পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবার কোনগুলো
পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয় ?উপযুক্ত খাবার কোনগুলো এই আর্টিকেলটির মূল বিষয় এটি। পিরিয়ড সাধারণত নারীদের একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। নারীদের জন্য পিরিয়ড প্রজনন স্বাস্থ্যের খুব বড় একটি অংশ, এটি মূলত ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়। আমাদের সমাজে পিরিয়ড বা মাসিক নিয়ে বেশ গুজব রয়েছে, এ সময় কি খাওয়া উচিত এবং কি খাওয়া উচিত না এ ব্যাপারে। অনেকেই ধারণা করেন, পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব চলাকালীন সময় নারীদের টক জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে এ সময় দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় পাশাপাশি টক খাওয়াযাবে না, এমন কোন মানে নেই। অন্যদিকে চিকিৎসকেরা এও বলেন, মাসিকের সময় কিছু সচেতনতা মেনে চলা উচিত। কথা না বাড়িয়ে চলুন, পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবারগুলি সহ সচেতনতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্রঃ পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবার কোনগুলো
- পিরিয়ড (মাসিক বা ঋতুস্রাব)এ সময় নারীদের শারীরিক অবস্থা যেমন থাকে। নারীদের পিরিয়ডের সময় যে সকল উপসর্গ দেখা দেয়
- পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়। পিরিয়ড বা মাসিকের সময় টক খাওয়া যাবে কি
- পিরিয়ডে বা মাসিকে উপযুক্ত খাবার কোনগুলো। পিরিয়ডে যে সকল খাবার স্বস্তি মেলাতে পারে
- পিরিয়ডের সমস্যায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে উপযুক্তঃ
- প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুনঃ
- লেবু খেলে উপকার পাওয়া যায়ঃ
- কলা খাওয়া যেতে পারেঃ
- পাকা পেঁপে খেলে উপকার মিলতে পারেঃ
- ডার্ক চকলেট পিরিয়ডের সমস্যায় উপকারিঃ
- নারীদের পিরিয়ডে সময় যে সকল সতর্কতা জরুরী। পিরিয়ড বা মাসিকে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
- উপসংহার। পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবার কোনগুলো
পিরিয়ড (মাসিক বা ঋতুস্রাব)এ সময় নারীদের শারীরিক অবস্থা যেমন থাকে। নারীদের পিরিয়ডের সময় যে সকল উপসর্গ দেখা দেয়
পিরিয়ড নারীদের জন্য, প্রাকৃতিক শরীর বৃত্তিও প্রক্রিয়া। এমন প্রক্রিয়া বয়সন্ধিকাল থেকে শুরু হয়। এমন সমস্যা একজন নারীর প্রতিমাসে একবার দেখা দেয়, যা ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঋতুস্রাবের সময় নারীদের শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে নারীদেহে এমন হরমোন পরিবর্তনের ফলে, কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ এসে হাজির হয়। চলুন শুরুতেই নারীদের পিরয়ডে টক খেলে কি হয়, আর্টিকেলটিতে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে শারীরিক অবস্থা যেমন থাকে তা জেনে নিন।
- পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবে নারীদের জরায়ু সংকুচিত হয়, এ সময় বিশেষ করে জরায়ুর আস্তরণ পুরু হয়ে থাকে। এমন সমস্যায় একটা নারীর শরীর থেকে রক্তপাত হতে থাকে, এমন রক্তপাত বিশেষ করে ২ থেকে ৩ দিন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমন প্রক্রিয়ায় রক্তপাত ঘটানোর কারণে পেটের নিচের দিক সহ পিঠে বা পেশীতে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।
- নারীদের মাসিকের সময় বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনে পরিবর্তন আসে। এর ফলে শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা , মাথা ব্যথা এবং বমি বমি ভাবের দেখা মেলা সাধারণ ব্যাপার। অন্যদিকে সাধারণভাবে নারীদের স্থনে ব্যথা সহ ফোলাভাব উপলব্ধি হতে পারে, একই সঙ্গে হাত-পা শরীরে হালকা ফোলাভাব আসতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাবের কবলে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে এ সময়।
