মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
আজকের এই পর্বে মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। মলদ্বারে চুলকানির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন যা একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। এমন সমস্যা এতটাই অস্বস্তিকর এজন্য অনেক সময় অনেকের সামনে চুলকানির তীব্রতায় লজ্জাবোধ করাতে পারে।
মলদ্বারে চুলকানির সমস্যা ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন সহ চিকিৎসা ব্যবস্থায় খুব সহজে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় সম্ভব। চলুন আজকের ব্লগের এই পর্বে মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
- মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার কারণ। কি কারণে মলদ্বারে চুলকানি হয়
- মলদ্বারে চুলকানির লক্ষণ। মলদ্বারে চুলকানির লক্ষণ গুলো কি কি
- মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
- নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরীঃ
- শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুনঃ
- ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পড়ুনঃ
- আক্রান্ত স্থানে নারকেল তেলের ব্যবহারঃ
- অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারঃ
- কৃমির সংক্রমণে মলদ্বারে চুলকানি হলে করণীয়ঃ
- কি কি খাবার মলদ্বারের চুলকানিতে উপকারীঃ
- মলদ্বারে চুলকানির চিকিৎসা ব্যবস্থা কি
- শেষ মন্তব্য। মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার কারণ। কি কারণে মলদ্বারে চুলকানি হয়
এই ব্লগে মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। তবে ব্লগটির শুরুতে মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার কারণ গুলি জেনে নিন। মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। তবে এমন সমস্যা হওয়ার পেছনে দৈনন্দিনের কিছু বদ অভ্যাস জড়িত থাকতে পারে। সঙ্গে কিছু গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দায়ি হতে পারে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে শুরুতেই মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা যাক।
- কথায় আছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আমাদের সকলেরই শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরী। মলদ্বারে চুলকানির সমস্যা প্রতিরোধে টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে মালদ্বার পরিষ্কার করা খুবই জরুরী। কেননা মলত্যাগের পর মলদ্বারের আশেপাশে মল বা ঘামের অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার না হলে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
- দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখা কিছু খাবারও মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের পায়ুপথ হলো সংবেদনশীল জায়গা। বিশেষ করে চা, কফি, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, অ্যালকোহল, তামাকজাদ দ্রব্য সেবন, টমেটো এবং বাদামের মত খাবার পায়ুপথ রুক্ষ করে তুলতে পারে। যা থেকে মলদ্বারে চুলকানি সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় কম রাখলে এমন সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় টয়লেটে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে হয় এর ফলে পাইলস ও এনাল ফিসার তৈরি করতে পারে। তাছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যে মলদ্বারের আশপাশে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগে ফাটল সৃষ্টি হতে পারে যা চুলকানি সৃষ্টিতে কার্যকর। অন্যদিকে ডায়রিয়ায় তৈরিকৃত পাতলা এবং ঘন ঘন মলত্যাগের কারণে মলদ্বারে ত্বকের সংবেদনশীলতা ও জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়রিয়া মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টি করার অন্যতম কারণ বলে ধরা যায়।
- মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টি করতে ছত্রাক সংক্রমণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে মলদ্বারে ছত্রাক সংক্রমনের দেখা মিলতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এর ফলে পায়ুপথের মাংসপেশির দুর্বলতা আসে যা এমন ছত্রাক সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। এমন সংক্রমণ একজিমা, সরিয়াসিসের ফলেও হতে পারে। এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন, ডায়াবেটিস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে মলদ্বারে ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
- কৃমির সমস্যা একজন মানুষকে খুবই দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ঠিক তেমনি মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টিতে পিন ওয়ার্ম বা সুতা কৃমি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সুতা কৃমি অক্সিজেনের জন্য মলদ্বারের আশেপাশে অবস্থান নেয় যা অনেক সময় মলদ্বারে চুলকানির সৃষ্টি করে। সুতা কৃমির কারণে মলদ্বারে চুলকানির প্রবণতা রাতে বিদ্বী পেতে পারে সঙ্গে পেটে ব্যথা, ক্লান্তি এবং ওজন কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
