বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ

ডান ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ এমন সমস্যায় আতঙ্কিত হন অনেকে। বাম হোক কিংবা ডান ঘাড় ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ বলে ধরা যায়। তবে ঘাড় ব্যথা কারো কারো ক্ষেত্রে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা লক্ষণ হতে পারে। 

ঘাড়

এজন্য আপনার এমন ব্যাথা হলে কি কারনে হচ্ছে তার সঠিক কারণ চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আজকের এই ব্লগটিতে বাম ও ডান ঘাড় ব্যথা হওয়ার কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরা হবে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ 

বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষ

বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ, যে সকল কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে সেগুলো ব্লগটির শুরুতেই আলোচনা করা হবে। ঘাড় ব্যথা মূলত মাথার নিচে ঘাড়ের অংশের আশপাশের মাংসপেশির লিগামেন্ট এবং স্নায়ুতে অনুভব করা ব্যাথা। ঘাড় ব্যথা সাধারণ হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। এছাড়াও সাধারণ ভাবে ঘাড় ব্যথা হলে কয়েক দিনের ভিতরে সেরে উঠতে পারে। বেশ কিছু কারণে ডান কিংবা বাম ঘার ব্যথা হতে পারে। চলুন প্রথমেই যে সকল কারণে ঘাড় ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো জেনে নিন। 

 ঘাড়ের ট্যিসু দুর্বল বা ক্ষয় হয়ে গেলে 

যদি কোন ব্যক্তির ঘাড়ে টিস্যুর দুর্বল বা ক্ষয় হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বাম ও ডান ঘাড়ে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ঘরের টিস্যু বলতে আমরা বুঝি পেশী, লিগামেন্ট, ডিস্ক ও স্নায়ু। আপনার শরীরে ঘাড়ে টিস্যু দুর্বল বা ক্ষয় হলে স্নায়ুর উপরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে দুই ঘারে ধীরে ধীরে তীব্রতা বেড়ে অসহ্যকর যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও মানব দেহের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতিতে ঘাড়ের ট্যিসু দুর্বল বা ক্ষয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ঘড়ের টিস্যু দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে মোবাইল কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনার যদি দীর্ঘক্ষণ ভুল অঙ্গ ভঙ্গিতে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহারের অভ্যাস থাকে তাহলে এমন সমস্যার মোকাবেলা করতে পারেন। ঘরের টিস্যু ক্ষয় হয়ে গেলে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে সঙ্গে ব্যথা তিব্র হলে হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মাঝারি আকারের ঘাড় ব্যথার প্রবণতায় ব্যথা মাথায় ছড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়ে হাতে ঝিমঝিম অনুভূতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সার্ভাইকাল স্পান্ডাইলোসিস হলে

বাম হোক কিংবা ডান ঘাড় ব্যথার অন্যতম লক্ষণ বলে বিবেচিত সার্ভাইকাল স্পান্ডাইলোসিস। সার্ভাইকাল স্পান্ডাইলোসিস মূলত ঘাড়ের কশেরুকা এবং হাড়ের ক্ষয় জনিত সমস্যা এমন সমস্যায় ঘাড় ব্যথা খুবই সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে মানব দেহের কঙ্কাল তন্ত্রের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমন সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ঘাড় ও কাঁধে প্রচন্ড ব্যথা, নায়ুতে চাপ, ঘাড় ঘোড়ালে হাড়ে ঘর্ষণ ইত্যাদির লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। তাছাড়া এমন সমস্যায় স্নায়ুর উপরে বাড়তি চাপ পড়ে যার ফলে ব্যথা ঘাড়ের পেছন থেকে মাথায় এবং হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্নায়ুতে চাপ পড়লে 

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে অনেকেই অনেক সময় প্রচন্ড ঘাড় ব্যথার কারণে ঘাড় ঘোরাতে পারেন না। স্নায়ুতে এমন চাপের ফলে বাম কিংবা ডান ঘাড় ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে রাতে ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে স্নায়ুতে চাপ পড়ে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।

