হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
হাটু ব্যথা সমস্যা আমাদের যে কারো, যেকোনো সময় অনুভব হতে পারে। শরীরে হাটু ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা, তবে এর বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। আমাদের দেহে যতগুলো হাড়ের জয়েন্ট রয়েছে, তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল হাটু। আমাদের সমস্ত শরীরের ওজন বহন করে হাটু। এছাড়াও স্বাভাবিকভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে, অস্টিওআর্থাইটিস বা বাতের সমস্যাও অনেকের দেখা দেয়। ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে দৈনন্দনের কাজ কর্মে অসুবিধা হওয়া সহ জীবনযাপন ব্যাহত হতে পারে।
আজকের ব্লগটিতে চলুন আমরা জানার চেষ্টা করি, হাটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। আমরা সকলেই হয়তো কম বেশি, হাঁটু ব্যথার প্রবনতায় পড়ে থাকি। আপনার যদি হাঁটু ব্যথা সমস্যা থাকে, তাহলে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
- হাটু ব্যথার কারণগুলি সম্পর্কে জানা যাক
- ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবেঃ
- শরীরে বাতের ব্যথা দেখা দিলেঃ
- হাটুর জয়েন্টে কোন প্রকার আঘাতের কারণেঃ
- শরীরে অতিরিক্ত ওজনের ফলেঃ
- অতিরিক্ত ভারী পরিশ্রমের ফলেঃ
- পেশীতে দুর্বলতা দেখা দিলেঃ
- রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলেঃ
- শরীরের কোন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিলেঃ
- হাটু ব্যথার প্রতিকার
- উপসংহার। হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
হাটু ব্যথার কারণগুলি সম্পর্কে জানা যাক
চিকিৎসকদের মতে, হাটু ব্যথার প্রবণতায় পুরুষদের থেকে নারীরা বেশি পড়েন। তবে যেকোনো বয়সের মানুষের হাটু ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের মধ্যে কারো যদি হাঁটু ব্যাথার সমস্যা হয়, তাহলে এর সঠিক কারণ নির্ধারণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সমস্যার সমাধান মিলানো সম্ভব। দৈনন্দিনের কাজকর্ম হাঁটাচলা থেকে শুরু করে, সকল কিছুর জন্যই হাঁটুর কার্যকারিতা সঠিক রাখা জরুরী। চলুন তাহলে এখন জানার চেষ্টা করি হাটু ব্যথার কারণগুলি কি সে সম্পর্কে।
ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবেঃ
আমাদের দৈনন্দিনের জীবনযাপনে সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য, ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব কারোই অজানা নয়। ক্যালসিয়াম হাড়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদ। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে, হাড় দুর্বল হয়ে বিভিন্ন ধরনের জয়েন্ট এর ব্যথার সৃষ্টি করতে করে। আমাদের শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য, ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনন্য।
এছাড়াও ভিটামিন ডি শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম শোষণের সহায়তা করে,যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দিলে, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, এর ফলে হার ক্ষয় এবং ব্যথা হতে পারে। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর ঘাঁটির ফলে যেকোনো বয়সের মানুষের হাটু বা জয়েন্টের ব্যথা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এজন্য ভিটামিন এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরী।
শরীরে বাতের ব্যথা দেখা দিলেঃ
কারো শরীর যদি বাতের ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে হাটুতে ব্যথা হওয়া সাধারণ ব্যাপার। বাতের ব্যথা অর্থাৎ আর্থ্রাইটিস, এমন একটা রোগ যা শরীরের প্রতিটা জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথার সৃষ্টি করে। শরীরে এই বাধের সমস্যা অস্টিওআর্থ্রাইটিস যা হারের ক্ষয়জনিত সমস্যার কারনের ফলে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা, ব্যথার জায়গাটা শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ফুলেও যেতে পারে। এই ব্যথা হাটু পায়ের গোড়ালি সহ, শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে দেখা দিতে পারেন। তাছাড়াও জয়েন্ট এর যে কোন প্রকার সংক্রমনের দেখা দিলেও, এই ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।
হাটুর জয়েন্টে কোন প্রকার আঘাতের কারণেঃ
