রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয়

 রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রক্তে ইনফেকশন মানে সেপসিস এটি জটিল সমস্যা । এ সময় শরীরের রক্তে বিষাক্ত উপাদান বেড়ে যায়। সাধারণত কোন ব্যক্তির মধ্যে রক্তে ইনফেকশন দেখা দিলে নানা রকম রোগবালাই দেখা দেওয়া শুরু করে। 

রক্তে

শারীরিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে রক্তে ইনফেকশন অর্থাৎ বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রক্ত পরিষ্কার করার জন্য সহায়ক প্রতিকার হিসাবে বেশ কিছু খাবার সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয় 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয় জানুন

আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে রক্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা শরীরের কোনায় কোনায় পৌঁছে যায় একই সঙ্গে সমস্থ অঙ্গে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। রক্তে ইনফেকশন বা ক্ষতিকারক পদার্থ জমে গেলে মুখে ব্রণ, ত্বক খসখসে ভাব এবং সোরিয়াসিস এর মত নানান স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য শারীরিক সুস্থতায় রক্তের ইনফেকশন দূর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রক্তের ইনফেকশন দূর করে পরিষ্কার করার জন্য উপকারি কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিন।  

  • রক্তের ইনফেকশন দূর করে রক্ত পরিষ্কার করার জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন লেবু, আমলকি, কমলা এবং ব্রকলি, টমেটো, পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি শাকসবজি বেশ কার্যকর। কেননা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই সকল শাকসবজি এবং ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ব যা শরীরের রক্ত থেকে বিষাক্ত টক্সিন দূর করে।
  • রক্তে ইনফেকশন হলে  তালিকায় বিটরুট খাওয়া খুব উপকারী। কেননা বিটরুটে পরিমাণ মতো আয়রন, ভিটামিন সি এবং ফোলেট পাওয়া যায়। তাছাড়া বিটরুট এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা রক্ত থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেয় একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আপনার রক্তের ইনফেকশন দূর করে রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে বিটরুট।
  • শরীরের জন্য রক্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে রক্তে ইনফেকশন বা রক্ত দূষিত হলে এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরী। রক্তের ইনফেকশন দূর করতে আদা, হলুদ এবং মধু সহায়ক প্রতিকার হিসেবে  উপকারী হতে পারে। এজন্য সামান্য কুসুম গরম পানিতে পরিমাণ মতো আদা, হলুদ এবং মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এ সকল উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শরীরের ক্ষতিকার বর্জ্য নিষ্কাশনে কার্যকর।
  • রক্তের বর্জ্য নিষ্কাশন করে রক্ত পরিষ্কার করতে প্রবায়োটিক সমৃদ্ধ দই খেতে পারেন। বিশেষ করে টক দই খুবই উপকারী কেননা এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তি যোগায়। এছাড়া প্রোবায়োটিক হজম শক্তি বৃদ্ধি করে অন্ত্রের  কার্যকারিতায় সাহায্য করে। যার ফলে রক্তে মিশে থাকা ক্ষতিকারক বর্জ্য নিষ্কাশন করতে সাহায্য করতে পারে।
  • রক্তের ইনফেকশন বা সংক্রমণ দূর করতে যেকোনো বাদাম খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কাঠবাদাম বেশ উপকারী। কেননা বাদামে ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সংক্রমণ রোধ করে প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভেজানো বাদাম রক্তচাপ এবং রক্তের শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ কাজ করে। এক কথায় রক্তে ইনফেকশন বা ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করা সহ রক্তের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য এক মুঠ বাদাম খুব উপকারী। 
  • রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হবে এমন খাবারের তালিকায় করলা রাখতে পারেন। করলাতে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬ এবং পটাশিয়াম বিদ্যমান। এমন পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তি যোগায়। রক্তে ইনফেকশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে উপরোক্ত খাবার সহ করলা দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। 

রক্তে ইনফেকশন হলে অন্যান্য করনীয় 

  • রক্তে ইনফেকশন বা সংক্রমণ, যেটিকে সেপসিস বলে ধরেন চিকিৎসকেরা। এ সময় রক্তের ইনফেকশন বা সংক্রমণ রোধ করার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শরীরের রক্তে বিষাক্ত বর্জ্য প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান খুবই জরুরী। আপনার কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করুন। 
  • শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম নিশ্চিত করাও প্রয়োজনীয়। স্বাভাবিকভাবে দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন। শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে প্রয়োজন মত ব্যায়াম করতে পারেন। এটি শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে।
  • কোন প্রকার ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে দ্রুত বর্জনীয়। কেননা ধূমপান এবং মদ্যপান রক্তে ইনফেকশন বাড়িয়ে তোলে আরোগ্য পেতে বাধা প্রদান করতে পারে। অতিরিক্ত লবণ বা উচ্চ সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ খাবার থেকেও দূরে থাকুন। 