এমন সমস্যায় কখনো বাম ঘার বা কখনো ডান ঘাড় ঘোরালে ব্যথা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে এমন ব্যাথা, কাধ বা হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত ছড়াতে পারে। স্নায়ুতে চাপের ফলে ব্যথার লক্ষণ কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে যা ঘরোয়া প্রতিকারের সমাধান সম্ভব। তবে এজন্য আপনি যদি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সম্মুখীন হন সেক্ষেত্র ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উপযুক্ত। 

আর্থ্রাইটিসের সমস্যা দেখা দিলে 

আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কোন অংশে কম নয় বাম বা ডান ঘাড় সহ সমস্থ জয়েন্টে ব্যথার প্রবণতা সৃষ্টিতে। ঘাড় ব্যথার অর্ধেক রোগীর রিউমাটওয়েড আর্থ্রাইটিস এর কারণে প্রদাহ ও ব্যথার দেখা দেয়। বিশেষ করে ব্যক্তির বয়স বাড়ার সাথে সাথে আর্থাইটিস বা বাতের ব্যথার সম্মুখীন হন অনেকে। এমন সমস্যায় শরীরের ঘাড় সহ জয়েন্টে প্রদাহ দেখা দেয় যা নাড়াচাড়া করতে খুবই ব্যথা অনুভব হয়।

এছাড়াও আর্থাইটিসের সমস্যায় জয়েন্ট ফুলে লালচে বর্ণ ধারণ করে উষ্ণ অনুভূতির দেখা মিলতে পারে। এমন সমস্যা শরীরের হাটু, ঘাড়, কোমর সহ সম্পূর্ণ কঙ্কাল তন্ত্রের জয়েন্টে হালকা থেকে তীব্র ব্যথার লক্ষণ দেখা দেওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। 

ঘাড়ের পেশীতে টান লাগলে 

বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ, এমন ব্যথার অনুভূতি তৈরিতে ঘাড়ের পেশী টান লাগা সাধারণ ব্যাপার। বেশকিছু কারণে যেমন ভারী ওজন বহন, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করার ফলে সাধারণ ভাবে, ঘাড়ের পেশীতে টান লেগে এমন ব্যথার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ঘাড়

তাছাড়া কোন প্রকার দুর্ঘটনার ফলে ঘাড়ে আঘাতে ব্যথা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বিশেষ করে ঘাড় ঘোরাতে অসুবিধা, ঘরের সঙ্গে কাঁধে ব্যথা সহ সাময়িক সময়ের জন্য খুবই ভোগান্তির স্বীকার করতে পারে। সঙ্গে পেশী অতিরিক্ত শক্ত হয়ে কয়েকদিন ব্যথা স্থায়ীভাবে বিরক্তি কর অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

বাম ঘাড় ব্যথা হলে করণীয় 

বাম ঘাড় ব্যথা হওয়ার লক্ষণ, কি কি কারনে ঘাড় ব্যথা হতে পারে এ ব্যাপারে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ঘাড় ব্যথার সমস্যা সাধারণ ভাবে যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষ করে বয়স ৪০ এর পর থেকে দেহের হাড়ের ক্ষয় জনিত সমস্যার দেখা মিলতে পারে। বাম ঘাড় বা ডান ঘাড় ব্যাথা হলে শারীরিক দুর্বলতা সহ বিরক্তিকর অনুভূতির সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণ ভাবে বাম বা ডান ঘাড় ব্যথা হলে কিছু করণীয় অনুসরণের মাধ্যমে ব্যথার তীব্রতা কমানো যেতে পারে। নিচে বাম ঘার ব্যাথা হলে করণীয় কি? সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ পায়ের গোড়ালি ব্যাথা কিসের লক্ষণ, প্রতিকারের উপায় জানুন।

