সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না

গ্যাসের সমস্যা আমাদের কারো কাছেই, নতুন কোন বিষয় নয়। একটু তেল চর্বি জাতীয় খাবার সহ ফাস্ট ফুড খেলে অনেকের মধ্যেই দেখা দেয়, এমন সমস্যা। পেটে গ্যাস যেকোনো কারণে হতে পারে তবে। যাদের গ্যাসের সমস্যা একটু তীব্র তাদের ক্ষেত্রে, খেতে গেলেই নানা ধরনের চিন্তাভাবনা আসে। খাদ্য তালিকায় কি খাবার রাখবে, কোনটা খেলে গ্যাস হবে, কোনটা খেলে হবে না, এ নিয়ে নানা চিন্তা। আপনার জানা প্রয়োজন, পেটে গ্যাসের সমস্যায় চিন্তার কিছু নেই। 

গ্যাস

দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় এমন বেশ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো রাখলে, খুব দ্রুত গ্যাসের সমস্যা সমাধান সহ পেটের গ্যাস রোধে কাজ করতে পারে । একই সঙ্গে এগুলো, আপনি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রেখে দিতে পারেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না

যে সকল খাবারের ফলে, পেটে গ্যাসের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে 

আজকের আর্টিকেলটির আলোচ্য বিষয়, সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না এ ব্যাপারে। তবে আমরা আর্টিকেলটি শুরুতেই, যে সকল খাবারের ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো জানার চেষ্টা করব। তাছাড়া আমাদের, পেটে গ্যাস হওয়ার, পেছনে যে সকল খাবার দায়ী, এগুলো সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন ! চলুন জানার চেষ্টা করি। 

  • রোজ খাদ্য তালিকায়, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, শালগম ও মুলা খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কেননা এ সকল সবজিতে সালফার ও রাফিনস থাকার কারণে গ্যাস তৈরি হয়। তবে পরিমাণে অল্প খেতে পারেন, আপনার যদি গ্যাস হয় সে ক্ষেত্রে খাওয়া চলবে না। 
  • আপনার যদি পেটে স্বাভাবিক ভাবে গ্যাসের সমস্যা একটু তীব্র থাকে সে ক্ষেত্রে দুধ সহ দুধ থেকে তৈরি কৃত পন্য যেমন, আইসক্রিম পনির সহ অনেকের দই খেলেও, গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কেননা দুধ এবং দুধ থেকে তৈরি কৃত পণ্যে ল্যাকটোজ ইন টলারেন্স থাকলে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি করে। তাছাড়া দই সাধারণত, গ্যাসের সমস্যা কমাতে কার্যকরী, তবে অনেকের ক্ষেত্রে বেড়ে যেতে পারে। 
  • ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার যদিও, পেট পরিষ্কার রাখা সহ হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে আপনি যদি উচ্চ ফাইভার যুক্ত খাবার যেমন, ওটস, গমের আটা, ব্রাউন রাইস সহ অতিরিক্ত কাঁচা সবজি খান, সেক্ষেত্রেই গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • ফলের মধ্যেও এমন কিছু শুকনো ফল যেমন, কিসমিস, খেজুর ও আলুবোখারা খেলে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। কেননা এ সকল ফলে প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি। 
  • তৈলাক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার, পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এজন্য আপনি, অতিরিক্ত মরিচ, পেঁয়াজ রসুন বেশি পরিমাণে খাওয়া, ফ্রাই চিকেন, পরোটা, পুরি, পিজ্জা বার্গার সহ ফাস্ট ফুড খাবার, খাওয়া ত্যাগ করুন। 
  • কার্বনের পানীয়, অ্যালকোহল সহ ক্যাফেন সমৃদ্ধ খাবারে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে। এজন্য আপনি সফট ড্রিংক, সোডা ওয়াটার, চা, কফি সহ এনার্জি ড্রিংস খাওয়া পরিহার করুন। এসব খাবারে সরাসরি গ্যাসের সৃষ্টি তো করেই সঙ্গে পেটের ফাঁপা ভাব বাড়াতে পারে। 
  • তাছাড়া মসুর, ডাল, ছোলা, সয়াবিন সহ মটরসুটিতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে। এর ফলে পরিপাকতন্ত্রের হজম প্রক্রিয়া ধির হয় একই সঙ্গে গ্যাসের সৃষ্টি করে। কারো কারো সিদ্ধ ডিম খেলেও, গ্যাস ও এসিডিটি  বেড়ে যেতে পারে।
  • আপনি যদি খাবার খাওয়ার সময়, খুব দ্রুত খান সেক্ষেত্রে খাবারের সাথে বাতাস পরিপাকতন্ত্রে যাওয়ার ফলেও, পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ধূমপান তামাকজাত দ্রব্য সেবনের ফলে, এমন গ্যাসের সমস্যা বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে দেখা মেলে। 

সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না। যে সকল খাবারে পেটে গ্যাস হয় না 

আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়, সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না এই ব্যাপার। আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে, যে সকল খাবার গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি তৈরি করে সে সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ্যাস

তবে খাদ্য রুটিনে এমন খাবার রাখা উচিত, যেগুলো খেলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে না, একই সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্রম খুব ভালোভাবে করতে পারে। চলুন তাহলে জানার চেষ্টা করি, সকালে কোন ধরনের খাবার খেলে, পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে না সে সম্পর্কে। 