রক্তে ইনফেকশন এর লক্ষণ। রক্তে ইনফেকশন হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয় 

আজকের এই ব্লগটিতে রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হবে এ ব্যাপারে বেশ কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রক্তে ইনফেকশন মানে রক্ত দূষিত হওয়া, এমন সমস্যায় শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি হতে পারে। রক্তের মাধ্যমে শরীরের কোনায় কোনায় অক্সিজেন পৌঁছে যায়। যখন রক্তে সংক্রমণের দেখা মেলে তখন শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। নিচে রক্তে ইনফেকশনের লক্ষণ, রক্ত ইনফেকশন হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো তুলে ধরা হল।

রক্তে
  • রক্তে ইনফেকশন বা সেপসিস কোন ব্যক্তির মধ্যে দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায় হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে পারে। সেপসিসে হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়াকে চিকিৎসকেরা ট্যাকিকার্ডিয়া বলে থাকেন। কেননা রক্ত দূষিত হলে সমস্ত অঙ্গে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয় যার ফলে হৃদপিণ্ডকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। 
  • রক্ত ইনফেকশন বা সংক্রমনে শরীরের প্রচন্ড জ্বরের দেখা মিলতে পারে। কখনো কখনো জ্বরের সঙ্গে শরীরে তীব্র কাঁপুনির দেখা দিতে পারে। শরীরের প্রচন্ড ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে ঠান্ডা অনুভূতি দেখাও মিলতে পারে। অনেক সময় শরীরে রক্তচাপ কমে নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 
  • রক্ত দূষিত হওয়ার সবথেকে অন্যতম লক্ষণ শরীরের ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। রক্ত দূষিত হওয়ার কারণে অনেক রোগীর মুখে ব্রণ হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। একই সঙ্গে ত্বকে ফুসকুড়ি হাওয়া সহ ত্বক খসখসে হয়ে যেতে পারে। রক্তে ইনফেকশনে শরীরে রক্ত উৎপাদন কমে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। কোন কোন সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার মত লক্ষণ আসতে পারে। 
  • রক্ত ইনফেকশনে গুরুতর পর্যায়ে একজন রোগীর মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিক টেনশন, উদ্বেগ এবং বিভ্রান্তিতে ভুগতে পারে। অনেক রোগীর মধ্যে মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা দেওয়া সহ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আসতে পারে। রক্তে ইনফেকশনে হলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। কখনো কখনো আক্রান্ত ব্যক্তি হ্যালোসিনেশনে ভুগতে পারেন। 
  • রক্তের সংক্রমনে প্রচন্ড শারীরিক ক্লান্তির লক্ষণ খুবই স্বাভাবিক বিষয়। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া সহ প্রস্রাবে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন। বমি বমি ভাব সহ কখনো কখনো বমি হওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অর্থাৎ শ্বাসকষ্টের মত লক্ষন রক্তে ইনফেকশনে দেখা দিতে পারে। আপনি শরীরে উপরোক্ত লক্ষণ গুলির মিল পেলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন। 

রক্তে ইনফেকশন কেন হয়। রক্তে ইনফেকশন হওয়ার কারণ 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হবে এবং রক্তে ইনফেকশনে লক্ষণ সম্পর্কে ব্লগটিতে ইতিমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। রক্তের ইনফেকশন বা সংক্রমণ বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করার মাধ্যমে ঘটে। রক্তের ইনফেকশন বা সংক্রমণ চিকিৎসা ভাষায় সেপসিস নামে পরিচিত তা ইতিপূর্বে বলা হয়েছে। মূলত রক্ত ইনফেকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা, এজন্য দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। নিচে রক্তে ইনফেকশন কেন হয়, রক্ত ইনফেকশন হওয়ার কারণ গুলি সম্পর্কে জেনে নিন।

