ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত

ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত, এ ব্যাপারে অনেকেই জানতে আগ্রহ বোধ করেন। ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা বিশেষ করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, শারীরিক ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

ঘন ঘন

চলুন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে ঘন ঘন প্রসাব হলে কি খাওয়া উচিত। কি খাওয়া উচিত নয় একই সঙ্গে এমন সমস্যা হওয়ার কারণগুলি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

পোস্ট সুচিপত্রঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ। কি কি কারনে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় 

ব্লগটি মূলত ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত এ ব্যাপারে। তবে ব্লগটির শুরুতেই আমরা কি কি কারনে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা হয় সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করব। ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এমন সমস্যার জন্য কিছু সাধারন কারণ সহ ডায়বেটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদির কারণেও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ গুলি জানার চেষ্টা করি। 

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়, অতিরিক্ত পানি বা তরল পান করার কারণে। একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে এমন পানি পানে, একজন সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক ভাবে ৬ থেকে ১০ বার প্রস্রাব হতে পারে। আপনি অতিরিক্ত পানি বা তরল যেমন, যে কোন ফলের জুস, যেকোন স্যুপ এবং কোমল পানীয় পান করেন। সেক্ষেত্রে আপনার পানি পানের সঙ্গে প্রস্রাবের সংখ্যা নির্ভর করতে পারে।
  • অতিরিক্ত চিনি কিংবা লবণাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে, এগুলো ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা তৈরিতে ভুমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি মূত্রথলীকে উদ্দিপ্ত করে সঙ্গে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রসবের চাপ আসে। অন্যদিকে লবণ সোডিয়াম সম্পৃক্ত যা অতিমাত্রায় খাওয়ার ফলে কিডনি এটি শরীর থেকে বের করার জন্য প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার শরীরকে পানি শূন্য করে তুলতে পারে, যার ফলে পানি পানের প্রবণতা বাড়ায় সঙ্গে প্রস্রাবের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। 
  • গর্ভাবস্থায় নারীদের প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সময় একজন মায়ের প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের প্রথম দিকে হরমোনের পরিবর্তন আসে, সঙ্গে জরায়ুতে চাপের সৃষ্টি হয়। এমন সময় একজন মায়ের শরীরে তরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কিডনির বেশি কাজের প্রয়োজন পড়ে এবং প্রস্রাবের  পরিমাণ বাড়ে। এছাড়াও একজন মায়ের প্রসবের আগে মূত্রথলির উপর বাড়তি চাপ পড়ে, এর ফলে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসতে পারে। 
  • ক্যাফিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, চা, কফি, কোমল পানিয় এবং অ্যালকোহল সেবন অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করতে কোন অংশে কম নয়। ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল শরীর থেকে পানি এবং সোডিয়াম বের করে দিতে কিডনিকে উৎসাহিত করে। এমন খাবার মূত্রথলির পেশীর উপরে প্রভাব ফেলে, যার ফলে মূত্রথলি সংকুচিত হয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। 
  • প্রোস্টেট গ্রান্থি মূলত পুরুষের প্রজনন তন্ত্রের একটি ছোট আখরোট আকারের গ্রান্থি। এটি মূত্রথলির ঠিক নিচে অবস্থিত যা মুত্রনালীকে ঘিরে রাখে। পুরুষদের এই পোস্টেড গ্রান্থি বড় হলে মুত্রনালী চেপে ধরে যা প্রস্রাবে বাঁধার সৃষ্টি করে। এমন সমস্যায় আপনার প্রস্রাবের বেগ পুরোপুরি থাকলেও, প্রস্টেটের ক্রমাগত চাপে মুত্রনালীর পেশী দুর্বল হয় এবং ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দেয়। এমন সমস্যায় রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব সহ প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। 
  • মূত্রনালীতে  সংক্রমনের ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেওয়া, গুরুতর সমস্যার মধ্যে পড়ে। এমন সমস্যায় ঘন ঘন প্রস্রাব সহ প্রস্রাবে তীব্র জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। মূত্রনালীতে যে কোন সংক্রমণে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, এবং অল্প পরিমাণে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা আসে। মুত্রনালিতে সংক্রমনের ফলে, এটি কিডনির ক্ষতি করতে পারে। আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ যদি মূত্রনালী সংক্রমণ হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ  অত্যন্ত জরুরি। 
  • শরীরে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়াবেটিসের ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। শরীরে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকা মানে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। শরীরের রক্তে যদি অতিরিক্ত গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে তা কিডনী সম্পূর্ণভাবে শোষণ করতে পারে না। যার ফলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শর্করা বের করে দেয় যা ঘন ঘন প্রসাবের সৃষ্টি করে। শরীর থেকে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে অতিরিক্ত পানির পিপাসা লাগে, যা প্রস্রাবের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখতে পারে। 
  • আপনার মূত্রাশয় বা কিডনিতে পাথর জনিত সমস্যা থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সহ প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘন ঘন প্রস্রাব সৃষ্টিতে দায়ী হতে পারে। আপনি কি মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় পার করছেন, এটিও ঘন ঘন প্রস্রাব সৃষ্টি করতে পারে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলেও অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ঘন ঘন প্রস্রাবে কি কি লক্ষণ দেখা দেয় 

ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত এই ব্লগটিতে ইতিমধ্যে ঘন প্রস্রাব হওয়ার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এতোটুক পানি পানে, ২৪ ঘন্টায় ৬ থেকে ১০ বার প্রস্রাব করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনার প্রসাবের পরিমাণ যদি এর থেকে বেশি হয় তাহলে ঘন প্রস্রাব বলে ধরে নেওয়া যায়। এমন সমস্যায় অল্প সময় পর পর প্রস্রাবের বেগ আসে, দিনের বেলা থেকে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যেতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাবে প্রসাবের পরিমাণ অল্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ঘন ঘন

একই সঙ্গে প্রস্রাব করার পরেও শরীরের প্রস্রাবের পরিমাণ থেকে যাওয়ার অনুভূতি আসে। ঘন ঘন প্রস্রাবে বিশেষ করে রাতের ঘুম হারাম করে তুলতে পারে। এমন সমস্যায় ঘন প্রস্রাবের কারণ ভেদে প্রসাবে জ্বালাপোড়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ এবং রং পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন প্রস্রাবে অনেক সময় প্রস্রাবে লাল বা গোলাপি রঙের রক্ত দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে আপনার যদি কিডনি বা মূত্রনালীর কোন সংক্রমনে এমনটা হয় সেক্ষেত্রে তলপেট বা কোমরে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। একই সঙ্গে হঠাৎ করে এতটাই প্রস্রাবের বেগ আসতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।

ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত  

ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত এটি মূলত আজকের মূল বিষয়। ইতিমধ্যে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ সহ বেশ কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আপনার কোন সাধারণ সমস্যায় ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিলে। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় মূত্রথলিকে শান্ত রাখে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, শরীরকে হাইড্রেট রাখে সঙ্গে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এমন খাবার অত্যন্ত জরুরী। ঘন ঘন প্রসব হলে কি খাওয়া উচিত চলুন এখন এই ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি।

 পানি পরিমান মত খাবেনঃ 

সাধারণভাবে প্রস্রাবের পরিমাণ পানি বা তরল পান করার উপরে নির্ভর করতে পারে। এজন্য আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। পরিপার্শ্বিক পরিবেশ সহ পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী পানি পান করা প্রযোজ্য। মুত্র বর্ধক যেমন চা, কফি, অ্যালকোহল সহ কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। আপনার প্রসাবের পরিমাণ রাতে বৃদ্ধি পেলে ঘুমানোর আগে পানি কম পান করুন। শারীরিক গুরুতর সমস্যায় প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করা সবচেয়ে উপযুক্ত। 

কাঁচা রসুনে উপকার পাওয়া যেতে পারেঃ 

আমাদের প্রতিটা ঘরেই রসুন রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা কাঁচা রসুনের এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাঁচা রসুনে থাকা এমন পুষ্টি উপাদান মূত্রথলির চাপ কমাতে পারে সঙ্গে প্রদাহ ও সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। রসূনে থাকা এমন পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখতে পারে। যা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর। এমন সমস্যায় উপকার পেতে আপনি সকালে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খেলে উপকার মেলাতে পারবেন।

পেপেও বেশ উপকারীঃ 

ঘন ঘন প্রস্রাবে কি খাওয়া উচিত এমন প্রশ্নে বলা যেতে পারে পেপেও বেশ উপকারী। পেঁপে ফাইবার সমৃদ্ধ একই সঙ্গে এতে প্রচুর পানি রয়েছে। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় পেঁপে খেলে এটি শরীরেকে আদ্র রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে। পেঁপেতে থাকা পুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এমন খাবার মূত্রনালীর উপরে বাড়তি চাপ কমাতে পারে। ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যায় অতিরিক্ত পেপে খাওয়া চলবে না। পেপেতে পর্যাপ্ত পানি থাকে এজন্য ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যায় রাতে না খাওয়াই ভালো। 

দারুচিনি খেতে পারেনঃ

ঘনঘন প্রসাবের সমস্যায় দারুচিনি খেলে বেশ উপকার মেলানো যেতে পারে। দারুচিনিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনি যদি দৈনিক এক কাপ গরম পানিতে সামান্য দারুচিনি মিশিয়ে দিনে দুই একবার খেতে পারেন। এটি আপনার মূত্রথলিকে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাবে উপকারিতা পেতে সকালে বা দুপুরে খাওয়া ভালো। অন্যদিকে দারুচিনি রক্তে সর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এজন্য আপনার ডায়াবেটিসে এমন ঘন প্রসাব হলে, তাতেও উপাকার পেতে পারেন।