  • যেকোন ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা গরম সেক খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যাথার ধরন অনুযায়ী ঠান্ডা বা গরম সেক নির্দিষ্ট করে দেওয়া উপযুক্ত। আপনি যদি হঠাৎ করে ঘরে কোন প্রকার আঘাত বা পেশীতে টান লাগার কারণে ব্যথা পান। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ঠান্ডা বরফ সেক দিলে ফোলাভাব এবং প্রদাহ কমাতে কার্যকর। তাছাড়া পুরনো ব্যথা থাকলে গরম সেক দেওয়ার ফলে পেশী শিথিল করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ব্যথায় আরাম মেলাতে বেশ ভুমিকা রাখে। তবে এমন উপকরণ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না অবশ্যই তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করা উচিত। 
  • বাম ঘাড় ব্যথার সমস্যায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের দিকে নজর রাখাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা থ্রি ফেটি অ্যাসিড ইত্যাদি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। এছাড়া ব্যথা কমাতে প্রদাহ বিরোধী কিছু ভেষজ খাবার খেতে পারেন।
  • আপনার ঘাড় ব্যথা অনুভব হলে এ সময় হালকা মাসাজ ও ব্যায়াম করা বেশ উপকারী। বিশেষ করে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার ক্ষেত্রে মাসাজ করা যেতে পারে। সঙ্গে নেক সাইট বেন্ড, নেট রোটেশন এবং সোল্ডার রোলের মতো ব্যায়াম করতে পারেন। 
  • ঘুমানোর সময় অবশ্যই সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখুন। অতিরিক্ত শক্ত এবং অতিরিক্ত নরম বিছানায় ঘুমানো থেকে বিরত থাকুন। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করলে  অতিরিক্ত ঝুকে ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত ঝুকে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ঘাড়ের পেশীতে টান লাগে এজন্য ঘার সোজা রাখুন। খুব উচু ও নরম বালিশ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। আরামদায়ক এবং সঠিক বালিশ ব্যবহার করা এ সময় খুবই জরুরী।
  • অনেকের মধ্যে পেশীতে টান লাগার কারণে তীব্র ঘাড় ব্যথার প্রবণতা দেখা দেয়। ঘাড় ব্যথায় করণীয় কি এমন প্রশ্নে অবশ্যই আপনাকে ভারী কাজ এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ভারী পরিশ্রমের ফলে ঘরের পেশীতে বাড়তি চাপ পড়ে যা থেকে ঘাড় সহ সম্পন্ন মেরুদন্ডে ব্যথা অনুভব হতে পারে। আপনি যদি দুর্ঘটনা বা কোন আঘাতের কারণে পেশীতে ব্যথা পান সেক্ষেত্রে ভারী পরিশ্রম না করে বিশ্রাম করুন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন এ সময়। 
  • বাম ঘার ব্যথা হলে করণীয় সম্পর্কে এই পর্বের ঘরোয়া পদ্ধতিতে যদি আপনার ব্যথা উপশম না হয়। ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে সঙ্গে ঝিনঝিন অনুভূতি সহ অবশ হওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ফিজিওথেরাপিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক আপনার ব্যথার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাথা নাশক ওষুধ সেবনে উৎসাহিত করতে পারেন। বাম ঘাড় হোক কিংবা ডান ঘাড় এমন সমস্যায় নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাবেন না। কেননা আপনার ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যাথা নাশক ঔষুধ সেবনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

ঘরের রগ ব্যাথার কারণ 

বাম ঘাড় ব্যথার লক্ষণ এবং ঘাড় ব্যথা হলে করণীয় কি এ ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাম হোক কিংবা ডান ঘাড় ব্যথার লক্ষণ সম্পর্কে আপনি এখন জানতে পেরেছেন। ঘাড়ের রগ অর্থাৎ পেশী ব্যথার ও বেশি কিছু কারণ থাকতে পারে। ঘাড়ের রগ ব্যথার কারণ গুলি ঘাড় ব্যথার লক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিচে ঘাড়ের রগ ব্যথার কারণগুলি সম্পর্কে তুলে ধরা হলো। 

