কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না

আমাদের প্রতিটা মানুষের পেটে স্বাভাবিক ভাবে গ্যাস থাকে, এটি হজম প্রক্রিয়ার একটি অংশ। তবে আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা বাড়তি গ্যাসের সমস্যার তীব্রতায় পেটে ব্যাথা সহ অস্বস্তিতে ভোগেন। আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা, গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য নিজেরাই দায়ী। কেননা দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় বেশ কিছু শাকসবজি রয়েছে যেগুলো, গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। আবার এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো,খেলে পেটে বাড়তি গ্যাসের সৃষ্টি হয় না। 

সবজি

চলুন আজকের আর্টিকেলটিতে, কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, সহ গ্যাসের সমস্যা এড়াতে যেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানার চেষ্টা করি। আপনি যদি গ্যাসের সমস্যা এড়াতে, প্রয়োজনীয় শাকসবজি নির্বাচন করতে চান। সেক্ষেত্রে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না

যে সকল শাকসবজি পেটে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে 

কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, আর্টিকেলটির শুরুতে আমরা যে সকল শাকসবজি পেটে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে সেগুলো জানার চেষ্টা করব। সাধারণত যে সকল শাকসবজিতে প্রচুর ফাইবার সহ জটিল শর্করা থাকে, সেগুলো হজমে সমস্যা করার ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। চলুন দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় রাখা শাকসবজির মধ্যে যেগুলো, গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে তা প্রথমেই জানার চেস্টা করি।

  • আমাদের দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায়, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, মুলা, শালগম ইত্যাদি সবজিগুলো খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কেননা এ সকল সবজিতে ফাইবার ও জটিল শর্করা বেশি থাকে। 
  • আপনি যদি কাঁচা পেঁয়াজ এবং কাঁচা রসুন খান, সে ক্ষেত্রে পেটে গ্যাসের সমস্যা, বেড়ে যেতে পারে। কেননা এতে থাকা ফাইবার পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া কোন তরকারিতে অতিরিক্ত পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহারের ফলে, গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • বরবটি, সিম এবং মটরশুঁটির মতো সবজি গ্যাসের মত সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ডাল জাতীয় সবজি যেমন, ছোলা ডাল, মসুর ডাল সহ মুগ ডাল ও কোন অংশে কম নয়। কারো কারো ক্ষেত্রে ঢেড়শ খেলেও পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • কচুর লতি এবং কচু গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদি আপনার পেটে গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা থাকে, বেগুন খেলে এ সময় সমস্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে। 
  • আপনি যদি যেকোনো উচ্চ আশ যুক্ত সবজি বেশি করে  খেয়ে ফেলেন। সেক্ষেত্রে সাময়িক ভাবে, পেটে বাড়তি গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া চিনি যুক্ত কৃত্রিম মিষ্টি খেলেও পাকস্থলীতে গ্যাস বৃদ্ধি পেতে পারে। 

কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না 

কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না? আজকের এই আর্টিকেলটির, মূল বিষয় এটি। গ্যাস্টিকের সমস্যায় আমরা কম বেশি সকলেই পড়েছি। পেটে বাড়তি গ্যাসের সমস্যা এড়াতে, বেশ কিছু সবজি খাবার ফলে উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে, পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু, সবজি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখন চলুন তাহলে, আর্টিকেলটির মূল বিষয় কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, সেগুলো জানার চেষ্টা করি। 

আরো পড়ুনঃ ্ঠান্ডা লাগলে কি খাওয়া উচিত জানতে ক্লিক করুন।

লাউ এবং কুমড়াঃ 

আমাদের দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় যদি, লাউ এবং কুমড়ার মত সবজি খাওয়া হয়, এগুলো পেটে গ্যাসের সৃষ্টি কম করে। লাউ এবং কুমড়ার মত সবজিতে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যার ফলে হজম প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সঠিক থাকে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে। এই সবজি গুলোতে মল নরম করা সহ, নিয়মিত মলত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার পাওয়া যায়। 

সবজি

অন্যদিকে কুমড়ায় প্রিবায়োটিক রয়েছে, যা পেকটিন নামক ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি যোগায়। লাউ ও কুমড়া  সহজে হজম যজ্ঞ সবজি যা পেটের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিটি সহ অস্বস্তি কমাতে পারে। তবে হঠাৎ করে এই সবজিগুলো অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তেত লাউ হলে এড়িয়ে চলুন, কেননা এতে কিউকারবিটাসিন নামক উপাদান রয়েছে। যা পেটের গ্যাস উল্টো বাড়িয়ে, পেটের ব্যাথা সহ বমির মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে। 

বেগুন ও পটলঃ  

বেগুন ও পটল খেলে গ্যাস হবে কি না, তা সম্পূর্ণ রান্নার উপরে নির্ভর করে। আপনি যদি বেগুন এবং পটল তেলে ভেজে, অতিরিক্ত তৈলাক্তভাবে রান্না করে খান, সে ক্ষেত্রে বাড়তি গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে। এই খাবারগুলো সাধারণ ভাবে রান্না করে খেলে গ্যাসের সৃষ্টি নাও করতে পারে, তবে এটি ব্যক্তির হজম শক্তির উপরে নির্ভর করে।

বেগুন ও পটলের মত সবজি খাদ্য তালিকায় রেখে গ্যাসের সমস্যা এড়াতে অবশ্যই, ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করতে হবে। অতিরিক্ত তেল এবং মসলা দিয়ে রান্না করা থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে প্রয়োজন মত খাবেন কোনমতে অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না। 

