চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার

চোখ বন্ধ করলে হয়তো বুঝতে পারি, সৃষ্টিকর্তার দেওয়া কত বড় নেয়ামত আমাদের দুটো চোখ। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখ, এই চোখে যদি ঝাপসা দেখার মত লক্ষণ অনুভব হয়, সেক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আপনি হয়তো জানেন না, আপনি আমি আমরা সবাই কমবেশি চোখের সমস্যায় ভুগছি। বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে, এমন সমস্যার মোকাবেলা একটু বেশি করতে হয়। তবে বর্তমানে এমন সমস্যায় ,বয়স্ক ব্যক্তিরা সহ ছোট ও যুবকরা  প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে। 

চোখে

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এগুলোর মধ্যে কিছু সাধারণ কারণ সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত কারণ জড়িত। চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার 

শরীরে চোখের গুরুত্ব 

চোখ আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি। চোখ আমাদের কোন কিছু দেখতে, পরিবেশ বুঝতে, ভারসাম্য রক্ষা সহ মস্তিষ্কের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। আজকের, চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার, আর্টিকেলটির শুরুতে, আমরা চোখের গুরুত্ব অর্থাৎ কার্যকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টায় করব। 

  • শরীরে চোখের, সাধারণ কার্যকারিতার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম হলো দৃষ্টিশক্তি প্রদান করা। কেননা চোখের মাধ্যমে আমরা কোন জিনিসের, আলো, রং সহ আকার ও দূরত্ব বুঝতে পারি। চোখের কর্নিয়া ও লেন্স আলোকরশ্মিতে রেটিনায় কেন্দ্রীভূত করে, একই সঙ্গে সেই আলো বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে, যা অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। 
  • চোখের মাধ্যমে আমরা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করি। কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, হাটা চলা, পড়ালেখা সহ কাজ করা সকল জায়গাতেই, চোখের গুরুত্ব অপরিহার্য। অন্যদিকে চোখ আমাদের, কোন কিছুর বাধা বা ঝুকি থেকে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। চোখের মাধ্যমে আমরা আনন্দ ও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি। 
  • চোখ প্রাকৃতির আলো সহ, যেকোনো আলো নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কেননা চোখের আইরি শ পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে উচ্চ আলোতেও চোখের ভেতরে প্রয়োজন মত আলো প্রবেশ করতে পারে। বিভিন্ন রং চিনতে, কাছে কিংবা দূরত্ব সহ গভীরতা বুঝতে চোখের রেটিনা সাহায্য করে। 
  • কোন জিনিসের, আকার আকৃতি, নাড়াচাড়া করছে কিনা সহ রং সনাক্ত করে চোখ। একটা জিনিস আপনার কতটা কাছে বা কতটা দূরে তা ফোকাস করতেও, গুরুত্বপূর্ণ দুটি চোখ। চোখের বিশেষ কোষ, রেড ও কোন, উজ্জ্বল আলো সহ কম আলোতে দেখার ক্ষমতা যোগায়। 
  • চোখের সব থেকে বড় গুরুত্বপূর্ণ, কার্যকারিতা হলো, এটি প্রতি সেকেন্ডে, হাজার কোটি তথ্যের নমুনা সংগ্রহ করে মস্তিষ্কে পাঠায়। চোখ সেই তথ্যের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে অর্থপূর্ণ করে তোলে। এজন্য চোখ এবং মস্তিষ্কের সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। যা আমাদের সব কিছুই সঠিকভাবে বুঝতে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে উৎসাহিত করে। 
  • শুধু এখানেই শেষ নয়, চোখ আমাদের পুরো স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। কেননা চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ শারীরিক গুরুতর লক্ষণ গুলোর প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যালোচনা করা যায়। 

চোখে ঝাপসা দেখার কারণ  

আমাদের চোখে স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১২, ওমেগা ৩ ফ্যাট এসিড সহ জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদান জরুরী। এ সকল পুষ্টি উপাদানের অভাবে, চোখের শুষ্কতা, রাতকানা রোগ সহ চোখের যে কোন সমস্যার সৃষ্টি করে দৃষ্টি ঝাপসা করে দিতে পারে। তাছাড়া আপনি হয়তো জানেন, শিশুদের ভিটামিন এ এর অভাব, রাতকানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ বলে পরিচিত। কথা না বাড়িয়ে চলুন, আর্টিকেলটির মূল বিষয় চোখে ঝাপসা দেখার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

