ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

ক্রিয়েটিনিন মূলত একটি বর্জ্য পদার্থ, যা শরীরের পেশী থেকে উৎপন্ন হয়। একই সঙ্গে কিডনি এই বর্জ্য পদার্থ রক্ত থেকে ছেঁকে প্রসাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এর প্রধান কাজ শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সাহায্য করা। তবে যদি শরীরে ক্রিয়েটিরিনের মাত্রা বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে এটি সরাসরি কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানে, কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, এজন্য দূষিত পদার্থ রক্তে মিশতে শুরু করে, যার ফলে বেশ কিছু লক্ষণ ও দেখা দিতে পারে। 

ক্রিয়েটিনিন

যদি কারো শরীরে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে তা সমাধানে আনা অত্যন্ত জরুরী। ক্রিয়েটিনের সমস্যা অতিমাত্রায়, আমাদের কিডনি বিকল করে দিতে পারে। চলুন তাহলে জানার চেষ্টা করি, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার 

 শরীরে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার কারণ 

রক্তে উচ্চ ক্রিয়েটেনিন সরাসরি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, তা আর্টিকেলটির প্রথমেই বলা হয়েছে। সাধারণত স্বাস্থ্যকর কিডনি রক্ত থেকে, ক্রিয়েটিনিন ছেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। রক্তে উচ্চ ক্রিয়েটিন তৈরি হওয়া মানেই, কিডনির সমস্যা। চলুন তাহলে, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ আর্টিকেলটির শুরুতেই, রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

  • রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো, কিডনি ঠিকমতো কাজ না করা। কিডনিতে কোন প্রকার সংক্রমণ বা ইনফেকশন সহ, যে কোনো সমস্যার ফলে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে। 
  • অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ও ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এই খাবার গুলোর মধ্যে লাল মাংস, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস, অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার সহ অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ যে কোন খাবার ক্রিয়েটেনিন বাড়াতে পারে। 
  • ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সঠিক রাখার জন্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। কেননা পানি শূন্যতার ফলে রক্তে ক্রিয়েটিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া ডায়রিয়ার সহ শরীরে অতিরিক্ত ঘামের দেখা মিললে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পেতে পারে। 
  • শরীরে দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, ক্রিয়েটেনিন বেড়ে যেতে পারে। আপনার ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ  জরুরী। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এমন সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হন। 
  • আপনি কি অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম করছেন, সে ক্ষেত্রেও আপনার ক্রিয়েটিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কেননা পেশীতে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে, অতিমাত্রায় ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পায়। এবং কিডনি রক্ত থেকে সঠিকভাবে ছেঁকে বের করতে পারে না, এজন্যই দেখা মেলে, এমন স্বাস্থ্য সমস্যার। 
  • কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে ও এমনটা, দেখা দিতে পারে। এই ওষুধগুলোর মধ্যে, ব্যাথা নাশক ওষুধ, নির্দিষ্ট কিছু এন্টিবায়োটিক সহ প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খেলে ও, রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে। শরীরে উচ্চ মাত্রায় জ্বর সহ হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে, রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে যে সকল লক্ষণ অনুভব হতে পারে 

আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ,ও নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে। রক্তে স্বাভাবিক ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, পুরুষদের ক্ষেত্রে ০.৭ থেকে ১.৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার, এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ০.৬ থেকে ১.১ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।

আরো পড়ুনঃ তলপেটে নাভির নিচে ব্যাথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জানুন।


ব্যক্তির বয়স সহ শারীরিক পরিশ্রমের উপর এর মান কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানে কিডনির সমস্যা, এ সময় বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। চলুন, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ, আর্টিকেলটির মূল বিষয় জানার চেস্টা করি।

অতিরিক্ত ক্লান্তি , দুর্বলতা সহ শরীরে ফোলাভাবঃ

ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানেই, কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়া, এটা আপনার কাছে এখন পরিষ্কার। কিডনি যদি রক্ত থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে না দিতে পারে, সেক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতার দেখা মেলা খুবই সাধারণ ব্যাপার।