- একজন নারী যখন, পিরিয়ড বা মাসিকের কবলে পড়ে, তখন বেশ অস্বস্তি সামনে এসে দাঁড়ায়। পিরিয়ডের সময় নারীদের, পেটে গ্যাসটি সহ পেট ফাঁপার সমস্যা লক্ষ্য করতে পারেন। ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও, ঋতুস্রাবে অনেকের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হজমে সমস্যা হওয়ার ফলে, এমনটা হয় একই সঙ্গে আপনার ক্ষুধা কম বা বেশি লাগার মত লক্ষণের দেখাও মেলা অসম্ভব কিছু নয়।
- এমন সমস্যায় একজন নারীর মানসিক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মেজাজ খিটখিটে ভাব, বিরক্তি, উদ্বেগ এবং বিষন্নতা কাজ করতে পারে। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নারীদের স্বাভাবিক ভাবে কোন কিছুতে মনোযোগী হতে অসুবিধা হতে পারে। কেননা মাসির বা ঋতুস্রাবে নারীদের অনিদ্রা বা ঘুম ঘুম ভাবের অনুভূতি আসে,যা আমনোযোগী করে তুলতে পারে।
- মাসিক বা পিরিয়ডের সমস্যা একজন নারীকে সাময়িক সময়ের জন্য ভালোই ভোগান্তিতে ফেলে। কেননা এমন সমস্যা একজন নারীর ত্বক এবং চুলের উপরে প্রভাব বিস্তার করে। অনেক নারীর মধ্যে এমন সমস্যার ফলে ত্বকে ব্রন কিংবা র্যাশের দেখা মিলতে পারে। মাথার চুলের রুক্ষতা ও তেলতেলে হয়ে যাওয়ার প্রবনতায় ফেলতে পারে পিরিয়ডের এমন সমস্যা।
পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়। পিরিয়ড বা মাসিকের সময় টক খাওয়া যাবে কি
আজকের এই আর্টিকেলটির মূল বিষয়, পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়। চিকিৎসকদের মতে মাসিক বা পিরিয়ডের সময় টক খাওয়া যাবে না এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। পিরিয়ডের সময় বিশেষ করে হরমোনের পরিবর্তন আসে, এ সময় অনেকের অনেক কিছু খেতে মন চাইতে পারে। কেউ আবার খুব শখ করে তেঁতুল বা টক জাতীয় কিছু খেতে পছন্দ করেন। অনেকে তো আবার এক বাটি টক আচার নিয়ে বসে পড়েন বিছানাতেই। মাসিকের সময় টক খাওয়া নিয়ে অনেকেই অনেক ধরনের মতবাদ দেয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে পিরিয়ডের সময় টক খাওয়া যাবে না, এর কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই।
এ সময় আপনি টক খেতে পারবেন তবে, অতিরিক্ত মসলা এবং লবনযুক্ত টক খাওয়া উচিত নয়। ঋতুস্রাবে টক খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ এবং মসলাযুক্ত না হওয়াটা উপযুক্ত। কেননা অতিরিক্ত টক, লবণ ও মসলাযুক্ত যে কোন খাবার, পিরিয়ডের সময় অস্বস্তি এবং পেটে ব্যাথা দুটোই বাড়িয়ে তুলতে পারে। পিরিয়ডে আপনি চাইলে টক দইও খেতে পারেন। টক দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ যা হজম শক্তি উন্নত করে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া আপনার পেটে যদি গ্যাসটিক ও এসিডিটি থাকে, তাহলে টক খেলে সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এজন্য আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে, আপনি খেতে পারলে খাবেন অসুবিধে নেই ,শুধুমাত্র লবন এবং মসলা যুক্ত না হলেই ভাল।
পিরিয়ডে বা মাসিকে উপযুক্ত খাবার কোনগুলো। পিরিয়ডে যে সকল খাবার স্বস্তি মেলাতে পারে
আর্টিকেলটির মূল বিষয়, পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়। এই আর্টিকেলটিতে পিরিয়ডে যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় তা উল্লেখ করা হয়েছে। পিরিয়ড বা মাসিকের সময় নারীদের পেটে ব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতার সঙ্গে রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দেয়। নারীদের এমন সমস্যায় স্বস্তি মেলাতে পারে দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার কিছু পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। চলুন তাহলে পিরিয়ড বা মাসিকে উপযুক্ত খাবার কোনগুলো, এমন সমস্যা যে খাবারগুলো স্বস্তি মেলাতে পারে সেগুলো জানা যাক।
