খালি পেটে ইসবগুলের ভুষি খেলে কি হয়

ইসুবগুলের ভুসির সাথে আমরা সকলেই হয়তো পরিচিত। আমাদের মধ্যে কারো পেটে গ্যাস সহ হজমের সমস্যার লক্ষণ অনুভব করলে, মনে পড়ে যায় ইসুপগুলের ভুসির কথা। যদি খাওয়া যায় খালি পেটে, তাহলে তো এর গুনাগুনের শেষই নেই। সকালে খালি পেটে ইসবগুলের ভুষি খেলে, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও পেট ফাঁপা সহ বিভিন্ন ধরনের, শারীরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে। একই সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে, তা নিয়ন্ত্রণেও যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। 

ইসুপগুলের

যেকোনো পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে, আমাদের ধারণা থাকলে, খুব সহজেই শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে আর্টিকেলটিতে, খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় এবং খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ খালি পেটে ইসবগুলের ভুষি খেলে কি হয়

ইসবগুলের ভুসিতে যে সকল পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়

খালি পেটে ইসুবগুলের ভুষি খেলে কি হয়, এই আর্টিকেলটির শুরুতেই আমরা, ইসুবগুলের ভুসিতে যে সকল পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। ইসবগুলের ভুসিতে সবথেকে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় দ্রবণীয় আশ। একই সঙ্গে অদ্রবনীয় আশও পাওয়া যায়, তবে দ্রবণীয় আশের তুলনায় পরিমানে অনেক  কম। 

এই দ্রবণীয় এবং অদ্রবনীয় আশের, সঙ্গে খুব অল্প পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট সহ কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। তাছাড়া খুবই অল্প পরিমাণে খনিজ পদার্থ যেমন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম সহ ক্যালসিয়াম ও রয়েছে । এক কথায় ইসবগুলের ভুষি মূলত আশে পরিপূর্ণ। ইসবগুলের ভুষিতে থাকা এই আঁশ, আমাদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ভালোই ভূমিকা পালন করে। 

খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়। ইসবগুলের ভুসির উপকারিতা  

আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়, সকালে খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খেলে কি হয়? এই সম্পর্কে। ইসুবগুলের ভুসি সাধারণত আমরা ভিজিয়ে খেয়ে থাকি। এতে এক প্রকার বিশেষ ধরনের আঁশ রয়েছে যা আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী, তা ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেলে, এর উপকারিতা আরো বেড়ে যায়। এজন্য সকালে খালি পেটে খাওয়া সব থেকে উপযুক্ত। চলুন তাহলে, আর্টিকেলটির মূল বিষয়, খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খেলে কি হয়? তা জানার চেষ্টা করি।  

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখেঃ 

ইসুবগুলের ভুসি খালি পেটে খেলে, সবথেকে ভালো উপকার মেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগা মানুষদের। কেননা ইসবগুলের ভুষিতে থাকা দ্রবণীয় আশের পরিমাণ খুবই বেশি পাওয়া যায়। যার ফলে এটি শরীরের পানি শোষণ করে, মল নরম করতে সাহায্য করে।

আমরা সকলেই জানি ইসুপগুলের ভুসি ভিজানোর পরে, এটি জেলির মত পানির সঙ্গে মিশে যায়। যার ফলে অন্ত্রের মধ্যে থাকা বর্জ্য পদার্থ খুব সহজেই, বের করে দিতে সক্ষম হয়। এর ফলেই মুক্তি মেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত, সমস্যা। 

গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি কমায় এবং পেট পরিষ্কার রাখেঃ 

ইসুবগুলের ভুসি, খালি পেটে খাওয়ার ফলে এটি পেটের গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে একই সঙ্গে পেট পরিষ্কার রাখতে ভুমিকা রাখে। ইসবগুলের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে তা, ইতিমধ্যে বলা হয়েছে। ইসবগুলের ভুসি, পানি শোষণ করে জমে থাকা মালকে নরম করে, বের করে দেয়। এটি আমাদের খাদ্যনালী কে পরিষ্কার রাখে, একই সঙ্গে ক্ষতিকারক পদার্থ ইয়হাকে না।

শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ, সঠিক হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বের হয়ে যাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের উপশম কমে। সেই সাথে, ইসবগুলের ভুসিতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার পাকস্থলীর ভিতর প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা অ্যাসিডিটি ও জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারিঃ

খালি পেটে সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার অভ্যাসে, এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা ইসবগুলের ভুসিতে থাকা দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় আশ অর্থাৎ ফাইবার যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কার্যকারী। ইসুবগুলের ভুসিতে থাকা জেলি, খাবার হজম প্রক্রিয়াকে ধির করে দেয়। যার ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না। 

পরিমান মত ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার ফলে, ডাইবেটিসের রোগীদের জন্য ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। যা ডায়াবেটিস টাইপ ২ রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। সব থেকে, বেশি ভূমিকা পালন করে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটায়। 

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ 

ইসুবগুলের ভুষিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। ইসুবগুলের ভুসি, পানি শোষণ করে অনেকটাই ফুলে, জেলির মত হয়ে যায়। এজন্য এটি খাওয়ার ফলে পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে, অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা কমে যায় একই সঙ্গে খাবারের পরিমাণ কমাতেও কাজ করে। 