  • রক্তে ইনফেকশন হওয়ার কারণগুলির মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। মূলত মূত্রনালীর ব্যাকটেরিয়া, পেট বা ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনফেকশন রক্তে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে কোন কাটা স্থান থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত হলে কিংবা কাটা স্থান বা সার্জারি জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হলে রক্তে ইনফেকশন হতে পারে। 
  • রক্ত ইনফেকশন কেন হয়, এমন সমস্যা সৃষ্ঠিতে শরীরে ভাইরাল ইনফেকশন গুরুত্ব রাখে। যেমন কোন ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস থেকে সেপসিস হতে পারে। চিকুনগুনিয়া বা হেপাটাইটিসের মত ভাইরাস জনিত সমস্যা রক্ত ইনফেকশন তৈরী করতে পারে। করোনা ভাইরাসের গুরুতর পর্যায়ে কারো কারো রক্তে ইনফেকশন ছড়াতে পারে। 
  • সবশেষে ছত্রাক সংক্রমণ রক্তে ইনফেকশন ছড়ানোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের ছত্রাক সংক্রমিত খুব সহজে করতে পারে। তাছাড়া শারীরিক দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, কারো কারো ক্যান্সার থেকেও রক্তে ইনফেকশন হতে পারে। ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধ বা স্টেরয়েড ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি সেবনে মানব দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয় যেতে পারে। যা থেকে রক্তে ইনফেকশন দেখে দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

বাচ্চাদের রক্তে ইনফেকশন কেন হয় 

রক্ত ইনফেকশন হলে উপযুক্ত খাবার এবং রক্তে ইনফেকশনের লক্ষণ ও বেশ কিছু কারণ হয়তো আপনার কাছে এখন পরিষ্কার।  অনেক সময় শিশু বাচ্চাদের মধ্যেও রক্তে ইনফেশনের লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে নবজাতক বাচ্চার অকাল জন্ম, বাচ্চার ওজন কম হওয়া রক্তে ইনফেকশন তৈরিতে অন্যতম। তাছাড়া মায়ের শরীরে সংক্রামিত মূত্রনালীর সংক্রমণ, বাচ্চা প্রসবের ১৮ ঘণ্টা আগে অ্যামনিওটিক থলি ফেটে গেলে শিশু বাচ্চার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মায়ের GBS ব্যাকটেরিয়া, ই-কোলা ব্যাকটেরিয়া থেকে বাচ্চাদের রক্ত ইনফেকশন হতে পারে। 

নবজাতক বাচ্চাদের রক্ত ইনফেকশন কেন হয় এমন কারণে স্ট্যাফিলেকক্কাস আরিয়াস ব্যাকটেরিয়া রক্তে গুরুতর ইনফেকশন ঘটাতে পারে। বাচ্চার রক্তে ইনফেকশন এর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি হল বাচ্চার অকাল জন্ম নেওয়া। নবজাতক বাচ্চার রক্তে ইনফেকশনের লক্ষণ উপলব্ধি করলে বাচ্চাকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া জরুরী। কখনো কখনো মায়ের দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে নবজাতকের মধ্যে সেপসিস ছড়াতে পারে। নবজাতক বাচ্চার সেপসিসে সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া হলে বাচ্চার গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

শিশুদের রক্তে ইনফেকশন হলে কি করনীয় 

রক্তে ইনফেকশন হলে উপযুক্ত খাবার সহ সেপসিসের বেশ কিছু তথ্য সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নবজাতক বাচ্চার রক্তে ইনফেকশন কেন হয় সে ব্যাপারেও কিছু ধারনা দেওয়া হয়েছে। শিশুদের রক্ত ইনফেকশন খুবই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশুকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা জরুরী। শিশুর মধ্যে রক্তে ইনফেকশনের লক্ষনে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এ সময় শিশুর জন্য নিকটস্থ হসপিটাল সবচেয়ে উপযুক্ত। শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় আরামদায়ক ভাবে রাখুন। শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে মাথা উঁচু করে রাখা ভালো। 

চিকিৎসকের কাছে শিশুর লক্ষণ গুলি তুলে ধরুন। শিশুর শরীরের অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যা কিংবা ওষুধ সেবন করালে তা জানান। চিকিৎসক শিশুকে এন্টিবায়োটিক থেরাপি, শিশুর শিরায় তরল প্রবেশ এবং অক্সিজেন থেরাপি সহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিশেষ করে চিকিৎসক শিশুদের রক্তে ইনফেকশন প্রতিরোধে শরীরের পানি শূন্যতা পূরণ সহ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার জন্য এমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোন প্রকার ওষুধ সেবন করাবেন না। কেননা বাচ্চার রক্তে ইনফেকশন গুরুতর সমস্যা, যা প্রতিরোধে একমাত্র সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা নেওয়া।

