কাঁচা হলুদ এর উপকারিতা ও অপকারিতা
কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা। তবে আমরা কম বেশি সকলেই প্রতিদিন রান্নার মসলা হিসাবে হলুদ ব্যাবহার করি। কাঁচা হলুদ খাওয়া ছাড়া এটি রূপচর্চায় ও বহুকাল থেকে ব্যাবহার হয়ে আসছে। এছাড়াও কাঁচা হলুদে বেশ ঔষধি গুনাগুন রয়েছে, যা নিয়মিত পরিমাণ মতো খাওয়ার ফলে পেতে পারেন বেশ উপকারিতা। তাছাড়া কাঁচা হলুদের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অপকারিতাও রয়েছে।
এছাড়াও কাচা হলুদ খাওয়ায় বেশ কিছু ব্যক্তিদের, সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে, আজকের এই আর্টিকেলটিতে কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সহ সর্তকতা গুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
পোস্ট সুচিপত্রঃ কাঁচা হলুদ এর উপকারিতা ও অপকারিতা
- কাঁচা হলুদের পুষ্টিগুন। কাঁচা হলুদের কি কি পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়
- কাঁচা হলুদের উপকারিতা। কাঁচা হলুদে যে সকল উপকার পাওয়া যায়
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ
- হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ
- অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেঃ
- শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করেঃ
- ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করেঃ
- অ্যালজেইমারের সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখতে পারেঃ
- ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ
- কাঁচা হলুদের অপকারিতা কি। কাঁচা হলুদ খাওয়ার সতর্কতা
- কাঁচা হলুদ খাওয়ার সঠিক নিয়ম। যেভাবে কাঁচা হলুদ খেলে উপকার পাওয়া যায়
- উপসংহার। কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা
কাঁচা হলুদের পুষ্টিগুন। কাঁচা হলুদের কি কি পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়
আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়, কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। আর্টিকেলটির শুরুতে আমরা কাঁচা হলুদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। হলুদ আমাদের দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহৃত খুবই পরিচিত একটি মসলা। মাছ, মাংস, ডিম সহ যে কোন তরকারি রান্নায়, হলুদ না হলে যেন মজাই আসেনা। আপনি জানলে হয়তো অবাক হবেন হলুদে থাকা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো কারকিউমিন।
কারকিউমিন এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও হলুদে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ ভিটামিন ও পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাঁচা হলুদের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন রয়েছে যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাঁচা হলুদে থাকা এই সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ক্যান্সার সহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুকি কমাতে বেশ কার্যকর।
কাঁচা হলুদের উপকারিতা। কাঁচা হলুদে যে সকল উপকার পাওয়া যায়
কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলটিতে, ইতিমধ্যে পুষ্টিগুন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কাঁচা হলুদ একটি প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট, এটি দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এবং সঠিকভাবে খেলে নানান উপকার মেলানো যেতে পারে। চলুন সময় নষ্ট না করে, আমাদের সকলেরই সুপরিচিত কাঁচা হলুদ খাওয়ার উপকারিতা গুলো জানার চেষ্টা করি।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ
হলুদে কারকিউমিন নামক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। যা শরীরের জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শরীরের জন্য বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদানও বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। কাঁচা হলুদে এমন উপাদান, বিশেষ করে সর্দি ও কাশির মত সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের পাকস্থলীর কার্যকারিতার সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ জরুরী। হলুদের পুষ্টিগুণ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে পরোক্ষভাবে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদী রোগ মুক্ত থাকার জন্য শরীরকে প্রয়জনীয় পুষ্টি যোগায়। এই সকল পুষ্টি পেতে অবশ্যই পরিমাণ মতো কাঁচা হলুদ খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত।
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ
হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মত সমস্যার কবলে অনেকেই পড়েন। হৃদপিন্ড তার কার্যকারিতা সঠিক মাত্রায় না করতে পারলে, এমন সমস্যার সামনে এসে হাজির হয়। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখা অর্থাৎ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে আপনি কাঁচা হলুদ খেতে পারেন। বিশেষ করে কাঁচা হলুদের কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহ বিরোধী যা ধমনিতে প্লাগ জমা হওয়া থেকে রক্ষা করে রক্তনালীতে বাধা প্রতিরোধ করে। এর ফলে এমন উপাদান রক্তচাপ কমিয়ে রক্তনালীর প্রসারণে সাহায্য করে, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ কার্যকর।
রক্তে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করতে পরে কাঁচা হলুদ। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা জরুরী। সর্বোপরি আপনি হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য, সকালে অল্প কাঁচা হলুদ কুচি গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। হলুদের গুড়া দুধ বা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় একই সঙ্গে রান্নায় খেলেও উপকার মিলানো যেতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেঃ
শরীরে অতিরিক্ত ওজন মানেই একটা বাড়তি বোঝা বয়ে বেড়ানো। অনেক সময় শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে নানান জটিলতায় পড়েন অনেকে। তবে কাঁচা হলুদ খেলে যে আপনার ওজন ম্যাজিকের মত কমে যাবে ব্যাপারটা এমন নয়। অতিরিক্ত ওজন কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস সহ ব্যায়ামের সঙ্গে কাঁচা হলুদ খেতে পারেন। কাঁচা হলুদের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কারকিউমিন, বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে সঞ্চিত চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে।
একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে বেশ সহায়তা করে। যার ফলে খুদার পরিমাণ কমে একই সঙ্গে মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ প্রদাহ বিরোধী উপাদান এবং এটি ফ্যাট সেলের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শরীরের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে, দৈনন্দিনের খাদ্য রুটিনে সকালে খালি পেটে, কিছু হলুদ কুচি সঙ্গে মধু ও লেবুর রস যোগ করে পরিমাণ মতো খেতে পারেন।
শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করেঃ
শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে দিতে বেশ সাহায্য করতে পারে কাঁচা হলুদ। শরীরে লিভার রক্ত থেকে ক্ষতিকারক বিষাক্ত পদার্থ ছেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদের কারকিউমিন উপাদান লিভারে এনজাইমের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা টক্সিন বের করে দিতে কার্যকর। তাছাড়া কাঁচা হলুদকে প্রাকৃতিক রক্ত পরিষ্কার বলেও আখ্যায়িত করা হয়। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, অন্ত্রে জমে থাকা মল পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে।
আরো পড়ুনঃ কাঁচা রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন এখানে।
কেননা এমন উপাদানের পুষ্টিগুণ, পাকস্থলীতে পিত্তরসের নিঃসরণ বাড়ায়, যার উপকারিতায় সহজেই ক্ষতিকারক টক্সিন শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। শারীরিক সুস্থতায় এমন উপকারিতা পেতে, সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। কুসুম গরম পানি বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও উপকার মেলাতে পারবেন। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটাই কথা, অতিরিক্ত খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।
ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করেঃ
ক্যান্সার এমন একটি সমস্যা যাকে আমরা মরণব্যাধি বলে চিনি। আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন, হলুদ বা কাঁচা হলুদ ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। বিশেষ করে কাঁচা হলুদে থাকা শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে কোষকে রক্ষা করে, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমায় যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। কাঁচা হলুদের মূল উপাদান কারকিউমিন ক্যান্সার কোষের বিভাজন কামাতে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন কাঁচা হলুদ ক্যান্সার নিরাময় করে না, এটি ক্যান্সারের সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে। ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য কাঁচা হলুদের সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়া, অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেতে পারেন। আপনি চাইলে দুধের সঙ্গে এমন উপকরণ খেতে পারেন, এর ফলে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি প্রতিরোধে, খাদ্য রুটিনে কাঁচা হলুদের জায়গা রাখুন।
অ্যালজেইমারের সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখতে পারেঃ
অ্যালজেইমার একটি মস্তিষ্কের রোগ, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা সহ দৈনন্দনের কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্কের এমন স্মৃতিশক্তির সমস্যা অ্যালজেইমারের সমস্যায় হলুদের কারকিউমিন উপাদান আন্টি ইনফ্লামেটরি হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে এমন উপাদান মস্তিষ্কে তৈরিকৃত অ্যামাইলয়েড প্লাগ ভাঙতে সাহায্য করতে পারে।
পুষ্টিবিদদের গবেষণায় দেখা যায়, কাঁচা হলুদের মুল পুষ্টি উপাদান কারকিউমিন মস্তিষ্কে বিডিএনএফ নামক প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এমন প্রোটিনের মাত্রা বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বেশ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা হলুদ সরাসরি অ্যালজেইমারের সমস্যা সমাধান করে এমন ভেবে ভুল করবেন না। এটি রক্তে কম শোষিত হয় তবে অ্যালজেইমারের সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখতে পারে।
ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ
যুগ যুগ আগে থেকেই ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। এখনো বিভিন্ন ধরনের রূপচর্চার সামগ্রী তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত কাঁচা হলুদ। কাঁচা হলুদের থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খুবই কার্যকর। কাঁচা হলুদের এমন বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি ত্বকে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, ত্বকের কালো দাগ দূর করে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে একজিমা, সোরিয়াসিসের কারণে ত্বকের লালচে ভাব কমাতে বেশ উপযোগী। কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টি এজিং, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা বয়সের ছাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সর্বোপরি এক কথা বলা যায়, কাঁচা হলুদের গুনাগুন ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক জীবাণু নাশক হিসেবে কাজ করে। ত্বকের এমন উপকারিতা পেতে কাঁচা হলুদ, মধু, অ্যালোভেরা জেল, কাগজি লেবু, দুধ কিংবা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহারে বেশ ভালো ফলাফল মেলানো যেতে পারে। তাছাড়া প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়া সহ গোল মরিচের সঙ্গেও খেতে পারেন। আপনি চাইলে উষ্ণ গরম দুধের সাথে কাঁচা হলুদ গুড়া মিশিয়ে খেতে পারেন, এটাও বেশ উপকারি।