শসা, গাজর ও কলাঃ

দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার সবজিতে গ্যাসের সমস্যা এড়াতে, শসা, গাজর ও কলা রাখতে পারেন। শশাতে প্রচুর পরিমাণে পানি পাওয়া যায়, একই সঙ্গে এতে কোয়ারসেটিন নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এবং এটি কম ফাইবারযুক্ত যা সহযে হজম হয়, সঙ্গে পেটের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। 

গাজর খাওয়ার ক্ষেত্রে রান্না করা গাজর অবশ্যই খেতে হবে। কেননা রান্না করলে গাজর নরম হয়ে যায়, এবং সহজে হজম হয়। গাজর কোনমতেই কাঁচা এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। কেননা এতে কিছু জটিল শর্করা রয়েছে। অন্যদিকে পাকা কলা খেতে পারেন এটিতে পটাশিয়াম বেশি যা শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে, পেটের ফোলাভাব কমাতে পারে। 

আলু এবং মিষ্টি আলুঃ 

দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় মিষ্টি আলু কম খাওয়া হলেও আলু আমাদের প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে পাওয়া যায়। আলু এবং মিষ্টি আলু খাওয়ার ফলে গ্যাস হতে পারে। তবে এমন সবজির গ্যাসের সমস্যা এড়াতে, ভালোভাবে সেদ্ধ করে ভাপিয়ে খাওয়া উপযুক্ত। অতিরিক্ত তেল মশলা দিয়ে রান্না করা ছাড়া, পরিমাণ মতো খেলে গ্যাসের সমস্যা এড়ানো যেতে পারে। 

আলু এবং মিষ্টি আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন, এই সবজি গুলতে, উচ্চ ফাইভার এবং জটিল শর্করা রয়েছে। সাধারণ আলুর তুলনায় মিষ্টি আলু গ্যাসের সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে একটু বেশি। এমন সবজির গ্যাসের সমস্যা এরাতে, আপনি অন্যান্য যে কোন সবজির সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন।  

আরো পড়ুনঃ বদহজম হলে কি খাওয়া উচিত জানুন এখানে।

পালং শাকঃ 

দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় পালং শাক খাওয়ার ফলে আপনার গ্যাস হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ রান্না করা এবং ব্যক্তির হজম শক্তির উপরে নির্ভর করে। তাছাড়া বুক জ্বালাপোড়া সহ গ্যাস কমাতে বেশ প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে পালং শাকে। আবার পালং শাকে অতিরিক্ত ফাইবার পাওয়া যায়। যা অনেকের জন্য হজমের সমস্যা তৈরি করে গ্যাস্ট্রিক উল্টো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সবজি

পালং শাক ক্ষারীয় প্রকৃতির, এতে কম কার্বোহাইড্রেট, কম চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। পালং শাকে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লিভার এবং কোলনকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে, যার ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পালং শাক খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো করে রান্না করে পরিমাণ মতো খাবেন। আপনি বেশি খেতে চাইলে ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবেন না। 

গ্যাস্টিকের সমস্যা কমাতে খাবার খাওয়ার নিয়ম 

কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে যে সকল সবজি গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে। এবং যেগুলো খেলে গ্যাস কম হয় তা আলোচনা করা হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা এড়াতে খাবার খাওয়ার  বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। চলুন আর্টিকেলটিতে এখন, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে খাবার খাওয়ার নিয়ম গুলি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। 

  • খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই তাড়াহুড়া করলে চলবে না। ধীরে ধীরে সুন্দর করে খাবার চিবিয়ে, তারপরে খাওয়া উপযুক্ত। একই সঙ্গে অনেক বেশি না খেয়ে, অল্প অল্প করে কয়েকবার খেতে পারেন। এতে করে পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমবে না।
  • খাবার খাওয়ার সময়সীমা একই রাখুন। সঠিক নিয়মে খাবার না খাওয়া ফলে, পেটে গ্যাস ও এসিডিটি বেড়ে যেতে পারে। কোন কারণবশত খালি পেটে দির্ঘ সময় থাকতে হলে, হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিতে পারেন। 
  • আমরা অনেকেই খাবারের পর পর শুয়ে পড়ি, এটা করাও কোনক্রমে চলবে না। খাবার খাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটাচলা বা সোজা হয়ে বসে থাকতে পারেন। খাওয়ার সঙ্গে শুয়ে পড়লে এটি হজম ক্ষমতাকে দুর্বল করে, যার ফলে তৈরি হতে পারে পেটে অস্বস্তি। 
  • সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করবেন। গ্যাস্টিসের সমস্যা কমাতে নিজেকে হাইড্রেট রাখাও অত্যন্ত জরুরী। তবে খাবার খাওয়ার ফাঁকে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। 

উপসংহার। কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না 

কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, আর্টিকেলটিতে গ্যাসের সমস্যা এরাতে, বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় খাওয়া খাবারগুলির ফলে, পেটে গ্যাস ও এসিডিটি অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করতে পারে। আপনার যদি উপরে উল্লেখিত পদক্ষেপ গুলো গ্রহনের পরে সমস্যা সমাধানে না আসে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

কেননা, আমাদের দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজির গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে শাকসবজি, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য আপনার সমস্যা হলে সতর্কতা জরুরী। যাই হোক কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় না, আর্টিকেলটি এতক্ষণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

                          (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url