পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে
আজকের বিষয়,পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে হাঁটাচলা, কাজকর্ম করা, দৌড়ানো সহ যাবতীয় সকল কিছুর জন্য পায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের মধ্যে অনেকেই অনেক সময়, পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া অর্থাৎ পায়ের গোড়ালি থেকে পুরো পায়ের পাতায়, ঝিমঝিম, ব্যথা করা সহ তালুতে তীব্র ব্যথা উপলব্ধি হওয়া। পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের দৈনন্দিনের জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে
- পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া করার কারণ কি? যে সকল কারণে পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া করে
- পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার লক্ষণ সমূহ। পায়ের তলায় জ্বালাপোড়ায় যে সকল উপসর্গ দেখা দেয়
- পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে। পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে করণীয় সম্পর্কে জানুন
- ঠান্ডা বা গরম সেক দেওয়া যেতে পারেঃ
- প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খানঃ
- আরামদায়ক জুতা নির্বাচন সহ পা পরিষ্কার রাখুনঃ
- জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সহ ব্যায়াম করা উপকারীঃ
- পায়ের তলা জ্বালাপোড়ায়, যে সকল খাবার এগিয়ে চলা উপযুক্তঃ
- গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণে এমন ব্যথায় করণীয়। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পায়ের তলা জ্বালাপড়ায় করণীয় কি
- উপসংহার। পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে
পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া করার কারণ কি? যে সকল কারণে পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া করে
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে, আর্টিকেলটির শুরুতেই পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার করার কারণগুলি সম্পর্কে জানি, চলুন। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ ভর বহন করে থাকে পায়ের তালু, যার গুরুত্ব খুবই অপরিসীম। অনেকেই পায়ের তালুতে ব্যথা অনুভব করি, এবং তালু সহ সম্পূর্ণ পায়ের পাতায় ব্যথা করার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। পায়ের তালু সহ পা ব্যথা করার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কারণ ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দায়ী থাকতে পারে।
- পায়ের তলা ব্যথা করার ক্ষেত্রে প্লান্টার ফেসাইটিস সাধারণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। প্লান্টার ফেসাইটিস হল গোড়ালির নিচে থাকা টিস্যুতে প্রদাহ। এমন সমস্যা বিশেষ করে সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর, একই স্থানে একটু সময় বসে থেকে হাটা দিলে বেশ উপলব্ধি হতে পারে।
- অতিরিক্ত ভারী পরিশ্রম যেমন অতিরিক্ত হাটা, দৌড়ানো এবং ব্যায়াম করার ফলে পায়ের তলা ব্যথা হতে পারে। তাছাড়া আপনি যদি অতিরিক্ত ওজন বহন করেন, সেক্ষেত্রে পায়ের তলায় বাটিতে চাপ পড়ে, যা থেকে পায়ের গোড়ালি এবং তলা ব্যথা হতে পারে। আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে পায়ের তালু বা তলায় ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
- শরীরের হাড় এবং পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরে যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে হাড় এবং পেশী দুর্বল হয়ে, পায়ের গোড়ালি, তালু সহ জয়েন্টের প্রদাহ দেখা দিতে পারে।
- শারীরিক সুস্থতায় পানির গুরুত্ব যেমন, ঠিক তেমনি পানি শূন্যতায় ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে পেশী টানটান হয়ে পায়ের তালুতে ব্যথা হতে পারে। রক্তশূন্যতাও কোন অংশে কম নয়, কেননা শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত সঠিক মাত্রায় না পৌঁছালে, ঝিমঝিম, আড়োসতা সহ পায়ের তলায় ব্যথার দেখা মিলতে পারে।
- আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন, পায়ের কাঠামোর সঙ্গে ম্যাচিং জুতা না পড়লে, পায়ের গোড়ালি, তলা, আঙ্গুল অর্থাৎ সম্পূর্ণ পায়ের তলীতে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত টাইট, শক্ত, খুব ফ্ল্যাট, হাই হিল সহ কিছু বুট জুতা এমন সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার পায়ের কাঠামোগত সমস্যাও, কিছু ক্ষেত্রে পায়ের তলায় ব্যথা উপলব্ধি করাতে পারে।
- পায়ে কোন প্রকার ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিলে, তা থেকে পায়ের তলা সহ সম্পূর্ণ পায়ের পেশিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। এমন সংক্রমণ বিশেষ করে, পায়ে চুলকানি, ঘাম থেকে আসে। তাছারা এমন ব্যথায় পূর্বে কোন আঘাতে কথা ভেবে দেখতে পারেন। কেননা পা মচকে যাওয়া, চিড় ধরা সহ হাড়ের আঘাতের ফলে পায়ের তলায় ব্যথার লক্ষণ আসতে পারে।
- ডায়াবেটিসের সমস্যায় খুবই নিয়ম-নীতির জীবনযাপন উপভোগ করতে হয়। শরীরে ডায়াবেটিসের সময় আপনার সামনে, পায়ের তলা সহ সম্পূর্ন পায়ে জ্বালাপোড়া দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে এ সময় রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। যা থেকে পায়ের তলা সহ সম্পূর্ন পায়ে জ্বালাপোড়া আসতে পারে।
- শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে, গেটে বাত অর্থাৎ জয়েন্টের প্রদাহ দেখা দেয়। ইউরিক অ্যাসিড মূলত পিওরিন নামক রাসায়নিক উপাদান ভেঙে তৈরি হয়, এটি একটি বর্জ্য পদার্থ। কিডনি যদি রক্ত থেকে ইউরিক অ্যাসিড সেকে বের করে দিতে ব্যর্থ হয়,সেক্ষেত্রে পায়ের তলা, গোড়ালি সহ-সম্পূর্ন জয়েন্টে জ্বালাপোড়া এবং কিডনিতে পাথরের মত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে থাইরয়েডের সমস্যার করনেও দেখা মিলতে পারে এমন সমস্যা।
পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার লক্ষণ সমূহ। পায়ের তলায় জ্বালাপোড়ায় যে সকল উপসর্গ দেখা দেয়
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে আর্টিকেলটিতে, পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার কিছু কারণ জেনেছেন। তবে এমন সমস্যায় পায়ের তলায় হালকা থেকে তীব্র ব্যথা লক্ষণ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে এমন ব্যাথা রাতে বেশি উপলব্ধি হতে পারে। সুই ফোটানোর মতন অনুভূতি সহ ঝিমঝিম ভাবের দেখা মিলতে পারে। পায়ের তলা সহ সম্পূর্ণ পায়ে গরম অনুভূতি সহ ভারীভাব ও লাল বর্ন আসাটাও স্বাভাবিক। কখনো কখনো পা অবস হয়ে থাকার মত অনুভূতি পেতে পারেন।
আপনার যদি ডায়াবেটিস বা আর্থ্রাইটিস সমস্যার ফলে পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া উপলব্ধি হয়। সেক্ষেত্রে পায়ের তলা সহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া, আড়সতা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতার দেখা মেলা বেশ লক্ষনের ইঙ্গিত দেয়। এমন সমস্যায় বিশ্রামের সময় জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি, পা ভারী লাগার মত তীব্র লক্ষণ দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার।
আরো পড়ুনঃ কোমড়ের হাড় ক্ষয় হলে কি করতে হবে? করনীয় কি।
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে। পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে করণীয় সম্পর্কে জানুন
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করার বেশ কিছু কারন ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পা আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায়, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পায়ের তলা জ্বালাপোড়া সহ পায়ের যে কোন সমস্যা হলে, এর সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। তাছাড়া আপনার পায়ে এমন ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে কোমর, হাটু এবং পিঠের উপরে এর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। চলুন তাহলে আর্টিকেলটির মূল বিষয়, পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে তা জানা যাক।
ঠান্ডা বা গরম সেক দেওয়া যেতে পারেঃ
আপনার পায়ের তলায় প্রাথমিক অবস্থায় জ্বালাপোড়া উপলব্ধি হলে, ঠান্ডা বা গরম সেক ভালো ফলাফল মেলাতে পারে। এমন উপকার পেতে আপনি ঠান্ডা পানিতে কিছু সময়ের জন্য পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। আপনার এমন জ্বালাপোড়া নতুন আঘাতে বা মচকে যাওয়ায় হলে এটি রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফোলাভাব এবং ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে বেশ কার্যকর।
অন্যদিকে গরম সেকের উপকারিতা পাওয়ার জন্য একটি পাত্রে কিছু উষ্ণ গরম পানি নিয়ে তার ভিতরে সামান্য লবণ মিশিয়ে কিছু সময়ের জন্য পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। চাইলে গরম সেকও জ্বালাপোড়ার স্থানে দেওয়া যেতে পারে। এমন উপকরণে, পেশীর ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমিয়ে আরাম মেলাতে পারে। কেননা গরম সেক রক্ত নালিকে প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যা নিরাময়ে কার্যকর।
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খানঃ
পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব না বললেই নয়। বিশেষ করে, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম সহ আন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। এমন পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার আমাদের হাড়, পেশী এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতে বেশ জরুরী। তাছাড়া পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া এবং প্রদাহ কমাতে ওমেগা থ্রি ফাটি এসিড ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সকল পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে, সবুজ শাকসবজি, বাদাম, বীজ, মাংস, টমেটো, কমলা, ব্রকলি, কিইউ, স্ট্রবেরির মত খাবার খেতে পারেন। তাছাড়া আপনি চাইলে দুধ, দই, পনির, ডিম খেলেও এমন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন। অন্যদিকে যদি ডাল, ছোলা, সয়াবিনি খেতে পারেন সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের চাহিদা মেটাতে, সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, ফ্লাক্স সিড সহ আখরোট খাওয়া উপযুক্ত। শরীরে প্রয়োজনীয় পানি শূন্যতা পূরণের জন্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলবেন না।
আরামদায়ক জুতা নির্বাচন সহ পা পরিষ্কার রাখুনঃ