মেথি বীজ ও কুমড়ার বীজঃ 

ঘন ঘন প্রসাবে কি খাওয়া উচিত এমন প্রশ্নে মেথি বীজ ও কুমড়ার বীজ খাওয়ার ফলে, প্রাথমিকভাবে উপকারিতা পেতে পারেন। মেথি বীজে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট এবং কুমড়ার বীজে থাকা পুষ্টি মূত্রথলির পেশী শক্তিশালী করে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভুমিকা রাখে। এছাড়াও মেথী বিজ রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সঙ্গে হজম শক্তি ভালো রাখতেও কার্যকর। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে লবণ ছাড়া ভাজা কুমড়োর বীজ খাওয়া উপকারি। 

ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণঃ 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এটা হয়তো আমরা সকলেই জানি। আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে, দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন। কেননা আপনার যদি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, শরীর থেকে বর্জ্য বেড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে মূত্রথলির উপর থেকে পরোক্ষভাবে চাপ কমাতে কার্যকর, যা ঘন ঘন প্রসবের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। ডায়াবেটিসের সমস্যায় ঘন প্রস্রাবে এটি  উপকারী। বিশেষ করে রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। 

ঘনঘন প্রস্রাবে উপকারিতা মেলাতে লাউ, পালং শাক, ডেরস, গাজর, ব্রকলি ইত্যাদি খেতে পারেন। আপেল, নাশপাতি সহ বেরী জাতিয় ফলে ফাইবার পাওয়া যায়। মসুর ডাল, ছোলা, ওটস, ব্রাউন রাইস এবং মিষ্টি আলুতে ফাইবার রয়েছে এগুলাও খেতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। 

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খানঃ

আপনি ঘন ঘন প্রসবের সমস্যায় উপকারিতা পেতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হ্যালো খনিজ জাতীয় পুষ্টি উপাদান। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পেশির কার্যকারিতায় সাহায্য করে। শরীরের জন্য এমন খনিজ উপাদান মূত্রাশয়ের পেশী ও স্নায়ু কে স্বাভাবিক রাখে সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বাজায় রাখে।

আরো পড়ুনঃ কিডনির সমস্যা হলে কি খাওয়া উচিত এবং কি উচিত না। 

ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যা সমাধানে অবশ্যই পরিমাণ মতো খাবেন। এগুলো প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া প্রতিকার সাধারণ সমস্যায় উপকার মেলাতে পারবেন। গুরুতর সমস্যা ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।  

ঘন ঘন প্রস্রাবে কি খাওয়া উচিত নয় 

ব্লকটিতে ইতিমধ্যে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় দৈনন্দিনের খাদ্য রুটিন শুধুমাত্র সাধারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার। ঘনঘন প্রসাবের সমস্যা একজন মানুষের জীবনকে চিন্তিত করে তুলতে পারে। যা সাধারণ ভাবে খাদ্য রুটিনে কিছু খাবার যোগ করা সহ কিছু এড়িয়ে চললে উপকার মেলাতে পারেন। আপনি ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা অনুভব করলে অতিরিক্ত চিনি ও লবন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। অ্যাসিডিক ফল এড়িয়ে চলা উপযুক্ত কেননা মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

ঘন ঘন

অতিরিক্ত মসলাদার খাবারও কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, কেননা এটি মূত্রথলির উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করে। অ্যালকোহল সহ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করুন অতিরিক্ত খাবেন না। ঘন ঘন প্রস্রাবে, প্রস্রাব চেপে রাখা থেকে বিরত থাকুন।  আপনি চাইলে হালকা কোগেল ব্যাম করতে পারেন। শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরী। ঘনঘন প্রস্রাবে ধূমপান ত্যাগ করুন সমস্যা বাড়াতে পারে। 

উপসংহার। ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত

আজকের এই ব্লগটিতে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত কি খাওয়া উচিত না সঙ্গে কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে। ঘন ঘন প্রসবের সমস্যায় যে খাবারগুলো উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে এগুলো শুধুমাত্র ঘরোয়া প্রতিকার। ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ যা সহজে কমে যেতে পারে। তবে এটি আপনার জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটালে, ঘরোয়া প্রতিকারে সমাধানের না আসলে।

এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কেননা মাথায় রাখবেন ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যা, ডায়বেটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনির সমস্যা ও লিভারের সমস্যার ফলেও দেখা দিতে পারে। এজন্য সতর্কতা জরুরী, যাই হোক আজকের ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত ব্লগটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                     (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url