হাটুর জয়েন্টে কোন প্রকার আঘাত লাগার ফলে হাটুতে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ। এ আঘাত হতে পারে পড়ে যাওয়া, খেলাধুলা বা কোন দুর্ঘটনা। সরাসরি হাটুতে আঘাত লাগলে এর ফলে লিগামেন্ট টান লাগতে পারে এবং ছিরেও যেতে পারে। অনেকের অনেক সময় আঘাতের ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার মত প্রবণতায় পড়তে হয়।
হাটুতে আঘাতের ফলে হাঁটুর জয়েন্টের হাড়ের গঠনেও সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া হাটুতে আঘাত লাগার ফলে, অনেকের দীর্ঘমেয়াদি কাজকর্মে অক্ষমতা ও দেখা দিতে পারে। হাটুতে কোন প্রকার আঘাত জনিত কারণে ব্যথা হলে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
শরীরে অতিরিক্ত ওজনের ফলেঃ
শরীরের অতিরিক্ত ওজন, দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সুস্থতায় বাধার সৃষ্টি করে। হাটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার ব্লকের শুরুতেই বলা হয়েছিল। হাটু আমাদের সমস্ত শরীরের ওজন বহন করে। আপনার শরীরটা যদি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকে, তাহলে এই ওজন হাটুর কার্টিলেজের উপর চাপের সৃষ্টি করে।
আরো পড়ুনঃ মাথা ঘোরা ও শরীর দুর্বল কিসের লক্ষণ।
এর ফলে দেখা দেয় অস্টিওআর্থ্রাটিসের মতো হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি। শরীরে এক পাউন্ড অতিরিক্ত ওজন হলে হাটুতে প্রায় চার থেকে পাঁচ পাউন্ড চাপের সৃষ্টি করে। যার ফলে চাপ এবং দ্রুত ক্ষয়ের ফলে এই ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।
অতিরিক্ত ভারী পরিশ্রমের ফলেঃ
আমাদের সকলেরই, বেঁচে থাকার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। কেউবা শারীরিক পরিশ্রম করে আবার কেউবা মানসিক। শারীরিক পরিশ্রম যারা করে তারা যদি, অতিরিক্ত ভারী বোঝা বহনের মত পরিশ্রম করে সে ক্ষেত্রেও হাটু ব্যথার সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
কেননা ভারী পরিশ্রমের ফলে, হাটুর পেশীতে টান লাগে, জয়েন্টে প্রধাহ সৃষ্টি হয় এবং তরুণারস্থি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে হাটুভা জয়েন্টে ব্যথা হলে, এটিই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ব্যথার সাথে হাটু ফোলার মত প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
পেশীতে দুর্বলতা দেখা দিলেঃ
হাঁটু বা পায়ের পেশীতে দুর্বলতা দেখা দেওয়াও হাটু বা জয়েন্টে ব্যথার কারণ হতে পারে। কেননা মাংসপেশি দুর্বল হলে হাঁটুর উপরে চাপের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই সময় বিশেষ করে কোয়াড্রিসেপস হাঁটুর জয়েন্টকে সঠিক অবস্থানে রাখতে পারে না যার ফলে, জয়েন্টে চাপ ব্যথা এবং অস্থিরতা দেখা দেয়।
হাটুর মাংসপেশি দুর্বল হলে, অনেক সময় হাঁটু মচকে যেতে পারে এর ফলেও ব্যথা হওয়া সাধারণ ব্যাপার। এছাড়াও অনেক সময় একই জায়গায় বসে থাকলেও হাটু ব্যথা অনুভব হতে পারে, এটাও সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম।
রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলেঃ
আমাদের শরীর থেকে, ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেওয়ার জন্য কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনি যদি সঠিকভাবে শরীর থেকে ইউরিক এসিড বের করতে না পারে, তাহলে শরীরের জমা হয়ে তা হাঁটু সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
ইউরিক এসিড জমার ফলে হঠাৎ ব্যথা দেখা দেয়, এবং ব্যথা জাগায় লালছে ভাব এবং ফুলে যাওয়া খুবই সাধারণ। সাধারণত এই সমস্যাটার গাউট নামেও পরিচিতি রয়েছে। এই সমস্যার ফলে জয়েন্টে ব্যাথার তীব্রতা রাতের বেলায় অতিমাত্রায় দেখা দিতে পারে।
শরীরের কোন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিলেঃ
শরীরে কোন ধরনের সংক্রমণের ফলেও হাঁটুতে বা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথা হতে পারে। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা জ্বর হলে হাটু সহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করেছেন। মানবদেহে যদি কোন প্রকার স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে হাটু বা জয়েন্টে ব্যাথা অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয়।
আপনার শরীরে যদি ভাইরাল সংক্রমনের ফলে হাটু বা জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হয়, এক্ষেত্রে নিজে কোন ব্যাথা নাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। ব্যথার মাত্রা অনেক বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন।
