হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

আজকের ব্লগটি, হাত-পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে। হাত পা চাবানোর সমস্যা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের বেলা বেশি দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের, সারাদিন ও রাত সকল সময় কম বেশি ব্যথার দেখা মিলতে পারে। হাত পা চাবানোর বেশ কিছু কারণ থাকতে রয়েছে, এগুলোর মধ্যে পুষ্টির অভাব, শরীরের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস ও পানি শূন্যতা ইত্যাদি যেকোনো কারণে, এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

হাত-পা

তবে এ নিয়ে টেনশনের কিছু নেই, প্রাথমিকভাবে কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে, হাত পা চাবানোর সমস্যা সমাধানে আনা সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে আজকের ব্লগটিতে জানার চেষ্টা করি, হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সহ, এর কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ  হাত পা চাপানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

হাত পা চাবানোর সম্ভাব্য কারণ 

হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা, ব্লকটির শুরুতেই আমরা হাত পা চাবানোর, কিছু কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। হাত-পা চালানোর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, একই সঙ্গে, এই চাবানোর সমস্যায় বিভিন্ন লক্ষণ ও অনুভব হতে পারে। আপনার যদি হাত পা চাপানোর সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরী। চলুন কথা না বাড়িয়ে, হাত-পা চালানোর কিছু কারণ সম্পর্কে জানার চেস্টা করা যাক। 

  • শরীরের, পেশীতে রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে, হাত পা চাবানোর মত সমস্যার দেখা মিলতে পারে। আমাদের হাত ও পায়ের রক্তনালী গুলো, সংকুচিত হলে, ঠান্ডা আবহাওয়া হাত-পায়ে অনুভব হলে, শরীরের রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে হাত পা ঝিমঝিম করা, চাবানো সহ অবশ হয়ে যাওয়া অনুভব হতে পারে। 
  • শরীরটা প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টির অভাবে, হাত পা চাবানোর সমস্যা হতে পারে। এই পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন বি ৬ এবং খনিজ লবণ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফলিক এসিডের অভাবে, হাত পায়ে ব্যথা সহ চাবানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • কারো যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা রক্তে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে রক্তনালীর সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যার জন্য হাত পা চাবানোর পাশাপাশি, হাত পা ঝিনঝিন হওয়া ও অবশ হয়েও যেতে পারে। 
  • কারো যদি থাইরয়েডের অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা থাকে  সেক্ষেত্রেও, হাত-পা চাবানোর সমস্যা অনুভব হতে পারে। একই সঙ্গে দেখা দিতে পারে শারীরিক দুর্বলতা সহ, হাত পায়ে ব্যথার সমস্যা। অন্যদিকে অতিরিক্ত টেনশনের ফলেও হাত পা ঝিন ঝিন সহ অবস হয়ে যেতে পারে। কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেও এমনটা হতে পারে। 
  • শরীরে পানি শূন্যতার কারনেও, হাত পা চাপানো সহ ব্যথা ও ঝিন ঝিন অনুভূতি হতে পারে। এই সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরমের দিনে দেখা দেয়। কেননা এ সময় অতিরিক্ত গরমে, শরীর ঘেমে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, যার ফলে লবণের ঘাটতি আসে, সঙ্গে এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। 
  • দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে, পেশিতে চাপ পড়ে, এমন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। হাত পা ব্যথা ও চাবানোর সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমেরও প্রয়োজন। কেননা পর্যাপ্ত না ঘুমানো, হাত-পা চাবানোর সমস্যার অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয়। 
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে, হাত পায়ের পেশীতে ক্লান্তি এসে এমন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে হাত-পা চাবানো বা ব্যথার সমস্যা,  বিশ্রামের সময় বেশি অনুভব হতে পারে। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের, শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়ে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দেখা দিয়েও এমনটা হতে পারে। 
  • আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা, হাত-পা চাবানো অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা যায়। কেননা এই সমস্যা ফলে জয়েন্টে প্রদাহ এবং ব্যথাসহ চাবানোর সমস্যা অনুভূতি হয়। ধূমপান ও অ্যালকোহলের ফলেও স্নায়ুর রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হয় এবং হাত পায়ে ঝিন ঝিন অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

হাত-পা চাবানোর লক্ষণ গুলি জানা যাক 

হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা, ব্লগটিতে ইতিমধ্যেই হাত পা চাপানোর বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের কারো যদি হাত পা চাপানো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এ সমস্যার পাশাপাশি বেশ কিছু লক্ষণ অনুভব হতে পারে, চলুন সেগুলো জানার চেষ্টা করি। 

হাত-পা

  • হাত পা চাবানোর সমস্যায়, হাত-পায়ে ঝিনঝিন সহ আড়সতা অনুভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাতে পায়ে তীব্র ব্যথা এবং শারীরিক অস্বস্তি কাজ করতে পারে। 
  • হাত-পা চাপানোর সবচেয়ে অন্যতম লক্ষণ হল, হাত পায়ে জলন্ত ব্যথা করা অর্থাৎ, হাত পা টিপে দিলে ভালোলাগা অনুভব হওয়া। একই সঙ্গে ত্বকে লাল দাগ এবং চুলকানি সহ জ্বালাপোড়া হওয়া। 
  • পেশীর দুর্বলতা ও টান সহ খুচুনি অনুভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাত পায়ের পাতা সহ গিট ফুলে যেতে পারে সঙ্গে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। 
  • হাত পা চাবানো, ব্যথা অনুভব, ঝিমঝিম করা সহ কোন প্রকার সমস্যা অনুভব হলে। হাত-পা শুকিয়ে যেতে পারে, হাত-পা সহ, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের, ত্বকের রং পরিবর্তন হতে পারে একই সঙ্গে কোন ক্ষত ঠিক হতেও সময় লাগতে পারে। 

