ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা

খেতে বসলেই অনেকের এক টুকরো লেবু ছাড়া জমেই না। তবে আমাদের অনেকের কাছে হয়তো অজানা, সামান্য উষ্ণ গরম পানিতে এমন এক টুকরো লেবু চিপে লেবু পানি খেলে খুবই উপকার মেলানো সম্ভব। কেননা এটি আমাদের শরীরের বিষাক্ত টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সহ ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে একই সঙ্গে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারে। লেবু পানি খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই, এটি খাওয়ার সময় অনুযায়ী উপকারিতা আলাদা হতে পারে। 

লেবু

আজকের এই আর্টিকেলটিতে, ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। আপনি যদি ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এজন্য মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা 

লেবুর পুষ্টিগুণ 

আজকের আর্টিকেলটির আলোচ্য বিষয়, ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। তবে আর্টিকেলটির আলোচ্য বিষয় জানার আগে, কাগজি ব পাতিলেবুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নিন। লেবু ভিটামিন সি এর খুব বড় উৎস, তবে ভিটামিন সি এর পাশাপাশি এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম সহ স্বল্প পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। লেবুতে থাকা এ সকল পুষ্টি উপাদানের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ শরীরের জন্য বেশ ভালো ফলাফল মেলানো যেতে পারে। 

কেননা প্রতি ১০০ গ্রাম কাগজি বা পাতিলেবুতে  ভিটামিন সি রয়েছে আনুমানিক ৬০  মিলিগ্রাম, যা অত্যন্ত পরিমাণে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ৯০ মিলিগ্রাম, প্রায় ২৯ ক্যালরি, ভিটামিন বি ০.১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৯ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম এবং ০.৬ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রোটিন, ফ্যট, ফাইভার সহ প্রায় ৮৫% পানি পাওয়া যায়। লেবুতে এই সকল পুষ্টি উপাদান থাকার ফলে, গরিবের সুপার ফুড হিসেবে বিবেচনা করা যায়।  

ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা 

লেবু পানি অর্থাৎ পানির সঙ্গে লেবুর রস মেশানো, যা ভরা পেটে খেলে, শরীরের জন্য বেশ ভালো ফলাফল মেলানো যেতে পারে। আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে, পুষ্টিগুণে ভরা লেবুর বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেবু পানির উপকারিতা সঠিক মাত্রায় পেতে, পানি উষ্ণ গরম থাকাটা জরুরী। চলুন তাহলে আর্টিকেলটির মূল বিষয়, ভরা পেটে উষ্ণ গরম লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ 

এক কথায় লেবুকে ভিটামিন সি এর ভান্ডার বললে ভুল হবে না। ভরা পেটে লেবু পানি খেলে, এতে থাকা ভিটামিন সি লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে পরোক্ষভাবে বেশ ভূমিকা পালন করে। যার ফলে শরীর বিভিন্ন ধরনের সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পায়। যাদের খালি পেটে লেবু পানি খেলে এসিডিটি বেড়ে যায়, তাদের জন্য ভরা পেটে খাওয়া উপযুক্ত। 

লেবু পানিতে থাকা ভিটামিন সি, খাবার থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে বেশ ভুমিকা পালন করে। শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ হলে এটি পরোক্ষভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। লেবু পানি আপনি যে কোন সময় খেতে পারেন, ভরা পেটে বেশ ভালো ফলাফল পেতে, রাতে খাবার পরে খাওয়া উপযুক্ত।

শরীরে পানিসূন্যতা দূর করেঃ

শরীরে পানি শূন্যতার সমস্যায় আমরা অনেকেই হয়তো পড়েছি। পানি শূন্যতায় ভরা পেটে উষ্ণ গরম লেবু পানি  খাওয়ার ফলে, এ সময় এমন উপকরণ শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে। ডিহাইড্রেশন অর্থাৎ পানি শূন্যতায় মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা সহ নানা ধরনের জটিলতার দেখা মিলতে পারে। এমন সমস্যায় ভালো ফলাফল পেতে, ভরা পেটে লেবু পানি খেলে এর ভিটামিন সি, এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

যা শরীরের ডিহাইড্রেশন রোধ করে হাইড্রেট রাখে, শরীরকে সতেজতা অনুভব করায়। তাছাড়া লেবু পানির খুব ভালো একটি উৎসব, একই সঙ্গে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পান করতে হয়। এক কথায় দুই উপকরণ মিলে পানি শূন্যতা পুরন সহ রোধে বড় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