চোখে কোন প্রকার সংক্রমণের দেখা মিললেঃ

চোখের সংক্রামনের প্রভাব চোখে ঝাপসা দেখার, সবচেয়ে অন্যতম সাধারণ কারণ বলে বিবেচনা করা যায়। চোখের এই সংক্রমণ গুলোর মধ্যে, কনজাংটিভাইটিস এটি সবচেয়ে সাধারণ সংক্রমণ, এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ধারা তৈরি হয়। এমন সংক্রমনের ফলে, চোখে লালচে ভাব, চোখ থেকে পানি পড়া, চুলকানি সহ কখনো কখনো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, যদি এমন সমস্যা কার্নিয়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়। 

এছাড়াও, কর্নিয়া অর্থাৎ চোখের স্বচ্ছ অংশে সংক্রমণ এবং ইউভাইটিস চোখের ভেতরের স্তর বা ইউভিয়ার প্রদাহ চোখের জন্য সাধারণ সংক্রমণ বিবেচনা করা যায়। কার্নিয়া সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ,ছত্রাক ও পরজীবী ধারা তৈরি হয়। অন্যদিকে ইউভাইটিস আঘাত বা অটোইমিউন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে দেখা দেয়। এ সময় সাধারণত চোখে ব্যথা, আলোতে সংবেদনশীলতা, লালচে ভাব সহ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি মারাত্মক হতে পারে এজন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। 

মাইগ্রেনের সমস্যার ফলেঃ 

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয়। মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথায় সৃষ্টি করে না, এর ফলে চোখে ঝাপসা দেখার মত লক্ষণ কখনো দেখা দিতে পারে। যেমন ধরুন মাইগ্রেন আরা, এর ফলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইগ্রেন রোগীর ভিজুয়াল সমস্যা দেখা দেয়। এই ভিজুয়াল সমস্যার মধ্যে, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, আলোতে আঁকাবাঁকা রেখা দেখা দেওয়া সহ অন্ধ দাগ অনুভূতি আসতে পারে।

আরো পড়ুনঃ হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।


অন্যদিকে রেটিনা মাইগ্রেন, চোখে সাময়িকভাবে ঝাপসা দৃষ্টির সৃষ্টি করতে পারে। এটি সাধারণত বিরল তবে কিছু সময় এমন ঝাপসা দৃষ্টি সৃষ্টি করে, তারপর মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। মাইগ্রেনের কারণে ঝাপসা দৃষ্টি, ১০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা বা কোন কোন ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এমন মাইগ্রেনের ফলে, আপনার চোখে প্রাথমিক অবস্থায় ঝাপসা দৃষ্টি এলে, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপের কারনেঃ 

ডায়াবেটিসের সমস্যা অর্থাৎ রক্তের উচ্চ শর্করার কারণে রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালী গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালী গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, চোখ ফুলে ওঠা সহ রক্তক্ষরণ হয়,যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা করে তোলে। রক্তে যদি শর্করা উঠানামা করে, সে ক্ষেত্রে চোখের লেন্স ফুলে যেতে পারে, যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়। এই ধরনের সমস্যাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলে বিবেচনা করেন চিকিৎসকেরা। 

চোখে

অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, চোখে ঝাপসা দৃষ্টি সৃষ্টি করার জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে, রেটিনার রক্তনালি গুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, রেটিনার নিচে তরল জমা হতে পারে। একই সঙ্গে অপটিক স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া সহ রেটিনায় রক্ত প্রবাহ বন্ধ হলে অন্ধত্বের সমস্যা। 

প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবঃ 

 শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য যেমন, প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রয়োজন। ঠিক তেমনি চোখে স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সহ বেশ কিছু, পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল পুষ্টি উপাদানের মধ্যে ভিটামিন এ, রেটিনার পিগমেন্ট তৈরি করে, একই সঙ্গে কার্নিয়াকে আদ্র রাখে।

অন্যদিকে ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে, নার্ভের ক্ষতি করে, যার ফলে স্নায়ুতে সংকেত পাঠাতে ব্যর্থ হয়। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। অন্যদিকে লুটেইন ও জিয়াক্সানথিন যা ঝাপসা দৃষ্টি প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমরা সকলে হয়তো ভিটামিন এ , এর ব্যাপারে জানি, যার অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 

