বিড়াল আঁচর দিলে কি করতে হবে
আমাদের প্রায় প্রতিটা ঘরেই কমবেশি বিড়ালের আনাগোনা টের পাওয়া যায়। অনেকে তো আবার শক করেও বিড়াল পোশে। অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে বিড়াল রেগে গিয়ে শরীরে আঁচর বসিয়ে দেয়। আমরা হয়তো অনেকেই জানি বিড়াল আঁচড় দিলে একই সঙ্গে সেখান থেকে রক্তপাত হলে জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। বিড়ালে আচর দিলে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দিতে হতে পারে অনেক সময়। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হয়তো সাধারণ ভাবে, এমন সমস্যার মোকাবেলা সম্বব হতে পারে।
চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে ? সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। আপনি যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, এজন্য আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে
- বিড়াল আঁচরালে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে
- বিড়াল আঁচড় দিলে কি করতে হবে। বিড়াল আঁচরে দিলে করণীয় কি
- ক্ষতস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুনঃ
- ক্ষতস্থানে রক্তপাত হলে যা করবেনঃ
- ক্ষতস্থান ঢেকে রাখা ও অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহারঃ
- টিটোনাস এবং র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োজনে নিতে পারেনঃ
- বিড়ালের আচরালে, যে সকল লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
- উপসংহার। বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে
বিড়াল আঁচরালে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে
বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে, আর্টিকেলটির প্রথমেই আমরা বিড়াল আচরে দিলে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে যদি বিড়াল আঁচড় দেয় সে ক্ষেত্রে আপনার শরীরে, কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তা নির্ভর করে, আঁচর বা কামড়ের গভীরতার উপর। বিড়ালে আঁচর বা কামড়ের ফলে যদি আপনার রক্তপাত হয়, তবেই স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ববনা বেশি। চলুন কোন ধরনের স্বাস্থ সমস্যা দেখা দিতে পারে বিড়াল আচরে দিলে তা জানার চেষ্টা করি।
- সাধারণত আপনাকে যদি বিড়াল আচর দেয়, সেক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতস্থানের সংক্রমণের দেখা মিলতে পারে। এ সময় আচরে দেওয়া স্থানে লালচে ভাব, ব্যথা বা চুলকানি হওয়া, কয়েকদিনের মধ্যে ফুলে যাওয়া বা পুজ হওয়া একই সঙ্গে গরম অনুভূতির দেখা মিলতে পারে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের কারণে এমনটা হয়ে থাকে।
- অনেকের মধ্যে, ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজের লক্ষণও দেখা দিতে পারে ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে। এটি সাধারণত Bartonella henselae নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এ সময় আচরে যাওয়া জায়গায়, ছোট ফুসকরি, আশেপাশে ফুলে যাওয়া, জ্বর, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা সহ শরীরে ব্যথা অনুভব হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাবেই এটি কমে যায়, তবে কখনো কখনো এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে।
- যাদের বিড়ালের সংস্পর্শে আসলে এলার্জি সমস্যা দেখা দেয়। তাদের জন্য শরীরে এলার্জি হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এ সময় আক্রান্ত স্থান সহ শরীর লালচে ভাব হয়ে যেতে পারে। ত্বকে চুলকানি, রেশ ও ফোলা ভাবের দেখা মিলতে পারে।
- বিড়াল আচরে দিলে র্যাবিস বা জলাতঙ্ক হওয়ারও, ঝুঁকি থাকতে পারে অনেকের। যদিও জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি খুব কম তবে, বিড়ালটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে, এই সঙ্গে আপনার ক্ষত খুব গভীর ও লালার সংস্পর্শে আসলে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য আপনার র্যাবিস বা জলাতঙ্কের টিকাও নেওয়া লাগতে পারে।
- আছড়ে দেওয়া বিড়ালের নকে যদি, কোন প্রকার সংক্রমণ থাকে, ক্ষেত্রে টিটোনাস সংক্রমণের দেখা মিলতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের জ্বর, মাথাব্যথা সহ শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। আপনাকে যদি সাধারণভাবে বিড়াল আছড়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সব থেকে উপযুক্ত।
বিড়াল আঁচড় দিলে কি করতে হবে। বিড়াল আঁচরে দিলে করণীয় কি
বিড়াল আঁচরে দিলে কি করতে হবে ? আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে, বিড়াল আচরে দিলে বেশ কিছু, শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিড়াল আঁচরে দিলে আসলে করণীয় কি? এটাও আমাদের জানা থাকলে খুব সহজে, সংক্রমণ থেকে মুক্তি মিলানো সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে এখন জানার চেষ্টা করি, বিড়াল আঁচরে দিলে কি করতে হবে? এ সময় করণীয় কি সে ব্যাপারে।
আরো পড়ুনঃ কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি করতে হবে,জানতে ক্লিক করুন।
ক্ষতস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুনঃ
