গলা ব্যাথা হলে করনীয় কি

আমাদের মধ্যে যে কেউ, যেকোনো সময়ই, গলা ব্যাথার সম্মুখীন হতে পারি। আবহাওয়া পরিবর্তন কিংবা, অতিরিক্ত গরমে ঘেমে যাওয়ার ও গলায় কোন সংক্রমণ দেখা দিলে, টনসিলের সমস্যা বাড়লে, গলা ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। গলা ব্যথার সমস্যায় ভোগা একজন ব্যাক্তির খুবই বিরক্তির সঙ্গে, টিকে থাকতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, খাবার খেতে ও কথা বলতে খুবই অসুবিধায় পড়েন একই সঙ্গে গলায় পেচিয়ে রাখতে হয়, মাফলার কিংবা, কোন গরম কাপড়। যাই হোক টেনশনের কিছু নেই, সাধারণ ভাবে গলা ব্যথা হলে, ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে, এই ব্যথার অবসান ঘটানো সম্ভব। 

গলা

চলুন তাহলে, গলা ব্যাথা হলে করণীয় কি? এই আর্টিকেলটিতে, আপনাদের সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করি। আপনার যদি গলা ব্যথা হয়, তাহলে ঘরোয়া ভাবে পরিবেশগত চেঞ্জ এনে,কিভাবে সেরে তোলা যায় সে ব্যাপারে। আপনার যদি গলা ব্যথা থাকে তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য হতে যাচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পোস্ট সূচিপত্রঃ গলা ব্যাথা হলে করনীয় কি

গলা ব্যথা হওয়ার কারণ 

গলা ব্যাথা হলে করণীয় কি এই আর্টিকেলটিতে, প্রথমেই আমরা জানার চেষ্টা করব, গলা ব্যাথা হওয়ার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে। আমাদের প্রত্যেকেরই যে কোন শারীরিক সমস্যা, দেখা দেওয়ার সঠিক কারণ নির্বাচন করতে পারলে, এর সমাধান করাটাও সহজ হবে। মাথায় রাখবেন গলা ব্যথার সমস্যায়, একজন মানুষের ক্ষেত্রে  অল্প সময়ের জন্য হলেও, এটি ভালো একটা ভোগান্তির সম্মুখীন করে। এ জন্য গলা ব্যাথার সঠিক কারন নির্নয় করে, সঠিক ব্যাবস্থা গ্রহন জরুরী।

ভাইরাস জনিত সংক্রমণের কারণেঃ 

গলা ব্যথা হওয়ার প্রধান এবং সাধারণ কারণ হলো ভাইরাস সংক্রমণের কারণ। এই ভাইরাস গুলি হল, রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং করোনাভাইরাসের মতো, সংক্রামন শরীরের দেখা দিলে, জ্বর, সর্দি ও কাশি সহ গলা ব্যাথার সম্মুখীন হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এই সংক্রমণের কারণে আপনার গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি ও কাশির সাথে, শরীর দুর্বল হওয়া শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেওয়া এবং গলা ফুলে যাওয়ার মত সমস্যাও হতে পারে। 

ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের কারণেঃ 

গলা ব্যথা হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও, অনেক সময় দায়ী হয়। ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের সাধারণত স্ট্রেপ থ্রোট সংক্রমনের ফলে গলা ব্যাথার সৃষ্টি হয়ে থাকে। গলা ব্যাথার এই সংক্রমণ, একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ যা গলায় প্রদাহের সৃষ্টি করে। এই ব্যাকটেরিইয়ার কারণে আপনার গলা ব্যথা হলে, কণ্ঠস্বর চেঞ্জ, মাথা ব্যাথা, জ্বর, গিলতে কষ্ট হওয়া, গলা লাল হয়ে যাওয়া এবং ফুলে যাওয়া সহ টনসিলের ওপরে সাদা সোপেত মত দাগ হতে পারে। 

সিগারেটের ধোয়ার কারণেঃ 

আমাদের মধ্যে যারা ধূমপান করি, ধূমপান করার সময় যে ধোয়ার সৃষ্টি হয়, এই ধোয়া বাতাসকে সুস্ক করে দেয়, সঙ্গে সিগারেটের রাসায়নিক পদার্থ যেমন, বিষাক্ত  নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইড গলার টিস্যুতে জ্বালা পোড়ার সৃষ্টি করে, যার ফলে এই ব্যাপার দেখা দিতে পারে। গলা ব্যথার ক্ষেত্রে ধূমপানের ব্যাপারটায় আমাদের, সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

