ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়

শীত এতটাই কাছে চলে এসেছে যে, সন্ধ্যা হলেই মোটা কাপড় ছাড়া বাইরে বের হওয়া একদম মুশকিল। এমন সময় অনেকের মধ্যেই, ঢোক গেলার সময় গলা ব্যথা অনুভব হওয়া সহ সর্দি, কাশি ও গলার ভয়েস পরিবর্তনের মত সমস্যার দেখা মিলতে পারে। অনেকেই আবার হঠাৎ করে, সকালে ঘুম থেকে উঠেও, ঢোক গিলেও ব্যাথা অনুভব করে গলায়। কোন কোন ক্ষেত্রে, গলায় টিউমারের মতো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে, এই ব্যথা । এমন ব্যথা কেন হয়, হয়তো আমরা অনেকেই জানি আবার জানি না। 

গলা

চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা, জানার চেষ্টা করি, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয় এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে। টেনশনের কিছু নেই, সাধারণ সংক্রমণের কারণে এই ব্যথার প্রবণতায়, বেশির ভাগ মানুষই পড়ে থাকে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয় 

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়-গলা ব্যথা হওয়ার কারণ 

সাধারণত ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়া, আমাদের জন্য খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। এই সমস্যা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। খাদ্যনালীতে কোন টিউমার দেখা দিলেও এমন ব্যথা অনুভব হতে পারে। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটির, মূল বিষয় ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়, গলা ব্যথা হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আপনি যদি এমন সমস্যার কবলে পড়ে থাকেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

 ভাইরাল সংগ্রামের কারণেঃ 

ভাইরাল সংগ্রামের কারণে, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা অনুভব হওয়া সহ, কথা বলতেও গলা ব্যথা অনুভব হতে পারে। আমাদের শরীরে যদি সাধারনত, সর্দি,  কাশি সহ ঠান্ডা লাগে সেক্ষেত্রে গলার টনসিল ফুলে যেতে পারে যার ফলে ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া সহ, বুকে কফ জমা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতার দেখা মিলতে পারে।

ভাইরাল সংক্রমণ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে, সেরে যায় এজন্য কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন হয় না। এক কথায় ঢোক গিলতে, গলা ব্যথা হওয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে ভাইরাল সংক্রমণ খুবই সাধারণ ব্যাপার। 

 শীতের শুষ্ক বাতাসঃ 

বর্তমান সময়ে, শীতের প্রভাব তো, আমরা সকলেই টের পাচ্ছি। শীতের এ সময় বাতাস সাধারণত সুস্ক থাকে, যার ফলে এই বাতাস গলা এবং নাকের ভেতরের অংশকে শুষ্ক করে তোলে। যার ফলে দেখা দিতে পারে ঢোক গেলার সময় গলা ব্যথা হওয়ার মত সমস্যা। এছাড়াও অনেক সময় শুষ্ক বাতাসের কারণে, নাক বন্ধ হয়ে থাকার মত লক্ষণ অনুভব হয়।

গলা

সেক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে গলা শুকিয়ে যাওয়ার মত সমস্যার দেখা দেয়, একই সঙ্গে ঢোক গিলতে গলা ব্যাথা অনুভব হতে পারে। তাছাড়া শুষ্ক বাতাস সাধারণত, ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। 

 এসিড রিফ্লাক্স ও গলার মাংসপেশীতে টান লাগাঃ 

আমাদের পাকস্থলী থাকা অ্যাসিড যখন গলার উপরে উঠে আসে, এখন ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার মত অনুভূতির দেখা মিলতে পারে। সাধারণত এ সময় গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভব হওয়া কমন ব্যাপার। আপনার যদি বারবার এমনটা হয় সেক্ষেত্রে, গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে কর্কশ হয়ে যেতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ পিত্তথলিতে পাথর হলে কি কি সমস্যা হয় ?


একই সঙ্গে গলার মাংসপেশিতে টান লাগার ফলে, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার, সমস্যার দেখা মিলতে পারে। অতিরিক্ত জোরে চিৎকার করে কথা বলার কারণে, গলার মাংসপেশীতে টান লেগে, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়া সহ, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং অস্বস্তি কাজ করতে পারে। তাছাড়া ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ সহ, টনসিলের সমস্যার দেখা দিলেও, এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। 

এলার্জি, ধূমপান ও ধোয়ার ফলেঃ

কারো যদি এলার্জি সমস্যা থাকে, তা থেকে সর্দি, কাশির সংক্রমনের দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এলার্জির সমস্যার ফলে গলার ভেতরে চুলকানি সহ প্রদাহের সৃষ্টি করে। ধূমপান অর্থাৎ সিগারেটের ধোঁয়াতে বিষাক্ত নিকোটিন রয়েছে, যার ফলে গলা শুষ্ক হয়ে যায় এবং সংক্রমনের সৃষ্টি করে। যার ফলে এই ব্যথার জন্ম দিতে পারে।

অন্যদিকে আপনি যদি পরিবেশ দূষণ অর্থাৎ, ধুলোবালি সহ ধোয়া দূষণের মত, পরিবেশে থাকেন, তাহলে এটি শরীরে এলার্জেন হিসেবে কাজ করে। যার ফলে ঢোক গিলতে গলা ব্যাথা হওয়ার সহ গলায় প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। 

শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলেঃ 

শরীরে যদি পানি শূন্যতা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রেও ঢোক গিলতে গলা ব্যথা অনুভূতি আসতে পারে। কেননা শরীরে পানি শূন্যতার অভাবে, সাধারণত গলা শুষ্ক হয়ে যায় এর ফলে অস্বস্তি এবং চুলকানির মত অনুভূতি আসে। পানি আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা সকলে জানি।

