বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার

সাধারণত যদি পেটে বদহজমের সমস্যার দেখা মেলে, পেট ফাঁপা গ্যাস সহ, বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। পেটে বদহজমের সমস্যা দেখা দেওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। অনেকের মধ্যে, ভালো খাবার সহ অতিরিক্ত খেলে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। বদহজম বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তির পাকস্থলীর হজম ক্ষমতার উপর নির্ভর করে, দেখা দেয়। এজন্য আপনার নিজেকেই বুঝতে হবে, কোন ধরনের খাবারের ফলে হজমে সমস্যা হচ্ছে। 

বদহজম

বদহজম একটি বিরক্তিকর সমস্যা, যার ফলে খাবারের রুচি থাকে না, পেট ফাঁপা এবং গ্যাস্ট্রিক সহ পেটের নানা ধরনের জটিলতার দেখা মেলে। বদহজম সাধারণ সমস্যা, হলেও এটি খুবই বিরক্তিকর। চলুন আজকে, বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? এ ব্যাপারে আর্টিকেল টিতে জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার

পেটে বদহজম হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী

বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? ব্লগের শুরুতেই আমরা বদহজম হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী সেগুলো জানার চেষ্টা করব। বদহজম হওয়ার কারণগুলো যদি আমাদের সকলের জানা থাকে, সেক্ষেত্রে দৈনন্দিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হতে পারে। কথা না বাড়িয়ে চলুন জানা যাক, পেটে বধজম হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী সেগুলো সম্পর্কে। 

  • সাধারণ ভাবে পেটে, বদ হজমের সমস্যা দেখা দেওয়ার সব থেকে অন্যতম কারণ হলো, অতিরিক্ত তেল, ঝাল সহ ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া। যদি দ্রুত খাবার খাওয়া হয়, একই সঙ্গে ভালো করে না চিবালে, অনেক বেশি খাবার একসঙ্গে খেলে এবং অনিয়মে খেলেও, এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। 
  • শারীরিক সমস্যা যেমন পেটে আলসার, লিভারের সমস্যা, পিত্তথলিতে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি সহ কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বদহজম দেখা দিতে পারে। দিতে পারে বললে ভুল হবে এমন রোগীর, বদহজম হওয়া খুবই কমন ব্যাপার। 
  • আপনি যদি ধূমপান সহ অ্যালকোহল সেবন করেন, সেক্ষেত্রে এগুলো পেটে বদহজম সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া খাবার খাওয়ার পর, আপনি যদি অল্প সময়ের মধ্যে শুয়ে পড়েন তাহলেও এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। 
  • শরীরে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরী। আপনি যদি পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত না করেন সেক্ষেত্রে আপনার হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকেও এমন সমস্যার দেখা অনেকের মেলে। 
  • নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের মাধ্যমে, পাকস্থলীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাথা নাশক ওষুধ, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সহ স্টেরয়েড ইত্যাদি ওষুধ সেবনের ফলে এমনটা হতে পারে। 
  • তাছাড়া হরমোন পরিবর্তনের ফলে অনেকের এমন সমস্যার দেখা মেলে। বিশেষ করে নারীদের গর্ব অবস্থায় হরমোন পরিবর্তনের কারণে হজম শক্তি কমে যায়। থাইরয়েডের ভারসাম্য ঠিক না থাকলেও বদ হজম দেখা দিতে পারে। 

বদহজম কারণে যে সকল লক্ষণ অনুভব হতে পারে 

ইতিমধ্যে বদ হজম হওয়ার বেশি কিছু কারণ, সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কারো যদি বদহজমের সমস্যার দেখা মেলে, এজন্য শরীরে বেশ কিছু শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ অনুভব হতে পারে। বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? আর্টিকেলটিতে এখন আমরা বদহজমের লক্ষণ গুলো জানার চেষ্টা করব। 