কেননা সিগারেটের এই ধোয়ার ফলে, গলার টিস্যুতে প্রধাহের সৃষ্টি হয়, যার কারণে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী গলা ব্যথা সমস্যা। এই সমস্যার ফলে গলায় জ্বালাপোড়া ও চুলকানিও, নিয়মিত কাশি এবং কফ জমা, খাবার পানি গিলতে অসুবিধা এবং গলার  সঙ্গে ফুসফুসেও ব্যাথা হতে পারে।

এলার্জি জনিত সমস্যার প্রভাবেঃ 

অনেকে শরীরে, ধুলোবালি, ধোয়া দূষণ ও অসাস্থকর পরিবেশগত এলার্জেনগুলির সংস্পর্শে আসলে, গলা ব্যাথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা অনেকের শরীরে, এই পরিবেশ দূষনের কারণে এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়, যা গলা ব্যথা সহ সর্দি ও কাশির সমস্যা তৈরি করে। যাদের শরীর এই ধরনের, পরিবেশে এলার্জি হয় তাদের দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা ও দেখা দিতে পারে।

আমরা সকলেই হয়ত জানি, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, গলা ব্যথা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ধুলোবালি ও ব্যায়ু দূষণের সংস্পর্শে আসলে আপনার যদি এলার্জি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনি এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন।

গলায় টনসিলের সমস্যা দেখা দিলেঃ 

আমাদের মধ্যে কারো যদি গলায় টনসিলের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে গলা ব্যথা হওয়া কমন একটি ব্যাপার। কেননা টনসিল হলে এক ধরনের, টনসিলাইটিস গলা ব্যাথা, জ্বর এবং ঢোক গিলতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।শরীরে টনসিলের সমস্যা দেখা দিলে গলা ব্যথা হওয়া সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। 

টনসিলের সমস্যা হলে অনেক সময় গলা ব্যথার প্রভাব কানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। গলায় টনসিলের সমস্যা একটু বেড়ে গেলে, টনসিল ফুলে গলা ফুলা যেতে পারে, যার ফলে খাবার খাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া ইত্যাদি যন্ত্রনার সিকার হতে পারেন। 

গলার পেশীতে টান লাগাঃ

গলার পেশীতে টান লাগলেও, গলা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে,তবে এটি অন্য ব্যাথার থেকে আলাদা। গলার পেশীতে টান লাগার ফলে সাধারণত, খিচুনি, শ্বাস নিতে কস্ট এবং খাবার গিলতেও অসুবিধা হতে পারে।  অন্যদিকে পেটের গ্যাস, অনেক সময় অনেকের গলায় উঠে যায়, এই সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে, গলা ব্যথার সমস্যা।

গলা ব্যথা সমস্যা এতটাই বিরক্তিকর হতে পারে, যার ফলে গলা বা কাধ নাড়ালেও তিব্র ব্যাথার সম্মুখীন হতে হতে পারেন। গলা ব্যথা সমস্যা প্রাথমিকভাবে আপনি চাইলে, ওষুধও সেবন করতে পারেন, তবে সেটা প্রাথমিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। 

গলা ব্যথা হলে করণীয় কি, ঘরোয়া প্রতিকার  

আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে গলা ব্যাথা হওয়ার, বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়,গলা ব্যথা হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে। এই আর্টিকেলটির মূল বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের কারো গলা ব্যথা হলে, ঘরোভাবে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। যেগুলো মেনে চললে, এবং এগুল, গলা ব্যথা সমস্যার ক্ষেত্রে দৈনন্দিনীর রুটিনের যোগ করলে এই ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তাহলে এখন জানা যাক, গলা ব্যাথার সমস্যায়,যে সকল ঘরোয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। 

গলা


লবন ও উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করুনঃ

গলা ব্যথা হোক কিংবা কাশি, এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানির সাথে পরিমাণ মতো লবন মিশিয়ে, ভালোভাবে দুটি উপকরণ একই সঙ্গে মিশিয়ে গড়গড়া করলে, গলা ব্যথা উপশমের এটি ভালোই কাজ করে। আপনি যদি চান তাহলে, লবণের সাথে পানির ভেতরে কিছু ব্রেকিং সোডাও মিশিয়ে নিতে পারেন। গলা ব্যথার পরিমাণ অনেক বেশি হলে, চাইলে দিনে কয়েকবার বা প্রতি ঘন্টায় গড়গড়া করতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা


এতে করে আপনার স্বস্তি মিলবে, লবন, ও উষ্ণ গরম পানির গড়গড়ার সাথে, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়াও জরুরী। কেননা শরীরের পানি শূন্যতা পূরণে এ সময়, পর্যাপ্ত উষ্ণ গরম পানি পান করা জরুরী। 

