আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার

আমাদের শরীরে আলসার মূলত পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তের প্রথম অংশে হয়ে থাকে। আলসার কয়েক ধরনের হতে পারে, তবে পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের আস্তরণের ক্ষতর কারণে যে আলসার সৃষ্টি হয়, তাকে পেপটিক আলসার নামে বিবেচনা করেন চিকিৎসকের। আলসারের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করলে, রক্তক্ষরণ, পরিপাকতন্ত্রে ক্ষত, খাদ্যনালীতে বাধা সহ পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুকির দেখা দিতে দিতে পারে। এজন্য আমাদের কারো আলসারের সমস্যা দেখা দিলে, দ্রুত সঠিক চিকিৎসা এবং যথাগত ব্যবস্থা জরুরী। 

আলসারের

চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা, আলসারের সমস্যার লক্ষণ, কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আপনার এমন সমস্যা অনুভব হলে, এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তাই মনোযোগ সহকারে পড়ুন।  

পোস্ট সূচিপত্রঃ আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার

পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা হওয়ার কারণ 

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। তবে আমরা শুরুতেই পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা হওয়ার কারণ গুলি জানার চেষ্টা করব। পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ব্যবহার। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু খারাপ অভ্যাসের ফলে আলসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন শুরুতে এমন সমস্যা হওয়ার কারণগুলি জেনে নেই। 

  • পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া আলসার হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং পাকস্থলীর আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 
  • আপনি যদি কোন ব্যথা-নাশক ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রেও পাকস্থলীর সুরক্ষা নষ্ট হয়ে ক্ষত হতে পারে। যা আলসারের প্রধান কারণ বলে গন্য করা যায়। এই ওষুধগুলোর মধ্যে, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন এবং ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি আলসার তৈরিতে বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। 
  • ধূমপান তামাকজাত দ্রব্য সেবনের ফলে আপনার আলসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে আপনি যদি বেশি অ্যালকোহল বা মধ্যপানে আসক্ত থাকেন, সে ক্ষেত্রও দেখা দিতে পারে পাকস্থলীতে আলসারের মতো সমস্যা। কেননা ধূমপান এবং মধ্যপান দুটোই আমাদের পাকস্থলীর বেশ ক্ষতি করে। 
  • আপনার পেটে দীর্ঘদিন গ্যাসের সমস্যা থাকলে, এবং এমন সমস্যা সমাধানে না আনলে পাকস্থলীতে ক্ষত হতে পারে। অন্যদিকে খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়ম বজায় রাখা ও জরুরী। সময় অসময়ে খাবার খেলে দেখা দিতে পারে আলসারের মতো সমস্যা। 
  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত, ঝাল, মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া উচিত, না খেলে ভাল। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার আমাদের পেটে, গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি, বদহজম সহ আলসারের সমস্যা তৈরিতে, বেশ ভূমিকা পালন করতে পারে। 
  • জেনেটিক কারণ অর্থাৎ বংশগত কারণে, কারো কারো আলসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা পূর্বে পারিবারিক ভাবে আলসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি রয়েছে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, কেননা এগুলো এসিড বাড়িয়ে সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
  • শারীরিক গুরুতর অসুস্থতার ফলে, পাকস্থলীতে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। কেননা গুরুতর অসুস্থতা এবং আইসিইউতে থাকার ফলে, শরীরের স্ট্রেসের কারণে আলসারের সমস্যার দেখা মিলতে পারে। 

আলসারের সমস্যার লক্ষণ 

আজকের আর্টিকেলটি আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যার বেশ কিছু কারণ ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। আপনার যদি আলসারের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় বেশ কিছু সাধারণ লক্ষণ অনুভব হতে পারে। তাছাড়া আলসারের সমস্যা গুরুতর বা তীব্র অবস্থায় থাকলে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যা সম্পূর্ণরূপে চিকিৎসা জরুরি, চলুন তাহলে আলসারের সমস্যার, সাধারণ এবং গুরুতর লক্ষন গুলি জানার চেষ্টা করি। 

