সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত - সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত এবং সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত এমন সব তথ্য তুলে ধরা হবে এই ব্লগে। সাজেক ভ্যালিকে মেঘের রাজ্য বলেন অনেকে। সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি যেখানে বাংলাদেশের নানান প্রান্ত সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য আসেন। চলুন আজকের ব্লগটিতে সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সম্পর্কে জেনে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত - সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
- সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত
- সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
- চট্টগ্রাম থেকে সাজেক কত কিলোমিটার
- চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভাড়া কত
- ফেনী থেকে সাজেক কত কিলোমিটার
- সাজেক ভ্যালি কিসের জন্য বিখ্যাত
- সাজেক ভ্যালি কংলাক পাহাড়
- সাজেক ভ্যালিতে কতগুলো পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে
- সাজেক ভ্যালিতে কি কি পাওয়া যায়
- উপসংহার। সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত - সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত
বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। এটি মূলত বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার গোপালবাড়ি সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত। সাজেক ভ্যালির উপত্যকা রাঙ্গামাটির ছাদ বলেও বেশ পরিচিত। এছাড়াও সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। এর উত্তরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা দক্ষিনে রাঙ্গামাটি লঙ্গদু উপজেলা পূর্বে ভারতের মিজোরাম এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা বিরাজমান। সাজেক ভ্যালির সাজেক ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় আয়তনে সবচেয়ে বড়।
সাজেক ভ্যালির মোট আয়তন ৭০২ বর্গমাইল এবং তিনটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত। সাজেকের পাড়াগুলি যথাক্রমে রইলুই পাড়া, হামারি পাড়া, কংলাক পাড়া। সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও যেখানে মূলত খাগড়াছড়ি দিঘীনালা হয়ে যাতায়াত সবচেয়ে সহজ। সাজেক ভ্যালি পুরো উপত্যকাটাই বিশাল বড় পর্যটন কেন্দ্র যার গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরী। এখানের পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মেঘের রাজ্য দেখতে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট এবং কটেজ থেকে মনমুগ্ধকর মেঘের দৃশ্য খুব সহজে উপভোগ করা যায়।
সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ সাজেক ভ্যালি কাসালং পর্বতমালায় অবস্থিত একটি সুবিশাল পাহাড়ি উপত্যকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাজেক ভ্যালির উচ্চতা প্রায় ১৭০০ থেকে ১৮০০ ফুটেরও বেশি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক যেটা তিনটি পাড়ায় বিভক্ত। সাজেক ভ্যালি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর রুইলুই পাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। একই সঙ্গে সাজেকের কংলাক পাড়া ১৮০০ ফুট উচ্চতায়। রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় অনেক অংশই সাজেক ভ্যালি থেকে দেখা যায় এজন্য এটাকে সাজেকের ছাদ বলা হয়।
সাজেক ভ্যালিতে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা উপজাতি বসবাস করে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার সদর থেকে সাজেক ভ্যালি দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং দিঘীনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার। সাজেক ভ্যালির আশপাশে বেশ কিছু বিজেপির ক্যাম্প রয়েছে। মজার বিষয় হলো সাজেক ভ্যালিতে বসবাস রত মানুষেরা বাশের মাচার উপরে ঘরবাড়ি তৈরি করে। সাজেক ভ্যালির উচ্চতা থেকে প্রতিদিন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। সাজেকের অধিবাসীদের জীবন যাপন, পাহাড় পর্বত এবং মেঘের আনাগোনা আপনাকে মুগ্ধ করবে।