আরো পড়ুনঃ কি খেলে পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়? ডায়রিয়ায় উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে জানুন।
পিরিয়ডের সমস্যায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে উপযুক্তঃ
পিরিয়ডের সমস্যায় বিশেষ করে শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যায়, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আপনার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হলেই আয়রনের ঘাটতি দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়, যা পূরণ করা জরুরি। এমন সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেওয়ার ফলে ক্লান্তি এবং দুর্বলতার দেখা মেলে। মাসিক বা ঋতুস্রাবের সময় অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের জন্য, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে, আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজনীয়।
এ সময় আয়রনের চাহিদা পূরণে আপনি সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, ডাল, ছোলা, মটর, বাদাম ও বীজ খেতে পারেন। তাছাড়া চর্বি ছাড়া লাল মাংস, মাছ ও মুরগিতে বেশ আয়রন পাওয়া সম্ভব। আয়রনের চাহিদা পূরণে আপনি চাইলে খেজুর, কালোজাম এবং তরমুজ খেতে পারেন। পিরিয়ডের সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার ও খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। কেননা শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন সি পুষ্টি উপাদান।
প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুনঃ
একজন নারীর শরীর থেকে পিরিয়ডের সময়, অত্যাধিক পানি বেরিয়ে যায়, যা পানি শূন্যতার কারন হয় দাঁড়াতে পারে। এজন্য পিরিয়ডের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান সহ তরল খাবার পান করা খুবই উপকারী। কেননা এমন সমস্যায় শরীরকে হাইড্রেট রাখে, এর ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে একই সঙ্গে পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং তরল পান করলে মাথা ব্যাথা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা সহ মাসিকের প্রবাহ হালকা এবং সংক্ষিপ্ত করে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
পিরিয়ড বা মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় পানি শূন্যতা পূরণে দৈনিক কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করুন। আপনি চাইলে গ্রিন টি, আদা চা, পুদিনা চা সহ যেকোনো ভেষজ চা খেতে পারেন। পানি শূন্যতা পূরণে এগুলো বেশ কার্যকর। ডাবের পানিও পিরিয়ডের সময় অত্যন্ত উপকারী কেননা ডাবের পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। পিরিয়ডের সময় পারিসূন্যতা পূরণের দিকে নজর দিন, যা আপনার জন্য খুবই জরুরী।
লেবু খেলে উপকার পাওয়া যায়ঃ
কাগজি বা পাতি লেবু ভিটামিন সি এর বড় একটি উৎস। ভিটামিন সি আয়রন শোষনের জন্য কার্যকরী পুষ্টি উপাদান। পিরিয়ড বা মাসিকের সময় লেবু খেলে এটি রক্তস্বল্পতা, মাসিকের ব্যথা এবং ক্লান্তি দূর করতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার পেট ফাঁপা সহ গ্যাস্টিকের সমস্যা থাকলে, এ সময় লেবু ভালো উপকার মেলাতে পারে। অন্যদিকে লেবু টক জাতীয় খাবার একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানী পাওয়া যায় যা পানি শূন্যতা রোধে কার্যকর।
লেবুর এমন পুষ্টিগুণ পেতে একই সঙ্গে পিরিয়ডের ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে, আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে এক টুকরো লেবু চিপে খেতে পারেন। আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু খেলে, এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভাল কাজ করতে পারে। অন্যদিকে আপনি চাইলে লেবু পানি খেতে পারেন। এজন্য এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে পিরিয়ডে উপকারিতা মেলাতে পারবেন।