দীর্ঘ সময় মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহারঃ 

আধুনিকতার ছোঁয়া আমাদের বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই, বিদ্যমান। আমাদের বাংলাদেশে এখন মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ চেনে না এমন মানুষ খুঁজে, পাওয়া মুসকিল। তবে আমরা হয়তো অনেকে জানিনা মোবাইল, কম্পিউটার দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে এটি আমাদের চোখের দৃষ্টি ঝাপসা করে দিতে পারে।  

কেননা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকালে, চোখ অতিরিক্ত ফোকাস করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় তাকিয়ে থাকার কারণে, কম পলক পরে যা চোখ শুষ্ক করে দিতে পারে। তাছাড়া ডিজিটাল স্কিনের আলো চোখের খুবই ক্ষতি করে, এজন্য দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে চোখের জন্য সঠিক ব্যাবস্থা গ্রহন করে নিবেন।

অন্যান্য কিছু কারণঃ 

চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটিতে, বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। উপরোক্ত কারণগুলো বাদে আরও কিছু কারণ রয়েছে যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ধূমপান সহ অ্যালকোহল সেবন, মাথায় আঘাত লাগা সহ বয়স বাড়ার সাথে সাথে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে, দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। 

অন্যদিকে হরমোন পরিবর্তনের ফলেও, এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের গর্ভাবস্থায়, হরমোন পরিবর্তনের কারণে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা অনুভব হতে পারে। সর্বোপরি স্ট্রোক সমস্যা সহ অভ্যন্তরীণ কানের কোন সমস্যার ফলেও চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। 

চোখে ঝাপসা দেখার প্রতিকার 

চোখ আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আপনি উপলব্ধি করলেই বুঝতে পারবেন। দৃষ্টি শক্তিতে কোন প্রকার সমস্যার দেখা দিলে, কোনক্রমেই অবহেলা চলবে না, অবশ্যই সঠিক চিকিৎসা সহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কথা না বাড়িয়ে চলুন, চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটিতে এখন, চোখে ঝাপসা দেখার প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

আরো পড়ুনঃ হাত পা চাবানোর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন।

  • চোখে ঝাপসা দেখার প্রতিকার, চোখের সমস্যা হওয়ার কারনের উপর নির্ভর করে। আপনি যদি সাধারণ অবস্থায়, চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখে ঝাপসা দেখার সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরী। 
  • সাধারণভাবে চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা হলে, এ সময় চোখের বিশ্রাম দেওয়া জরুরী। এজন্য ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরে তাকানোর অভ্যাস করুন। চিকিৎদের ভাষায় এটাকে ২০-২০-২০ নিয়ম বলা হয়। চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যায়, অযথা মোবাইল কম্পিউটার দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার বন্ধ করুন। 
চোখে


  • চোখের যত্নে উপকারী পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন। আপনি চাইলে সবুজ শাকসবজি, ডিম, বাদাম ও বীজ, গাজর ও মিষ্টি আলু সহ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া উপকারী। চোখের যত্নে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছিল।
  • আপনার যদি কোন সংক্রমনের কারণেই চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা সহ, ছানি পড়ার সমস্যা হয় একই সঙ্গে চোখের শুষ্কতা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, কৃত্রিম অশ্রু অর্থাৎ চোখের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। চিকিৎসক চোখের সংক্রমণের উপর ভিত্তি করে, সঠিক ড্রপ ব্যবহারে উৎসাহিত করবেন। 
  • শরীরে যদি, দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে এই সমস্যার কারণে যদি আপনার চোখে ঝাপসা দেখা অনুভব হয়, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন একই সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। 
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম নিশ্চিত করুন, চোখের যত্নে ঘুম অত্যন্ত উপকারী। শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান চোখের শুষ্কতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কোন প্রকার চশমা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

উপসংহার। চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার 

আজকের আর্টিকেলটি চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে, বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চোখ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এ জন্য, চোখের সমস্যায় সতর্কতা জরুরী। আপনি যদি হঠাৎ করে চোখে ঝাপসা দেখার লক্ষণ অনুভব করেন, একই সঙ্গে মাথাব্যথা সহ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চোখের সমস্যায়, সবচেয়ে উত্তম প্রতিকার হল, চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

তাছাড়া চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যায়, অনেক রোগীকে, চিকিৎসক চোখে ড্রপের পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে। চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যার জন্য চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স, খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। যাই হোক, এতক্ষণ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                           (খোদা হাফেজ) 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url