ক্রিয়েটিনিন

শরীর থেকে এই, ক্রিয়েটিনিন নামক বর্জ্য সম্পূর্ণরূপে নিঃসরণ না হলে , এটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমা হতে পারে, যার ফলে মুখ, চোখ হাত ও পায়ের গোড়ালি ফুলে যেতে পারে। এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা জরুরী, কেননা এমন ফোলাভাব সরাসরি কিডনির সমস্যার, প্রাথমিক লক্ষণ বলে বিবেচিত।

প্রস্রাবে ইনফেকশন দেখা দেওয়াঃ 

রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার সাথে প্রস্রাবে ইনফেকশন দেখা দেওয়ার মধ্যে খুবই সম্পর্ক বিদ্যমান। ক্রিয়েটিনিন আমাদের পেশী থেকে আসা একটি বর্জ্য পদার্থ, এবং এটি কিডনি রক্ত থেকে ছেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।

কিডনি যদি সঠিকভাবে এই কাজ না করে, তাহলে প্রস্রাবের সংক্রমণ যেমন, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, প্রসাবের রং খুব গারো হওয়া, প্রসাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া সহ রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়া কমন ব্যাপার। কেননা এ সময় কিডনির সংক্রমণ, পাইলোনেফ্রাইটিস বা মূত্রনালীর ব্লকেজের কারণে এমনটা হয়। 

শ্বাসকষ্ট এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াঃ 

শ্বাসকষ্ট হওয়া একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে,  রক্তে উচ্চ ক্রিয়েটিনিন খুবই সাধারণ ভাবে প্রভার ফেলে। কিডনি যদি সঠিক মাত্রায় কাজ না করতে পারে, তাহলে শরীর থেকে ক্ষতিকারক বর্জ্য বের হতে পারে না, যার ফলে রক্তের ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায়।

রক্তের এই ক্ষতিকারক বর্জ্য এ সময় ফুসফুস এবং রক্তনালীতে জমা হয়, যার ফলে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। অন্যদিকে আমাদের কিডনি এবং হৃদপিন্ড ওতপ্রত ভাবে একে অপরের সাথে জরিত। এজন্য কিডনির সমস্যা দেখা দিলেই রক্তচাপ বাড়ে, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্টকের ঝুঁকি তৈরি করে। 

মাথা ঘোরা এবং মনোযোগ কমে যাওয়াঃ 

রক্তে উচ্চ ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ দেখা দিলে, সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ক্রিয়েটিনিন নামক ক্ষতিকারক বর্জ্য, শরীর থেকে কিডনি বের করতে পারে না। এটা বিভ্রান্তি ও দুর্বলতার সাধারণ কারণ বলে বিবেচনা করা যায়।

অন্যদিকে কিডনির যদি কোন প্রকার সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় না, এবং হৃদপিন্ডের মাধ্যমে অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত মস্তিষ্কে সঠিকভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে দেখা দেয় মাথা ঘোরা সহ মনোযোগ কমে যাওয়ার মত লক্ষণ। 

চামড়ায় শুষ্কতা সহ চুলকানি হতে পারেঃ 

আমাদের পেশী থেকে তৈরি হওয়া ক্রিয়েটিনিন, বেড়ে গেলে, রক্তে ক্ষতিকারক পদার্থ টক্সিন জমে। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানেই কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়া, এটা তো এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার। যদি কিডনিতে কোন প্রকার সমস্যা দেখা দেয়, এজন্য রক্তে ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের মত খনিজের ভারসম্য নষ্ট হয়। যার ফলে ত্বকের শুষ্কতা ও টানটান অনুভূতি আসে।

বেশিরভাগ মানুষের এমন সমস্যা দেখা দিলে, চুলকানি ভেবে ভুল করে। আমাদের সকলের জানা উচিত কিডনিতে সমস্যা হলে ত্বকের আদ্রতা কমে যায়, যার ফলে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার ফলে আপনার এমন সমস্যা হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। 

ক্রিয়েটিনিন অতিমাত্রায় বাড়া, অর্থাৎ গুরুতর ক্ষেত্রে লক্ষণঃ 

আপনার যদি রক্তে ক্ষতিকারক বর্জ্য অতিমাত্রায় জমা হয়। অর্থাৎ ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে, ক্ষুধামন্দা সহ বমি বমি ভাব, কোন ক্ষেত্রে তীব্র আকারে বমি হতে পারে। কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা তীব্র আকারে হ্রাস পেলে বুক ধরফর করা, অর্থাৎ হৃদপিন্ডের সমস্যা হয়ে শ্বাসকষ্ট তীব্র আকারে বেড়ে যেতে পারে। 