চট্টগ্রাম থেকে সাজেক কত কিলোমিটার
মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ছুটে আসেন। বাংলাদেশ থেকে যে সকল ব্যক্তিরা সাজেক ভ্যালি যাওয়ার চিন্তা করে। তাদের প্রথম চিন্তায় আসে চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্যালি কত কিলোমিটার দূরত্বে। এমন সময় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে সাজেক ভ্যালি অন্যতম। বিশেষ করে চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে সাজেক ভ্যালির দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার বা ১০৫ মাইল। চট্টগ্রাম শহর থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে খুব সহজেই সাজেক ভ্যালি যাওয়া সম্ভব।
চট্টগ্রাম থেকে আপনি সাজেক ভ্যালি যেতে চাইলে সড়ক পথে সময় লাগতে পারে ৫ ঘন্টারও কিছুটা বেশি। ৭০২ বর্গমাইলের এই সাজেক ভ্যালির দূরত্ব খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার। সাজেক যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত তবু খাগড়াছড়ি থেকে এখানে যাতায়াত খুবই সহজ এবং নিরাপদ। চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্যালি যাওয়ার জন্য প্রথমে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে জিপ যেটাকে চাঁদের গাড়ি বলা হয় এতে করে যেতে পারেন। এছাড়াও খাগড়াছড়ি সিএনজি রিজার্ভ করে আঁকাবাঁকা পথ ধরে খুব সহজে যেতে পারবেন।
চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভাড়া কত
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত এবং চট্টগ্রাম থেকে দূরত্ব কত কিলোমিটার সে সম্পর্কে ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি লীলাভূমি সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের জন্য অনেকে ভাড়া সম্বন্ধে জানার আগ্রহবোধ করেন। ব্লকের এই পর্বের চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভাড়া কত এমন তথ্য জেনে নিন। সাধারণত চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সাজেক ভ্যালি যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি নেই। এজন্য চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত বাসে করে যেতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত বাস ভাড়া জনপ্রতি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ কম্বোডিয়া কোন মহাদেশে অবস্থিত- কম্বোডিয়া টাকার মান।
বাংলাদেশ যেহেতু দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ এজন্য যাত্রীর সংখ্যার উপর নির্ভর করে ভাড়া কম বেশি হতে পারে। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি হয়ে জিপ বা চান্দের গাড়ি কিংবা সিএনজি রিজার্ভ করে যাওয়া ভালো। আপনি যদি চান্দের গাড়িতে করে যেতে চান সেক্ষেত্রে শুধু যেতে ৬৫০০ থেকে ৭০০০ টাকা লাগতে পারে। একই সঙ্গে আসা-যাওয়া একত্রে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত লাগতে পারে। অন্যদিকে সিএনজিতে করে আসা-যাওয়ার ভাড়া ৭০০০ থেকে ৮০০০ পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল আপনি যখন যেতে চাইবেন অবশ্যই কাউন্টার থেকে সঠিক খরচ সম্পর্কে জেনে নিবেন।
ফেনী থেকে সাজেক কত কিলোমিটার
১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশের সুন্দরতম সাজেক ভ্যালিতে বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক আসেন। ঠিক তেমনি ফেনী থেকেও অনেকে জানতে চান ফেনী থেকে সাজেক কত কিলোমিটার। ব্লগটিতে ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম থেকে সাজেক কত কিলোমিটার এবং খরচ কত টাকা এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। ফেনী থেকে আপনি যদি সাজেক যেতে চান তাহলে প্রথমে ফেনী থেকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। ফেনী থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। এই দূরত্ব মূলত ফেনীর মহিপাল থেকে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর পর্যন্ত।