আরো পড়ুনঃ অতিরিক্ত কাশি হলে কি করতে হবে ? এ ব্যাপারে জানুন।

  • বদহজমের সমস্যা অর্থাৎ খাবার পরিপূর্ণভাবে হজম না হওয়া। এ সময় প্রাথমিক অবস্থায় খাবার হজম না হওয়ার ফলে, পেটে ভারী ভাব অনুভব হতে পারে। একই সঙ্গে বুকে এবং গলায় জ্বালাপোড়ার মত লক্ষণ অনুভব হতে পারে। 
  • এমন সমস্যার ফলে খাবার খাওয়ার পর, পেটের ভিতরে অস্বস্তি, ব্যাথা সহ চাপের অনুভূতি লক্ষ্য করতে পারেন। এ সময় খাবার খাওয়ার পরে, পেটে ফোলা বা টান টান ভাব লক্ষ করতে পারেন। একই সঙ্গে পেটে অস্বস্তি তৈরি হয়ে তা  দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। 
  • বদহজমের ফলে খাবারের অরুচি দেখা দেওয়া খুব সাধারন ব্যাপার। এ সময় সাধারণত পেট ভরা অনুভব হয়, অল্প খাবারের পরিপূর্ণ মনে হয়। পেট থেকে যদি বায়ু বের হয়, সে ক্ষেত্রে পেটের ভেতরটা হালকা মনে হয় এবং আরাম মেলে।
বদহজম


  • খাবার খাওয়ার পরে, আপনার এমনটা মনে হতে পারে খাবার গলার কাছে আটকে আছে। একই সঙ্গে অনেকের বমি বমি ভাব লক্ষ্য করতে পারেন। কোন কোন সময় বমি হওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 
  • পেটের ভিতরে শব্দ হতে পারে, তবে হজমের সমস্যার ফলে শব্দ একটু বেশি অনুভব হয়। মুখের স্বাদ কমে যেতে পারে, যা টক বা তিতা স্বাদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  অনুভূতি হয়। 

বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? বদহজমে উপযুক্ত খাবার 

আজকের ব্লগটির আলোচ্য বিষয়, বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? বদ হজমের উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে। আমাদের মধ্যে বদহজমের সমস্যা দেখা দেওয়ার বেশ কিছু কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। বদহজমের সমস্যা যদিও খুব সাধারণ সমস্যা, তবে এটি খুবই বিরক্তিকর। যা দীর্ঘস্থায়ী হলে একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। চলুন তাহলে, বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। 

কলা ও পেঁপেঃ

আপনার পেটে যদি বদহজমের লক্ষণ অনুভব হয় সেক্ষেত্রে কলা ও পেঁপে খেলে উপকার পেতে পারেন। এই খাবার গুলো খুবই সহজপচ্য এবং নরম। কেননা পেপেতে এনজাইনে রয়েছে যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে একই সঙ্গে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। সাধারণত পেট ফাঁপা, বদহজম, এসিডিটি সহ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বেশ কার্যকরী। 

অন্যদিকে কলা খেলে এটা খুব সহজে হজম হয়, যার ফলে বদ হজমে আরাম মিলতে পারে। কলাতে ফাইবার রয়েছে যার ফলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার করতে ভূমিকা রাখে। আপনি চাইলে পরিমাণে অল্প আপেলও খেতে পারেন, উপকার মিলবে। তবে পেঁপে, কলা কিংবা আপেল কোন খাবারই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

তরল খাবার উপকারীঃ 

বদহজমের সমস্যা সমাধানে তরল খাবার উপকারী প্রভাব ফেলে। কেননা তরল খাবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, একই সঙ্গে শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং পেটের অস্বস্তি কমায়। তরল খাবারের মধ্যে আপনি, ডাবের পানি, আদা , পাতলা খিচুড়ি, সবজি বা চিকেন স্যুপ, লেবু ও গরম পানি, জিরা পানি ও তরমুজ খেতে পারেন। 

তাছাড়া আপনার যদি, বদ হজমের ফলে বমি বমি ভাবের অনুভূতি আসে সেক্ষেত্রে, আদা চা, পুদিনা পাতার চা সহ ভেষজ চা খেতে পারেন। কেননা এ সফল উপাদান পেটের হজম শক্তি উন্নত করে যা ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। তবে ক্যাফেইন সমৃদ্ব খাবার এরিয়ে চলুন, কেননা ক্যাফেইন সমৃদ্ব খবার  চা ,কফি সহ কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক বদহজম তৈরি করতে পারে।