কাঁচা হলুদের অপকারিতা কি। কাঁচা হলুদ খাওয়ার সতর্কতা
কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলটিতে বেশ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার প্রতিটা খাবারই পরিমিত খাওয়া প্রযোজ্য, অতিমাত্রায় খাওয়া উচিত নয়। ঠিক তেমনি কাঁচা হলুদ অতিরিক্ত ও ভুল নিয়মে খেলে উপকারের পাশাপাশি অপকারিতা সামনে এসে হাজির হতে পারে। এছাড়াও শরীরে কিছু দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় কাঁচা হলুদ খাওয়ায় সতর্কতা রয়েছে, চলুন সেগুলো জানার চেষ্টা করি।
- কাঁচা হলুদ পরিমিত খেলে ভালোই উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে কাঁচা হলুদ মূলত রক্ত পাতলা করে এজন্য অতিমাত্রায় খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমাতে পারে। আপনি যদি অতিমাত্রায় কাঁচা হলুদ অনিয়মিত ভাবে খান সেক্ষেত্রে রক্তচাপ এবং রক্তের শর্করা মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলটিতে, উপকারিতা তো জেনেছেন। তবে আপনি অতিরিক্ত খেলে, পেটে এসিডিটি, বদহজম এবং বমি বমি ভাবের দেখা মিলতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা হলুদের থাকা কারকিউমিন উপাদান সহজে হজম হয় না যার ফলে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে।
- ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদ উপকারী হলেও কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই উপকরণ ব্যবহারে এলার্জি, ত্বকে র্যাস সহ চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বকে ভুল ভাবে ব্যবহারে হলুদ দাগ পড়ে যেতে পারে সঙ্গে ত্বকে সংবেদনশীলতা ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। এজন্য অবশ্যই অল্প পরিমাণে সঠিক নিয়মে কাঁচা হলুদ ব্যবহারে অভ্যাস করুন।
- অন্যদিকে যারা গ্যাস্ট্রিক সহ আলসারের রোগী তারা অবশ্যই কাঁচা হলুদ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন। অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা যাদের রয়েছে তাদেরও সতর্কতা জরুরী, কেননা এটি আয়রন শোষণ কমাতে পারে। আপনার লিভারের সমস্যা থাকলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। কেননা এ সময় অতিরিক্ত খেলে কাঁচা হলুদের কারকিউমিন উপাদান লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- আপনার যদি পিত্তথলিতে কোন প্রকার সংক্রমণ বা সমস্যা থাকে, তাহলেও অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খাওয়া বেশ অপকারী। এরপরও আপনি যদি খেতে চান, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ মতো খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত এবং ভুল ভাবে সেবনে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- এছাড়াও অন্তঃসত্ত্ব মায়েদের কাঁচা হলুদ খাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ওষুধ, রক্ত পাতলাকারি ওষুধ সেবনকারীদের কাঁচা হলুদ অতিমাত্রায় না খাওয়া উত্তম। আপনি খেতে চাইলে আপনার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উপযুক্ত হবে। যারা ক্যান্সারের কেমোথেরাপি নিয়েছেন তাদের কাঁচা হলুদ খাওয়া অপকারি।
কাঁচা হলুদ খাওয়ার সঠিক নিয়ম। যেভাবে কাঁচা হলুদ খেলে উপকার পাওয়া যায়
কাঁচা হলুদ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে কাঁচা হলুদের উপকারিতা পেতে সঠিক নিয়মে পরিমাণ মতো খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা কাঁচা হলুদ অতিমাত্রায় অনিয়মিত খেলে অপকারিতা সামনে এসে হাজির হতে পারে। এজন্য কাঁচা হলুদের উপকারিতা মেলাতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২ গ্রাম কাঁচা হলুদ খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। সকালে খালি পেটে উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে তবে, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিটি থাকলে খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।
দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহারে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এক টুকরো কাঁচা হলুদ খোসা ছাড়িয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। আপনি চাইলে তেতো স্বাদ এড়াতে এক চিমটি লবণ ও মধু মেশাতে পারেন। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ মধুর সঙ্গে, গরম দুধের সঙ্গে এবং লেবুর রসের সঙ্গেও খাওয়া যায়। কাঁচা হলুদ আপনি যেভাবে খান না কেন, দৈনন্দিনের সুষম খাদ্য অভ্যাস বজায় রেখে, পরিমাণ মতো খেলে বেশ উপকার মেলাতে পারবেন।
উপসংহার। কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা
আজকের এই আর্টিকেলটিতে, কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সহ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। কাঁচা হলুদের কারকিউমিনের শোষন বাড়াতে কালো গোল মরিচ, ঘি, অলিভ অয়েল বা অন্য কোন তেলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে আপনি যদি কোন প্রকার ওষুধ সেবন করেন, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। সর্বোপরি কোন খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায়, অতিরিক্ত করে যোগ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে উত্তম।
মাথায় রাখবেন কোন খাবারই অতিমাত্রায় খাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে, যতটুকু পরিমাণে খাওয়া জরুরী, তত টুকুই সঠিক নিয়মে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যাইহোক এতক্ষণ, কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url