নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা মূলত সহায়ক প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। যা উপসর্গগুলি কমাতে বেশ কার্যকর। তবে বিশেষ করে পলিপাস এর প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্বব হতে পারে। 

নাকের

তবে আপনি যদি পলিপাসের সমস্যায় পড়েন এবং এটি গুরুতর পর্যায়ে যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আজকের ব্লগটির এই পর্বে নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া কিছু চিকিৎসা এবং পলিপাস হওয়ার কারন ও লক্ষণ সম্পর্কে তুলে ধরা হবে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

    নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা সমূহ 

    অনেকের মধ্যেই নাকের পলিপাসের সমস্যা ইদানিং লক্ষ্য করা যায়। নাকের পলিপাস মূলত নাকের ভিতরে উপর থেকে ঝুলে থাকা আঙ্গুল বা পানির ফোটার মত পিণ্ড। পলিপের এমন পিন্ডের ভিতর ধীরে ধীরে তরল জমা হতে থাকে। এর ফলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত প্রণতার দেখা দেয়। একই সঙ্গে শরীরের বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করাতে পারে। ঘরোয়া কিছু প্রতিকারের মাধ্যমে পলিপাস প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন তাহলে আজকের এই ব্লগটির শুরুতেই নাকের পলিপাস নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।  

    নাক পরিষ্কার করে গরম ভাপ নিন

    নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে নাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে গরম ভাব নেওয়া বেশ উপকারী। বিশেষ করে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে পলিপাসের কারণে বন্ধ নাক খুলে নিশ্বাস নিতে বেশ উপযুক্ত। এজন্য উষ্ণ গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। আপনি চাইলে স্যালাইন পানী দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।

    পরবর্তীতে একটি পাত্রে কিছু গরম পানি নিয়ে পাত্রের উপরে তোয়ালে বা কোন কাপড় রেখে নাকে এবং মুখে ভাপ নিন। এমন পদ্ধতি অবলম্বনে নাকের ভেতরে থাকা শ্লেষ্মা দূর করে প্রদাহ কমিয়ে নাকের আদ্রতা বজায় রাখতে কার্যকর।

    এলার্জি সম্পৃক্ত যে কোন কিছু থেকে দূরে থাকুন 

    নাকের পলিপাস নিয়ন্ত্রণের জন্য এলার্জি সম্পৃক্ত খাবার এবং পরিবেশ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। কেননা এলার্জি জনিত উপাদান নাকের পলিপাস বড় করে প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এজন্য অবশ্যই ধুলোবালি, অপরিষ্কার পরিবেশ, পরাগরেনু, পোষা প্রাণীর লোম ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। তাছাড়া এলার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার না খাওয়া অনেক উপকারি । অন্যদিকে প্রসেস ফুড, ফাস্টফুড, মিষ্টি জাতীয় খাবার সহ কিছু দুগ্ধজাত খাবার সাইনাসের প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও এ সকল উপাদান নাকের পলিপাস দ্রুত বড় করে নাক সম্পন্নরূপে বন্ধ করে দিতে পারে। 

    আদা ও মধু খেতে পারেন 

    নাকের পলিপাসে নাকের ভেতরটা বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক, সঙ্গে সর্দি দেখা দেয়। আপনি পলিপাসে এমন সর্দির জনিত সম সমস্যায় পড়লে আদা এবং মধু খেতে পারেন। কেননা আদা এবং মধুর উপাদান গুলি এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য সম্পৃক্ত। পলিপাসে গরম পানিতে আদা ফুটিয়ে তাতে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে উষ্ণ গরম অবস্থায় খেতে পারেন।

    এমন সমস্যায় নাকের বন্ধ ভাব খুলে সর্দি কমিয়ে শ্বাসতন্ত্রে আরাম মেলাতে অত্যান্ত উপযোগী। মাথায় রাখবেন পলিপাস সম্পূর্ণ প্রতিরোধে অবশ্যই নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরী। ঘরোয়া প্রতিকার মূলত সমস্যার লক্ষণ গুলির উপসর্গ কমাতে কার্যকর। 

    হলুদ এবং আনারস খাওয়া উপকারি 

    নাকের পলিপাস নিয়ন্ত্রনে হলুদ এবং আনারস খুবই উপকারী উপাদান হিসেবে পরিচিত। আমরা সকলে হয়তো জানি হলুদ প্রদাহ বিরোধী উপাদান এতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন রয়েছে। অন্যদিকে আনারসে থাকা ব্রোমেলেন এনজাইম নাকের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করে নাকের ফোলা ভাব কমাতে পারে।

    পলিপাসে উপকারিতা পেতে চায়ের সঙ্গে পরিমাণ মতো হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। আপনি যদি পলিপাসের সমস্যায় এমন উপকরণ গুলি ডায়েটে রাখেন তাহলে পলিপের রিগ্রেশনে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে পলিপাসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রনে রাখা খুবই সহজ হতে পারে। 

    প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান 

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও পুষ্টিবিদদের মতে ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা প্রদাহ বিরোধী। নাকের পলিপাসে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকা রাখুন। একই সঙ্গে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ খেলেও উপকার পাওয়া যায়। স্যালিসাইলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে পারেন।