হালকা টক দই উপকারীঃ 

বদহজমের সমস্যার সমাধানে আপনি হালকা টক দই খেতে পারেন। কেননা টক দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটি নামক ব্যাকটেরিয়া হজম তন্ত্রের উন্নতি ঘটায়। একই সঙ্গে পেটের ভেতরে থাকা গ্যাস, এসিডিটি সহ ফোলাভাব কমাতেও ভূমিকা পালন করে।

দই সাধারণত ঠান্ডা জাতীয় খাবার, এর ফলে পেটের জ্বালা পোড়ায় আরাম মিলতে পারে। তবে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে, খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে যাতে না খাওয়া হয়। অতিরিক্ত দই খাওয়ার ফলে এটি সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। 

সেদ্ধ খাবার খাওয়াঃ 

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, রান্না করা খাবার খাওয়ার প্রয়োজন প্রতিদিনই পরে। তবে রান্না করা খাবারে যাতে, অতিরিক্ত তেল মশলা ব্যবহার না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। সিদ্ব খাবার গুলোর মধ্যে, ঝরঝরে সাদা ভাত, অল্প লবণ দিয়ে সেদ্ব আলু একই সঙ্গে সিদ্ব সবজি লাউ,  পেঁপে , কুমড়ো, মিস্টি আলু, শসা খাওয়া উপকারী

মসলা কম দিয়ে যদি আপনি এই ধরনের সেদ্ধ সবজি খান, তাহলে এগুলো পেটের চাপ কমাবে, পেটকে শান্ত রাখবে এবং পেটের জ্বালা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করবে। হজমের সমস্যা এড়াতে আপনি পাতলা ভাতের মার বা যাউ খেতে পারেন। বদহজমে দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার পরিবর্তন খুবই জরুরী ও প্রয়োজনীয়। 

ইসবগুলের ভুষিঃ 

পেটের সমস্যা সমাধানে ইসুপগুলের ভুসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা অনেকেই হয়তো ইসুপগুলের ভুসির গুণাগুণ সম্পর্কে জানি। যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যায় তাহলে এটি পাকস্থলীর এসিড কমায় যার ফলে পেটের জ্বালাপোড়া ও গ্যাস্ট্রিক কমে।

বদহজম

ইসুবগুলের ভুষিতে দ্রবণীয় ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি, যা মল নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কিছুদিন পরিমাণ মতো ইসবগুলের ভুসি খেলে, এটি আপনার পেট ফাঁপা কমিয়ে হজম সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। ইসুবগুলের ভুসি পানিতে ভিজিয়ে খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। 

বদহজমে খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়মঃ 

আপনার বদ হজমের সমস্যা থাকলে, দিনে চার থেকে পাঁচ বার অল্প অল্প করে খাবার খাবেন। খাবার খাওয়ার সময়, সময় নিয়ে সুন্দর ভাবে চিবিয়ে তারপরে খাওয়া উপযুক্ত। খুব বেশি ঝাল এবং তেল যুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আরো পড়ুনঃ খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খেলে কি হয় জানুন।


খাবার খাওয়ার পর পরই শুয়ে পড়বেন না, ১০ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাচলা করা হজম প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সঠিক রাখতে সাহায্য করে। অতিমাত্রায় কোন খাবারই খাওয়া উচিত নয় এ সময়। সব সময় খেয়াল রাখবেন, হালকা এবং সহজপচ্য খাবার যেন আপনার খাদ্য তালিকায় থাকে। 

উপসংহার। বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত? উপযুক্ত খাবার 

বদহজমের সমস্যা হলে কি খাওয়া উচিত? এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি এমন লক্ষণ অনুভব করেন, প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া প্রতিকার এবং খাদ্যাভ্যাস সহ জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হতে পারে। তবে আপনার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমাগত দেখা দিলে, খাবার খেতে খুবই অসুবিধা হলে, শরীরে দুর্বলতা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা সহ যে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা মিললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। 

এ সময় কোন অবহেলা চলবে না, কেননা এমন সমস্যা একজন মানুষকে খুবই দুর্বিষহ এবং চিন্তিত করে তুলতে পারে। যাই হোক আপনার সুস্বাস্থ্য, বজায় থাকুক সব সময়, এ ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকবেন। 

                         (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url