কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার

পাতলা পায়খানা অর্থাৎ ডায়রিয়া এটি একটি সাধারণ সমস্যা। ডায়রিয়া বিশেষ করে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, এবং পরজীবীর সংক্রমনের কারণে ঘটে। পাতলা পায়খানার সংক্রমনের কবলে পড়লে, এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার পায়খানা সহ তরল মলের দেখা মেলে। শরীর থেকে মাত্রাতিরিক্ত তরল মল বেরিয়ে গেলে, শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। যার ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দিয়ে শরীরে, পানি শূন্যতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা ইত্যাদি নানান সমস্যা তৈরি করে। 

পাতলা

আপনি হয়তো জেনেই থাকবেন, ডায়রিয়ায় স্বাভাবিক জীবন যাপনের খাবার গুলো খেলেই হয়। তবে এ সময় আপনার শরীরের পানি শূন্যতা পূরণে, পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা খুবই জরুরী। চলুন তাহলে, কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার কারণ 

ডায়রিয়া একটি সংক্রামক রোগ, শরীরে এমন রোগের দেখা দেওয়ার প্রধান কারণ হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং পরজীবীর সংক্রমণ। এমন সংক্রমনের ফলে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে শরীরে পানি শূন্যতা সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তা ইতিপূর্বে বলা হয়েছিল। এজন্য ডায়রিয়ার সমস্যা প্রতিরোধের জন্য প্রথমেই, এমন সমস্যা হওয়ার কারণ গুলি জানার চেষ্টা করি। 

  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যা সৃষ্টির জন্য, সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার, ডিফিসিল ও শিগেলা ব্যাকটেরিয়া বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে রোটা ভাইরাস, নোরো ভাইরাস, এডেনো ভাইরাস, অ্যাস্ট্রো ভাইরাস সহ করোনা ভাইরাস ও ডায়রিয়ায় ভুমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও অ্যামিবা, জিয়ার্ডিয়া, অ্যান্টামিবা হিসটোলিটিকা ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বা কৃমির সংক্রমণে দেখা দেয়। 
  • এই সকল সংক্রমণ জনিত সমস্যা সৃষ্টির জন্য খাবার, পানি সহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ওতপ্রতভাবে জড়িত। বিশেষ করে, দূষিত পানি পান করা, বাসি, পচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার, ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল, মশলাদার ও ভাজা খাবার বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। 
  • ডাইরিয়া এবং পাতলা পায়খানা মূলত পেটের সমস্যা, এজন্য পেটে হজম জনিত সমস্যার ফলেও বারবার তরল মলের দেখা মিলতে পারে। বিশেষ করে বদহজম, পেটের আলসার বা প্রদাহ উল্লেখযোগ্য। দুধ বা দুগ্ধ জাত খাবারেও কারো কারো হজমের সমস্যা দেখা দিয়ে পাতলা পায়খানার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 
  • আপনি বা আপনার পরিবারের কার, ডায়রিয়ার সংক্রমণ দেখা দিলে, সংক্রামিত ব্যক্তির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরী। না হলে পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য সংক্রমিত ব্যক্তির, খাবার খাওয়া সহ টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা জরুরি। সংক্রামিত ব্যক্তির বমি থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। 
  • বিভিন্ন শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে, এন্টিবায়োটিক এবং কিছু ব্যাথা-নাশক ওষুধ সেবনের প্রয়োজন পড়ে অনেকের। এমন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় দেখা দিতে পারে ডায়রিয়ার মত সমস্যা। আপনি যদি হঠাৎ করে খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনেন, সেক্ষেত্রে খাবারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় পাতলা পায়খানার সৃষ্টি করতে পারে। 
  • আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং টেনশন থেকেও ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন দাঁত ওঠার সময় কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা পাতা পায়খানা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের শরীরেও খুব সহজে ডায়রিয়ার সংক্রমন দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খাবারে কোন বিষক্রিয়া সহ আধা সেদ্ধ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  

কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার 

কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার সম্পর্কের এই আর্টিকেলটিতে, ইতিমধ্যে ডায়রিয়া হওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা খুবই সাধারণ সমস্যা, যার ফলে শরীর থেকে তরল মল বেরিয়ে শরীরকে পানি শূন্য করে তোলে। এ সময় সবচেয়ে জরুরী এবং প্রয়োজনীয় হলো, পানি শূন্যতা পূরণ করা। চলুন তাহলে ডায়রিয়া হলে, যে সকল খাবার পানিশুন্যতা পূরণে কার্যকর, সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক। 

খাওয়ার স্যালাইন খাওয়া উপকারীঃ 

ডায়রিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির, কয়েকবার টয়লেট ব্যবহার করার পর, সাধারণত শরীর পানিশূন্য হয়ে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। এমন সমস্যায় ডিহাইড্রেশন এড়াতে একই সঙ্গে পানি শূন্যতা পূরণে, খাবার স্যালাইন খাওয়া খুবই উপকারী। পাতলা পায়খানায় শরীর থেকে প্রচুর পানি এবং লবণ বেরিয়ে যায়, যা খাবার স্যালাইন বিশেষ করে ওর স্যালাইন পুরন করতে ভুমিকা রাখে।