ব্যবহারিক জুতাও পায়ের তলা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য পায়ে ব্যবহারের সঠিক জুতা নির্বাচন সহ পা পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য অবশ্যই আপনার পায়ের গঠন অনুযায়ী আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। দোকান থেকে নতুন জুতা কিনলে অবশ্যই বিকেলে কিনুন, বিশেষ করে বিকালে পা একটু ফোলা থাকে। অতিরিক্ত টাইট কিংবা ঢিলা জুতা কিনবেন না। খেলাধুলা, হাটাচলা এবং দৌড়ানোর অভ্যাস থাকলে উপযুক্ত জুতা ব্যবহার জরুরী।
জুতা সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন, একই সঙ্গে মুজাও। কেননা এমন সময় জুতা এবং মোজাতে আদ্রতা জমে গেলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিয়ে জ্বালাপোড়া বেড়ে যেতে পারে। অবশ্যই সাবান দিয়ে সম্পন্ন পা এবং আঙ্গুলগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন। পা ধোয়ার পরে অবশ্যই শুকাতে ভুলবেন না। আপনার পায়ের ত্বক শুষ্ক থাকলে মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই, কয়েক জোড়া জুতা এবং মোজা কিনুন, রোজ জুতা বদলান বেশ উপকার মিলতে পারে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সহ ব্যায়াম করা উপকারীঃ
পায়ের তলা জ্বালাপোড়ায় জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয়, আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করুন। দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম, দৌড়ানো এবং হাঁটাহাঁটি না করে মাঝেমধ্যে একটু বিশ্রাম করে নেবেন। ধূমপান সহ তামাকজাত দ্রব্য সেবনের অভ্যাস থাকলে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরী। ধূমপানের অভ্যাসে এমন সময় পায়ের তলার জ্বালাপোড়া সহ প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পায়ের পেশীকে শক্তিশালী করার জন্য টো কার্ল, হালকা পায়ের স্ট্রেচিং ব্যায়াম করাও উপকারী হতে পারে। পায়ের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে, হালকা শারীরিক ব্যায়াম এবং সাইকেলিং করতে পারেন, যদি সম্ভব হয়। আপনি চাইলে পায়ের তলায় উষ্ণ গরম তেলের মালিশ করতে পারেন, এটি জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমিয়ে আরাম মিলাতে পারে। মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন, খুবই জরুরী।
আরো পড়ুনঃ অতিরিক্ত কাশিতে কি করা উচিত জানুন।
পায়ের তলা জ্বালাপোড়ায়, যে সকল খাবার এগিয়ে চলা উপযুক্তঃ
পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার সমস্যায় উপযুক্ত খাবার যেমন জরুরী, ঠিক তেমনি কিছু খাবার এড়িয়ে চলা আরোগ্য পেতে উপযুক্ত। এমন সমস্যায় আপনি অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন খুবই জরুরী। অতিরিক্ত ঝাল, তেল এবং মসলাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অতিরিক্ত চা এবং কফি না খাওয়া এ সময় বেশ উপকারী। বেশি খেতে ইচ্ছে করলে দৈনিক সর্বোচ্চ এক কাপ খেতে পারেন।
কেননা এগুলো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত লবণ সমৃদ্ধ খাবার এ সময় না খাওয়া খুব জরুরী। প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার, প্যাকেট জুস, প্রসেসড খারার খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।
গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণে এমন ব্যথায় করণীয়। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পায়ের তলা জ্বালাপড়ায় করণীয় কি
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে, এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও ঘরোয়া ভাবে বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আপনার যদি, পায়ের তলা জ্বালাপোড়ার সমস্যা ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস সহ থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য হীনতার কারণে হয় সেক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ণয় করে, যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া জরুরী।
এমন গুরুতর লক্ষণে, অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও সঠিক ব্যবস্থা নিন। ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আপনার পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া করার সমস্যা গুরুতর মনে হলে, অবহেলা না করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসা সেবা নিতে ভুলবেন না।
উপসংহার। পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে
পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করলে কি করতে হবে, কি কারনে এমন জ্বালাপোড়া হয় একই সঙ্গে এমন সমস্যার লক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আপনার পায়ের তলায় এমন জ্বালাপোড়ার প্রাথমিক ভাবে ফলাফল মেলাতে না পারলে। শরীরে অতিরিক্ত ঘাম সহ দুর্বলতা এবং ক্লান্তির দেখা মিললে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার উপযুক্ত। এছাড়াও আপনার পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া, ডাইবেটিস, ভিটামিনের ঘাটতি, স্নায়ুর সমস্যা, থাইরয়েড ও আর্থ্রাইটিস হলে। প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরী।
কেননা এমন লক্ষণে একজন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। এজন্য চিকিৎসক আপনার অবস্থার সঠিক নির্ণয় করে, প্রয়োজনীয় ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, নির্দিষ্ট ওষুধ সহ সঠিক ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবেন। কোনভাবে এমন সমস্যাকে ছোট মনে করবেন না সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url