথা কমানোর ব্যায়াম সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ ভাবে কোমড়ে ব্যাথা হলে ঘরোয়া প্রতিকার সহ প্রয়োজনীয় কিছু ব্যায়ামে নিরাময় সম্ভব হতে পারে। তবে আপনার যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় সঙ্গে শরীরের গুরুত্ব সমস্যার লক্ষণ মনে করেন। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। কোমরের দুই পাশে ব্যথা সাধারণ হলেও এটি গুরুতর ক্ষেত্রে বেশ জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

এজন্য এমন সমস্যায় অবহেলা না করে ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। চিকিৎসক যদি আপনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ব্যাথা নাশক ওষুধ সেবনে উৎসাহিত করে তা গ্রহণ করুন। সর্বোপরি কোমর ব্যথার সমস্যায় আপনার সতর্কতাই আপনাকে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে। 

                          (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url