কলা খাওয়া যেতে পারেঃ
নারীদের পিরিয়ডের সময় খাদ্য তালিকায় কলা রাখলে উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। কেননা কলাতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম সহ ভিটামিন পাওয়া যায়। কলায় থাকা এমন পুষ্টি উপাদান পিরিয়ডের সময়, পেশী শিথিল করে, যার ফলে মাসিকের ব্যথা এবং অস্বস্তি থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া মাসিকের সময় নারীদের মেজাজ খিটখেটে এবং খারাপ থাকে। এ সময় কলা খেলে এতে থাকা ভিটামিন শরীরে ভালো লাগার হরমোন উৎপাদন করে যা মেজাজ ভালো রাখে সঙ্গে বিষন্নতা কামায়।
আপনি পিরিয়ডের সময়, শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে পরিমাণ মত কলা খেতে পারেন। যা আপনাকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে দারুন কাজ করতে পারে। এ সময় আপনি সকালে নাস্তার সঙ্গে, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে কলা খেতে পারে। পিরিয়ডে ভালো ফলাফল পেতে দৈনিক ২টা কলা যথেষ্ট। অতিরিক্ত কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, বেশি খেলে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পাকা পেঁপে খেলে উপকার মিলতে পারেঃ
আমাদের সকলের পাকস্থলীর হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও বদহজমের সমস্যা সমাধানে পাকা পেঁপে খুবই কার্যকর। নারীদের পিরিয়ডের সময় পাকা পেপে খাওয়া বেশ উপকারী হতে পারে। পাকা পেপেতে ভিটামিন সি রয়েছে যা আয়রন শোষণে সাহায্য করে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে কার্যকর। অন্যদিকে পাকা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে রক্ত এবং টিস্যু বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। যার ফলে পিরিয়ডের ব্যথা, অস্বস্তি ও ক্রাম্প কমাতে পারে।
দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার কোন খাবার অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, পেঁপের ক্ষেত্রও একই। কাঁচা পেঁপে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়াও আপনার যদি অনিয়মিত মাসিক সহ তীব্র ব্যথার দেখা মেলে এজন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উপযুক্ত। পিরিয়ডের সময় পাকা পেঁপে দিনের বেলায় খাবেন, এতে কার্যকারিতা ভালো পাওয়া যায়।
ডার্ক চকলেট পিরিয়ডের সমস্যায় উপকারিঃ
নারীদের মধ্যে অনেকেই চকলেট খুবই পছন্দ করে। আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন, পিরিয়ডের সমস্যায় ডার্ক চকলেট বেশ উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। ডাক চকলেট ম্যাগনেসিয়াম, ফ্লাভনয়েড এবং আয়রনের ভালো উৎস। এছাড়া পিরিয়ডের সময় এন্ডোরফিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। যা এমন সমস্যায় প্রাকৃতিক ব্যথানাশক সহ মেজাজ ভালো রাখতে বেশ কার্যকর ডার্ক চকলেট।
এক কথায় পিরিয়ডের সময় ডার্ক চকলেট খাওয়ার ফলে এতে থাকা পুষ্টি উপাদান পেশী শিথিল করে জরায়ুর সংকোচন কমিয়ে ব্যথা কমাতে পারে। একই সঙ্গে ডার্ক চকলেটে থাকা আয়রন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া রক্তের ঘাটতি পূরণেও সাহায্য করে। চকলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই অতিরিক্ত চিনি যুক্ত চকলেট, মিল্ক চকলেট ইত্যাদি খাওয়া উচিত নয়। এজন্য উচ্চ কোকোয়াযুক্ত ডার্ক চকলেট বেছে নিন, এতে বেশ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।
নারীদের পিরিয়ডে সময় যে সকল সতর্কতা জরুরী। পিরিয়ড বা মাসিকে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়? উপযুক্ত খাবার কোনগুলো, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি পিরিয়ডের সময় টক খাওয়া যাবে কিনা, একই সঙ্গে উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে বেশ ধারণা হয়তো পেয়েছেন। নারীদের পিরিয়ডের সময় উপকারী খাবারগুলো খাওয়ার পাশাপাশি, কিছু খাবার ব্যথা এবং অস্বস্তি কমাতে এড়িয়ে চলা উপযুক্ত। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে, পিরিয়ডের সময় নারীদের সতর্কতা সহ যে সকল খাবার এগিয়ে চলো উপযুক্ত তা জেনে নেওয়া যাক।
