মেরুদণ্ড ব্যথা হয় কেন, প্রতিকারের উপায়
আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম হাঁটাচলা সহ, সকল কিছুর জন্য মেরুদন্ড খুবই প্রয়োজনীয়, শরীরের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হল মেরুদণ্ড। শরীরকে সোজা রাখা, শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে, চলাফেরা সহ, কঙ্কালের অনন্য অংশের সাথে সংযো স্থাপন করা। একই সঙ্গে স্নায়ুকে সুরক্ষিত রাখা মেরুদন্ডের প্রধান কাজ। এক কথায়, মেরুদন্ড আমাদের শরীরের সমস্ত কঙ্কালের সাথে একে অপরকে যুক্ত করে, সঠিকভাবে শরীরকে নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে।
আমরা অনেকেই, অনেক সময় মেরুদন্ডের ব্যথা, সমস্যায় পড়ে থাকি। আজকের ব্লগটিতে আপনাদের সাথে, আলোচনা করার চেষ্টা করব মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন এবং প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মেরুদণ্ড ব্যথা হয় কেন, প্রতিকারের উপায়
- মানব শরীরে মেরুদন্ডের কাজ
- মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন
- মাংসপেশীতে টান এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলেঃ
- বাতের ব্যথার কারণেঃ
- মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়ের ফলেঃ
- ভুল অঙ্গভঙ্গিতে জীবন যাপনঃ
- হাড়ের কোন প্রকার রোগ দেখা দিলেঃ
- মেরুদণ্ডের কোন প্রকার আঘাতের ফলেঃ
- অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ও মানসিক চাপেঃ
- সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণঃ
- মেরুদন্ড ব্যথার প্রতিকার
- উপসংহার। মেরুদন্ড ব্যথা কেন হয়, প্রতিকারের উপায়
মানব শরীরে মেরুদন্ডের কাজ
আজকের ব্লগটি,মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন, প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে। মেরুদন্ড আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা মেরুদন্ড সঠিকভাবে কাজ না করলে, আমাদের হাঁটাচলা চলাফেরা সহ, যে কোন কিছু করতে খুবই অসুবিধায় পড়তে হবে। এজন্য ব্লকটি শুরুতেই আমরা জানার চেষ্টা করব, মেরুদন্ড আমাদের শরীরে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সেগুলো সম্পর্কে।
- মেরুদন্ডের কারণে আমরা, শরীরের ভর বহন করতে পারি একই সঙ্গে সোজা হয় দাঁড়াতে পারি। এটি শরীরের মূল কাঠামো সাথে এটি না থাকলে, আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে, বসতে কিংবা চলাচল করতে পারতাম না। মানব দেহের জন্য এটি মেরুদন্ডের প্রধান এবং মূল কাজ।
- শরীরের যে কোন নাড়াচাড়া, কাজকর্ম, ওজন বহন, হাটা, দৌড়ানো সহ ঘুরে দাঁড়ানো সকল কিছুর জন্যই মেরুদণ্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ওজন বৃদ্ধি পেলেও, এই ওজন বহন করে শরীরকে চলাচলের জন্য, যথেষ্ট শক্তি প্রদান করাই কাজ।
- মেরুদন্ড, মেরুদন্ডের ভিতরে থাকা স্নায়ুকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। কেননা আমাদের সকলের মেরুদন্ডের ভেতরে স্পাইনাল কর্ড নামে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু রয়েছে। মেরুদন্ডের এই স্নায়ু, মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্দেশ পাঠায়, যার ফলে শরীর সঠিকভাবে কাজ করে, এই গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকেও সুরক্ষা দিয়ে থাকে মেরুদণ্ড।
- আমরা যাতে শরীরের ভারসাম্য সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি, এজন্য মেরুদন্ড শরীরের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি স্থির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও মেরুদন্ডের মাঝে কিছু ডিস্ক রয়েছে যেগুলো, শরীরকে আঘাত বা ঝাঁকুনি থেকে রক্ষা করে।