  • ঘাড়ের রগ ব্যথা হওয়ার পেছনে ভুল অঙ্গ ভঙ্গিতে ঘুমানো সহ দীর্ঘক্ষণ সামনে ঝুকে মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করা বেশ ভূমিকা রাখে। ভারী ওজন বহন ঘাড়ের রগ ব্যথা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে সাধারণ বলে বিবেচনা করা যায়। ঘাড়ের রগ, স্নায়ু এবং মাংসপেশী ব্যথা হওয়া সাধারণ ব্যাপার তবে এটি অল্প সময়ের জন্য খুবই যন্ত্রণাদায় ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। যা সাধারণত পেশিতে টান লাগার ফলে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 
  • মেরুদন্ডের সমস্যা থেকেও ঘাড়ের রগ ব্যথা হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সার্ভাইকাল স্পান্ডাইলোসিস, স্লিপ ডিস্ক, আর্থাইটিস ইত্যাদির কারণে ঘাড়ের রগ অর্থাৎ পেশী ব্যথার প্রবণতা খুবই কমন ব্যাপার। এমন সমস্যার ফলে কঙ্কাল তন্ত্রের হাড় ক্ষয় সহ খুবই ব্যথার প্রবণতা অনুভব করাতে পারে। যা থেকে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব সহ ঝিন ঝিন অনুভূতি ও আড়সতার দেখা মিলতে পারে। 
ঘাড়
  • প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলে ঘাড়ের পেশীতে টান লাগার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যা দীর্ঘস্থায়ী হলে রগ বা পেশীতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে। আপনি যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন তা থেকে ঘাড়ের রগ ব্যথা হতে পারে। মানসিক টেনশনের ফলে ঘাড়ের রগে ব্যথার পাশাপাশি মাথা ব্যথা প্রবনতা ও দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হঠাৎ ঝাঁকুনি সহ পরে গিয়ে আঘাত পেলে ঘাড়ের রগ বা পেশিতে ব্যথা হতে পারে। 
  • শরীরের দীর্ঘস্থায়ী কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে ঘরের আশপাশে টিউমার বা সংক্রমনের ফলে, রক্তনালী বা স্নায়ুর জটিলতার কারণে  ঘাড়ের রগ ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো হৃদরোগের কারণে ঘাড়ের রগ সহ সম্পূর্ণ ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এটি যদিও বিরল তবে এমন ব্যথা হলে বাহু বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে মেনিনজাইটিস নামক মস্তিষ্কের প্রদাহ থেকে ঘাড়ের রগ ব্যথা হতে পারে। শরীরে উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঘাড়ের রগ বা পেশিতে ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন। 

উপসংহার। বাম ঘাড় ব্যথা কিসের লক্ষণ 

আজকের এই ব্লগটিতে বাম ঘাড় ব্যথা হওয়ার লক্ষণ, ঘাড় ব্যথা হলে করণীয় একই সঙ্গে ঘাড়ের রগ ব্যথা হওয়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি এমন ঘাড়ের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকে নজর রাখুন। এমন ব্যথা যদি আপনার জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটায়, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না এসে তিব্রতা বাড়তে থাকে। ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, জ্বর, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট অনুভূতি হলে। অবহেলা না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নিন। 

বাম হোক কিংবা ডান ঘাড় ব্যথা সাধারন হলেও এর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কথা মাথায় রাখা জরুরী। দীর্ঘস্থায়ী ঘাড় ব্যথা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অসনীয় সমস্যার সৃষ্টি করে। এজন্য সতর্কতা মেনে যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন সমস্যা নিরাময় সম্ভব হতে পারে। যাইহোক এতক্ষণ বাম ঘাড় ব্যথা হওয়ার লক্ষণ ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

                        (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url