- কোন ব্যক্তির পাইলসের সমস্যা থেকে থাকলে মলদ্বারে চুলকানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শারীরিক দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন পায়ুপথের ক্যান্সার, লিভারের সমস্যা, কিডনির রোগ, রক্তের সমস্যা ইত্যাদির কারণে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে। একজিমা, সোরিয়াসিস ও এলার্জির মতো চর্মরোগ মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। ডায়াবেটিস সরাসরি মলদ্বারে ঘন ঘন ছত্রাক বা ফাংগাল সংক্রমনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মলদ্বারে চুলকানির লক্ষণ। মলদ্বারে চুলকানির লক্ষণ গুলো কি কি
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির এই পর্বে ইতিমধ্যে এমন সমস্যার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে। ব্লগের মূল পর্বের আলোচনার পূর্বে চলুন মলদ্বারে চুলকানির লক্ষণগুলো সম্পর্কে কিছু ধারনা নেওয়া যাক। মলদ্বারে চুলকানির সমস্যা মলদ্বারের আশেপাশে হয়ে থাকে। এতে ক্রমাগত চুলকানি, আশেপাশে ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে। অনেক সময় চুলকানির প্রবণতা এতটাই বেড়ে যেতে পারে, যা চুলকানোর ফলে মালদ্বার থেকে চামড়া উঠে আসতে পারে। সঙ্গে মলদ্বারের আশপাশে ছোট ছোট পিন্ডের মতো ফোলা ভাব তৈরি করে।
মলদ্বারের চুলকানির সমস্যা দিনের থেকে রাতে তীব্রতা অনেকাংশে বেড়ে যায় যা ঘুমেরও আঘাত ঘটাতে পারে। এমন সমস্যায় মলদ্বারের আশপাশে লালচে ভাবের সৃষ্টি হতে পারে। কৃমির সংক্রমনে মলদ্বারে চুলকানি হলে এর সঙ্গে পেটে ব্যথা, ক্লান্তি সহ শরীরের ওজন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে অর্শ বা পাইলসের সমস্যায় মলদ্বারে চুলকানি সহ মলদ্বারের বাইরে নরম ছোট ফোলা পিন্ড বের হয়ে আসতে পারে। মলদ্বারে চুলকানির সমস্যা খুবই বিরক্তিকর যা সবকিছু মিলিয়ে জীবন যাপনে খুবই বিরক্তিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে।
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি আজকের পর্বের মূল বিষয়। ইতিমধ্যে মলদ্বারে চুলকানির বেশ কিছু কারণ সহ লক্ষণ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। মলদ্বারে চুলকানি মূলত সংক্রামন রোগ এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ বেশ কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণে সমস্যার মোকাবেলা করা যেতে পারে। এছাড়াও মলদ্বারের চুলকানির বেশ ভালো চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যা থেকে খুব সহজে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এই পর্বের মূল বিষয় মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যাক চলুন।
নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরীঃ
শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। তবে আপনার যদি মলদ্বারে চুলকানি হয় সেক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে জোর নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। মলত্যাগের পরে এমন চুলকানিতে সঠিক পদ্ধতিতে মলদ্বার পরিষ্কার করা প্রযোজ্য। এমন চুলকানিতে কুসুম গরম পানি দিয়ে মালদ্বার পরিষ্কার করা উপযুক্ত।
কোনক্রমে জোরে ঘষা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে হালকা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী সুগন্ধী মুক্ত সাবান সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। সম্পূর্ণ ধুয়ে পরিষ্কারের পর মালদ্বার নরম টিস্যু দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন। কেননা এ সময় মলদ্বার ভেজা রাখলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মলদ্বারে সুগন্ধিযুক্ত টিস্যু ব্যবহার এমন সমস্যায় না করা উপযুক্ত।
শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুনঃ
মলদ্বারে চুলকানির সমস্যায় শরীরের যে সকল খাবার এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে এগুলো এগিয়ে চলা আরোগ্য পেতে খুবই জরুরী। দৈনন্দিনের খাদ্য রুটিনের ঝাল মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও লবণ, ক্যাফেন সমৃদ্ধ পানীয়, লেবু জাতীয় পানীয়, টমেটো এবং অ্যালকোহল ইত্যাদি মলদ্বারের চুলকানি তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়াও শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করতে দুধ, ডিম, বেগুন, চিংড়ি, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার এলার্জির তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য এগুলো আরোগ্য পেতে সাময়িক সময়ের জন্য না খাওয়াই উত্তম।
ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পড়ুনঃ
মলদ্বারে এমন চুলকানির সমস্যায় মলদ্বার সহ মলদ্বারের আশপাশের ঘাম ও আদ্রতা কমিয়ে উষ্ণ আরামদায়ক রাখাটা প্রয়োজন। আপনার এমন চুলকানিতে আক্রান্ত স্থানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উপযুক্ত। তাছাড়া একটু টাইট পোশাকে আক্রান্ত স্থানে ধর্ষণের ফলে লালচে ভাব সহ চুলকানি তীব্রতা ও জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এমন সমস্যায় উপকার পেতে ঢিলেঢালা সুতি কাপড় বেশ উপকারী। বিশেষ করে সুতির মতো প্রাকৃতিক কাপড় ঘাম শোষণ করে ত্বক শুষ্ক রাখতে খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। যা মলদ্বারে চুলকানির মত সমস্যা সমাধান সহ প্রতিরোধে খুবই জরুরী।
আক্রান্ত স্থানে নারকেল তেলের ব্যবহারঃ