- মেরুদন্ড আমাদের মস্তিষ্কের নিচ থেকে শুরু হয়ে, কোমর পর্যন্ত বিসতৃত। মেরুদন্ড থেকে আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশে, মস্তিষ্ক থেকে বার্তা প্রেরণ হয়, যার ফলে এই কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতে পারে। আমাদের মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে, স্নায়ুর উপরে চাপ পড়ে, একই সঙ্গে ব্যাথা সহ অন্যান্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন
আজকের এই ব্লগটির মূল বিষয়, মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন। শরীরে মেরুদন্ডের গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিমধ্যেই আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের শরীরে মেরুদন্ড সঠিকভাবে কাজ না করলে, চলাফেরা কাজকর্মসহ জীবন যাপন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। মেরুদন্ডের ব্যথায়, আমরা কম বেশি সকলেই ভুগি। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে, ব্লগটিতে এখন আমরা, মেরুদন্ড ব্যাথা হয় কেন এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি।
মাংসপেশীতে টান এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলেঃ
মাংসপেশি টান এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম ফলে মেরুদন্ডে ব্যথা, অনুভব হতে পারে। আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় থাকেন, সেক্ষেত্রে পেশীর উপরে চাপ পড়ে। এ সময় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। এ সকল উপাদানের অভাবে, আমাদের পেশিতে টান লাগার মত অবস্থা হতে পারে।
অন্যদিকে হঠাৎ করে যদি আপনি, অতিরিক্ত পরিশ্রম করে থাকেন। ধরুন আপনি যতটুকু ওজন বহনে সক্ষম, তার থেকে ভারী ওজন বহন করলে মেরুদন্ডে ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করা, হঠাৎ করে শরীরকে ভুল ভাবে মোচড় খাওয়ানো হলেও মেরুদন্ড ব্যথা হতে পারে।
বাতের ব্যথার কারণেঃ
শরীরে যদি বাতের ব্যথা অর্থাৎ, মেরুদন্ডের অর্থ্রাইটিসের সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে মেরুদন্ডের জয়েন্ট গুলো, শক্ত ভাব অনুভূতি হওয়া , একই সঙ্গে মেরুদন্ডে প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে ব্যথার দেখা মিলতে পারে। কিছু অটোইমিউন রোগ যেমন রিডমাটয়েড, আর্থাইটিসের কারণেও মেরুদন্ডে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
আপনার শরীরে যদি এই ধরনের ব্যথা অনুভব হয়, তাহলে এই ব্যথা বিশ্রামের সময় অতিরিক্ত, প্রভাব ফেলে এবং কাজকর্মের সময়ে কম অনুভব হতে পারে। আপনার যদি এই ধরনের বাতের ব্যাথার সমস্যা দেখা দেয় তাহলে এটা চিকিৎসা, করানো অত্যন্ত জরুরি।
মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়ের ফলেঃ
যখন একজন ব্যক্তির অতিরিক্ত বয়স হয়ে যায় তখন তার স্পান্ডাইলোসিস, নামক এক ধরনের হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা মিলতে পারে। হাড় ক্ষয় হলে, হার দুর্বল হয়ে যায়। এর সঙ্গে, খুব সহজে ভেঙে যাওয়ার প্রবনতাও দেখা দিতে পারে। অস্টিও আর্থ্রারাইটিস মেরুদন্ডের হাড়ের সংকোচন এর কারনেও, হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ গলা ব্যাথা হলে করনীয় কি তা জানুন।
এই সমস্যার ফলে, মেরুদন্ডের পিঠে ও ঘাড়ে ব্যাথা হতে পারে, কখনো কখনো এই ব্যথা বাহু এবংপায়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দিলে, একজন মানুষের চলাচলে খুবই অসুবিধা হওয়া, খুবই সাধারণ ব্যাপার।
ভুল অঙ্গভঙ্গিতে জীবন যাপনঃ
মেরুদন্ডের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য, অবশ্যই ভুল অঙ্গভঙ্গিতে জীবনযাপন ত্যাগ করা জরুরি। কেননা আপনি যদি, অতিরিক্ত নরম বিছানায় ঘুমান যা অনেক বেশি ডেবে যায়, এবং অনেক শক্ত বিছানায় ঘুমান তাহলেও এই ব্যাথার দেখা মিলতে পারে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে, একই সঙ্গে আপনি যদি কুজো হয়ে হাঁটেন, সে ক্ষেত্রেও এই ব্যথার দেখা মিলতে পারে।