অনেক ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিনিন তীব্র মাত্রায় বেড়ে গেলে, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে পেশীতে টান বা খিচুনির দেখা মিলতে পারে। আপনার শরীরের ওজন দ্রুত কমে যাওয়া এমন সমস্যার তীব্র লক্ষণ বলে বিবেচনা করা যায়। 

ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে করণীয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে প্রতিকারের উপায় 

আজকের আর্টিকেলটি, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার বেশ কিছু লক্ষণ ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। রক্তে ক্ষতিকারক বর্জ্য, অর্থাৎ ক্রিয়েটিন বেড়ে গেলে এটি সরাসরি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা সমাধান করা অত্যন্ত জরুরী। চলুন কথা না বাড়িয়ে, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে প্রতিকারের উপায় কি? তা জানার চেষ্টা করি।

ক্রিয়েটিনিন

আরো পড়ুনঃ কিডনির সমস্যা হলে কি খাওয়া উচিত এবং কি উচিত না।

  • রক্তে উচ্চ ক্রিয়াটিনের মাত্রা কমাতে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরী। আপনার যদি রক্তের ক্রিয়েটেরিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মত লক্ষণ অনুভব হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, কিডনির কার্যকারিতা নির্নয় করার জন্য ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করিয়ে , এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার কোন বিকল্প নাই বললেই চলে।  
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারেন। এজন্য পূর্বে উল্লেখিত যে সকল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়াতে পারে সেগুলো পরিহার করুন। 
  • রক্তে ক্রিটিনিন বেড়ে গেলে, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন। প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য উদ্ভিদ প্রোটিন সমৃদ্ধ ডাল, মটরশুটি ও টোফু খেতে পারেন। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলবেন না, এটি কিডনির বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। কম পটাশিয়ামযুক্ত ও সোডিয়াম যুক্ত খাবার পরিমান মত খাওয়া যেতে পারে। 
  • দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন,এবং মানসিক চাপ কমান,  শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন মত শারীরিক পরিশ্রম করুন তবে মাত্রাতিরক্ত নয়। ধূমপান ও অ্যালকোহলের অভ্যাস থাকলে এ সময় পরিহার অত্যন্ত জরুরী। 
  • উচ্চ ক্রিয়েটিনিনের সমস্যায় নিয়মিত পরীক্ষা করানো জরুরী। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা আপনার জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কোন মতেই ডায়াবেটিসহ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অবহেলা চলবে না। 
  • কোন প্রকার ব্যথানাশক ওষুধ যেমন, ডাইক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলা উত্তম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে আপনি যে কোন ওষুধ খান না কেন, নিজের ইচ্ছায় কোন প্রকার ব্যাথানাশক ওষুধ খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন সহ, বিশেষ ডায়েট দৈনন্দিনের জীবনযাত্রায় যোগ করুন। 

উপসংহার। ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া লক্ষণ ও করণীয় 

আর্টিকেলটিতে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে, বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনার যদি এই ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ উচ্চ মাত্রায় দেখা দেয়, এটা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের, পরামর্শ অনুযায়ী দৈনন্দনের জীবনযাত্রা সহ, বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করা উপযুক্ত এবং সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা। রক্তে উচ্চ ক্রিয়েটিনিন, সরাসরি কিডনি বিকল করে দেয় এবং শরীরের বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি করে, এজন্য এমন সমস্যায় সতর্কতা জরুরী। 

আমাদের দৈনন্দিনের জীবনযাত্রা সহ সুস্বাস্থ্য, নিশ্চিত করতে শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন, কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে না দিতে পারলে, দেখা মেলে এমন সমস্যার। তবে ভুলবেন না, চিকিৎসার পাশাপাশি এই সমস্যা প্রতিকারের জন্য, দৈনন্দিনীর খাদ্য তালিকার দিকে ও সঠিক নজর দেওয়া বেশ উপকারী। 

                          (খোদা হাফেজ)


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url