কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়
গলা শুকিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে কোন ভিটামিন কে দায়ী করা আসলে কঠিন। তবে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের অভাবে, মুখ ও গলার সুস্কতা দেখা দিতে পারে। কেননা এই সকল পুষ্টি উপাদান, মুখের লালা উৎপাদন সহ টিস্যুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকরী। এছাড়া শরীরে পানি শূন্যতা সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মুখ এবং গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, যে সকল ভিটামিন সহ স্বাস্থ্যগত সমস্যার ফলে, গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতির দেখা মেলে, সেগুলো জানার চেষ্টা করি। আপনি এমন সমস্যায় পড়লে, মনোযোগ সহকারে পড়ুন, প্রয়োজনীয় তথ্য হয়তো পেতে পারেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়
- কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়। গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ
- যে সকল ভিটামিনের অভাবে গলার শুষ্কতা দেখা দিতে পারেঃ
- শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলেঃ
- অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার ফলেঃ
- এলার্জি, সর্দি, কাশি, জ্বর এবং সংক্রমণের ফলেঃ
- হাঁপানি এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিলেঃ
- অন্যান্য যে সকল কারণে গলা শুকিয়ে যেতে পারেঃ
- গলা শুকিয়ে যাওয়া সমস্যা দেখা দিলে করণীয় কি
- উপসংহার। কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়
কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়। গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ
গলা শুকিয়ে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোন ভিটামিন কে দায়ী করা যায় না, এটা শুরুতে বলা হয়েছিল। তবে কিছু ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যার ফলে গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মত প্রবণতার দেখা মিলতে পারে। চলুন তাহলে আর্টিকেলটির শুরুতেই, কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ গুলি জানার চেষ্টা করি।
যে সকল ভিটামিনের অভাবে গলার শুষ্কতা দেখা দিতে পারেঃ
- আপনার শরীরে ভিটামিন এ, এর অভাব দেখা দিলে, গলা খুসখুস করা সহ গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতির দেখা মিলতে পারে। কেননা মুখের লালা উৎপাদনে বেশ ভূমিকা রাখে ভিটামিন এ। মুখের ভেতরে লালা উৎপাদন কমে গেলে, গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি আসা অসম্ভব কিছু না।
- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অর্থাৎ ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি ৬ এবং ভিটামিন বি১২ গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা মুখের ভেতরের টিস্যু, জিভ এবং ঠোঁটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর অভাবে জিভ ফোলাভাব, গলায় প্রদাহ সহ শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
- এছাড়াও ভিটামিন ডি এর অভাবে, মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া সহ, ধাতব সাধের অনুভূতি মিলতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, ভিটামিন ডি এর গুরুত্ব হয়তো সকলেই জানি। অন্যদিকে আয়রনের অভাবে, জিভে ফোলাভাব এবং ঘা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে গলায় শুষ্কতা অনুভূতি হতে পারে।
শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলেঃ
শারীরিক সুস্থতা সহ, মুখের লালা উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আমাদের সকলেরই পান করা উচিত। শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলে, মুখের লালার উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে গলা ও মুখের আর্দ্রতা কমে, শুষ্ক করে তোলে। তাছাড়া আমাদের গলার টিস্যু গুলোকে নরম এবং নমনীয় রাখতে পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলে গলা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, শারীরিক ক্লান্তি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া সহ, ঘন ঘন পানির পিপাসা লাগতে পারে। পানির অপর নাম জীবন এজন্য শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার ফলেঃ
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার ফলে, গলা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেননা অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। যার ফলে শরীরকে পানি শূন্য করে তোলে এবং লালার উৎপাদন কমে যায়।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে, গলা শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে প্রচন্ড পানির পিপাসা অনুভব করতে পারেন। এ সময় শরীরকে হাইড্রেট রাখা এবং লালার উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।
এলার্জি, সর্দি, কাশি, জ্বর এবং সংক্রমণের ফলেঃ
আরো পড়ুনঃ কোন ভিটামিনের অভাবে গা ঘামে, তা জানুন।
গলা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে, এলার্জি, সর্দি, কাশি, জ্বর সহ সংক্রমণ বেশ সাধারণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে, গলার শুকিয়ে যাওয়া, খুসখুসে ভাব এবং গলা ব্যথার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আপনার যদি কাশির সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে গলার ভেতরের অংশকে শুষ্ক করে তুলতে পারে। পরিপার্শ্বিক পরিবেশ সহ যেকোনো কারণে এলার্জির দেখা মিললে, সর্দি সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
অন্যদিকে সংক্রমণের ফলে যদি আপনার সর্দির মতো সমস্যার দেখা মেলে, সেক্ষেত্রে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে নাক বন্ধ থাকলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে, গলায় সুস্কতা দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যায় গলায় শুষ্কতা আসলে, পর্যাপ্ত উষ্ণ গরম পানি পান সহ ভেষজ চা বা যেকোন গরম স্যুপ পান করতে পারেন।
হাঁপানি এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিলেঃ
গলা শুকিয়ে যাওয়ার পিছনে হাঁপানি এবং ডায়াবেটিসের মত স্বাস্থ্য সমস্যা জড়িত থাকতে পারে। কেননা হাঁপানি হওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, যা শ্বাসনালীতে প্রদাহ বাড়ায় এবং গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি করে। হাঁপানিতে গলার ভেতরে অস্বস্তি কমানোর জন্য বারবার কাশি দিতে হয়। অনেক সময় মুখ খোলা রেখে শ্বাস নিতে হয়, যার ফলে গলায় শুষ্কতা সহ গিলতে অসুবিধা হতে পারে।
অন্যদিকে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়, যার ফলে দেখা দেয় পানি শূন্যতা। এমন সমস্যায় পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার ফলে মুখ এবং গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত লক্ষণ আসতে পারে। এ সময় গলা শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, মুখ ও জিব্বা শুষ্ক থাকার মত অনুভূতি আসতে পারে।
অন্যান্য যে সকল কারণে গলা শুকিয়ে যেতে পারেঃ
- আপনি যদি মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের ভিতরে সময় পার করেন, সেক্ষেত্রে আপনার গলা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি আসতে পারে। কেননা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ মুখের ভেতরে লালার প্রবাহ কে প্রভাবিত করতে পারে।
- আমাদের মধ্যে যারা রাতে মুখ খোলা রেখে ঘুমাই, তারাও গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। কেননা মুখ খোলা রেখে ঘুমালে লালা বাষ্পীভূত হয়ে কমে যায়। এমন সমস্যা যারা নাক ডেকে ঘুমায় তাদের ক্ষেত্রে একটু বেশি মিলতে পারে।
- নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের ফলে মুখের লালার উৎপাদন কমে, গলা এবং মুখে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার, অ্যালকোহল সহ ধূমপান মুখের লালাল উৎপাদন কমিয়ে গলায় প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
গলা শুকিয়ে যাওয়া সমস্যা দেখা দিলে করণীয় কি
কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সকল ভিটামিন দায়ী, সেগুলো সহ গলা শুকিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনার গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে, অবশ্যই এর যথাযথ ব্যবস্থা সহ প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কেননা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও এমনটা হতে পারে। তাছাড়া এমন সমস্যা দৈনন্দিন জীবনে আঘাত ঘটাতে পারে, তাই প্রতিকার জরুরী।
- শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। গলায় ব্যাথা উপলব্দি হলে সারাদিনে অল্প অল্প করে খেতে পারেন। গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানে, শরীরের পানি শূন্যতা দূর সহ লালার উৎপাদন বাড়াতে পানি পান খুবই জরুরী।
- আপনার যদি গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি আসে তাহলে নরম এবং ঠান্ডা খাবার খাওয়া উপযুক্ত। গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কেননা এটি শ্লেষ্মা শোষণ করে গলাকে আরো শুষ্ক করে দিতে পারে।
- গলার শুষ্কতা দূর করা এবং আদ্রতা ফিরিয়ে আনার জন্য, গরম পানির বাম্প নিতে পারেন। তাছাড়া পরিবেশের আদ্রতা বজায় রাখার জন্য আপনার ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটাও মুখ এবং গলার শুষ্কতা সহ সংক্রমণ রোধে বেশ কার্যকারী।
- হালকা লবণ এবং উষ্ণ গরম পানি মিশিয়ে, এই উপকরণ দিয়ে গার্গল করতে পারেন। কেননা এ সময় গার্গল গলাকে নরম করে সঙ্গে সংক্রমণ রোধে কাজ করতে পারে। গলার শুষ্কতা কমাতে আপনি চাইলে মধু গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। মুখের লালার উৎপাদন বাড়াতে চিনি মুক্ত চুইংগাম চাবালেও বেশ ফলাফল মিলতে পারে।
- আপনার যদি গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত প্রবণতা ক্রমশই দেখা মেলে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে ভুলবেন না। এজন্য আপনি চাইলে, গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি খেতে পারেন। তাছাড়া ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণে, সকালবেলার সূর্যের আলো সহ চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়া উপকারী হতে পারে।
- ঘুমানোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। আপনার নাক ডাকার সমস্যার ফলে এমনটা হলে, নাক ডাকার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যগত সমস্যা ডায়াবেটিস এবং হাঁপানি থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন, অত্যন্ত জরুরি এ সময়।
- গলা এবং মুখের শুষ্কতা কমাতে, ডাবের পানি খাওয়া বেশ উপকারী হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখা সহ শরীরকে হাইড্রেট রাতে বেশ কার্যকারী। এমন সমস্যায় কিছু ফলমূল যেমন, তরমুজ, শসা, কমলা, আপেল, কলা, ডালিম ও বেরি জাতীয় ফল গলার প্রদাহ কমিয়ে আরাম মেলাতে সাহায্য করতে পারে।
- অতিরিক্ত ঝাল মসলা সমৃদ্ধ খাবার সহ চা এবং কফি এড়িয়ে চলুন। খুব বেশি শুকনো খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, না খাওয়া এ সময় উপযুক্ত। ধূমপান সহ অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে, তা থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে সরিয়ে রাখুন।
উপসংহার। কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়
কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে, বেশ কিছু তথ্য আর্টিকেলটিতে তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দীর্ঘদিন যাবৎ থাকে। একই সঙ্গে গলায় তীব্র ব্যথা, কোন কিছু গিলতে অসুবিধা হওয়া, কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া সহ মুখ চোখ অতিরিক্ত শুষ্ক থাকে। সঙ্গে শরীরের জ্বরের দেখা মিললে, এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।
তবে সর্বোপরি মাথায় রাখবেন, গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান। এমন সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায়, সমাধান করা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। যাইহোক এতক্ষণ, কোন ভিটামিনের অভাবে গলা শুকিয়ে যায় আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url