জীবনযাপনে সঠিক অঙ্গভঙ্গি না থাকলে, পেশীতে টান লেগে লিগামেন্ট গুলো প্রসারিত হয়। যার ফলে ব্যথা এবং অস্থিরতা কাজ করে। এজন্য দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক ভাবে মেরুদণ্ড সুস্থ রাখার জন্য, সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজনীয়।
হাড়ের কোন প্রকার রোগ দেখা দিলেঃ
আমাদের হাড়ে বিভিন্ন ধরনের রোগের দেখা মিলতে পারে। এই রোগ গুলির মধ্যে অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পান্ডাইলোলিসেস্থেসিস, অ্যাঙ্কাইলোসিং এবং স্পন্ডিলাইটিসের মতো হাড়ের যে কোন রোগ দেখা দিলে মেরুদন্ডে ব্যথা হতে পারে। অন্যদিকে হার্নিয়েটেড ডিস্ক এবং মেরুদন্ডের টেনসিসের মতো অবস্থা গুলো মেরুদন্ডের ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
কেননা এই সকল হাড়ের সমস্যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়, জয়েন্ট গুলো ত্বরান্বিত এবং ক্ষয় হয় হওয়া, মেরুদন্ডের কশেরুকা অন্যটির উপর সরে যায়, মেরুদন্ডের ডিস্ক এর ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে এসে স্নায়ুর উপরে চাপের সৃষ্টি করে। এছাড়াও আর্থ্রাইটিসের কারণেও মেরুদন্ডে অতিরিক্ত হাড় তৈরি হতে পারে। এ সকল সমস্যা হাড়ের সমস্যা, যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বয়সী মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
মেরুদণ্ডের কোন প্রকার আঘাতের ফলেঃ
মেরুদন্ডে কোন প্রকার আঘাত জনিত কারণে, মেরুদন্ড ব্যথা হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অনেকেই অনেক সময় খেলাধুলা, কাজকর্ম সহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মেরুদন্ডে, আঘাত পেয়ে থাকে। মেরুদন্ডের আঘাত জনিত কারণে ব্যাথা হওয়ার, লক্ষণগুলির মধ্যে ব্যথা, জিম জিম করা, বেশি দুর্বলতা, মাথাব্যথা সহ ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার দেখা মিলতে পারে।
তবে এই ব্যথা, আঘাতের উপর নির্ভর করে হতে পারে। অনেক সময় মেরুদন্ডে আঘাতের কারণে অনেকেই, মূত্রাশয় এবং মলত্যাগের উপরও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।শ্বাসকষ্টো দেখা দিতে পারে এবং একই সঙ্গে, শরীরে তাপ এবং ঠান্ডা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ও মানসিক চাপেঃ
আমাদের মধ্যে কারো যদি শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকে তাহলে, মেরুদন্ডের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হয়, এই চাপ বিশেষ করে কোমর এবং হাঁটুতে বেশি পড়ে। শরীরে এই অতিরিক্ত চাপের কারণে, মেরুদন্ডের ডিস্কের সমাস্যা বা হার্নিয়েটেড ডিস্কের মতো সমস্যা হতে পারে, যার ফলে স্নায়ুত চাপ পড়ে এবং ব্যথার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে, পেশীতে টান লাগতে পারে। কেননা অতিরিক্ত মানসিক টেনশনের ফলে, কার্টিসলের মত স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়, যা পেশী গুলোকে শক্ত এবং টানটান করে তুলতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে মেরুদন্ডে ব্যথা হওয়ার মতন প্রবণতা। এজন্য অতিরিক্ত ওজন এবং মানসিক চাপ থেকে, নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা উপযুক্ত।
সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণঃ
শরীরের কোন অংশে যদি সংক্রমনের দেখা মেলে, তাহলে ব্যথা রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে মেরুদন্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সংক্রমণের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, স্ট্যাফাইলোকক্কাস আরিয়াস নামক ব্যাকটারিয়া, একে মেরুদন্ডের সংক্রমণ বলেও বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে কিডনির সমস্যা যেমন কিডনি স্টোন, হলে মেরুদন্ডে ব্যথা হতে পারে। একই সঙ্গে টিউমারের সমস্যা থাকলেও ব্যথা হওয়া সাধারন ব্যাপার, তবে এটি খুবই বিরল। এছাড়াও, ক্যালসিয়াম, এবং ভিটামিন ডি এর অভাবে, শরীরের মেরুদণ্ড সহ হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হতে পারে।