মধু ও লেবুর মিশ্রণ গ্রহণঃ 

মধু ও লেবু একসঙ্গে, গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে গলা ব্যথা উপশমে ভালোই কাজ করে। মধু তে থাকা উপাদান, গলায় একটি প্রতিরক্ষামূলক আস্তরণ তৈরি করে, যা গলায় জ্বালাপোড়াও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও মধুর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও প্রশান্তির বৈশিষ্ট্য রয়েছে ।

অন্যদিকে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শ্লেষ্মা ভাঙতে সাহায্য করে। এছাড়াও লেবুর রসে থাকা ভিটামিন সি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, এবং দুটি উপাদান একত্রে, মিশিয়ে চা করে খেলে এটি গলার প্রদাহ এবং অস্বস্তিক কমাতে ভূমিকা পালন করে। 

 পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরীঃ 

আমাদের শরীরে যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রভাব দেখা দিলে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা জরুরী। কেননা বিশ্রাম আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং সংক্রামণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। যদি গলা ব্যথার সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুন, যাতে আপনার দ্রুত ব্যথা উপশমে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ হয়। প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতেও কিন্তু ভুলবেন না, শরীরকে ডি হাইড্রেট রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। 

হিউমিডিফায়ার ব্যাবহার করা যেতে পারেঃ

গলা ব্যথার সমস্যা দেখা দিলে, বাতাসকে আদ্র রাখা জরুরি। কেননা গলা ব্যাথা সমস্যা হলে গলা শুকিয়ে যাওয়া, প্রবণতা দেখা দেয়। হিউমিডিফায়ার ব্যবহারের ফলে, এটি বাতাসের আদ্রতা কমায় যা গলা শুকিয়ে যাওয়া রক্ষা করে। অন্যদিকে হিউমিডিফায়ারের ব্যবহারের ফলে, এটি গলা টিস্যুর প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখে,  যা দীর্ঘস্থায়ী গলা ব্যাথা থেকেও মুক্তি দিতে পারে।

তবে হিউমিডিফায়ার ব্যবহারের ক্ষেত্রে, অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত এর পানি পরিবর্তন করতে হবে। কেননা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না হলে এতে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জমতে পারে। অন্যদিকে ঘরকে অতিরিক্ত আদ্র করা থেকেও বিরত থাকবেন, প্রয়োজন মত আদ্রতা বজায় রাখবেন। 

আদা চা খাওয়া যেতে পারেঃ 

আপনি যদি গলা ব্যথার সমস্যায় পড়ে থাকেন, তাহলে দেরি না করে এখনি আদা চা খাওয়া শুরু করুন। কেননা আদার ভেতরে প্রদাহ বিরোধী অ্যান্ট ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে, যা গলা ব্যথা কমাতে কাজ করে। তাছাড়া আধাতে থাকা পুষ্টি উপাদান, শরীরকে সংক্রমণ প্রতিরোধে শক্তি যোগায়, যার কারনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। আধা চা শুধু গলা ব্যথায় কমায় না, আপনার যদি কাশি এবং কফের সমস্যাও থাকে, তাও দূর করার জন্য আদা চায়ের গুরুত্ব রয়েছে। এটি গলার ফোলাভাব কমাতেও প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে।   

হলুদ মেশানো দুধ খাওয়া উপকারীঃ 

গলা ব্যথার সমস্যায় আপনি চাইলে হলুদ মেশানো দুধও খেতে পারেন। এজন্য অবশ্যই পাতলা গরম দুধে, প্রয়োজন মত হলুদ মিশে খেলে গলা ব্যথা প্রতিরোধে ভালো উপকার পাওয়া যায়। গলা ব্যথা যদি ঠান্ডা জনিত কারণে হয়ে থাকে, গলা ব্যথার সাথে কাশি এবং সর্দি থাকে সেক্ষেত্র এটি খুবই উপকারী। গলা ব্যথার সমস্যায় আপনি ভুগে থাকলে, এজন্য উষ্ণত দুধ এবং, হলুদের মিশ্রণ সেবনে আপনি খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন,ও স্বস্তি মিলবে। অন্যদিকে গলায় কিছু পেচিয়েও রাখতে পারেন গলার উষ্ণতা বৃদ্ধি করার জন্য, এটাও আরামদায়ক। 