এর পরবর্তীতে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বর থেকে দীঘিনালা হয়ে সাজেক পর্যন্ত মোট দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। যেখানে চান্দের গাড়িত রিজার্ব করে তারপরে সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়। সম্পূর্ণ রুট অর্থাৎ ফেনী থেকে খাগড়াছড়ি এরপর দিঘীনালা এবং সবশেষে সাজেক ভ্যালি। সম্পূর্ণ মিলিয়ে মোট দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আপনি যদি ফেনী থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সর্বমোট ৫ থেকে ৭ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সাধারণত এই সময় রাস্তার জ্যামের অবস্থা এবং যাতায়াতের মাধ্যমের উপর নির্ভর করে।
সাজেক ভ্যালি কিসের জন্য বিখ্যাত
সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে আপনি হয়তো কিছুটা ধারণা পেয়েছেন। কিভাবে যাবেন চট্টগ্রাম এবং ফেনী থেকে দূরত্ব কত ইত্যাদি সম্পর্কে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি কিসের জন্য বিখ্যাত এমন তথ্য জানুন ব্লগের এই পর্বে। ভ্রমণ প্রেমীদের কাছে সাজেক ভ্যালি বেশ সৌন্দর্যপূর্ণ মনোরম পরিবেশের জায়গা। বিশেষ করে মেঘ, পাহাড় এবং সূর্যাস্ত এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিশেষ করে সকালে মেঘের ভেলা বিকেলে পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আনন্দ সবার প্রিয়। প্রাকৃতিক সবুজের সমারহ এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী যা মুগ্ধ করে পর্যটকদের।
আপনি যদি সাজেক ভ্যালিতে ছবি তুলতে চান এটাও আপনার জন্য সঠিক ফটোগ্রাফি স্পর্ট। সাজেকের পরিবেশ খুবই শান্ত যা অত্যন্ত কোলাহলমুক্ত। সাজেক ভ্যালিতে পাহাড়ি সংস্কৃতি আদি যুগ থেকে সেখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে আছে। সবথেকে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হলো মেঘের রাজ্যের অনুভূতি। এখানে কখনো কখনো এমন মনে হবে হাত বাড়ালেই মেঘ ছুঁতে পারবেন। শুধু বাংলাদেশই নয় বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণ প্রেমীরা এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন এখানে।
সাজেক ভ্যালি কংলাক পাহাড়
সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আপনি হয়তো জানতে পেরেছেন। সাজেক ভ্যালি কংলাক পাহাড় এটি মূলত সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। সাজেক ভ্যালির এই চুড়ার উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট যেখান থেকে রাঙামাটির অনেকাংশ বেশ সুন্দরভাবে দেখা যায়। সাজেক ভ্যালির সবথেকে বেশি অংশ জুড়ে কংলাক পাহাড় এবং রুইলুই পাহাড় সমন্বয় গঠিত। স্থানীয় মানুষেরা বলেন কংলাক পাহাড়ে বড় বড় কমলা বাগান থাকার জন্য একে কমলাক পারাও বলা হয়। রুইলুই পাহাড় হতে কংলাক পাহাড়ের দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার।
কংলাক পাহাড়ের নিচে কংলাক ঝরনাও রয়েছে যার কারণে পাহাড়ের একই নামকরণ। কংলাক পাহাড় চূড়ায় ত্রিপুরা ও লুসাইন গোষ্ঠীর বসবাস। এখানের আদিবাসী জুম চাষ করে নিজেদের আত্ম কর্মসংস্থান ঘটায়। এছাড়া ওখানে হলুদ, আদা ও কমলার বেশ চাষ হয়। সাজেক ভ্যালির এই পাহাড় চূড়ার বসবাসরত মানুষের পানির সংকট রয়েছে এজন্য তারা বৃষ্টির মৌসুমী বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রাখে। সাজেক ভ্যালির এই জায়গায় পানির সংকটের কারণে পর্যটকদের পানি নিয়ে এখানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানকার রাস্তা কিছুটা ঢালু যা বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন সেখান থেকে সাবধানে চলাচল উচিত।
