কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো
কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো আমাদের জানা প্রয়োজন। চোখ আমাদের শরীরের ভ্যিজুয়াল সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। চোখ জীবন্ত ক্যামেরা মত কাজ করে, এর ফলে আমরা দেখতে পাই। কোন একটি বস্তুকে বুঝতে কর্নিয়া ও লেন্স ফোকাস করে রেটিনার উপর ফেলে। রেটিনা ফোকাস কৃত বস্তু বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে স্নায়ু বা মস্তিষ্কে পাঠায়, যা ছবি হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়। দৈনন্দিনের হাঁটাচলা, কাজকর্ম সহ সকল কিছুতেই চোখ খুবই প্রয়োজন।
তবে আপনি কি এই প্রয়োজনীয় চোখ দুটোর, বারোটা বাজাচ্ছেন। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। চলুন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে, চোখের ক্ষতি করে কোন খাবারগুলো, এবং উপকারী কোনগুলো তা জানার চেষ্টা করি।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো
- কোন খাবার চোখে জন্য ক্ষতিকর। কি কি খেলে চোখের ক্ষতি হয়
- অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবারঃ
- তৈলাক্ত ভাজাপোড়া খাবারঃ
- পাস্তা ও পাউরুটিঃ
- প্রক্রিয়াজাত মাংসঃ
- অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবারঃ
- মদ্যপান খুবই ক্ষতিকরঃ
- চোখের জন্য উপকারী খাবার। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কি খাওয়া উচিত
- ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণঃ
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও গুরুত্বপূর্ণঃ
- ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রী ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবারঃ
- উপসংহার। কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো
কোন খাবার চোখে জন্য ক্ষতিকর। কি কি খেলে চোখের ক্ষতি হয়
আর্টিকেলটির মূল বিষয় কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো। চোখ ছাড়া দুনিয়া অন্ধকার, বেঁচে থাকা চলাফেরা যে কোন কিছুর জন্যই চোখ অত্যন্ত প্রয়োজন। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো, চোখের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। এই খাবার গুলোর মধ্যে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার ইত্যাদি চোখের ক্ষতি করতে পারে। কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, শুরুতেই এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি চলুন।
অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবারঃ
অতিরিক্ত চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার আমরা অনেকেই খুব পছন্দ করি। অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি চোখের ক্ষতি তো করেই একই সঙ্গে শরীরেরও বেশ ক্ষতি করে। আপনি যদি অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খান সেক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি থাকে, চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় সঙ্গে অকালে ঝাপসা দৃষ্টির মোকাবেলা করতে হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি অর্থাৎ রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে এটি শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যার ফলে শুষ্ক চোখ সহ জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি হতে পারে। চিনি বা মিষ্টি আমরা অনেকে পছন্দ করি, তবে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। আপনি চিনি বা মিষ্টি সেভাবেই খান শুধু খেয়াল রাখবেন, পরিমাণের বাইরে যেন না হয়।
তৈলাক্ত ভাজাপোড়া খাবারঃ
তৈলাক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। বিশেষ করে সমুচা, সিঙ্গারা, বার্গার, ফ্রেন্ডস ফ্রাই ইত্যাদি খাবার অনেকের কাছেই প্রিয়। তবে আপনি কি জানেন এমন তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার দৈনিক খাওয়ার ফলে এগুলো চোখের দৃশ্যক্তির ক্ষতি করার জন্য বেশ কার্যকর। উচ্চ তাপমাত্রা ভাজা এমন খাবার শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি করে যার ফলে চোখের কোষের ক্ষতি হয়। চোখের কোষের ক্ষতি হওয়ার ফলে অকালে ছানি পড়ার ঝুকিও অনেকাংশে বেড়ে যেতে পারে।
তাছাড়াও অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাজা খাবারে যে ফ্যাট রয়েছে তা রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এর ফলে চোখের স্নায়ুর দুর্বল হয়ে যায়, ডায়াবেটিস সহ চোখের নানান জটিলতার সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন আপনি নিয়মিত, এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীরের প্রদাহ বাড়ায়, যা থেকে চোখের সুস্কতা আসে। একই সঙ্গে এমন খাবার পেটে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
পাস্তা ও পাউরুটিঃ