আরো পড়ুনঃ খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা গুল জানুন।


খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার ফলে, খাবারের শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হয়। পেটের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধান করে, পেটে জমে থাকা মল বের করতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে পেটের বাড়তি ফোলা ভাব কমে। 

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করেঃ 

রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও ইসবগুলের ভুসি, ভালই ভূমিকা পালন করে। কেননা ইসবগুলের ভুসিতে থাকা, দ্রবণীয় ফাইবার পাকস্থলীর দেয়ালে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে যা খাবার থেকে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। একই সঙ্গে রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতেও সাহায্য করে। ইসবগুলের ভুসির এই উচ্চ দ্রবণীয় ফাইবার, হৃদ রোগের প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। 

ইসুপগুলের

অন্যদিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী যদি, ইসবগুলের ভুসি, খালি পেটে খেয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কেননা আমরা সকলেই জানি, ইসবগুলের ভুসি, পানি শোষণ করে ফুলে যায়, যার ফলে এই ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। 

পাইলসের সমস্যার উপসর্গ কমায়ঃ 

আমাদের মধ্যে যারা পাইলসের সমস্যার, উপসর্গ লক্ষ্য করছেন তারা অবশ্যই নিয়মিত, ইসবগুলের ভুসি খাওয়া শুরু করুন। খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে এটি, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে তার উপরেই বলা হয়েছে।

আমরা হয়তো অনেকেই জানি, পাইলসের সমস্যা হওয়ার সবথেকে, অন্যতম কারণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। ইসবগুলের ভুসিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। যার ফলে, পাইলসের সমস্যার মত উপসর্গ কমাতে খুবই কার্যকরী প্রভাব ফেলে। 

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম 

খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেলে কি হয়, এই আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যেই খালি পেটে ইসবগুলের ভুষি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যার এত উপকারিতা তা খাওয়ার সঠিক নিয়ম,আমাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক নিয়মে, ইসবগুলের ভুসি খেলে এর সঠিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে, খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেলে কি হয়? আর্টিকেলটিতে ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

  • ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম হল স্বাভাবিক ভাবে, এক গ্লাস পানিতে ১ বা ২ চামচ ইসুবগুলের ভুষি ভিজিয়ে আধাঘন্টা পর খেয়ে ফেলা। সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে এভাবে খাওয়া সব থেকে উপকারী। সকালে খালি পেটে খেলে কার্যকারিতা খুবই ভালো পাওয়া যায়। 
  • আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার ক্ষেত্রে এটি খাওয়া শুরু করেন। সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি দিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণ মতো ইসুবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেয়ে ফেলা। আপনার যদি গ্যাসের সমস্যা না থাকে তাহলে, দুধের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। 
  • তাছাড়া যদি আপনার, গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, এজন্য খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে ভিজিয়ে রাখা ইসবগুলের ভুসি খাওয়া উপযুক্ত। এবং আপনার যদি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকে এজন্য খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খেলে ভালো উপকার মিলবে। এ সময় খাওয়ার ফলে, পেট ভরা অনুভব হবে এবং খাবার, কম পরিমাণে খেলে পরিপূর্ণ অনুভব হবে। 
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য, খাবারের আগে বা পরে পানি অথবা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। ডায়রিয়ায় উপকার পেতে ২ চামচ ইসবগুলের ভুসির সাথে কিছু পরিমাণে টক দই মিশে দিনে দুইবার খেলেই ভালো ফলাফল মিলতে পারে। 

খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা 

খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেলে কি হয় ? আটিকেলটিতে ইতিমধ্যেই খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খাওয়ার, বেশ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে ইসুপগুলের ভুসি খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা রয়েছে যা মানা জরুরি। খালি পেটে ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার সততা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি,চলুন। 

আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন বাড়ে তা জানুন।

  • ইসুবগুলের ভুসি অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে খাবেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির সঙ্গে, পরিমাণ মত খাওয়া সবথেকে উপযুক্ত। আপনি যদি শুকনো অবস্থায় অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে খান, সে ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। 
  • কোন সমস্যা ছাড়াই যদি, শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে খেয়ে থাকেন এজন্য অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করুন। কেননা প্রাথমিক অবস্থায় পেট ফাপা, গ্যাস সহ অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। 
  • আপনার যদি ডায়াবেটিস অথবা, খাদ্যনালিতে কোন প্রকার সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক কথায় কোন প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। 
  • সকালে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে, খেলে ভাল ফলা ফল পাবেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, অতিরিক্ত কোন কিছুই শরীরের জন্য উপকারি না, এই কথাটা মাথায় রাখবেন। 

উপসংহার। খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খেলে কি হয়

আজকের আর্টিকেলটিতে, খালি পেটে ইসুপগুলের ভুসি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে, বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উপরোক্ত উপকারিতার জন্য আপনি ইসবগুলের ভুষি খাওয়া শুরু করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ ভালো ফলাফল মিলতে পারে। তবে আপনি যদি কোন সমস্যা ছাড়া, খেতে চান তাহলে অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করুন। কোন প্রকার ওষুধ সেবন করলে, ওষুধ খাওয়ার কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘন্টা পর এটি খাওয়া উপযুক্ত।

মাথায় রাখবেন, আপনার শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য, অবশ্যই এটি উপকারী তবে পরিমাণ মতো। খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেলে কি হয়, আর্টিকেলটি এতক্ষণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                           (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url