পেট ব্যথা ও বুক জ্বালাপোড়া করাঃ 

আপনার যদি পাকস্থলীতে আলসারের মতো সমস্যার দেখা মেলে। সেক্ষেত্রে পেটে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করা খুবই সাধারণ লক্ষণ বলে বিবেচনা করা যায়। এমন ব্যথা সাধারনত নাভি থেকে বুক পর্যন্ত, কখনো বা পাজর পর্যন্ত জ্বলন্ত ব্যথা হওয়ার মত অনুভূতির সম্মুখীন করতে পারে। আলসারের সমস্যায় এমন ব্যথা, কার ক্ষেত্রে পেট খালি থাকলে এবং রাতে বৃদ্ধি পেতে পারে।

আলসারের

আবার কারো খাবার খেলে ব্যথা কমে, কারো আবার খাওয়ার পরে বৃদ্ধি পেতে পারে। পেটে আলসার মানেই গ্যাসের তীব্রতা, এ সময় পাকস্থলীতে থাকা এসিড বুকের মাঝখানে বা গলায় উঠে আসলে, বুক জ্বালাপোড়া অনুভূতি হয়।  

ক্ষুদা  ও শরীরের ওজন কমে যেতে পারেঃ 

আপনার পেটে আলসারের সমস্যা দেখা দিলে, ক্ষুদা কমে যাওয়া সহ ওজন কমে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আলসারের সমস্যা মানে পাকস্থলীর সমস্যা। আমাদের কারো আলসারের সমস্যা দেখা দিলে এই সময়, খাবার খাওয়ায় খুবই অনিহা আসে। অন্যদিকে অনেকের খাওয়ার পরে পেট ব্যথা সহ জ্বালা পোড়ার কারণে ঠিকমতো খেতে পারে না। 

অনেক সময় সামান্য পরিমাণে খাবার খেলে, পেট ভরে যাওয়ার মত অনুভূতি আসে। যা শরীরে প্রয়োজনীয় খাবারের তুলনায় অনেক কম খেতে হয়। যা প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণের পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে দেখা দেয় ওজন কমে যাওয়ার মত লক্ষণ। 

বমি বমি ভাব সহ কখনো কখনো বমি হতে পারেঃ 

আমাদের পাকস্থলীতে, গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি ও বধহজমের দেখা মিললে বমি বমি ভাব সহ, বমি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশই বাড়ে। পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা মানে, গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি ও বদ হজম সম্পূর্ণরূপে জড়িত। এজন্য আলসারের সমস্যায় বমি বমি ভাব সহ মাঝে মধ্যে বমি হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ গুলির মধ্যে ধরা যায়। আলসারের সমস্যায় বমি বমি ভাবের অনুভূতি, বিশেষ করে সকাল বেলা বেশি দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপা সঙ্গে ঢেকুর উঠতে পারেঃ 

আলসারের সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার কারণে দেখা দেয়। এমন সমস্যা পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের তৈরি করে, যা পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং এর প্রদাহ হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। পেটের এই হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হওয়ার ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক, বদ হজম সহ ঢেকুর ওঠার মত লক্ষণ অনুভূতি হয়। 

কেননা আলসারের সমস্যায় পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমে, পেটের ফোলা ভাব সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে ঢেকুর ওঠা এবং বমি বমি ভাব সহ উপরোক্ত বেশ কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করতে পারেন। 