আরো পড়ুনঃ কি খেলে পাইলস ভাল হয়, উপযুক্ত খাবার গুলা।
- পিরিয়ডের সময় এটা খাওয়া যাবে না, ওটা খাওয়া যাবেনা, এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের মতে তেমন কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে, অতিরিক্ত ঝাল, তেল এবং মশাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরী। এ ধরনের খাবার পেট ব্যথা, ডায়রিয়া সহ বমি ভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে। লাল মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা রয়েছে। অবশ্যই অল্প পরিমাণে খাবেন অতিরিক্ত খেলে জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- অতিরিক্ত চিনি সহ লবণযুক্ত খাবারও কোন অংশে পিরিয়ডের অস্বস্তি বাড়াতে কম নয়। আপনি যদি অতিরিক্ত চিনি যুক্ত মিষ্টি খাবার খান, সেক্ষেত্রে এ সময় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, মেজাজ খিটখিটে করে তুলতে পারে। কেননা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারে রক্তের শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত লবণ সহ লবণাক্ত খাবার যেমন প্রক্রিয়াজাত চিপস, আচার এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।
- প্রসেস এবং প্যাকেটজাত খাবার পিরিয়ড বা মাসিকের সময়, পেটে গ্যাস এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবারও ঋতুস্রাবে এড়িয়ে চলুন কেননা জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে ব্যথার তীব্রতা উপলব্ধি করাতে পারে। চা, কফি এবং এনার্জি ড্রিংক অর্থাৎ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার হৃদস্পন্দন কমিয়ে ক্লান্তি সহ মাথা ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অপনি অ্যালকোহল সেবনে আসক্ত যদি থাকেন সেক্ষেত্রে পরিহার অত্যন্ত জরুরী। নারীদের মধ্যে এমন অভ্যাস যদিও কম তবুও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী।
- এমন সমস্যায় আপনি নিজেকে পর্যাপ্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। এ সময় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করাও বেশ উপযুক্ত। স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করলে অবশ্যই ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর পরিবর্তন করা উচিত। কোনপ্রকার সুগন্ধী প্যাড ব্যবহার করবেন না জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারে। সর্বোপরি আপনার সতর্কতাই কেবলমাত্র আপনাকে সুস্থতা উপভোগ করাতে পারে।
উপসংহার। পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবার কোনগুলো
পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়, উপযুক্ত খাবার কোনগুলো সহ আর্টিকেলটিতে পিরিয়ড বা মাসিকের সময় যে খাবারগুলো এগিয়ে চলা জরুরী এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার স্বাভাবিক খাবার গুলো আপনি পিরিয়ডের সময় খেতে পারেন, এতে কোন বাধা নিষেধ নেই। যে খাবার গুলো পিরিয়ডে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত সহ স্বস্থি মেলাতে পারে সেগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে আপনার সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরী।
বিশেষ করে আপনার যদি অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত সহ, শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ থাকে, এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা সহ, প্রয়োজন হলে ব্যাথা নাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন। নিজে নিজে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url