ইসবগুলের ভুষিঃ

সকালে খালি পেটে যদি আপনি ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে এটি পেটের গ্যাস তো বাড়াবে না বরং গ্যাস, এসিডিটি সহ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রতিরোধে খুবই উপকারী প্রভাব ফেলে। তবে সব থেকে উপযুক্ত হয় উষ্ণ গরম পানি দিয়ে আধাঘন্টা ভিজিয়ে তারপরে খাওয়া। কেননা ইসুবগুলের ভুষি পানি শোষণ করে, অন্ত্রে জমে থাকা মল নরম করে একই সঙ্গে হজম তন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন, ইসবগুলের ভুষিতে দ্রবণীয় আশের পরিমাণ অনেক বেশি। ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলবেন না, না হলে এটি উল্টো আপনার সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। 

রুটি এবং হালকা মসলার সবজিঃ 

সকালবেলা রুটি এবং হালকা মসলার সবজি খেলে, গ্যাসের সমস্যা তৈরি নাও করতে পারে। এজন্য আপনি গমের রুটির বদলে রাই রুটি খেতে পারেন। রাই রুটি হলো, রাই নামক শস্যের আটা বা ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি। এটিই গমের আটার থেকে ভিন্ন সাধের, একই সঙ্গে এটি হজম যোগ্য খাবার।

তাছাড়া রুটির সঙ্গে আপনি হালকা মশলার সবজি খেতে পারেন। অন্যদিকে আদা, জিরা, পুদিনা ও গোলমরিচের মতন মসলা ব্যবহার করতে পারেন এগুলো গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। রান্নায় অবশ্যই তেলের পরিমাণ কমানো শুরু করুন, আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে এটি বেশ কার্যকারী। 

এক বাটি দই খেতে পারেনঃ 

দইয়ে সাধারণত প্রবায়োটিক নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। আপনি যদি গ্যাসের সমস্যা এড়াতে চান সেক্ষেত্রে সকালে এক বাটি দই খেতে পারেন। কেননা দইয়ে থাকা উপাদান, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি সহ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে একই সঙ্গে শরীর ঠান্ডা রাখে এবং অস্বস্তি কমায়। দই খাওয়ার ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন খালি পেটে, অনেকের টক দই খেলে হজমের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

এবং আপনার যদি ঠান্ডা লাগার মত কোন সমস্যার শরীরে থেকে থাকে, এজন্য দই খাওয়ার ক্ষেত্রে বুঝেশুনে খাবার সব থেকে উপযুক্ত। আপনার কোন সমস্যা না হলে আপনি রোজ ১ বাটি দই খেতে পারেন ভালই উপকার মিলতে পারে। 

পেঁপে খাওয়াও উপকারীঃ 

সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না? কি খেলে সকালে গ্যাস হবে না এমন খাবারের তালিকায় আপনি, পেপেও রাখতে পারেন। সাধারণত সকালে পেঁপে খেলে গ্যাস হয় না, একই সঙ্গে এটি পেটের গ্যাস, বদ হজমসহ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানে কাজ করে। পেপেতে থাকা ফাইবার এবং প্যাপাইন এনজাইম হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।

পেপেতে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।  তবে পেপে খাওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে যাতে, না খাওয়া হয়। অতিরিক্ত পেপে খেলে এটি উল্টো আরো গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিমাণ মতন খাওয়াই সবথেকে উপযুক্ত।

পাকা কলাও খেতে পারেনঃ 

সকালে আপনি পাকা কলা খেলেও, গ্যাসের সমস্যার ক্ষেত্রে উপকার পেতে পারেন। তবে অনেকের খালি পেটে পাকা কলা খেলে, উল্টো গ্যাস সহ পেটে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। পাকা কলা সাধারণত কোন খাবারের সঙ্গে বা ভরা পেটে খেলে আপনি এর ভালো ফলাফল পেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ নিয়মিত দই খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন।


কলা ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার, আমরা হয়তো সকলেই জানি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আমাদের হজমতন্ত্রের উন্নত করে। তাছাড়া কলাতে থাকা, প্রাকৃতিক এনজাইম, খারার হজম করতে সাহায্য করে। তাছাড়া যারা ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য হীনতায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রেও গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 

হালকা ভাত খাওয়া উপকারী হতে পারেঃ 

সকালে হালকা ভাত খাওয়ার অভ্যাস করলে, গ্যাসের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। গ্যাসের সমস্যা এড়াতে হালকা বাদামি চালের ভাত,  পরিমাণ মতো নরম করে খেতে পারেন। তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে  ব্যাক্তির হজম শক্তির উপরে নির্ভর করে। ভাত খাওয়ার সময় অবশ্যই সুন্দরভাবে চিবিয়ে খাওয়া উপকারী। একই সঙ্গে ভাতের সাথে খুব কম তেল এবং মসলাযুক্ত খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস

পেটের গ্যাসের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও কিন্তু ভুলবেন না। শরীরকে হাইড্রেট রাখা সহ পানি শূন্যতা দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। তাছাড়া নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন, এটিও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, যার ফলে গ্যাসের সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

উপসংহার। সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না 

সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাবার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা না হলেই নয়। আমরা কমবেশি প্রায় সকলেই গ্যাসের সমস্যার মোকাবেলা করেছি। আপনার যদি গ্যাসের সমস্যা তীব্র হয়, সে ক্ষেত্রে উপরোক্ত খাবারগুলো খেয়ে দেখতে পারেন। একই সঙ্গে আপনি চাইলে, জিরা জল, আদা, গরম পানির সাথে লেবু ও বিট লবণ মিশিয়েও সকালে খেতে পারেন।  

পেটে তীব্র গ্যাস বা বদ হজমের সমস্যা থাকলে, নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়, যার ফলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। আপনি যদি দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেন। সে ক্ষেত্রে হয়তো তীব্র গ্যাসের সমস্যা রোধ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হতে পারে। 

                           (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url