হাটু ব্যথার প্রতিকার
হাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটিতে, ইতিমধ্যেই হাটু ব্যথার কারণ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। হাঁটু ব্যথার, প্রবানতায় আমরা অনেকেই তো পড়ি, সাধারণভাবে হাটু ব্যাথা দেখা দিলে ঘরোয়া ভাবে কিছু পদক্ষেপে, এই সমস্যা প্রতিকারে আনা সম্ভব। হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার ব্লকটিতে চলুন এখন আমরা, প্রতিকার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
আরো পড়ুনঃ কি খেলে হাঁপানি ভাল হয়, হাঁপানি নিয়ন্ত্রনের খাবার সম্পর্কে জানুন।
- আপনার যদি হাঁটুতে ব্যথা অতিরিক্ত কাজকর্মের ফলে হয়, তাহলে কাজকর্ম কমিয়ে শারীরিক বিশ্রাম নেওয়া শুরু করুন। এ সময় বেশি হাঁটাচলা বা দৌড়ানো, অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রম থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।
- হাটু ব্যাথার সাথে যদি আপনার হাটু বা পায়ে ফোলা ভাবে দেখা মেলে, এজন্য শুয়ে থাকার সময় একটা বা দুইটা বালিশ দিয়ে পা উঁচু করে রাখুন। এতে করে আপনার পায়ের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করবে।
- আপনার পায়ের বা হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা যদি পুরনো হয়ে থাকে, হাটুর মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে চাইলে কিছু গরম পানি একটি ব্যাগে দিয়ে, তা দিয়ে ব্যথা জায়গায় গরম সেক দিতে পারেন। এটাও আপনার ব্যথায় স্বস্তি ও আরাম মেলাতে পারে।
- আপনার পায়ের হাটুতে যদি, ব্যথা হঠাৎ করে পেয়ে থাকেন, ফুলে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে দিনে ২ থেকে ৩ বার ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে বরফের সেক দিতে পারেন। এটাও হঠাৎ করে পাওয়া হাঁটুতে ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে পারে।
- শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়ে যদি আপনার হাঁটু ব্যথা হয়, এমনটা অনুভব হলে। তাহলে আপনার শরীরের জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয়। এজন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন।
- আপনি চাইলে, হাটু ব্যথা কমানোর জন্য ব্যায়ামও করতে পারেন। এজন্য পা সোজা করে সামনের দিকে রেখে হাটু শক্ত করে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন। দিনে দুই থেকে তিনবার এই ব্যায়াম করলেও স্বস্তি মিলতে পারে।
- শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনুন, এটা হাটুর উপরে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে। আপনি যদি চাই চান, চাইলে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ বরফের সাথে ব্যবহার করতে পারেন।
- এছাড়া আপনার ব্যাথা যদি গুরুতরও কোনো কারনে হয়। সেই ক্ষেত্রে PRP থেরাপি বা GFC থেরাপির মত চিকিৎসা নেওয়া লাগতে পারে। এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যথার উপরে নির্ভর করে। কেননা দুর্ঘটনার কারণে অনেকের হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্র পাচারেরও প্রয়োজন পরে।
উপসংহার। হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
আজকের, ব্লকটি হাঁটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে। আর্টিকেলটির উপরে হাটু ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বেশ তথ্য ইতিমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। হাঁটু ব্যাথার ক্ষেত্রে ব্যথা যদি, ঘরোয়া প্রতিকারের না সারে। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হাঁটা বা নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা হয়, এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পারামর্শর উচিত। এছাড়াও তীব্র আঘাতের কারণে যদি এই ব্যথা দেখা মিলে এবং দৈনন্দিন এর কাজকর্মে অসুবিধা হয় সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
হাটু ব্যথার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে, তাই আপনার ব্যথার পরিস্থিতি খারাপ হলে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সব থেকে উত্তম। আজকের ব্লক কি এখানেই শেষ করছি, হাটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার আর্টিকেলটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url