    কেননা এগুলো প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা নাকের মিউকাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। পলিপাসে শরীরের পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে এজন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মাথা উঁচু করে ঘুমান খুবই উপকারী। সর্বোপরি প্রদাহ বিরোধী  ব্যবস্থা নেওয়া পলিপাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত। 

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন 

    নাকের পলিপাসের ঘরোয়া চিকিৎসায় শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী পদ্ধতি। এজন্য মেরুদন্ড সোজা করে বসে এক নাক আঙুল দিয়ে চেপে অন্য নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে একের পর এক চেপে ধরে অন্যটি দিয়ে শ্বাস নিন। এমন ব্যায়ামে নাকের বায়ু চলাচল সহজ করে কিছুটা ফোলা ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। অন্যদিকে নাকের ভেতরে জমে থাকা মিউকাস নরম করতে ভ্রমরি প্রানায়ামা ব্যায়াম উপকারী।

    আরো পড়ুনঃ খিচুনি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা কি কি।

    এজন্য মেরুদন্ড সোজা করে বসে ভেতরের দিকে শ্বাস টেনে জোরে শ্বাস ছাড়ুন। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম থেকেও উপকার পেতে পারেন।  এজন্য নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ে কিছু সময় ভিতরে শ্বাস আটকে রেখে নাক এবং মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়ুন। বিশেষ করে এমন ব্যায়াম পলিপাসে হওয়া শ্বাসকষ্ট কমিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পারে। 

    স্টিম ইনহেলার এবং হিউমিডিফায়ার ব্যাবহার

    নাকের পলিপাস নিয়ন্ত্রণের জন্য স্টিম ইনহেলার এবং হিউমিডিফায়ার ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী। পলিপের উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্টিম ইনহেলার ব্যবহারে নাকের পথ পরিষ্কার করে। একই সঙ্গে প্রদাহ কমিয়ে শ্লেষ্মা কমাতে খুবই উপকারী। তাছাড়া এমন সমস্যায় ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

    নাকের

    এ সময় ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যাবহারে ঘরের আদ্রতা বৃদ্ধি পায়, যা নাকের ভেতরের আদ্রতা বজায় রাখতে উপকারী। উপরোক্ত ঘরোয়া প্রতিকারে প্রতিরোধ প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভব হতে পারে তবে পলিপাস বড় হলে চিকিৎসাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এই সকল ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবস্থায় উপসর্গগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। 

    নাকের পলিপাস এর লক্ষণ 

    নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসায় উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখার বেশ কিছু উপায় তুলে ধরা হয়েছে। পলিপাস মূলত নাকের ভেতরের মিউকাসে বারবার সাইনাস সংক্রমণি হওয়া ব্যথা হীন মাংসপিণ্ড। পলিপাস মূলত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ যা দেখতে  আঙুর বা পানির ফোটার মত। নাকের ভেতরে পলিপাস হলে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে যার ফলে ঘন ঘন সাইনাসের সংক্রমনের দেখা মিলতে পারে। আপনি নাকের পলিপ জনিত সমস্যায় পড়লে বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। নাকের পলিপাস এর লক্ষণ গুলো কি কি সে সম্পর্কে নিচে তুলে ধরা হলো। 

    • নাকের পলিপাস এর লক্ষণ অর্থাৎ উপসর্গগুলি প্রাথমিক অবস্থায় যখন দেখা দেয়। এ সময় বারবার সাইনাসের সংক্রমনের দেখা দিতে পারে। পলিপাসে সর্দি-কাশি সহ মাথা ব্যথার লক্ষণ দেখা দেওয়া সাধারণ বিষয়। একই সঙ্গে নাক দিয়ে পাতলা শ্লেষ্মা বের হতে পারে। নাকে পলিপের সমস্যায় কপালে, চোখে এবং গালে চাপা ব্যথার লক্ষণ অনুভূতি হতে পারে। 
    • আপনার নাকের ভেতরের পলিপাস সামান্য বড় হতে শুরু করলেন নাকের ভেতরে পিন্ডের মতো অনুভূতি যা খালি চোখে দেখা যেতে পারে। এমন পিণ্ড বিশেষ করে আঙ্গুর বা পানির ফোটার মতো দেখতে হয়। নাকের ভেতরে এমন মাংস পিন্ডের কারণে কোন কিছুর স্বাদ সহ ঘ্রান শক্তির অনুভূতি কমতে পারে। কথা বললে নাক বন্ধ স্বরের মত কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরের দাঁতের চোয়ালে ব্যথার লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। 
    • পলিপাস কিছুটা গুরুতর পর্যায়ে গেলে নাক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আসে। সেই সঙ্গে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস দিতে হয় যার ফলে বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যাক্তির শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির রাতে নাক ডাকার লক্ষণ দেখা দেয়। পলিপাস গুরুতর পর্যায় অনেকের চোখের চারপাশে চুলকানি সৃষ্টি করে চোখে অস্বস্তির লক্ষণ উপলব্ধি হতে পারে। 
    • পলিপাসের সবচেয়ে অন্যতম গুরুতর লক্ষণ নাক দিয়ে রক্ত পড়া। নাকের ভিতরে আঙ্গুল বা পানির ফোটার মতো পিন্ড যখন মাত্রাতিরিক্ত বড় হয় তখন আস্তরণে ঘর্ষণের কারণে রক্তপাত হতে পারে। নাকের পলিপাসের সমস্যা সাধারণত ক্যান্সার বিহীন তবে রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। 