গলা ব্যথার সমস্যায় যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিত 

গলা ব্যথা হলে করণীয় কি আর্টিকেলটিতে, গলা ব্যাথার সাথে সম্পর্কিত,বেশ তথ্য  ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। আর্টিকেলটির শুরুতেই আমরা জানতে পেরেছি, গলা ব্যাথার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে। গলা ব্যথা যদিও সাধারণ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। উপরে উল্লেখিত পদক্ষেপ গুলোর, যেকোনো একটাই নিয়মিত রুটিনে রাখলে আপনি হয়তো সমাধান পেতে পারেন। তবে গলা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে, বেশ কিছু খাবার এড়িয়ে চলাও উত্তম, চলুন এখন এগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

গলা

আপনার যদি গলা ব্যাথার সমস্যা হয়, তাহলে খুব বেশি ঠান্ডা খাবার যেমন, বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা যুক্ত যে কোন খাবার এড়িয়ে চলা সব থেকে উত্তম। অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা ক্যাফেন গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা অতিরিক্ত, ক্যাফিন ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবার শরীরের পানি শূন্যতা বাড়িয়ে দিতে পারে। গলা ব্যথা সমস্যা হলে, আমরা একটু নিয়ম নিতির মধ্যে চললেই হয়তো সমাধান মেলান খুবই সহজ হবে। 

গলা ব্যাথার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী 

গলা ব্যাথা হলে করণীয় সম্পর্কিত, বেশ কিছু তথ্য আমরা জানতে পেরেছি আর্টিকেল টিতে। গলা ব্যথা হলে, ঘরোয়া প্রতিকারে এই ব্যাথা থেকে মুক্তি মেলানো সম্ভব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, আপনার গলা ব্যথার পরিমাণ বেশি হলে একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। চলুন তাহলে এখন জানার চেষ্টা করি, গলা ব্যথা হলে করণীয় কি? আর্টিকেলটিতে কখন গলা ব্যথার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

 আরো পড়ুনঃ হঠাৎ হাই প্রেসার হলে করনীয় কি/ তা জানুন।

  • সাধারণ গলা ব্যাথা সাথে যদি আপনার, শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়, খাবার খেতে তো অসুবিধা হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা গলা ব্যথা থেকে মুক্তি মিলাতে হলে, পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া থেকে শরীরের শক্তি যোগানো অত্যন্ত জরুরী। 
  • আপনার গলা ব্যথা যদি, দীর্ঘস্থায়ী হয়,তাহলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। গলা ব্যথা হওয়ার পরে, ঘরোয়া প্রতিকারের যদি, সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ দিনের ভিতরে ব্যথা না কমানো যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 
  • অন্যদিকে গলা ব্যথার সাথে যদি আপনার তীব্র ঝড়, ঠান্ডা কাশি এবং মাথাব্যথা মত সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে চাইলেও একজন সাধারন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, ওষুধ সেবন করে দেখতে পারেন। এতে যদি সমস্যা সমাধানে না আসে, তাহলে অবশ্যই একজন, নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরী। 
  • গলা ব্যথার ওষুধ সেবেনেও সতর্কতা রয়েছে, আপনার শরীরে ডায়াবেটিসের, হৃদরোগ এবং কিডনির  মত দীর্ঘস্থায়ী কোন রোগ থাকে, সেক্ষেত্রে কোন প্রকার ওষুধ সেবন করার আগে, ভালো কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
  • এছাড়াও যদি আপনার এলার্জিগত সমস্যার কারণে গলা ব্যাথা হয়, এবং ব্যাথা দীর্ঘস্থায়ী হয় কোনক্রমেই বসে থাকলে চলবে না, চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরী। টনসিল জনিত সমস্যার কারণে ব্যথা হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। কেননা টনসিলের সমস্যা সমাধানে না আনলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুকি দেখা দিতে পারে। 

উপসংহার। গলা ব্যথা হলে করণীয় কি 

গলা ব্যথা হলে করণীয় কি আর্টিকেলটিতে গলা ব্যথার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি প্রতিনিয়ত গলা ব্যাথা সমস্যা হয়, তাহলে শরীরে ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।সামনেই শীতের মৌসুম, পরিবেশ ক্রমাগত ঠান্ডা হচ্ছে অবশ্যই সতর্কতা মেনে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরে উষ্ণ কাপড় রাখার চেষ্টা করবেন, খুব বেশি সমস্যায় যদি পড়ে থাকেন, কোনমতেই অবহেলা চলবে না, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। 

যাইহোক, গলা ব্যথা হলে করণীয় কি আর্টিকেলটি, এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনার আর্টিকেলটি ভাল লেগে থাকে, চাইলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিতে পারেন। 

                          (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url