পাকস্থলীর হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ 

হজমের সমস্যা একজন মানুষের জন্য খুবই বিরক্তিকর একটি সমস্যা। পাকস্থলীতে হজমের সমস্যা থাকলে এটি গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আপনার হজমের সমস্যা থাকলে, খাবার খাওয়ার পরে লেবু পানি খেতে পারেন। কেননা লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণে সহায়তা করে। আপনি এমন সমস্যায় ভালো ফলাফল পেতে খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর লেবু পানি খাবেন। 

আরো পড়ুনঃ খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা জানুন এখানে।


বিশেষ করে লেবুর টক স্বাদ, মুখের লালা গ্রান্থি তৈরি সহ হজম এনজাইমের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে চর্বিযুক্ত খাবারও খুব সহজে হজম করতে ভূমিকা রাখতে পারে। লেবু পানির পুষ্টিগুণ হজম প্রক্রিয়াকে মসৃন করে গ্যাস্ট্রিক সহ পেট ফাঁপার সমস্যা সমাধানেও কার্যকরী। আপনি যদি কোন অনুষ্ঠানে গিয়ে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে পেটে অস্বস্তির সৃষ্টি করেন। সেক্ষেত্রে এক গ্লাস লেবু পানি পান করতে পারেন, এটা ভারী খাবার খুব সহজেই ভাঙতে পারে। 

বিষাক্ত পদার্থ টক্সিন দূর করতে সাহায্য করেঃ

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরী। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য, লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা বজায় রাখা জরুরি। ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার ফলে, এটি শরীরের পানি শূন্যতা দূর করে শরীরকে হাইড্রেট রাখে। একই সঙ্গে লেবুর ভিটামিন সি লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। 

লেবু

লিভার এবং কিডনি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছেকে বের করে নেওয়ার জন্য, প্রয়োজনীয় পানির যোগান দিতে পারে লেবু পানি। এছাড়াও লেবু পানি হজম শক্তি উন্নত করে তা ইতিপূর্বে বলা হয়েছে। পেটের হজম শক্তি উন্নত হওয়ার ফলে, বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ জমে থাকা সম্ভাবনা কমে যায়। যার ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে, শরীর পরিষ্কার থাকে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারেঃ  

লেবু পানি খেলে যে আপনার সরাসরি ওজন কমে যাবে ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। লেবু পানি আপনার, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন লেবু পানিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। যার ফলে এটি খেলে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরি যোগ হয় না। মিষ্টি পানীয়, জুস, সফট ড্রিংকের পরিবর্তে ভরা পেটে লেবু পানি পান করলে বাড়তি ক্যালোরি এড়ানো যায়, যা ওজন কমাতে সহায়ক। 

তাছাড়া ভরা পেটে উষ্ণ গরম লেবু পানি খাওয়ার ফলে এর পেকটিন নামক ফাইবার ক্ষুদার পরিমাণ কমায়। যার ফলে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী। আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে, সুষম খাদ্য ও ব্যায়ামের পাশাপাশি সহায়ক খাদ্য হিসেবে লেবু পানি খেতে পারেন। বিশেষ করে আপনার হজম শক্তি ভালো থাকলে, খাবার ঠিকভাবে ব্যবহার হয়। এর ফলে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যেতে পারে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করেঃ 

ভরা পেটে উষ্ণ গরম লেবু পানি খেলে, কোষ্ঠকাঠিন্য সহ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে। এটি হজম প্রক্রিয়া তো ভালো করেই একই সঙ্গে অন্ত্রের সংকোচনকে উৎসাহিত করে। যার ফলে মল নরম হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধান হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় সমাধান পেতে, রাতে খাওয়ার এক ঘন্টা পর লেবু পানি খাওয়া উপযুক্ত। 

এবারে মুখের দুর্গন্ধের দিকে আসা যাক, লেবু মুখের লালার উৎপাদন বৃদ্ধি করে। যার ফলে মুখের শুষ্কতা দূর হয় একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। মুখের দুর্গন্ধ একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা, এমন সমস্যা সৃষ্টিতে পানি শূন্যতা দায়ী হতে পারে। যা লেবু পানি পূরণ করে লালার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য আপনি চাইলে উষ্ণ গরম লেবু পানি দিয়ে কুলকুচিও করতে পারেন। 

শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করেঃ 

আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের জন্য আয়রন অত্যন্ত ভূমিকা পালন করে। শারীরিক সুস্থতা সহ রক্তস্বল্পতা দূর করতে আয়রন অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি প্রয়োজনীয় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি, লেবু পানি খান তাহলে বেশ উপকার মেলাতে পারেন। কেননা লেবুতে থাকো ভিটামিন সি খাবারের নন-হিম আয়রন শরীরে শোষণে রূপান্তরিত করে, এটি বৈজ্ঞানিক ভাবেও পরীক্ষিত। 