পাস্তা রেস্টুরেন্টে যে নামটা প্রথম শাড়িতেই থাকে। একই সঙ্গে এক বেলা ভাত না খেয়ে পাউরুটি দিয়ে, টিফিন সেরে নেন অনেকে। পাস্তা এবং পাউরুটি খেলে এগুলো চোখের জন্য পরোক্ষভাবে বেশ ক্ষতিকর। কেননা পাস্তা এবং পাউরুটি রক্তে সর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে এর ফলে চোখে ঝাপসা দেখা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন খাবার শরীরের উপর বাড়তি প্রদাহের সৃষ্টি করে যা থেকে চোখের উপরে চাপের সৃষ্টি হয়।
পাস্তা এবং পাউরুটি মূলত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট চোখের স্নায়ু ও রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীতে চাপ সৃষ্টি করে যার ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এমন খাবার মজাদার তবে এতে পুষ্টিগুণ খুবই কম থাকে। গবেষণায় প্রমাণিত পরিশোধিত কার্বোহাইডেট খাবার বয়স জনিত দৃষ্টি শক্তির সমস্যা সৃষ্টিতে বেশ কার্যকর। চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধান সহ শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে, এমন মুখরোচক খাবার এড়িয়ে চলা সবচেয়ে উপযুক্ত।
প্রক্রিয়াজাত মাংসঃ
প্রক্রিয়াজাত মাংস, আমরা অনেকেই পছন্দ করি কেননা খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। তবে এই সুস্বাদু প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ সোডিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে চোখের রক্ত নালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাছাড়া প্রক্রিয়াজত মাংসে স্যাকুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়াম রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। শরীরে এমন সমস্যা আসলে চোখের সূক্ষ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
তাছাড়া নিয়মিত এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে এটি বয়স জনিত দৃষ্টি শক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাছাড়া এমন খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকাংশে কমে যায় এবং ফ্যাটের কারণে শারীরিক ক্লান্তি আসে। এছাড়াও নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার অভ্যাসে্র ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস টাইপ ২ হওয়ার ঝুকি থাকে। এমন সমস্যা চোখের নানান ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করার জন্য বেশ উপযুক্ত।
আরো পড়ুনঃ রাতকানা রোগ কেন হয়? রাতকানা রোগের প্রতিকার জানুন।
অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবারঃ
লবণ মানে বাড়তি একটা স্বাদ, আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, চোখের সমস্যা সহ শরীরের নানান জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে লবণ সোডিয়াম সম্পৃক্ত যা শরীরকে পানি শূন্য করে তুলতে পারে এর ফলে চোখের শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে রক্তচাপ বাড়াতেও বেশ কার্যকর যা থেকে দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে পারে। তাছাড়া শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে পারে যা থেকে চোখ ফুলে যাওয়া প্রবনতায় পড়তে হতে পারে। সর্বোপরি অতিরিক্ত লবণ, চোখের ছানি পড়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখের ফোলা ভাব সৃষ্টি করার জন্য খুবই কার্যকর। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। খাবার রান্নার সময়ও লবণের পরিমাণ কমান, যা আপনাকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা প্রদান করবে।
মদ্যপান খুবই ক্ষতিকরঃ
বর্তমানে অনেকেই মদ্যপানের মতো নেশায় খুবই আসক্ত থাকেন। নিয়মিত মদ্যপানে আপনি আপনার শরীরের নানান ক্ষতি করছেন। ঠিক তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত মধ্যেপান চোখের বেশ ক্ষতি করার জন্য উপযুক্ত। নিয়মিত মদ্যপানের ফলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব সহ অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। চোখের স্নায়ুকেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সঙ্গে চোখের পেশী দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মদ্যপান খুবই খারাপ একটি অভ্যাস যা থেকে শরীরে নানান জটিলতা দেখা দেয়।
মদ্যপান শারীরিক সুস্থতায় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরিতেও বেশ কার্যকর। মদ্যপানের কারণে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই এর শোষণ কমে যায় যা চোখের জন্য খুবই উপযুক্ত। আর তাছাড়া মদ্যপান বা অ্যালকোহল রক্তনালীকে প্রসারিত করে ফলে চোখে লালচে ভাব আসে এবং ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অ্যালকোহল বা মধ্যপনকে না বলুন।
চোখের জন্য উপকারী খাবার। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কি খাওয়া উচিত
কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর আর্টিকেলটিতে এ ব্যাপারে বেশ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উপরোক্ত খাবার গুলো ছাড়াও, অতিরিক্ত মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার, চোখের অযত্ন এবং সূর্যের অতিবেগুনি রাশিতেও চোখের ক্ষতি করতে পারে। চোখের সমস্যা সমাধানে দৈনন্দীনের খাদ্য তালিকায় কিছু পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার যোগ করলেই, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। চলুন এখন তাহলে চোখের জন্য উপকারী খাবার কোনগুলো সে সম্পর্কে জানা যাক।
ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণঃ
যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কি খাওয়া উচিত। তাহলে কি উত্তর দিবেন? প্রথমেই উত্তরে বলা যায় ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার চোখের যত্নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা সকলে জানি ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। ভিটামিন এ চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখে, শুষ্ক চোখ প্রতিরোধ করে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও ভিটামিন এ চোখে সংক্রমণ বোধ করে রাতকানা রোগ প্রতিরোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
আপনি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাল শাক, ব্লকলি, ডাটা শাক, মিষ্টি আলু, কুমড়া, কলমি শাক ইত্যাদি শাকসবজি খেতে পারেন। এছাড়াও পেঁপে, আম, কাঁঠাল, তরমুজ, কমলা, মালটা, পেয়ারা ও পাকা কলার মত ফলেও ভিটামিন এ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ ও মাখনেও ভিটামিন এ বিদ্যমান। আপনার চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণে এ ধরনের খাবার খেতে পারে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণঃ
ভিটামিন এ এর পাশাপাশি ভিটামিন সি চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভিটামিন সি চোখের জন্য খুবই উপকারী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ও পরিবেশের ফ্রী রেডিক্যাল থেকে চোখকে রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা যায় চোখের ছানি হওয়া যদিও অনেকাংশে কমাতে পারে ভিটামিন সি। তবে চোখের নতুন ট্যিসু তৈরি সহ মেরামতের সাহায্য করে, সঙ্গে একুয়াছ হিউমারের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।
আরো পড়ুনঃ থাইরয়েড কি খাবার খেলে ভাল হয়, জানুন এখানে।
শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণে, কাঁচামরিচ, ক্যাপসিকাম, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, পালং শাক ইত্যাদি খাওয়া যায়। অন্যদিকে লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি, পেয়ারা, কিউই, স্ট্রবেরি, আনারস ও পেঁপের মত ফলেও ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও শাক সবজির ক্ষেত্রে অবশ্যই হালকা রান্না করে খেলে পুষ্টিগুণ ভালো পাওয়া সম্ভব।
ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রী ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবারঃ
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আপনি ভিটামিন ই এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা এগুলো চোখের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন ই বয়স জনিত চোখের সমস্যা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমায়। চোখের প্রদাহ কমাতে ওমেগা থ্রি ফাটি এসিড বেশ কার্যকর। চোখের শুষ্কতা কমিয়ে আদ্রতা বজায় রাখে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে চোখের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে ভিটামিন ই পুষ্টি উপাদান।
ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরনে, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চীনা বাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, ও কুমড়ার বীজে বেশ ভিটামিন ই পাওয়া যায়। অন্যদিকে অ্যাভোকাডো, আম, কিউই, পালংশাক, ব্রকলি, লাল শাক সহ সূর্যমুখী তেলে, সয়াবিন তেলে, অলিভ অয়েল এবং সরিষার তেলে পরিমাণ মতো ভিটামিন ই রয়েছে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণে, সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশ, টুনা, সার্ডিন, স্যামন মাছ খেতে পারেন। রুই এবং কাতলা মাছেও কিছু পরিমাণে পাওয়া যায়। তিসি বিজ, চিয়া সিড এবং আখরটে পরিমাণ মতো ওমেগা ফ্রী ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।
উপসংহার। কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী কোনগুলো
আর্টিকেলটিতে কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর উপকারী কোনগুলো এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। চোখের জন্য ক্ষতিকর খারাপ গুলো শুধু চোখের জন্যই নয় শারীরিক সুস্থতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আপনি চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য উপকারী পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল কম্পিউটার ব্যবহার করলে অবশ্যই কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করুন। চোখ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, এজন্য চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।
একই সঙ্গে বয়স জনিত চোখের সমস্যা সমাধানে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। যাইহোক এতক্ষণ, কোন খাবার চোখের জন্য ক্ষতিকর উপকারী কোনগুলো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url