রক্তে ইনফেকশন হলে কি ভালো হয় 

আজকের এই ব্লগটিতে রক্তে ইনফেকশন হলে কি খেতে হবে, ইনফেকশন হওয়ার লক্ষণ এবং কারণ সহ শিশু বাচ্চাদের রক্তে ইনফেকশন হওয়ার কারণ ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই জানতে চান রক্তে ইনফেকশন হলে কি ভালো হয়। রক্তে ইনফেকশন মূলত গুরুতর সমস্যা যা সঠিক সময় চিকিৎসা না নেওয়া হলে মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে রক্তে ইনফেকশন এর উপসর্গ প্রকাশে প্রাথমিক অবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শে শ্বেত রক্তকণিকা এবং অন্যান্য রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নির্ণয় করুন। চিকিৎসক আপনার ইনফেকশন বা সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনে উৎসাহিত করবেন।

রক্তে

বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে রক্তে ইনফেকশন হলে এন্টিবায়োটিক এর মাধ্যমে চিকিৎসক চিকিৎসা করেন। ভাইরাস এবং ছত্রাকের কারণে সংক্রামিত হয়ে রক্ত ইনফেকশন হলে এন্টিভাইরাল এবং এন্টি ফাঙ্গাল জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। শরীরের কোন প্রকার কাটা স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রযোজ্য। একমাত্র আপনার সতর্কতায় রক্তের ইনফেকশন প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার। 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি ক্যান্সার হয় 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি ক্যান্সার হয় এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই জেগে থাকে। আপনি হয়তো জানলে অবাক হবেন রক্তে ইনফেকশন সাধারণত ক্যান্সারের থেকেও হতে পারে। তবে রক্তের ইনফেকশন সরাসরি ক্যান্সারের সমস্যা সৃষ্টি করে না। যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রক্ত সংক্রামিত অবস্থায় থাকে সেক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কেননা দীর্ঘমেয়াদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকার ফলে ক্যান্সারের   ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

আরো পড়ুনঃ বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে জানুন।

চিকিৎসকদের মতে সব রক্তের ইনফেকশন ক্যান্সার নয়। চিকিৎসকরা আরো বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সারের সমস্যা রক্তে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে লিউকেমিয়ার সমস্যায় যখন রক্তে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে বারবার রক্তে ইনফেকশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়াও হেপাটাইটিস ভাইরাস বিশেষ করে রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। যা থেকে কারো কারো লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি মানুষ মারা যায় 

রক্ত মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা রক্ত আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে শরীরের বর্জ্য অপসারণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কার্যকারিতা বজায় রাখতেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের এমন প্রয়োজনীয় রক্তে ইনফেকশন হলে কি মানুষ মারা যায় এমনটাই আজকের এই পর্বের বিষয়। রক্তের ইনফেকশন যেটিকে চিকিৎসা ভাষায় সেপসিস বা ব্লাড পয়জনিং বলা হয়। এটি অত্যন্ত জটিল এবং গুরুতর সমস্যা এজন্য দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। 

রক্ত ইনফেকশন বা সেপসিসে শরীরের রক্তচাপ খুবই কমে যায় যা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে খুব দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। সময় মত রক্তে ইনফেকশনের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে খুব দ্রুত একজন মানুষকে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। রক্তের ইনফেকশন বা সেপসিসে দেরিতে চিকিৎসা, ইনফেকশন খুব বেশি ছড়িয়ে পড়া, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুর মধ্যে খুবই বিপদজনক। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম তাদেরও খুব দ্রুত মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আপনি কোন প্রকার রক্তে ইনফেকশন এর লক্ষণ উপলব্ধি করলে অবিলম্বে চিকিৎসা সেবা নিন। 

উপসংহার। রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয় 

রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খেতে হয়, রক্তে ইনফেকশন হওয়ার কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও শিশুদের রক্ত ইনফেকশনের কারণ ও করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। রক্তে ইনফেকশন হওয়া খুবই গুরুতর সমস্যা তা হয়তো আপনার কাছে এখন পরিষ্কার। শরীরের রক্ত দূষিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। একই সঙ্গে ব্লগটির প্রথমে উল্লেখিত যে সকল খাবার রক্ত ইনফেকশনে সহায়ক সেগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

রক্ত ইনফেকশন যেহেতু গুরুতর এজন্য সতর্কতাই একমাত্র সুস্থ থাকার হাতিয়ার। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে ভুলবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার ওষুধ নিজে নিজে না খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। নবজাতক বাচ্চাদের মধ্যে রক্তে ইনফেকশন এর লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। 

                        (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url