পাতলা

ডায়রিয়ায় শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ সময় খাবার স্যালাইন খেলে এতে থাকা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং গ্লুকোজ, শরীরের শক্তি এনে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও খাবার স্যালাইনে চিনি এবং লবণ রয়েছে, যা পানি শূন্যতা পূরণে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 

ভাতের মাড় খাওয়া যেতে পারেঃ 

পাতলা পায়খানা প্রতিরোধে ভাত রান্না করার পর ভাতের মাড়টুকু সেঁকে এক চিমটি লবণ এবং সামান্য জিরা গুরা মিশিয়ে পান করলে ভালো ফলাফল মিলানো যেতে পারে। কেননা  ভাতের মাড়ে থাকা লবণ এবং শর্করা শরীরের পানশূন্যতা রোধ করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বেশ কার্যকর। ভাতের মারে স্টার্চ পাওয়া যায়, যা শরীরের পানি শোষণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এর ফলে তরল মল শক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ কি খেলে আলসার ভাল হয়, প্রয়োজনীয় খাবার গুলো।


তাছাড়াও ডায়রিয়ার ফলে, শারীরিক ক্লান্তি দুর্বলতার পাশাপাশি আমাদের পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতি সাধন হয়। ভাতের থাকা প্রয়োজনীয় স্টার্চ যেমন পানি শোষণ করে ঠিক তেমনি এতে থাকা অ্যামিনো এসিড এবং প্রোটিন অন্ত্রের ক্ষতি মেরামতেও বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি ভাতের মার খেলে, ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারে। 

ডাবের পানিতে উপকার মিলানো যেতে পারেঃ

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যায়, শরীরে পানির শূন্যতা সহ ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে ডাবের পানি খুবই উপকারী। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, ডাবের পানি শরীরের বিষাক্ত টক্সিন দূর করতে বেশ কার্যকর। ডায়রিয়ার সমস্যায় শরীর প্রয়োজনীয় সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য হারায়।

এ সময় ডাবের পানি খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয়, শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। তাছাড়া পেটের পাকস্থলীর হজম তন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ উপকারী ডাবের পানি। 

নরম ভাত এবং সিদ্ব আলুঃ

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যায় স্বাভাবিক গরম  ও নরম ভাত সঙ্গে সিদ্ব আলু বেশ উপকারী। কেননা নরম ভাত এবং সিদ্ব আলু কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ। পাতলা পায়খানার সমস্যায় দুর্বল হয়ে পড়া শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে বেশ কার্যকর এমন খাবার। ডায়রিয়ায় তরল মলের ঘনত্ব বাড়াতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে এই খাবার। কেননা ভাত কম ফাইভার যুক্ত এবং আলুতে স্টার্চ রয়েছে, যার ফলে মল জমাট বেধে ঘনত্ব তৈরি হয়। 

আপনি যদি তেল মশলা বাদে আলুর খোসা ছাড়িয়ে সেদ্ধ করে সামান্য লবন মিশিয়ে খান, সেক্ষেত্রে এতে থাকা পটাশিয়াম, পাতলা পায়খানায় বেরিয়ে যাওয়া খনিজের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এছাড়াও এ দুটি উপকরণ সহজপচ্য যা পেটের জ্বালা এবং অস্বস্তি কমিয়ে আরাম মেলাতে পারে। 

কাঁচা এবং পাকা কলাঃ 

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যায় কাঁচা এবং পাকা কলা খেলে ভালো ফলাফল মেলান যেতে পারে। ডায়রিয়ায় কাঁচা কলা খেলে এর পেকটিন ও ট্যানিন অন্ত্রের পানি শোষণের কার্যকর যার ফলে মলের ঘনত্ব বাড়িয়ে শক্ত করতে কাজ করে। কাঁচা কলায় থাকা এনজাইম পেটের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। অন্যদিকে কাঁচা কলায় পটাশিয়াম রয়েছে যা শরীরকে ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে।

অন্যদিকে পাকা কলা সহজপপচ্য এবং নরম হওয়ায়, এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, যার ফলে পেটের প্রদাহ কমে। ডায়রিয়া থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম পূরণ করে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে। আপনি হয়তো জেনেই থাকবেন পাকা কলায়, শর্করা রয়েছে যা খাওয়ার ফলে এ সময় শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে পারে। 

স্যুপ ও দই খেলেও উপকার পাওয়া যায়ঃ 

আপনি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যায় মসলা ছাড়া স্যুপ এবং চিনি ছাড়া দই খেলে উপকার মিলাতে পারেন। পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ায় শরীরে যে ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করে শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজ সরবরাহ করতে পারে স্যুপ। মসলা ছাড়া সবজি বা চিকেন স্যুপ খুব সহজে হজম হয় যার ফলে পেটের উপর থেকে চাপ কমে। 

অন্যদিকে দই প্রবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার তা আপনি আমি সকলেই হয়তো জানি। এজন্য ডায়রিয়ার সমস্যায় দই খাওয়ার ফলে, এর উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজম শক্তি উন্নত করে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া রোধ করে। তাছাড়া ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া লবণ এবং জলীয় অংশ পূরণে বেশ কাজ করে। 

