কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে

আমাদের শরীরকে ব্যালেন্স করার জন্য, কোমর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলাফেরা  ও কাজকর্ম করা, এদিকে ওদিকে ঘুরে তাকানো সহ শরীরের ভারসাম্য রক্ষার মূল ভিত্তি কোমড়। শরীরের এই মূল্যবান অঙ্গে যদি হাড় ক্ষয়ের মত সমস্যার দেখা মেলে, সেক্ষেত্রে কি করা উচিত এটাই আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়। সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীদের, কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিসের দেখা বেশি মেলে। 

হাড়

বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রেও এটি, আতক্ষেের একটি নাম, মনে করা যায়। যার ফলে খুব অল্প আঘাতে, একজন বয়স্ক মানুষের খুব সহজেই হাড় ভেঙে যেতে পারে। চলুন যানার চেষ্টা করি, কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে এ ব্যাপারে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে

কোমরের হাড় ক্ষয় হওয়ার কারণ 

কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে? আর্টিকেলটির শুরুতেই কোমরের হাড় ক্ষয় হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। কোমরের হাড় ক্ষয় হওয়ার প্রবণতা, নারী এবং বয়স্ক মানুষদের মধ্যে বেশি দেখা দিলেও। যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে এই সমস্যার দেখা মিলতে পারে। সাধারণত যে সকল কারণে কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিস হয় সেগুলো জানার চেষ্টা করি।

  • সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোমরের হাড় ক্ষয়সহ হাড়ের সমস্যা অনুভব হয়, বয়স একটু বাড়তি হলে। কেননা স্বাভাবিকভাবে বয়স পঞ্চাশের উপরে হলে, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া শুরু করে, যার ফলে, হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
  • শরীরে যদি পুষ্টির অভাব যেমন ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দেখা দেয়। তাহলেও হাড় দুর্বল হয়ে, ক্ষয় হওয়ার মতো ঝুঁকির দেখা মিলতে পারে। কেননা আমাদের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হারকে শক্তিশালী এবং মজবুত রাখার জন্য, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি অত্যন্ত প্রয়োজন। 
  • কারো শরীরে যদি দীর্ঘমেয়াদী রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড সহ আর্থ্রাইটিসের সমস্যা থাকে তাহলেও, কোমরের হাড় ক্ষয়সহ শরীরে হাড়ের সমস্যা দেখা মিলতে পারে। 
  • আপনি যদি অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে নজর দিন। না হলে হারে অতিরিক্ত চাপের ফলে, কোমরের হাড় ক্ষয় হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরের হাড় মজবুত রাখার জন্য পরিশ্রম জরুরি তবে, অতিরিক্ত নয়। 
  • কারো শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হলেও এই ধরনের সমস্যা অনুভব হতে পারে। উদাহরণ মহিলাদের মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায় এবং পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন কমলেও, হাড় ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • অতিরিক্ত ধূমপান ও মধ্যপানের ফলেও হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। জেনেটিক বা বংশগত কারণেও কারো কারো এমন সমস্যার দেখা দিতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলেও, কোমরের হাড় ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • তাছাড়া আপনি যদি খুবই রোগা পাতলা একজন মানুষ হন। এজন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। তা না হলে আপনারও কোমরের হাড় ক্ষয় সহ শরীরে হাড়ের সমস্যার দেখা মিলতে পারে। 

কোমরের হাড় ক্ষয় হলে, যে সকল লক্ষণ অনুভব হতে পারে   

কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে, আর্টিকেলটিতে কোমরের হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়ার বেশকিছু কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কারো যদি কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিসের মত সমস্যার দেখা মেলে। সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু শারীরিক লক্ষণ অনুভব হতে পারে, কথা না বাড়িয়ে চলুন কোমরের হাড় ক্ষয় হলে, যে সকল লক্ষণ অনুভব হয় সেগুলো জানার চেস্টা করি।

হাড়

 

  • কোমরের হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) হলে প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোন উপসর্গ অনুভব নাও হতে পারে। তবে একটুও তিব্র হলে, কোমর ব্যথা হওয়া, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা হাঁটার পরে ব্যথা অনুভব করা সহ ঝুঁকে কোন কাজ করলে, উঠে দাঁড়ানোর পরে ব্যথা অনুভব হতে পারে। এটা খুবই সাধারণ লক্ষণ বলে বিবেচিত। 
  • কোমরের হাড় ক্ষয় হলে মেরুদণ্ড হালকা বেঁকে যেতে পারে। যার ফলে বডি হালকা ঝুঁকে কুজো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ আসতে পারে। এ সময় সামান্য চাপ বা হালকা আঘাতের ফলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। কেননা হাড়ের ঘনত্ব প্রয়োজনে তুলনায় অনেকটা কমে যায় এ সময়। 
  • কোমরের চারপাশ প্রচণ্ড দুর্বল মনে হতে পারে, কেননা এ সময় স্বাভাবিকভাবে কোমর নাড়াচাড়া করলেও ব্যথা অনুভব হতে পারে। অনেক সময় কোমরের হাড় দুর্বল হলে, নার্ভে চাপ পড়ে ব্যথা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
  • স্বাভাবিকভাবে কোমরের হাড় ক্ষয় হওয়ার ব্যথা পরিমাণে কম হলেও। শরীরের জন্য প্রতিনিয়ত এই ব্যথা বয়ে বেড়াতে হয়, যা খুবই বিরক্তিকর। কোমরের হাড় ক্ষয় ফলে ভারী ওজন বহনও খুবই কষ্টসাধ্য একই সঙ্গে চলাফেরায় খুবই অস্বস্তি বোধ করায়। 

কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে। অস্টিওপোরোসিসের সমস্যায় করণীয় 

কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে?  আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয় এটি। কোমরের হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে এ সময় করণীয় কি?  তা জেনে নেওয়া জরুরী। তাছাড়া আমাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয়। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে, কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে?  তা জানার চেষ্টা করি। 

প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষ্য অনুভব করলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিনঃ 

আপনার শরীরে যদি, কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ অনুভব করেন। এজন্য অবশ্যই একজন রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। এটি শরীরের একটি গরুতর সমস্যা, তিব্র অবস্থায় এর ফলে খুব সহজেই, অর্থাৎ হালকা কাশিতেই, হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতায় পড়তে হতে পারে।

প্রাথমিক অবস্থায় আপনি যদি হাড় ক্ষয়ের লক্ষণ অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সঠিক চিকিৎসা করানো জরুরী। একই সঙ্গে আপনি প্রাথমিক অবস্থায় ব্যথা উপশমে হালকা গরম, সেক দিতে পারেন, এতে করে ব্যথায় আরাম মিলবে তবে চিকিৎসা জরুরী। 

ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খানঃ

কোমরের হাড় ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দেওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর অভাবে। এজন্য শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি পুরানোর জন্য আপনি চাইলে, দুধ,  ডিম, মাছ, পালং শাক, লাল শাক, বাদাম সহ সবুজ শাকসবজি খেতে পারে।

ছাড়াও সূর্যের আলোতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, এজন্য সকালে কিছু সময় সূর্যের আলোতে দাঁড়াতে পারেন। ভিটামিন ডি পূরণের জন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।  

দৈনন্দিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করুনঃ 

কোমরের হাড় ক্ষয়ের সমস্যার ক্ষেত্রে দৈনন্দিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাও অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ধূমপান সহ মদ্যপান কোন ক্রমেই চলবে না। অতিরিক্ত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার চা, কফি কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, না খেলে সবচেয়ে ভালো হয়। উচ্চ সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে নজর দিন। 

হাড়

সোজা হয়ে হাঁটা চলার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত নরম বিছানায় শোয়া এবং নরম সোফাতে না বসে হালকা শক্ত বিছানা এবং সোফা ব্যবহার করুন। এ সময় শরীরের জন্য হালকা ব্যামও উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যামের বিকল্প হিসেবে হালকা হাটা বা যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। ভারী জিনিস তোলা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বা বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন।

ফিজিওথেরাপি এবং ওষুধ সেবনঃ 

কোমরের হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা হলে ফিজিওথেরাপি এবং ওষুধ সেবন খুবই উপকারী প্রভাব ফেলে। কেননা ফিজিওথেরাপি আমাদের পেশিকে শক্তিশালী এবং শারীরিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করতে পারে। এজন্য স্ট্রেচিং, টেন্স থেরাপি এবং আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি নিতে পারেন।  এই থেরাপি গুলো হাড় ক্ষয় রোধ ও ব্যথা উপশমে কার্যকারী। 

আরো পড়ুনঃ কানে ব্যাথার ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন।


অন্যদিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। এজন্য আপনি চাইলে ব্যাথা নাশক ওষুধ, হাড় মজবুত করার ওষুধ সহ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। কেননা হাড়ের, ক্ষয় রোধ করে ঘনত্ব বৃদ্ধি করার জন্য, ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে থাকে। যদিও সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনে ভালোই উপকার পেতে পারেন। 

 উপসংহার। কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে 

আজকের আর্টিকেলটিতে, কোমরের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে এবং এর কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি কোমরের হাড় ক্ষয়, সহ হাড়ের কোন সমস্যা থেকে থাকে, এজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে জীবনযাপন শুরু করুন। হাড় ক্ষয় অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিসের সমস্যায় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এনে, হার মজবুত ও ঘনত্ব বৃদ্ধি করা যেতে পারে।  

এজন্য এ সময় আপনার, হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার সহ সঠিক পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আপনাকেই নিতে হবে। সর্বপরি খেয়াল রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা কোন মতেই উচিত নয়। 

                         (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url