এছাড়া লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড, আয়রনের দ্রবণতা বাড়ায় এবং অন্ত্রে এর শোষণ উন্নত করে। শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণের কার্যকারিতা বাড়াতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে অথবা খাবার খাওয়ার পর লেবু পানি খাওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত পরিমাণে লেবু পানি খাওয়া উচিত নয়। 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেঃ 

কে না চায় তার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাক। আপনি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য, ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। উষ্ণ গরম লেবু পানিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে,যা স্বাভাবিক উজ্জলাতা বজায় রাখতে কার্যকর। অন্যদিকে লেবু পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে, শরীর হাইড্রেট থাকলে ত্বকের শুষ্কতা কমে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 

আরো পড়ুনঃ থানকুনি পাতার উপকারিতা, অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জানুন।


এছাড়াও লেবু পানি খাওয়ার ফলে এটি শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের না হলে ত্বকে ব্রন, ফুসকুড়ি সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি লেবুতে থাকা ভিটামিন সি, আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। প্রয়োজনীয় উপকার পেতে অবশ্যই চিনি ছাড়া লেবু পানি খাওয়া জরুরী। 

ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার সতর্কতা 

ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কের, এই আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে বেশ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবন যাপনে, প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ায় যে সকল উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে, এর পাশাপাশি এমন উপকরণ খাওয়ায় কিছু সতর্কতা রয়েছে। চলুন নিচে ক্রমান্বয়ে, ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার সতর্ক সম্পর্কে যানার চেস্টা করি ,যা খুবই জরুরী।

লেবু

  • আপনার যদি অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এবং এসিডিটির সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে ভরা পেটে লেবু পানি না খাওয়াই উপযুক্ত। বিশেষ করে পাকস্থলীর আলসার, বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢকুর সহ তীব্র পেটে ব্যথা থাকলে সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। 
  • লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকায়, এটি দাঁতের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে, যার ফলে দাঁতের এনামেল গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আপনার যদি দাঁতের কোন সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে লেবু পানি খাওয়ার পরে অবশ্যই সাধারণ পানি দিয়ে গুলি করে নেওয়া উপযুক্ত। 
  • আপনি যদি খুব বেশি ভারী খাবার খেয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে খাওয়ার পরপরই লেবু পানি খাওয়া কোন মতেই উচিত নয়। এ সময় খাবার খাওয়ার এক থেকে দেড় ঘন্টা পর লেবু পানি খাওয়া উপযুক্ত হতে পারে। কেননা অতিরিক্ত তেল, ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরই লেবু পানি খেলে পেটে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। 
  • ভরা পেটে হোক কিংবা খালি পেটে, অতিরিক্ত লেবু পানি কখনোই খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে আপনি যদি একজন গর্ভবতী হন, সেক্ষেত্রে পরিমাণ মতো খাবেন। শিশুদেরকে লেবু পানি খেতে দিলেও পরিমানের বাইরে বেশি দেওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া আপনি নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করলে, লেবু পানি না খাওয়া উপযুক্ত হতে পারে। 
  • লেবু অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির সঙ্গে মিশিয়ে তারপরে খাবেন, একই সঙ্গে কিছু পরিমাণ সাধারণ পানি পান করবেন। লেবু হালকা মূত্র বর্ধক এজন্য পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান না করলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। আপনার উচ্চ রক্তচাপা ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া জরুরী।

উপসংহার। ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা 

আর্টিকেলটিতে ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা এবং কিছু সতর্কতা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। লেবু পানি খাওয়ার নিয়ম সবার জন্য একই রকম প্রযোজ্য নয়। আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী, সঠিক সময় লেবু পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং প্রয়োজন। স্বাভাবিক অবস্থায় ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার জন্য, এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে, কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর খাবেন। আপনি চাইলে সামান্য পরিমাণে আদার রস মেসাতে পারেন। 

তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, চিনি ব্যবহার কোন মতেই চলবে না। আপনি চাইলে সামান্য মধু মেশাতে পারেন, উপকারিতা ও স্বাদ দুটই বৃদ্ধি পেতে পারে। লেবু খুবই সহজলভ্য আমাদের দেশের সকল শ্রেণীর মানুষই চাইলে নিয়মিত কিনে খেতে পারে। যাইহোক এতক্ষণ, ভরা পেটে লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা,আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 

                          (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url