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি মেলাতে নারকেল তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে। নারকেল তেলে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি, এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং মশ্চারাইজিং গুণাবলী রয়েছে। এমন সমস্যায় নারকেল তেল আক্রান্ত স্থানে ব্যবহারে সাময়িকভাবে চুলকানির তীব্রতা, জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমিয়ে আদ্র ও মসৃণ রাখতে উপকারী। মলদ্বারে চুলকানিতে দিনে কয়েকবার মলত্যাগের আগে ও পরে চাইলে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। এমন চুলকানিতে ত্বকের ড্যামেজ রিপিয়ারে ভূমিকা রাখতে পারে এই উপকরন।
অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারঃ
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার উপকারী হতে পারে। তবে এ সময় উপকারিতা মেলাতে অ্যালোভেরা জেলের সঠিক ব্যবহার করা জরুরী। সঠিক নিয়মে এলোভেরা জেল ব্যবহারে এতে থাকা প্রদাহ বিরোধী গুণাবলী আক্রান্ত স্থানের চুলকানি ও জ্বালা কমিয়ে শীতল ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে। এছাড়াও এলোভেরা জেল ব্যবহারে মলদ্বারের আশপাশের লালচে ভাব, প্রদাহ এবং ক্ষত নিরাময় করতে খুবই উপযুক্ত উপাদান।
এমন সমস্যায় উপকার মেলাতে কুসুম গরম পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপরে তোয়ালে বা সুগন্ধি মুক্ত টিসু দিয়ে আক্রান্ত স্থান আলতো করে ঘসে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপরে তাজা এলোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে আক্রান্ত স্থানে আলতো করে লাগান। আপনি চাইলে দিনে ২ থেকে ৩ বার অ্যালোভেরা জেল বাইরের আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।
কৃমির সংক্রমণে মলদ্বারে চুলকানি হলে করণীয়ঃ
বিশেষ করে পিন ওয়ার্ম বা সুতা কৃমি মলদ্বারে চুলকানি সৃষ্টিতে ভুমিকা রাখতে পারে। এমন সমস্যায় আপনার কৃমির প্রকোপ দেখা দিলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরী। এ সময় মলদ্বার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সঙ্গে মলত্যাগের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কোনক্রমে নক দিয়ে চুলকানো উচিত নয় না হলে সংক্রমণ পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরো পড়ুনঃ সাদা ছুলি দূর করার ঘরোয়া উপায়।
এমন সমস্যায় আপনি নিজেকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমিনাশক ঔষধের ডোজ সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করা উপযুক্ত। এমন কৃমি আপনার শরীরের ওজন কমিয়ে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি সহ তীব্র চুলকানির প্রবণতায় ফেলতে পারে। যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা আরোগ্য পেতে প্রয়োজনীয়।
কি কি খাবার মলদ্বারের চুলকানিতে উপকারীঃ
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসায় কিছু উপকারী খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরী। এ সময় ফাইবার যুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। কেননা এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে মল নরম রাখে এর ফলে চুলকানিতে খুব সহজে আরোগ্য পাওয়া যেতে পারে।
মলদ্বারের চুলকানিতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা পূরণে সবুজ শাকসবজি, পেপে, ইসবগুলের ভুষি, যেকোনো স্যুপ, পাতলা খিচুড়ি ইত্যাদি খেতে পারেন। শরীরে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণে নজর দিন। চাইলে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার দই বা ঘোল খেতে পারেন।
মলদ্বারে চুলকানির চিকিৎসা ব্যবস্থা কি
মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। তবে আপনার যদি মলদ্বারের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে না কমে। সেক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার কিছু নেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যায়ে মলদ্বারের ভেতরে কোলনস্কোপি সহ প্রয়োজনীয় ছত্রাক বা পাঙ্গাস পরীক্ষা করতে পারেন।
মলদ্বারের চুলকানিতে আমাদের দেশে প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু ওষুধ সহ ব্যবহারিক লোশনে কমবেশি বেশ উপকার পাওয়া যায়। অনেক চিকিৎসক এমন সমস্যায় বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশন ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। মলদ্বারে সমস্যায় কিছু সার্জন মলদ্বারের আক্রান্ত ত্বক কেটে নতুন ত্বক স্থাপনে সফলতা পেয়েছেন। এমন সমস্যায় সার্জারির যদিও তেমন একটা প্রয়োজন পরেনা।
শেষ মন্তব্য। মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি
আজকের এই পর্বে মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঠিক চিকিৎসার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। এই পর্বের শুরুতে মলদ্বারে চুলকানির বেশ কিছু কারণ উপস্থাপন করা হয়েছিল। মলদ্বারে চুলকানি যদিও সাধারণ সমস্যা তবে এটি খুবই বিরক্তিকর এবং লজ্জা জনক। এটি দৈনন্দিনের সুস্থ জীবন যাপনে বেশ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এজন্য এমন সমস্যায় আরোগ্য পেতে প্রয়োজনীয় সঠিক ব্যবস্থার দিকে নজর দিন।
ঘরোয়া প্রতিকার মেনে চলুন, যে সকল খাবার আরোগ্য পেতে বাধা প্রদান করতে পারে, তা এড়িয়ে চলুন। সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহ দৈনন্দিনের সতর্কতাই এমন চুলকানি থেকে মুক্তি মিলাতে পারে। যাইহোক এতক্ষণ, মলদ্বারে চুলকানির ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url