পাকস্থলীর আলসারের গুরুতর লক্ষণ সমূহঃ 

আলসারের সমস্যার সাধারণ কিছু লক্ষণ, ইতিমধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে। আনসারের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করলে, শরীরের বেশ কিছু গুরুতর লক্ষনের দেখা মিলতে পারে। আপনার শরীরে এমন লক্ষণ অনুভব হলে, এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরী।
  • পাকস্থলীর আলসারের প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে, গুরুতর অবস্থায় রক্ত বমি হওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন বমি সাধারণত কফির গুরার মত কালো বা তাজা লাল রক্তের রঙের হতে পারে। 
  • শুধু রক্ত বমি নয় আলসারের সমস্যা হলে, মলের রং পরিবর্তন সহ মলের সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে। আলসারের তীব্রতায় আপনার মল আলকাতরার মত কালো, আঠালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা আলসারের সমস্যার তীব্রতায় পাকস্থলীর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয়। যার ফলে রক্ত মলের সঙ্গে মিশে, এমন রঙ তৈরি করতে পারে। 
  • তীব্র পেটে ব্যথার মত অনুভূতি দেখা দিতে পারে এ সময়। আলসারের সমস্যার তীব্রতায় পেটে ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, যা সহজে সহ্য করা যায় না এবং খুব সহজে কমে না। পেটে ব্যথা এক কথায় আলসারের সমস্যা সাধারণ হোক কিংবা গুরুতর দু জায়গাতে বিদ্যমান। 
  • শরীরে আলসারের সমস্যা তীব্রতা, রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মত স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরা সহ শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেওয়া খুবই কমন ব্যাপার। আপনি যদি আলসারের  সমস্যায় এমন তীব্রতা অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নেওয়া আপনার জন্য জরুরী। 

পাকস্থলীর আলসারের সমস্যার প্রতিকার 

পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক কিংবা পেপটিক আলসার হোক না কেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসা ও জীবন যাপনের মাধ্যমে, অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। আপনার শরীরে যদি এমন সমস্যার লক্ষণ উপলব্ধি করেন, সেক্ষেত্রে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরী। কেননা এমন সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে গেলে, শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সহ মারাত্মক ঝুঁকির তৈরি করতে পারে। কথা না বাড়িয়ে চলুন, আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটিতে, প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

আলসারের

  • প্রাথমিক পর্যায়ে, দৈনন্দিনের খাদ্যাভ্যাসে সঠিক নিয়ম বজায় রাখুন। এজন্য আপনি, সময় মত করে সহজপাচ্য ও নরম খাবার অল্প অল্প করে খান। আপনি চাইলে, ভাত, নরম রুটি, সিদ্ব আলু, কলা, পেপে, আপেল ইত্যাদি খেতে পারেন। এমন সমস্যায় পরিমাণ মতো টক দই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। শাকসবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সেদ্ধ করে অল্প তেল, ঝাল, মসলা দিয়ে রান্না করে তারপর খাবেন।  
  • জীবন যাপনে পরিবর্তন খুবই জরুরী পাকস্থলীতে আলসারের মতো সমস্যায়। এজন্য আপনি মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা বজায় রাখতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ঢিলেঢালা পোশাক পড়ুন। 
  • আলসারের সমস্যায় আপনার কিছু খাবার, দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ঝাল মশলাযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার সহ টক জাতীয় ফল লেবু ও কমলা এড়িয়ে চলুন। চা, কফি, কোল ড্রিংক এবং ধূমপান ও মদ্যপান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। 
  • আপনার পেটে যদি এমন সমস্যার তীব্রতা অনুভব করেন। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা সহ, কিছু ওষুধ সেবন করতে পারেন। সাধারণ অবস্থায় চিকিৎসক আপনাকে, ওমিপ্লাজল, অ্যান্টাসিড ও ল্যানসোপ্রাজল খেতে দিতে পারে। তাছাড়া আপনার যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসক নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স প্রদান করতে পারে। 

উপসংহার। আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার  

এই আর্টিকেলটিতে, আলসারের সমস্যার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার এমন সমস্যা হলে, কোনক্রমেই অবহেলা করবেন না। সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার জন্য, একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। কেননা আলসারের সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। 

নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সর্বোপরি, এমন সমস্যা ছোট হলেও সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাইহোক আজকের, আলসারের লক্ষণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটি এতক্ষণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                      (খোদা হাফেজ)


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url