মেরুদন্ড ব্যথার প্রতিকার
মেরুদন্ড ব্যথা হয় কেন, প্রতিকারের উপায় ব্লগটিতে, মেরুদন্ড ব্যথা হওয়ার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের চলাফেরা সহ, দৈনন্দিনের সকল কাজকর্ম করার জন্য, মেরুদন্ড সুস্থ রাখা জরুরি। তবে যদি কার মেরুদণ্ড ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে কিছু প্রতিকার রয়েছে। এগুল মেনে চললে, মেরুদন্ড ব্যথা সমস্যা সমাধানে আনা সম্ভব হতে পারে। চলুন এখন তাহলে সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
- আপনি যদি উপরুক্ত লক্ষণগুলো, আপনার শরীরের লক্ষ্য করেন তাহলে অবশ্যই, প্রয়োজন মত বিশ্রাম নিন। তবে খেয়াল রাখবেন, বিশ্রাম করার সময় একটানা অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে থাকা, থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার, ক্যালসিয়ামের অভাব এবং ভিটামিনের অভাবে যদি, এই ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে। এজন্য অবশ্যই ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার, চেষ্টা করুন। চাইলে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ ও সেবন করতে পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
- মেরুদন্ডেও ব্যাথার সমস্যার জন্য, প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাথা নাশক ওষুধও খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে, এজন্য আপনি চাইলে, ব্যাথা নাশক ওষুধ, প্রদাহ বিরোধী ওষুধ ও পেশী শিথিল করার, ওষুধ সেবন করতে পারেন।
- মেরুদন্ড ব্যথায়, পেশী শিথিল করার ব্যায়াম করাও উপকারী হতে পারে। এজন্য ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী পেশী শিথিল করতে এবং নমনীয়তা বাড়াতে, ব্যায়াম করা শুরু করুন। শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে, আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিন।
- শরীরের সঠিক অঙ্গভঙ্গি ঠিক রাখার চেষ্টা করুন, সোজা হয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। বাসা বা উঠে দাঁড়ানোর সময়, অবশ্যই মেরুদন্ড সোজা করে রাখুন। অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণ পরপর, অল্প সময়ের জন্য হলেও হাটা চলার চেষ্টা করুন।
- ধূমপান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন কেননা ধূমপান তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবনের ফলে, মেরুদণ্ড ব্যথার ঝুকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
উপসংহার। মেরুদন্ড ব্যথা কেন হয়, প্রতিকারের উপায়
মেরুদণ্ড ব্যথা কেন হয়, প্রতিকারের উপায় ব্লগটিতে, ইতিমধ্যেই মেরুদন্ড ব্যথা হওয়ার কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণভাবে আপনার মেরুদন্ড ব্যাথা হলে, তা উপরোক্ত প্রতিকার গুলো মেনে চললে কমে যেতে পারে। তবে যদি আপনার ব্যথা যদি, তীব্র হয়, হাত পায়ে ছড়িয়ে পড়ে, ওজন কমে যাওয়া ও প্রস্রাব ও মলত্যাগে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে একজন অর্থোপেডিক, মেডিসিন বা নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।
কেননা এ সময় আপনার, ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। আপনার দৈনন্দিনীর সুস্থতা আপনার নিজেকে নিশ্চিত করতে হবে। মেরুদণ্ড ব্যথা কেন হয়, প্রতিকারের উপায় ব্লগটি, এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url