    নাকের পলিপাস কেন হয় 

    নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা এবং নাকের পলিপাস এর লক্ষণ সমূহ ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। নাকের পলিপ মূলত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ জনিত সমস্যা। নাকের ভিতরে থাকা মিউকাস বা ঝিল্লিকে সংক্রমনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে পানির ফোটা বা আঙুলের মত পিন্ড তৈরি হয়। নাকে পলিপ মূলত নাকের উপর থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। শরীরের বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সংক্রমণ থেকে নাকে পলিপাসের সৃষ্টি হতে পারে। এই ব্লগটিতে নিচে পলিপাস কেন হয় এমন প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো। 

    • নাকের পলিপাস কেন হয় এমন কারণে সবচেয়ে অন্যতম হলো সাইনোসাইটিস অর্থাৎ সাইনাসের সংক্রমণ। আপনি যদি বারবার সাইনাসের সংক্রমণের সংক্রামিত হন তাহলে পলিপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সাইনাসের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ যা মিউটসের নরম টিস্যু বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে ক্রনিক সাইনোসাইটিস সংক্রমণ ১২ সপ্তাহের বেশি হলে পলিপাসের ঝুঁকি প্রবণতা অনেকটাই বাড়তে পারে। 
    • আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যাদের দীর্ঘস্থায়ী এলার্জির প্রবণতা থাকে। বিশেষ করে এমন এলার্জি নাকে প্রভাব ফেলে এর ফলে,হাচি, সর্দি-কাশি লেগে থাকতে পারে। যাদের এমন এলার্জেন সমস্যা রয়েছে তাদের নাকের ভেতরে পলিপাস হওয়ার ঝুকি রয়েছে। এমন এলার্জি অনেকের ক্ষেত্রে ধুলোবালি, পরিবেশ দূষণ, পোষা প্রাণীর লোম, বায়ু দূষণ থেকে ছড়াতে পারে। অনেকে তো সামান্য ঠান্ডাতেও বারবার নাকের এলার্জিক রাইনাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। 
    নাকের
    • হাঁপানি যা দীর্ঘস্থায় প্রদাহ জনিত রোগ যার ফলে শ্বাসকষ্টের প্রবণতা খুবই সাধারণ ব্যাপার। আপনার হাঁপানি থাকলে নাকের ভেতরে পলিপাস সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কেননা হাঁপানিতে শরীরে ইওসিনোফিল নামক প্রদাহ কোষ সক্রিয় থাকে। এই সক্রিয় কোষ সাইনাসের ভেতরের আবরণে দীর্ঘদিন থেকে পলিপাস সৃষ্টি করে। কোন ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানিতে পলিপাস দেখা দিলে হাঁপানির উপসর্গ অনেকাংশে বেড়ে, সব সময় নাক বন্ধ থাকার প্রবণতা আসে। 
    • যাদের শরীরে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাদের শরীরে ঘন ঘন ফাঙ্গাল বা ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। যদি কোন ব্যক্তির এমন ফাংগাল সংক্রমণের কারণে সাইনাসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হয়। এমন দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ মিউকাসের ভেতরের আবরণে নরম মাংসপিণ্ড তৈরি করে। যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বড় হয়ে নাকের উপর থেকে নিচের দিকে ঝুলে যায়। যারা ডায়াবেটিসের রোগী সহ স্টেরয়েড যুক্ত ওষুধ খান তাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
    • শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন ব্যক্তির শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাবে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত পলিপাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা কমে যায়। এক কথায় ভিটামিন ডি এর অভাবে শরীর দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার সংক্রমণে পলিপাস হতে পারে। 

    উপসংহার। নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা 

    নাকের পলিপাস এর ঘরোয়া চিকিৎসা, নাকে পলিপাস এর লক্ষণ সঙ্গে নাকের পলিপাস কেন হয় এ সকল তথ্য আজকের এই ব্লগটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাকের পলিপাসের ঘরোয়া চিকিৎসা মূলত উপসর্গ কমাতে কার্যকর। নাকে পলিপাসের সমস্যায় দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দেখা দেয় সঙ্গে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত লক্ষণ। আপনি যদি নাকে পলিপাসের গুরুতর লক্ষণ উপলব্ধি করেন সেক্ষেত্রের দ্রুত নাক কান গলা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। গুরুতর পর্যায়ে পলিপাসের একমাত্র চিকিৎসা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া। 

    পলিপাসের সমস্যাকে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মনে হলেও গুরুতর পর্যায়ে জীবন যাপনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সঙ্গে গুরুতর অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না নিলে বেশ ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। এজন্য পলিপাসের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

                            (খোদা হাফেজ)


    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url