আপনাকে যদি বিড়াল আঁচরে দেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই, ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা জরুরী। এজন্য আপনি চাইলে, অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান, স্যাভলন বা ডেটল ব্যবহার করতে পারেন। সুন্দরভাবে সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার করে পানি দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
যাতে পানির সাথে আপনার ক্ষতস্থানে লেগে থাকা জীবাণু, পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। আপনার হাতের কাছে সাবান না থাকলেও, পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো ভাবে অনেকক্ষণ ধরে ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না।
ক্ষতস্থানে রক্তপাত হলে যা করবেনঃ
বিড়াল আঁচরে দেওয়া ক্ষত স্থানটিতে, যদি রক্তপাত হয় একই সঙ্গে পরিষ্কার করার পরেও রক্তপাত বন্ধ না হয়। এজন্য আপনি চাইলে, ক্ষতস্থানে জীবাণু নাশক ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য, একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষত স্থানটিতে হালকা করে চেপে রাখতে পারেন, রক্তপাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত। ক্ষতস্থান থেকে হালকা রক্তপাত হওয়া কিন্তু, জীবাণু বের হয় যেতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত রক্তপাতের ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
ক্ষতস্থান ঢেকে রাখা ও অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহারঃ
আপনাকে যদি বিড়াল আচরে দেয় সেক্ষেত্রে ক্ষতস্থানটি ঢেকে রাখা একই সঙ্গে ক্ষতস্থানে এন্টিসেপটিক ক্রিম বা মলম ব্যবহার করা খুবই উপকারী। এজন্য আপনি চাইলে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা মলম লাগিয়ে পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন।
তবে মাথায় রাখবেন প্রতিদিন ব্যান্ডেজ পাল্টে নেওয়া সহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা উপযুক্ত। অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার এবং ক্ষতস্থান ঢেকে রাখার ফলে এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
টিটোনাস এবং র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োজনে নিতে পারেনঃ
স্বাভাবিক ভাবে আপনাকে আচরে দেওয়া বিড়ালটি যদি, আপনার অপরিচিত কোন রাস্তার বিড়াল হয় সেক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার যদি কিশোর বয়সে টিটেনাস ভ্যাকসিন না নেওয়া থাকে, এজন্য আপনি দ্রুত ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিটেনাস ভ্যাকসিন নিতে পারেন।
তাছাড়া আঁচরে দেওয়া বিড়ালটি রাস্তার বিড়াল হলে, অস্বাভাবিক আচরণ করলে একই সঙ্গে কামড় অনেক গভীর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। কেননা প্রয়োজন হলে জলাতঙ্ক অর্থাৎ র্যাবিসের টিকাও নিতে হতে পারে।
বিড়ালের আচরালে যে সকল লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
বিড়াল আঁচর দিলে কি করতে হবে, এ ব্যাপারে আর্টিকেলটিতে মাত্রই বলা হয়েছে। আপনাকে যদি বিড়াল আচরে দেয় সেক্ষেত্রে, উপরোক্ত করণীয় গুলো মেনে চললে প্রাথমিক অবস্থায় সমাধান মিলানো যেতে পারে। তবে বেশ কিছু গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও অত্যন্ত জরুরী। এখন তাহলে সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
আরো পড়ুনঃ হঠাৎ জ্বর হলে করনীয় কি ? সে সম্পর্কে জানুন।
- আপনাকে বিড়াল আচর দিক, কিংবা কামড় দিক যদি ক্ষতস্থান খুবই গভীর হয় একই সঙ্গে রক্তপাত বন্ধ না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। অন্যদিকে ক্ষতস্থানে যদি কোন ছিদ্র হয়, ছোট হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- আচরে দেওয়া ক্ষতস্থানটির অবস্থা ২৪ ঘন্টার ভিতরে ভালো না হলে। পাশাপাশি শরীরের সংক্রমণের লক্ষণ যেমন, জ্বর, ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হওয়া সহ ক্লান্তির দেখা মিললে, এজন্য কোন রকমেই বসে থাকলে চলবে না।
- একই সঙ্গে যদি বিড়ালটি অসুস্থ হয় এবং প্রচন্ড রাগী মনে হয় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মাথায় রাখবেন, জলাতঙ্ক এবং টিটেনাস সংক্রমণ বিড়ালের থাকলে, আপনার ঝুঁকি রয়েছে।
- যদি আঁচরে দেওয়া জায়গায় পুজ হয়, বগল বা ঘার ফুলে যাওয়ার সমস্যা হয় এবং আপনার শরীরে যদি দীর্ঘস্থায়ী, ডাইবেটিস, কেমোথেরাপি নেওয়া সহ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যান্ত জরুরি।
উপসংহার। বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে
আজকের আর্টিকেলটিতে বিড়াল আঁচড় দিলে কি করতে হবে? এ ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমরা অনেকেই খুবই আনন্দের সাথে বিড়াল পুষে থাকি। তবে এটি কামড়ালে আসলে আমাদের, সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। পোষা বিড়াল হলে, সেক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দেখতে পারেন তবে বিড়ালটির অচেনা হলে, আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উপযুক্ত হবে।
যাই,হোক আপনাকে যদি বিড়াল আঁচরে দেয়, সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করবেন। বিড়াল আচর দিলে কি করতে হবে? এতক্ষন মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url