টোস্ট এবং সাদা রুটি খাওয়া যেতে পারেঃ

পাতলা পায়খানা হলে টোস্ট কিংবা সাদা রুটি খেলে সহায়ক খাদ্য হিসেবে বেশ ফলাফল পাওয়া যায়। তবে সাদা রুটি এবং টোস্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন মাখন, জ্যাম ও তেল ছাড়া খেতে হবে। কেননা এগুলো পরিশোধিত শস্য থেকে তৈরি এবং সহজ পচ্য। ডায়রিয়ায় ঝাল, তেল ও মসলা ছাড়া এই খাবারগুলো খাওয়ার ফলে পেটের অস্বস্তি বাড়ায় না, যার ফলে পেট শান্ত থাকে। 

পাতলা পায়খানায় টোস্ট এবং সাদা রুটি খেলে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে একই সঙ্গে মল শক্ত করতে ভূমিকা রাখে, যা খুবই জরুরী। ডায়রিয়ার সমস্যায় আপনি উপকার মেলাতে সামান্য তেল মসলাযুক্ত নরম খিচুড়িও খেতে পারেন। এমন সমস্যায় আপেলের সস শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খনিজের যোগান দিতে পারে।

ডায়রিয়ায় যে খাবার গুলো এড়িয়ে চলা উপযুক্ত 

কি খেলে পাতলা পায়খানা ভালো হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ডায়রিয়ার মত সংক্রমণ ছড়ানোর বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা সমস্যায় উপযুক্ত খাবার খাওয়া যেমন প্রয়োজন। ঠিক তেমনি দ্রুত আরোগ্য পেতে বেশ কিছু খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি, চলুন সেগুলো জানা যাক। 

আরো পড়ুনঃ কি খেলে ডায়াবেটিস দ্রুত কমে? ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের খাবার।

  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় পেটে গ্যাস সৃষ্টিকারী খাবার এড়িয়ে চলা জরুরী। বিশেষ করে, অতিরিক্ত ঝাল, তেল, মসলা, ফাস্টফুড, চটপটি, ফুচকা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এছাড়াও ভাজা আলু, পেঁয়াজু, সিঙ্গারা সহ অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত যেকোনো তরকারি পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে, যা এড়িয়ে চলা জরুরী। 
ডায়রিয়া

  • ডায়রিয়ায় কাঁচা এবং আশযুক্ত খাবার খেলে হজম করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এজন্য উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ যে কোন সবজি এবং খোসা সহ ফল এ সময় আরোগ্য পেতে বাধা প্রদান করতে পারে। এ সময় খাদ্য তালিকায় ব্রকলি, বিনস, মটরশুটি, ভুট্টা খেলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। 
  • মিষ্টি এবং চিনি জাতীয় খাবার ডায়রিয়ার সমস্যায় এড়িয়ে চলা উপযুক্ত। কেননা এগুলো অবস্থা আরো খারাপ করে শরীরকে আরো বেশি ডিহাইড্রেট করে তুলতে পারে। এ সকল খাবারের মধ্যে মিষ্টি পানীয়, ক্যান্ডি, মিষ্টি, সফট ড্রিংক সহ প্যাকেট জুস এড়িয়ে চলা জরুরী।
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাবার সহ বাইরে রাস্তার পাশের খাবার পরিহার করুন, এটা সংক্রমণ রোধে খুবই জরুরী। বাসি এবং ফ্রিজে রাখা খাবারও সংক্রমণ রোধে পরিহার করুন। পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিষ্কার বা ফুটানো পান করুন।
  • দুধ এবং দুগ্ধ জাত কিছু খাবার খেলেও পাতলা পায়খানা সমস্যা হতে পারে,তা এড়িয়ে চলা জরুরি। এগুলোর মধ্যে সরাসরি দুধ, আইসক্রিম এবং চিনি যুক্ত দই খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ক্যাফেইন যুক্ত খাবার চা, কফি এবং এনার্জি ড্রিংক থেকে পাতলা পায়খানার সমস্যায় দূরে থাকুন। 

উপসংহার। কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার 

কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়, ডায়রিয়ার উপযুক্ত খাবার সহ যেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত তা আলোচনা করা হয়েছে। ডায়রিয়ায় বিশেষ কোনো খাবারের নির্দেশনা নেই, শুধুমাত্র শরীরের পানি শূন্যতা পূরণ সহ প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহের জন্য তরল এবং সহজপচ্য খাবার খাওয়া উপকারী। তবে ডায়রিয়ার বা পাতলা পায়খানার সমস্যায়, পর্যাপ্ত পানি এবং ওর স্যালাইন খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। আপনি যে কোন খাবার খান না কেন, ডায়রিয়ায় ভালো ফলাফল পেতে ওর স্যালাইন খান। 

ডায়রিয়া সাধারণ সমস্যা, তবে যদি এমন সমস্যা এক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, একই সঙ্গে শরীরের জ্বর, রক্ত মিশ্রিত মল সহ শরীর প্রচন্ড দুর্বল হলে। এ সময় কোন প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 

                      (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url