তাছাড়া আপনি যদি তীব্র গরম এবং, প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন। তাহলেও পানি শূন্যতা দেখা দেওয়া সাধারণ ব্যাপার এবং এর ফলে এমন ব্যথার অনুভূতি হওয়াও সাধারণ। শরীরের পানি শূন্যতা রোধে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। 

 গলায় টিউমারের সমস্যার দেখা মিলেঃ 

গলায় টিউমারের সমস্যা, যদি কারো থেকে থাকে এজন্য, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার মতো লক্ষণ অনুভব হতে পারে। শুধু গলা ব্যথাই নয়, দীর্ঘমেয়াদি টিউমারের সমস্যায় পাকস্থলীতে ক্যান্সার হওয়ার মতো ঝুকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এটা কোন সাধারণ সমস্যা নয়, এমন সমস্যা অনুভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। সাধারণত গলায় টিউমার থাকলে, গলায় পিন্ডু থাকার মত অনুভূতি হয়। যার ফলে কোন কিছু খাওয়ার সময়, এমন ব্যথার অনুভূতি আসে।

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার লক্ষণ  

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়, আর্টিকেলটিতে এ সম্পর্কে ইতিমধ্যে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার, সব থেকে কমন লক্ষণ হল। কিছু গিলতে গেলে গলায় ব্যথা অনুভব হওয়া, এর ফলে মনে হতে পারে যা গিলছেন তা গলায় আটকে আছে।  তবে এই সাধারণ লক্ষণের পাশাপাশি, গলায় তীব্র ব্যাথা অনুভব হওয়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া, গলায় লাগছে বা ফোলা ভাবের দেখা মিলতে পারে। 

ব্যথা যদি টনসিলের কারণে হয়, টনসির ফুলে যাওয়া সহ পুজ হতে পারে। শরীরে জ্বর ও গায়ে ব্যথা, কোন কোন ক্ষেত্রে এই ব্যথা কানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন ব্যথায় আপনার কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে, ফ্যাস ফ্যাসে হয়ে যেতে পারে। মুখের ভেতরে থাকা লালার পরিমান বেড়েও যেতে পারে এবং কমেও যেতে পারে। 

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার প্রতিকার 

আজকের আর্টিকেলটিতে, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয় এবং এর লক্ষণ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়া যদিও সাধারণ সমস্যা, কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রতিকারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতে পারে। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়, আর্টিকেলটিতে ঢোক গিলতে গলা ব্যাথা হওয়ার প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

আরো পড়ুনঃ হাটু ব্যাথার কারন ও প্রতিকার সম্পর্কে জানুন।

  • আপনার যদি ঢোক গিলতে হঠাৎ করে গলায় ব্যথার অনুভূতি হয়। গরম পানির ভিতরে লবণ মিশিয়ে গার্গল করে নিতে পারেন। আপনার এমন ব্যথা যদি সংক্রমণের কারণে হয়, সে ক্ষেত্রে এটি খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। 
গলা

  • এ সময় আপনি চাইলে মধু এবং আদা দিয়ে চা করে খেতে পারেন। এটাও গলা ব্যথা কমাতে কার্যকরী। একই সঙ্গে ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হলে গরম পানি পান করাও উপযুক্ত এবং কার্যকারী। 
  • গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ফলে, ঢোক গিলতে অসুবিধা হলে। এজন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরী। তবে ঠান্ডা পানি পান না করাই সবথেকে উত্তম। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম করতেও ভুলবেন না। 
  • ধুলোবালি, ধোয়া, ঠান্ডা বাতাস সহ অপরিষ্কার পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ভালো। এগুলো গলা ব্যাথার সৃষ্টি করতে পারে তা উপরে জেনেছি। আপনি চাইলে লবঙ্গ দিয়ে চা করে খেতে পারেন। ধূমপান থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন। 
  • আপনি চাইলে ঢোক গিলতে গলা ব্যথার সমস্যায়, গরম দুধের সঙ্গে হলুদ মিশেও খেতে পারেন, উপকারী প্রভাব ফেলবে। চায়ের সঙ্গে দারুচিনির মত মসলা ও মিশিয়ে খাওয়া, সর্দি-কাশি সহ গলা ব্যথায় উপকারি। 
  • তাছাড়া গলায় ঠান্ডা লেগে এবং টনসিলের সমস্যা বেড়ে গেলে, গলায় উষ্ণ কোন কাপড় পেচিয়ে রাখুন। কেননা এ সময় গলার আদ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। 

উপসংহার। ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয় 

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়, আর্টিকেলটি, ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার কারণ এবং লক্ষণ সহ এর প্রতিকার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনার যদি, ঢোক গেলার সনয় গলা ব্যথা অনুভব হওয়া সহ, শরীরে তীব্র জ্বরের দেখা মেলে, টনসিল ফুলে পুজ আসে, ব্যথা কানে ছড়িয়ে পড়ে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় একই সঙ্গে ঢোক গিলতে খুবই অসুবিধা হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। 

তাছাড়া আপনার ব্যথা যদি, গলায় কোন প্রকার টিউমারের ফলে দেখা দেয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেননা এই সাধারণ সমস্যা, শরীরের বড় ধরনের সাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তা মাথায় রাখবেন। ঢোক গিলতে গলা ব্যথা কেন হয়, আর্টিকেলটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                             (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url