হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত,উপযুক্ত খাবার
হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরে লোহিত রক্ত কণিকায় থাকা এক ধরনের আয়রন সমৃদ্ধ প্রোটিন। আমাদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক থাকা খুবই জরুরী। হিমোগ্লোবিন আমাদের ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে, একই সঙ্গে অক্সিজেন দেহের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌঁছে দেয়। আবার কার্বন ডাই অক্সাইড ফুসফুসে ফিরে আনে যা, নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। শুধু এখানেই শেষ নয়, হিমোগ্লোবিনের কারণে আমাদের শরীরে থাকা রক্তের রংও লাল হয়ে থাকে।
তবে শরীরে যদি হিমোগ্লোবিন কমে যায়, সে ক্ষেত্রে শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, আজকে আলোচনা করার চেষ্টা করব, হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, এ সময় উপযুক্ত খাবার কি সে ব্যাপারে। আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন কমে গেলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত,উপযুক্ত খাবার
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণ
- রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যে সকল লক্ষণ দেখা দিতে পারে
- হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার
- প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আয়রন (লোহা) সমৃদ্ধ খাবার খানঃ
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরীঃ
- ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবারঃ
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, জীবনযাত্রায় যে সকল পরিবর্তন জরুরী
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উপযুক্ত
- উপসংহার। হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণ
আমাদের শরীরের ভেতরে রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য, হিমোগ্লোবিনের কার্যকারিতা খুবই অনণ্য। শরীরে মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ড সহ সকল অঙ্গের সঠিক কার্যকারিতার জন্য, অক্সিজেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা হিমোগ্লোবিন নিশ্চিত করে থাকে। শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে, প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান সহ কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দায়ী থাকতে পারে, চলুন জানার চেষ্টা করি।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্র কমে যাওয়াকে আমাদের আমলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বিশেষ করে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব। আপনার শরীরে যদি আয়রন, ভিটামিন বি ১২ সহ ফলিক এসিডের ঘাটতির দেখা মেলে, সেক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
- শরীর থেকে যেকোনো ভাবে রক্তক্ষরণের ফলে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে যাদের পাইলস, আলসার, গ্যাস্ট্রিকের কারণে অন্ত্রের রক্তক্ষরণ। দুর্ঘটনা বা অস্ত্র পাচারে রক্তক্ষরণ, মূত্রাশয় থেকে রক্তপাত, কোন ক্ষত থেকে রক্তপাতও এমন সমস্যা সৃষ্টিতে বেশ কার্যকর। তাছাড়া নারীদের পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনেও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
- দীর্ঘস্থায়ী কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন, কিডনির সমস্যা, লিভারের সমস্যা, ক্যান্সার, হাইপোথাইরয়েডিজম, অর্শ্বরোগ সহ নিয়মিত রক্তদানেও হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া আপনার পেটে যদি দীর্ঘস্থায়ী কৃমির সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে কৃমি রক্ত চুষে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। যার ফলে রক্ত সল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- অন্যদিকে আমাদের অস্থিমজ্জায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন না হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে বংশগত রক্ত রোগ, থ্যালাসেমিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা অস্থিমজ্জায় সমস্যা এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে শরীরে রক্ত তৈরীর ক্ষমতা কমে যায়।
- দীর্ঘস্থায়ী ভাবে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের ফলেও, রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এমন ওষুধ গুলোর মধ্যে কিছু ব্যথা নাশক ওষুধ, ক্যান্সারের কেমোথেরাপি সহ দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে, এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। শরীরে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য, খাবার খাওয়ার নিয়ম ঠিক রাখুন না হলে এমন সমস্যা আপনার সামনে এসে হাজির হতে পারে।
- অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় একজন নারীর, প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন পড়ে। যা সঠিক মাত্রায় না পেলে, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শরীরে যখন শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, কিশোর কিশোরীদের তখনও রক্তে চাহিদা প্রয়োজনে তুলনায় একটু বেশি থাকে। তখন প্রয়োজনীয় খাবার না খেলেই এমন সমস্যার কবলে পড়তে হতে পারে।
রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যে সকল লক্ষণ দেখা দিতে পারে
আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব একটি সাধারন সমস্যা। শরীরে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এবং খনিজের অভাব হলেই দেখা মেলে এমন সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির অভাব দেখা দেয়। যার ফলে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। চলুন তাহলে হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, আর্টিকেলটিতে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যে লক্ষণগুলি দেখা দেয় তা জেনে নি।
- শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় থাকা জরুরি। আপনার হিমোগ্লোবিনের অভাবে সব সময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা লেগে থাকতে পারে। মাথা ঘোরা এবং মাথা হালকা লাগার মত অনুভূতি আসাও খুবই সাধারণ লক্ষণ। শরীরের সম্পূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত না পৌঁছালে,রিদ স্পন্দন দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
- এমন সমস্যায় আপনার শারীরিক কিছু পরিবর্তনের দেখা মিলতে পারে। কেননা শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে, ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঠোঁট, মুখ, পা ও চোখের পাতা ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। আপনার হাত এবং পা অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে থাকার মতন অনুভূতি মিলতে পারে। একই সঙ্গে আপনার হাত পায়ের নখের ভঙ্গুরতা সহ মাথার চুল পড়ে যাওয়ার মত লক্ষণ আসতে পারে।
- তাছাড়া রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে রক্তস্বল্পতার কারণে, প্রচন্ড মাথাব্যথার দেখা মিলতে পারে। বমি বমি ভাব সহ কখনো কখনো বমি হওয়ার মত প্রবণতায় পড়তে হতে পারে। আপনার খাবার খাওয়ার প্রতি অনীহা আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতার কারণে শরীরের সব সময় ঘুম ঘুম ভাব লেগে থাকার অনুভূতি হতে পারে।
- এছাড়াও এমন সমস্যায় আপনার মুখের, ঠোঁটের কোণের ঘা বা আলসার হওয়ার সম্ভাবনার দেখা দিতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে কানে বা মাথায় শো শো শব্দের অনুভূতি লক্ষ্য করতে পারেন। আপনি যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার গুরুতর পর্যায়ে থাকেন। তাহলে তীব্র বুকে ব্যথা, বিশ্রামের সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার সহ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার দেখাও মিলতে পারে।
হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার
আর্টিকেলটির মূল বিষয়, হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত উপমুক্ত খাবার সম্পর্কে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরী হিমোগ্লোবিন। এজন্য রক্তে প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই জরুরি। এছাড়াও নৈনন্দিনের খাদ্য তালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব জতে পারে। নিচে প্রয়োজনীয় খাবার সম্পর্কে জানার চেস্টা করি চলুন।
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আয়রন (লোহা) সমৃদ্ধ খাবার খানঃ
রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে, সবচেয়ে অন্যতম ভূমিকা পালন করে আয়রন নামক পুষ্টি উপাদান। আপনার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণে আপনি চাইলে, গরুর মাংস, খাসির মাংস, কলিজা, ডিম এবং সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন, আতিমাত্রায় রয়েছে । যেকোনো ডাল, সিমের বিচি, ছোলা এবং কুমড়ার বীজেও আয়রন রয়েছে যা খুবই উপকারী।
এছাড়াও আয়রনের চাহিদা পূরণে আপনি সবুজ শাকসবজি যেমন, পালং শাক, কচু শাক, ব্রকলি, লাল শাক, মটরশুটি ইত্যাদি খেতে পারেন। চিয়া সিড, বিটরুট, বাদাম, খেজুর, কিসমিস ইত্যাদি খেলে বেশ ভালো ফলাফল পেতে পারেন। কেননা এই সকল পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার লহিত রক্তকণিকা তৈরি করে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরীঃ
রক্তের প্রয়োজনীয় রক্ত কণিকা তৈরিতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব এখন সকলের কাছে পরিষ্কার। তবে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে আয়রন সমৃদ্ব খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে খুব দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে, লেবু, কমলা, মালটা, পেয়ারা, টমেটো এবং আমলকির মত ফল খেতে পারেন, ব্যাপক ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়াও, জাম্বুরা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, কিউই, পেঁপে, আম এবং তরমুজেও ভিটামিন সি বিদ্যমান। যা লোহিত রক্তকণিকা এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে বেশ কার্যকর। বেশ কিছু শাকসবজি যেমন, ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম এবং আলুতেও ভিটামিন সি রয়েছে।
ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবারঃ
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, আয়রন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের কথা ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিটামিন বি ১২ এবং ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপযুক্ত। কেননা এই সকল খাবার, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি সহ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আপনি ভিটামিন বি ১২ পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ এবং পনির খেতে পারেন।
ফলিক অ্যাসিড অর্থাৎ ভিটামিন বি৯ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি মেটাতে, বিভিন্ন ধরনের ডাল এবং বাদাম খাওয়া যেতে পারে। আপনি এমন পুষ্টি পেতে ব্রাউন রাইস খেতে পারেন, বেশ উপকার পেতে পারেন। সবুজ শাকসবজি খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। ভিটামিন এ এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারও খেতে পারেন, কার্যকারী প্রভাব ফেলতে পারে।
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, জীবনযাত্রায় যে সকল পরিবর্তন জরুরী
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার দেখা দেয়। এজন্য এ সময় শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম করা জরুরী। আপনি চাইলে নিয়মিত, হাঁটাচলা, দৌড়ানো সহ সাইকেলিং করতে পারেন। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বিদ্বিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা উন্নত করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতেও ভুলবেন না কেননা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে শরীরকে হাইড্রেট রাখা জরুরী।
আরো পড়ুনঃ রক্ত আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত ?
এমন সমস্যায় দ্রুত আরোগ্য পেতে, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। এজন্য আপনি চাইলে মেডিটেশন অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। ধূমপান এবং মধ্যপানের অভ্যাস থাকলে দ্রুত ত্যাগ করুন। কেননা ধূমপান এবং মধ্যপান রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে, রক্ত উৎপাদনে বাধা প্রদান করতে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে একই সঙ্গে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বেশ কার্যকর।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উপযুক্ত
হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে, ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে, বেশ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আয়রন শোষণে বাধা প্রদান করে। এজন্য এ সকল খাবার, এমন সমস্যার ক্ষেত্রে দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উপযুক্ত। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, ক্যাফেইন সমৃদ্ধ চা এবং কফি এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত খেতে ইচ্ছে হলে খাবারের এক থেকে দুই ঘন্টা পর খেতে পারেন।
অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড সহ জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন একই সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি এবং সফট ড্রিংক না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া থাকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন, আয়রন শোষণের বাধা দিতে পারে। আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে দুধ এবং দই, থেকে বিরত থাকুন। আপনার অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করা উপযুক্ত। ফাইটেড সমৃদ্ধ খাবারও আয়রনের সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়।
উপসংহার। হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, উপযুক্ত খাবার
হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত? উপযুক্ত খাবার সহ, হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, রক্ত সল্পতার মত সমস্যার দেখা মেলে। যা থেকে বড় কোন স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। এজন্য আপনার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে প্রয়োজনীয় খাবারের পাশাপাশি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাছাড়া আপনি যদি এমন সমস্যার গুরুতর লক্ষণ অনুভব করেন, এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসক আপনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে, আয়রন এবং ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট খেতে দিতে পারে। নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিক নির্দেশনা সহ ওষুধ প্রদান করবেন। আজকের, হিমোগ্লোবিন কমে গেলে কি খাওয়া উচিত আর্টিকেলটি, এতক্ষণ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url