সাজেক ভ্যালিতে কতগুলো পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত এবং এ সম্পর্কে অনেক তথ্য হয়তো আপনার কাছে পরিষ্কার। কোন টুরিস্ট সাজেক ভ্যালিতে সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পর্যটন কেন্দ্র অর্থাৎ রিসোর্ট বুক করা জরুরী। সাজেক ভ্যালি ইউনিয়নটি বাংলাদেশের সব থেকে বড় ইউনিয়ন যেখানে অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এ সকল পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে সাজেক রিসোর্ট, রুন্ময় রিসোর্ট, মেঘ পুঞ্জি রিসোর্ট, মেঘ মাচাং, জুম ঘর ইকো রিসোর্ট, আলো রিসোর্ট এবং আদিবাসী ঘর বেশ উপযোগী। এই সকল পর্যটন কেন্দ্র থেকে খুব সুন্দর ভাবে সাজেক ভ্যালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ ফারাক্কা বাধ কোথায় অবস্থিত- বাংলাদেশে ফারাক্কা বাধের প্রভাব।
সাজেক ভ্যালির এই সকল পর্যটন কেন্দ্রের নন এসির রুমগুলোর ভাড়া ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আপনি এই ভাড়ার সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন। এখানকার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র ছোট আকারের এবং খুবই মনমুগ্ধকর। এখানকার প্রতিটা ঘর বাঁশের মাচার উপরে তৈরি করা। রিসোর্ট গুলোতে আপনার পছন্দের খাবার অর্ডার করতে পারেন এজন্য প্রতিবেলায় খাবারের অনুযায়ী বাড়তি খরচ হতে পারে। পাহাড়ি এই সাজেক ভ্যালির স্থানীয় খাবার চাইলে খেতে পারেন। পাহাড়িদের স্থানীয় খাবারের মধ্যে ব্যাম্বু চিকেন পর্যটকদের কাছে বেশ সুপরিচিত।
সাজেক ভ্যালিতে কি কি পাওয়া যায়
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় জায়গা সাজেক ভ্যালি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মনমুগ্ধকর সুন্ধর্য দেখার জন্য খুব বিখ্যাত। আপনি যদি জানতে চান সাজেক ভ্যালিতে কি কি পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে ব্লগের এই পর্বটি আপনার জন্য। সাজেক ভ্যালি প্রথমত এখানকার পাহাড়ি দৃশ্য এবং মেঘের হাতছানি জন্য বিখ্যাত। সাজেকের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কংলাক পাহাড় যেখান থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় এবং কর্ণফুলী নদী স্পষ্ট দেখা যায়। সাজেক ভ্যালিতে চাকমা, ত্রিপুরা উপজাতির জীবন ধরার দৃশ্য চোখে পড়ে অনেকের। সাজেকের ঘরগুলো ছোট ছোট বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি।
সকাল এবং সন্ধ্যার সূর্যাস্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার মনে প্রশান্তি আনতে পারে। বাসের ছোট ছোট কটেজ যেখানে খুব সাধারণ জীবন যাপনের ছোঁয়া লেগে আছে। জুমের চালের ভাত, পাহাড়ি মুরগি, বাশ কোরাল এবং বিভিন্ন স্থানীয় খাবার পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও এখানে চাঁদের গাড়িতে করে ভ্রমণ সকল পর্যটকদেরই অত্যন্ত প্রিয়। কেননা চাঁদের গাড়িতে করে ঘুরলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। এখানকার উপজাতিদের হাতে তৈরি ব্যাগ, অলংকার এবং বাঁশ ও বেদের তৈরি জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এখানকার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং নিরিবিলি পরিবেশের অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করে সকলকে।
উপসংহার। সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত - সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত
সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত, সাজেক ভ্যালি উচ্চতা কত, চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার উপায়, ফেনী থেকে যাওয়ার উপায়, দূরত্ব কত কিলোমিটার ইত্যাদি বেশ তথ্য আজকের এই ব্লগটিতে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য অবশ্যই সে জায়গা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়া সকলের প্রয়োজন। আপনাদের জন্য আজকের এই ব্লগটিতে প্রয়োজনীয় কিছু সাজেকের তথ্য সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি এই সফল তথ্যে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে ব্লগটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিতে পারেন। এবং এতক্ষণ আমাদের এই ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url