হাত পা চাপানোর ঘরোয়া চিকিৎসা 

আজকের ব্লগটির মূল বিষয়, হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে। হাত-পা চাবানোর বেশ কিছু কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। আমাদের জন্য হাত পা চাপানোর সমস্যা খুবই সাধারণ, এবং বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তা সকলেই এখন জানি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এর কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে, যা অনুসরণের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা সমাধানে আনা যেতে পারে, চলুন সেগুলো জানার চেষ্টা করি। 

প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে নজর দিনঃ 

আপনার যদি হাত পা চাবানোর সমস্যা অনুভব হয়, তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপরে নজর দিতে পারেন। এজন্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম ও খনিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সব থেকে উপযুক্ত। এই সকল পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণের জন্য আপনি চাইলেন, ডিম,  দুধ,  মাছ,  বাদাম, কলা ও সবুজ শাকসবজি খেতে পারেন। কেননা এই সকল খাবার আমাদের, স্নায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 

নিয়মিত ব্যায়াম উপকারীঃ 

 হাত-পায়ে চাবানো, ব্যথা অনুভব হওয়া সহ ঝিমঝিম করলে, নিয়মিত ব্যায়াম উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আপনি চাইলে যোগ ব্যায়াম এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করতে পারেন, এটি পেশী এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়াতে, কাজ করে৷

আপনার যদি ব্যায়াম করতে অসুবিধা হয়, তাহলে নিয়মিত কিছু সময় হাঁটাচলা করুন, চাইলে সাইকেলিং করতে পারেন। কেননা মাঝারি শারীরিক কার্যকলাপের ফলে, এটি পেশির রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে একই সঙ্গে হাত পা চাবানোর সমস্যা কমাতে পারে। 

 পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পানঃ 

শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চালনের জন্য, শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরী। এজন্য অবশ্যই আপনার, দৈনিক ঘুমের পরিমাণ ঠিক হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখা উচিত। কেননা আমাদের পেশী শিথিল করার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা অত্যন্ত জরুরী। দৈনন্দিনের, ব্যস্ততার কারণে, পেশীর দুর্বলতা দূর করতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। 

আরো পড়ুনঃ হজম শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং কারন জানুন।


তাছাড়া শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। আমাদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত কারার জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার ফলে, শরীর সতেজ থাকে, একই সঙ্গে পেশীতে টান লাগার সম্ভাবনা কমে যায়। 

হালকা মালিশ ও গরম পানির সেক দেওয়াঃ

হাত পা চড়ানো সমস্যা থাকলে, হালকা মালিশ ও গরম পানির সেক, উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার শরীরে যদি দীর্ঘস্থায়ী চাবানো বা ব্যথার সমস্যা থাকে, তাহলে, সরিষা বা নারকেল তেল গরম করে হালকা মালিশের ফলে, এই সমস্যায় আরাম মিলতে পারে।

হাত-পা

অন্যদিকে আপনি যদি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা বা চাবানোর সমস্যায়, একটা বোতলে কিছু গরম পানি নিয়ে, ব্যথা জায়গায় গরম সেক দেন, এটি পেশী শিথিল করতে, সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে এক জায়গায়, অনেকক্ষণ বাসা বা দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন, প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণ পরপর হাঁটাচলা করুন। 

প্রয়োজনে, হালকা ব্যাথা নাশক মলমের ব্যবহারঃ 

হাত-পা চাবানো বা ব্যথার সমস্যায়, ব্যথা নাশক মলমের ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যদি আপনার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, গুরুতর ব্যাথার ক্ষেত্রে, ব্যবহার করা উপকারি।

শুধু ব্যথা নাশক মলমে যে ব্যথা কমবে ব্যাপারটা এমন নয়, আপনার ব্যথা কি কারনে হচ্ছে তার, সঠিক কারণ নির্ণয় করাও অত্যন্ত জরুরী। হাত-পা চালানোর সমস্যায় আপনি চাইলে আদা বা গোলমরিচের চা ও খেতে পারেন। কেননা এই খাবার আমাদের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্যও করতে পারে। 

উপসংহার। হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা 

হাত পা চাপানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ব্লগটিতে, হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সহ এর কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে, বেশ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আপনার যদি, এমন সমস্যা নিয়মিত ঘটে, এবং খুব বেশি পরিমাণে তীব্র হয় একই সঙ্গে, শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরানো সহ বুকে ব্যথা অনুভব হয়, এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। কেননা হাত বা চাবানো বা ব্যথার সমস্যার ক্ষেত্রে, স্নায়ুর রোগ, ডায়াবেটিস সহ রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। 

এজন্য অবশ্যই, আপনার হাত পা চাবানোর সমস্যার, সঠিক কারণ নির্ণয় করে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করুন। কেননা হাত পা চাবানোর সমস্যা, খুবই বিরক্তিকর জীবন যাপন অনুভব করায়। যাইহোক আজকের ব্লগটি, হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সহ সকল তথ্য মনোযোগ সহকারে এতক্ষণ পড়ার জন্য, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                           (খোদা হাফেজ) 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url